বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিলয় দরজা খুলে সোজা তার রুমে চলে গেলো।জহির সাহেবও নিলয়ের পিছে পিছে তার রুমে গেলো।নিলয় দরজার দিকে পিঠ করে খাটে বসে ছিল।জহির সাহেবের উপস্থিতি টের পেয়ে নিলয় বলল,
-কিছু বলবেন?
জহির সাহেব বলেন,
-তুমি কি Busy?
-না।
-আজ বিকেলে সময় হবে?
-না।
-কেন?
-বিকালে ফাহাদের সাথে দেখা করতে যাব।
-ও আচ্ছা।
জহির সাহেব ম্লান মুখে নিজের রুমে চলে গেলেন।ছেলেটার ইদানিং কি যেন হয়েছে।অবশ্য আগে থেকেই একটু গোমরা টাইপের।বন্ধুদের সাথে কেমন ব্যবহার করে কে জানে।
তিনি জানেন যে,ফাহাদের সাথে দেখা করার বিষয়টা নিলয়ের আগে থেকে ঠিক করা না।সে বিকেলে টাইম দেওয়ার কথা বলেছে তাই এখন ফাহাদকে ফোন করে দেখা করতে বলবে।নিলয় ওনাকে এড়িয়ে চলছে।এটা উনি বেশ বুঝতে পারছেন।কিন্তু কেন এড়িয়ে চলছে সেটা জানেন না।
জহির সাহেব চলে যাওয়ার পর,নিলয় সত্যিই ফাহাদকে ফোন দিলো।
-হ্যালো
-হাই
নিলয় ভাবেনি,ফাহাদকে ফোন দেওয়ার পর সে এমন বাচ্চা বাচ্চা কোনো মেয়েলি কণ্ঠ শুনতে পাবে।একটু হকচকিয়ে গিয়ে নিলয় বলল,
-কে?
-আমি।
-আপনি কে?
-আপনি ফোন দিয়েছেন,তাহলে আপনি বলুন আপনি কে!
-উফ!আচ্ছা ফাহাদকে একটু ফোনটা দেওয়া যাবে?
-একটু কি করে দেব?দিলে তো পুরোটাই দিতে হবে।
-ওহ গড!হ্যা পুরোটাই দিন।
-সে তো কখন বাথরুমে গেছে আর বের হওয়ার খোজ নেই।
-মানে কি? এতক্ষণ বাথরুমে কি করে?
-আমি কি করে জানব? বাথরুমে বাথরুম ই করে।আর কি করবে?
নিলয় আর নিজেকে সামলাতে পারলনা।হেসে ফেলল।নিলয়ের বাবা দরজার ওপাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।অনেক দিন পর ছেলেকে হাসতে দেখে দাড়িয়ে গেলেন।ছেলেদের হাসিও যে এত সুন্দর হয়,নিলয়কে না দেখলে তিনি বুঝতে পারতেন না।
নিলয় ফোনটা আবার হাতে নিয়ে বলল,
-আপনি তো sentence টা ভুল বললেন।
-মানে? কি ভুল বলেছি?
-না থাক।আপনি ফাহাদের কে হন?
-আমি ফাহাদের বাবা মার একমাত্র মেয়ে।
-মানে?
-মানে,আমি ফাহাদের দাদা দাদির ৬ নম্বর ছেলের আর ফাহাদের নানা নানির ৩ নম্বর মেয়ের একমাত্র মেয়ে।
-উফ! বিরক্তিকর। একটা simple কথা বলতে এতো কাহিনি! বলেলেই হয় তুমি ওর বোন।
-এই শুনেন,কথায় কথায় মেয়েদের মতো উফ উফ করবেন না।রাগ লাগে।আর যেই শুনলেন আমি ফাহাদের বোন সেই আপনি থেকে তুমি...
হ্যালো নিলয়,
-ও ফাহাদ,আমাকে বাঁচা।ওইটা তোর বোন নাকি অন্য কিছু?
-আরে বাদ দে ওর কথা।কি হইছে বল।
-বলছি।আগে বল, কই ছিলি?
-গোসল করছিলাম।
-৪ টা বাজে।এখন কিসের গোসল?
-আরে ফাইজুর বিড়াল আমার গায়ে ইয়ে করে দিছে।
-ও আচ্ছা।এই ফাইজুটা কে? তোর বোন?
-হুম।
-আচ্ছা শোন,আজকে ৫ টায় পার্কে দেখা করতে পারবি?
-পারব।শোন পরে কথা বলছি।ফাইজু মার কাছে আমার নামে কি যেন লাগাচ্ছে।
-ওকে বাই।
নিলয় ফোনটা রাখল।অনেকদিন পর হেসে মনটা হালকা হালকা লাগছে।মাঝে মাঝে অনেক simple কারনে মানুষের হাসি পায়।ফাইজুর কথাটাতে হাসির তেমন কিছুই ছিলনা।তবুও হাসি পেল।মেয়েটা অদ্ভুত।অপরিচিত একজনের সাথে কত সহজ ভঙ্গিতে কথা বলল।
বিকাল সাড়ে ৫ টা।ফাহাদ আধ ঘণ্টা ধরে পার্কের ঐ বেঞ্চটাতে বসে আছে।এই বেঞ্চটা বোধহয় ওদের বন্ধুদের জন্য ঠিক করা।কাওকে কোনোদিন বসতে দেখেনি।নিলয় এখনো আসেনি।এই ছেলেটা যতই মানুষিক যন্ত্রনায় থাকুক না কেন,ওর স্বভাব কোনোদিন বদলাবে না।
-কিরে কখন আসলি?
-এইতো পরশুদিন।
-উফ এত রেগে যাচ্ছিস কেন? তুই তো জানিস আমি একটু লেট লতিফ আছি।তোর কারেক্ট ৫ টায় আসার কি দরকার ছিল?
-ভাবছিলাম আগের থেকে change হয়ছিস।But I was worng.
-আচ্ছা বাদ দে।কেমন আছিস বল।
-ভাল।
-আমাকে জিজ্ঞেস করবি না?
-তোর answer টা জানি।
-এরকম ব্যাবহার ভাল লাগছে না।ফোনে কথা বলার সময় তো ঠিকই ছিলি।এখন কি হলো?
-কিছুনা। তাছাড়া তুই জানিস যে আমি যে মুহুর্তের জন্য প্রস্তুত থাকি না,সেই মুহুর্তে আমি খুব স্বাভাবিক ব্যাবহার করি।যেন কিছুই হয়নি।
-আমার ফোনের জন্য প্রস্তুত ছিলিনা তাহলে?
-মোটেই না।যে ছেলের দুই আড়াই মাস কোনো খোজ খবর নেই,তার ফোনের জন্য কিসের প্রস্তুতি?
কিরে কথা বলছিস না কেন?
-না কিছুনা।তোরা দুই ভাই-বোনই আজব।আচ্ছা তুই তো কখনো বলিসনি তোর একটা বোন আছে,আর তোদের বাসায়ও তো কোনোদিন দেখিনি।
-ও চট্টগ্রামে থাকতো।মামা মামির কাছে।
-ও আচ্ছা।আবার কবে যাবে?
-আর যাবে না।
-কেন?
-মামা মামির বাচ্চাকাচ্চা ছিলনা।তাই ওকে রাখছিল।এখন হয়ে গেছে।তাই ওকে আর সহ্য করতে পারেনা।
তুই হাসছিস কেন?
-না কিছুনা।কোন ক্লাসে পরে?
-7-8 হবে হয়তো...
-মানে কি?তুই জানিস না,তোর বোন কোন ক্লাসে পড়ে?
-আরে রাখ তো ওর কথা।এতদিন ছিলনা,ভাল ছিল।এখন এসে আমার বাঁশ মেরে বেড়াচ্ছে। আর একটা চট্টগ্রামের বিড়াল নিয়ে আসছে,যে হাগু মুতু সব আমার গায়েই করে।
একদম হাসবিনা।খুব হাসি পাচ্ছে না?
-না,আচ্ছা যখন করে তখন বুঝতে পারিস না যে কিছু হচ্ছে?
-আরে ঐ কুত্তার বাচ্চা বিড়াল,যখন আমি ঘুমাই থাকি তখন করে।অপেক্ষা কর।ওটাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করতেছি।আর এই কাজে আমাকে তুই হেল্প করবি।
-আ আমি কাওকে হত্যা করতে পারবনা।impossible.
-ওকে।আমি একাই একশো। এবার তুই বল,friendship নষ্ট করার কি দরকার ছিল?
-এসব কথা এখন থাক।
-না।থাকবেনা।
-প্লিজ ফাহাদ।আমার ভাল লাগছে না।আর তোর সাথে তো নষ্ট করিনি।
-আমার সাথে না হোক।অন্য গুলার সাথে?একটা মেয়ের জন্য আমাদের এত বছরের friendship শেষ হতে পারে না।
-আচ্ছা বাদ দে।
-ওকে।দিলাম বাদ।তো বল তোর কলমদানী কালেক্ট এর কি খবর?
-এইতো ভাল কথা বলেছিস।জানিস একটা ১২৩ বছরের পুরোনো কলমদানি পেয়েছি।আর এটার একটা স্পেশালিটি আছে।
-এতো বছরের পুরোনো কলমদানি কথায় পেলি? আর কি স্পেশালিটি?
-ভারত থেকে আনিয়েছি।আর এটা একটা স্পেশাল ম্যাটারিয়েল দিয়ে তৈরি।
-সেই স্পেশাল জিনিসটাই তো জানতে চাচ্ছি।
-আসলে আমি নিজেই ঠিক মতো জানিনা।পরে জেনে বলব।আজ বাসায় যাই।
-ধুর।ওকে বাই।বাট, রাত ৩ টার সময় আমাকে ফোন দিয়ে ডিসটার্ব করবিনা।
নিলয় কিছু বলল না।ফাহাদের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো।
ফাহাদ কলিংবেল বাজাল।ভেতর থেকে ফাইজুর কথা আর হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে।মেয়েদের কণ্ঠ এত জোরে শোনা গেলে ফাহাদের রাগ হয়।
ফাইজু ওর মাকে বলছে,
-আচ্ছা মা,পাশের ফ্লাটের আন্টিকে যখন দেখি তখনি উনি প্রেগন্যান্ট থাকে।ওনার বাচ্চা হয় না?
কথাটা বলেই সে খিলখিল করে হেসে উঠল।
ফাহাদ আর কলিংবেল না বাজিয়ে পরের কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।
ফাহাদের মা বলল,
-এই মেয়ে,চুপ কর।ভেতরের রুমে তোর বাবা বসে আছে।।
-না মা,বলনা,ওনার কইটা বাচ্চা?
-তোর ভাইয়ের থেকে বড় বড় ৪ টা ছেলে আছে ওনার।
-কি বলো!!!এই বয়সে আবার প্রেগনেন্ট?
-আরে গাধা,ওটা ওনার ভুড়ি।
-ও আচ্ছা।এতো বড় ভুড়ি!!!আমি তো ভেবেছিলাম already 7 month.ওহ,আর হাসতে পারছিনা।তো ওনার হাসবেন্ড না সরকারি চাকরি করে?
-হুম,তো?
-তাহলে উনি সরকারের বিপক্ষে চলে কেন?
সরকারে একটা প্রবাদ আছে না,
একটির বেশি সন্তান নয়,দুটি হলে ভাল হয়...
ও না না।ভুল বললাম।ওটা হবে,
একটির বেশি সন্তান নয়,দুটি হলে ভাল হয়।
উফ আবার ভুল বললাম।
দুটির বেশি সন্তান নয়,একটি হলে ভাল হয়।
এবার ঠিক বলেছিনা মা?
ফাহাদ আর দাড়াতে পারলনা।প্রচুর মশা।আবার কলিংবেল বাজাল।
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now