বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের এক কনকনে
শীতের সকাল। কুয়াশায় চারদিক সাদা হয়ে
আছে। উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল
পলিয়ারনির ছোট বিমানবন্দর থেকে এখনই
ছাড়বে তুপোলভ টিইউ-১৫৪ বিমানটি। যাবে
মস্কো হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর।
আরোহীদের বেশির ভাগই নিয়মিত যাত্রী,
ফলে তারা বিমানের কেবিন-ক্রুদের নাম
পর্যন্ত জানেন। পরিচিত পরিবেশে সবাই
নিশ্চিন্ত, শুধু স্বস্তি পান না রোকাইয়েভা
(২৮)। তার শুধু মনে হতে থাকে, এই বুঝি কোনো
বিপদ ঘটল। পাশে বসা তার স্বামী যুবায়েরভ
(৩০) অবশ্য তার উল্টো। তার সোজা কথা,
"বিমান দুর্ঘটনায় মরাই যদি আমাদের ভাগ্যে
থেকে থাকে, মরবোই তো। আর যদি না হয় তো
নয়।" স্বামীর কথায় চুপ করে যান
রোকাইয়েভা, কিন্তু বুককাঁপুনি থামে না
তার।
যুবায়েরভ-রোকাইয়েভা দম্পতি মুসলিম হলেও
চরম ইসলাম বিদ্বেষী রুশ কম্যুনিষ্ট সরকারের
ভয়ে ছদ্মনাম ধারণ করে। যুবায়েরভের ছদ্মনাম
আন্দ্রেই লামানভ এবং রোকাইয়েভার ছদ্মনাম
নভোস্কায়া তাতিয়ানা। বাস করে উদাচনি
শহরে। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থান শহরটির। এর
পাশে হীরকখনি। খনির কাছেই ছোট
পলিয়ারনি বিমানবন্দর। একটিমাত্র রানওয়ে
তার। সেখানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন
আলরোসা মিরনি এয়ার এন্টারপ্রাইজের একটি
বিমান আসে।
যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন খুব দুশ্চিন্তার
মধ্যে দিন কাটছিল যুবায়েরভ ও রোকাইয়েভা
দম্পতির। ছয় মাস আগে আঞ্চলিক
পুলিশবাহিনীর কিশোর অপরাধ বিভাগের
প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন যুবায়েরভ। তার
পোস্টিং হয়েছে মিরনি শহরে। তাদের বাসা
যে শহরে, সেই উদাচনি থেকে ৫ শ’ মাইল দূরে।
তাদের আছে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে,
সোফিয়া। রোকাইয়েভা কাজ করে
হীরকখনিতে; হেভি ইকুইপমেন্ট অপারেটর। তার
পক্ষে শিফট করা সম্ভব নয়। ফলে যুবায়েরভ
একাই কর্মস্থলে চলে যায়। অফিসের কাছেই
বাসা নেয়। মাস দুয়েক পর এক-দুই দিনের
ছুটিতে এসে স্ত্রী-সন্তানকে দেখে যায়।
দু’জনের দুই জায়গায় থাকা নিয়ে একপর্যায়ে
তাদের মধ্যে মনকষাকষি হয়।
গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে তারা মেয়েকে
পাঠিয়ে দিয়েছিলো মালয়েশিয়ার
কুয়ালালামপুরে রুশ হাইকমিশনে কর্মরত তার
ভাইয়ের বাসায়। তাদের মা অর্থাৎ সোফিয়ার
দাদীও কুয়ালালামপুরে যুবায়েরভের বড়
ভাইয়ের পরিবারের সাথেই বাস করেন। তারা
যাচ্ছিল মেয়েকে দেখতে আর পরিবারের
সবাই মিলে শীতকালীন ছুটিটা কাটাতে।
যুবায়েরভ ভাবছিল, "এক সাথে ছুটি কাটাতে
যাচ্ছি কিন্তু সংসারে যে প্যাঁচ লেগেছে, তা
খুলবে বলে মনে হয় না।"
বিমানের ককপিটের পরিবেশটা ছিল বেশ
খোলামেলা। চারজন ফ্লাইট ক্রুর সবাই প্রায়
এক যুগ ধরে এই রুটে কাজ করে আসছে। দুই
পাইলট আমীর ইব্রাহীমভ (৪২) ও এভগেনি
নোভোসেলভ (৪৩) উভয়েই পাকা পাইলট।
তাদের আছে প্রায় ২০ হাজার ঘণ্টা বিমান
চালানোর অভিজ্ঞতা। দু’জনই কমান্ডার পদবি
পেয়েছেন। উভয়ই দীর্ঘদেহী ও হালকা গড়নের।
তবে ইব্রাহীমভ শান্তশিষ্ট ও গম্ভীর স্বভাবের
মানুষ, আর নোভোসেলভ তার উল্টো।
সারাক্ষণই হাসছে, ছেলেমি করছে আর নানা
জাতের কৌতুক বলছে। দু’জন দুই রকম হলেও
তাদের মধ্যে ভারী ভাব। টিইউ-১৫৪
বিমানটিকে তারা দু’জনই ভালো বোঝে। সে
দিনও সেফটি চেকজাতীয় জরুরি সব কাজ
সেরে তারা বিমানে উঠে বিশাল
বিমানটিকে আকাশে ভাসিয়ে দিলো। তাদের
মনে ঘুণাক্ষরেও এরকম কোনো ভাবনা এলো না
যে, আজকের যাত্রাটি অন্য সব দিনের মতো
হবে না। আজ অন্য রকম কিছু ঘটবে। শুধু
প্রতিবারের মতো এবারও কেবল
রোকাইয়েভাই দুশ্চিন্তা করছিলো আর তার
দুশ্চিন্তাটি সে দিন সত্যি সত্যিই বাস্তবে রূপ
নিতে যাচ্ছিল।
ঘন্টা তিনেক উড়ার পর বিমানটি মস্কো
বিমানবন্দরে আধাঘন্টার যাত্রাবিরতি দিল।
কিছু যাত্রী উঠা-নামার পর আবার আকাশে
উড়তে শুরু করল। উড়ার ঘণ্টা সাতেকের মাথায়,
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের আকাশে
গিয়ে বিমানটি হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়ে
বিমানের অটোপাইলট অচল হয়ে গেল। পাইলট
ইব্রাহীমভ ও নোভোসেলভ দ্রুত বিমানের
নিয়ন্ত্রণ নিলেন। বিমানের ফ্লাইট
ইঞ্জিনিয়ার রফিক করিমভকে নোভোসেলভ
নির্দেশ দিলেন, "দেখো তো, অটো পাইলট
কাজ করছে না কেন?"
ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেল স্ক্যান করে করিমভ
দেখতে পেলেন লাল বাতি জ্বলছে। তিনি
পাইলটকে জানালেন, "আমাদের বিদ্যুৎ কমে
গেছে।" বিমানের যে মূল বিদ্যুৎ তা বন্ধ হয়ে
গেছে। এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়েছে
ব্যাটারিচালিত রিজার্ভ সিস্টেম। কিন্তু তা-
ও কাজ করছে না। করিমভ বুঝতে পারছেন না
সমস্যাটা কোথায়। তবে এটি যে গুরুতর সমস্যা,
বুঝতে বাকি রইল না তার। অস্থিরভাবে একবার
নিজের ঘড়িতে সময় দেখলেন। বিকাল ৪টা ৫৯
মিনিট।
এ দিকে পাইলট ইব্রাহীমভ রেডিও মারফত
স্থানীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারকে
সমস্যাটা জানালেন। বললেন, "কোথাও জরুরি
অবতরণ করা খুব দরকার। প্লিজ, কাছে কোথায়
এয়ারপোর্ট আছে, আমাদের জানান।" ওদিক
থেকে কন্ট্রোলারের গলা ভেসে এলো,
"গণ্ডগোলটা কেন হচ্ছে খুঁজে বের করো,
প্লিজ!..." তার কথা শেষ হতে পারল না আর,
রেডিও অচল হয়ে গেল। এরপর একে একে বন্ধ
হতে শুরু করল বিমানের গেইজ, ইন্সট্রুমেন্টস,
নেভিগেশন ডিভাইস ও কন্ট্রোল সিস্টেম।
টিইউ-১৫৪ বিমানে চারটি রিজার্ভ ব্যাটারি
থাকে। তবে এই ফ্লাইটের রিজার্ভ
ব্যাটারিগুলোর বয়স কমপক্ষে ১১ বছর, যা
কিনা এর মোট আয়ুর চেয়ে মাত্র এক বছর কম।
তদন্তকারীরা পরে দেখতে পান, এই চার
ব্যাটারির একটি অতিরিক্ত গরম (থারমাল
রানঅ্যাওয়ে) হয়ে এর ইলেকট্রোলাইট
তরলগুলো ফুটতে শুরু করেছে এবং এর ফলে
পাশের ব্যাটারিটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ
দিকে চলমান ব্যাটারি দুটো অচল হওয়ার
কারণে বিমানের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমও
আর চলতে পারছে না। এভাবে পুরো বিমানটির
বিদ্যুৎচালিত সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়ে।
এখন যা কিছু করার, ম্যানুয়াল সিস্টেমেই
করতে হবে।
যুবায়েরভ ও রোকাইয়েভা বসেছিল ইকোনমি
ক্লাসের সামনের দিকে। তারা দেখল
বিমানের বাতির উজ্জ্বলতা হঠাৎ মিইয়ে গেল,
যেন ওটা একটা ডিমলাইট। বিমানটি হঠাৎ
প্রচণ্ড জোরে এপাশ-ওপাশ মোড়ামুড়ি দিলো।
মনে হলো, পাইলট যেন বিমানের নিয়ন্ত্রণ ঠিক
রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। রোকাইয়েভা
ভয় পাওয়া গলায় তার স্বামীকে বলল, "কিছু
একটা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, বিমানটা ক্র্যাশ
করবে।" যুবায়েরভ বলল, "ও কিছু না। ভয় পেয়ো
না। সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এ দিকে বিমানের চিফ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট
এলিনা রাজুমোভারও নজরে এলো কিছু একটা
গণ্ডগোল হচ্ছে। তিনি ককপিটে ছুটে গিয়ে
জানতে চাইলেন কী ব্যাপার। ইঞ্জিনিয়ার
করিমভ শুধু বললেন, "একটা বড় সমস্যায় পড়েছি
আমরা। তোমাকে সব পরে বলবো, হ্যাঁ!…"
ইঞ্জিনিয়ার এক কথায় জবাব দিয়ে দিলেও
রাজুমোভার মনে হলো সমস্যাটি বুঝি
বিদ্যুতের। দেখতে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মনে
হলেও তার বয়স ৫০। বিমানে কাজ করছেন ২৭
বছর ধরে। ট্রেইনিং নিয়েছেন মস্কোর সিভিল
অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউটে। তার তো কিছু-না-
কিছু বোঝার কথাই। তিনি ক্যাবিনে ফিরে
অন্য অ্যাটেনডেন্টদের ডাকলেন। বললেন,
"যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থেকো।"
পাঁচ অ্যাটেনডেন্টের সবাই নিজেদের পকেটে
হাত ঢুকিয়ে দেখল পরিচয়পত্রটি আছে কি না।
এটাই নিয়ম। দুর্ঘটনায় মারা গেলে এই
কার্ডটিই তো ক্ষতবিক্ষত লাশের পরিচয় বলে
দেবে।
এ দিকে সম্ভাব্য কোনো অবতরণ ক্ষেত্রের
দেখা পেতে পাইলট বিমানটিকে ক্রমাগত
নিচে নামিয়েই চলছেন। উড়ছিল ১০ হাজার ৬০০
ফুট ওপর দিয়ে, সেখান থেকে নামিয়ে আনা
হলো তিন হাজার ফুটে এবং শেষে ঝুঁকি নিয়ে
একেবারে ১২ শ’ ফুট ওপরে। এভাবে বিমানটি
চলল প্রায় দুইশ’ কিলোমিটার। নাহ্, কোথাও
এমন কোনো জায়গা দেখা গেল না, যেখানে
একটু নিরাপদে বিমানটিকে নামানো যায়।
বিমানের যে দু-একটি ডিভাইস তখনো কাজ
করছিল, তারই একটি, ওয়ার্নিং লাইট ইঙ্গিত
দিলো, বিমানের জ্বালানি তলানিতে এসে
ঠেকেছে। এর একটু পরই বেজে উঠল অ্যালার্ম।
কী ব্যাপার? মেইন ট্যাংক থেকে জ্বালানি
তেল আসছে না। কারণ বিদ্যুৎ না-থাকায় তা
পাম্প করা যায় না। তিনটি ইঞ্জিনের ছোট
ট্যাংকে যে সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেল
সরাসরি ভরা হয়, তা দিয়েই এখন চলতে হবে।
তা দিয়ে চলবে আর মাত্র ৩০ মিনিটের মতো।
হাতে আর সময় নেই। মৃত্যু ঘাড়ের ওপর গরম
শ্বাস ফেলছে। রোকাইয়েভা তার স্বামীকে
বলল, "আমরা মরতে চলেছি।" যুবায়েরভ সবসময়
যেমনটি বলে, তেমনিভাবে জবাব দিলো, "সব
ঠিক হয়ে যাবে।" বলল বটে, তবে বুঝি এই
প্রথমবারের মতো স্ত্রীর ভয়টি তার মধ্যেও
সঞ্চারিত হলো।
বিমান চলছে। কিন্তু ঘন মেঘের কারণে নিচে
কোথায় কী আছে, দেখাই যাচ্ছে না। সবাই
একটুখানি হলেও উদ্ভ্রান্ত। বিমানের
নেভিগেটর সের্গেই তালালাইয়েভ (৫২)
পাগলের মতো এসওএস পাঠানোর চেষ্টা করতে
লাগল। আহা বেচারা! সে ভুলেই গিয়েছিল যে
ট্রান্সমিটারটি অনেকক্ষণ আগেই অচল হয়ে
গেছে।
এ সময় হঠাৎ নিচের মেঘের স্তর হালকা হয়ে
এলো। তারা এবার নিচের দিকে দেখতে পেল
গাছপালায় ভরা জংগল। জংগলের ডানদিকে
ফসলি জমি। জমিতে ধান পেকে সোনালী রং
ধারণ করে আছে। পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে
একটা ছোট নদী। ৮২ টন ওজনের বিমানটি
নামানোর জন্য আদর্শ জায়গা নয় মোটেও। তবে
গাছপালার মাঝে নামানোর চেয়ে ফসলি
জমিতে অবতরণই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। ফ্লাইট
অ্যাটেনডেন্ট আব্দুল্লায়েভকে (৪২) পাইলট
বললেন, "দেখি চেষ্টা করে, জমিতে নামানো
যায় কি না।"
বিমান আকাশে চক্কর দিচ্ছে আর পাইলট
নিচের দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখছেন।
হঠাৎ তার নজরে এলো অদূরে ছোট একটা বসতি।
পাইলট এবার এর ওপর চক্কর দেয়ার সিদ্ধান্ত
নিলেন। এটা করতে গিয়ে তারা হঠাৎ যেন ভূত
দেখলেন। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে
পারলেন না তারা। আরে, ওই যে একটা
এয়ারস্ট্রিপ (রানওয়ে)!
ছোট বসতিটির নাম শমসেরনগর। বাংলাদেশের
মৌলভীবাজার জেলাসদর থেকে সতের
কিলোমিটার দক্ষিণে একটা বাজার এলাকা।
এর এক প্রান্তে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান, মিয়ানমার,
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অভিযান
চালানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার ৬২২ একর ভূমি
অধিগ্রহণ করে একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলে।
ব্রিটিশ আমলে ওই বিমানবন্দরটি ‘দিলজান্দ
বন্দর’ নামেই পরিচিত ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত-
পাকিস্তান বিভক্তির পর বিমানবন্দরটির নতুন
নামকরণ করা হয় ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়
পর্যন্ত এখনে বিমান ওঠানামা করতো।
পরবর্তীতে বিমানবন্দরটিতে যাত্রীবাহী
বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্প
হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টিইউ-১৫৪ বিমানটি শমসেরনগরের আকাশে
চক্কর দিচ্ছে। পাইলট প্রস্তুত হচ্ছেন
বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য।
এ রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১৫৮৫ মিটার, কিন্তু
টিইউ-১৫৪ বিমান অবতরণের জন্য দৈর্ঘ্য
প্রয়োজন ২৪৪০ মিটার। পাইলটরা ভাবছেন,
আগে তো রানওয়েতে চাকা বসাই, তারপর
দেখা যাবে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে যে, সব
কাজ করতে হবে ম্যানুয়ালি। কারণ যেসব
জিনিস বিদ্যুতের সাহায্যে চলত, সব বন্ধ হয়ে
আছে। অবতরণের জন্য বিমানবন্দরের ওপর চক্কর
দিতে থাকলো বিমানটি। একবার, দু’বার,
তিনবার...।
এ দিকে যাত্রীরা ভয়ে কাঠ। কেউ প্রার্থনা
করছে। কেউ সম্বিৎহারা। কেউ কাঁপছে আর
কাঁদছে। রোকাইয়েভা ফিসফিস করে
স্বামীকে বলল, "আমরা মরে গেলে আমাদের
সোনামণি সোফিয়ার কী হবে?" স্ত্রীর দুই হাত
চেপে ধরে কাঁপা গলায় যুবায়েরভ বলল, "আমার
মা তাকে দেখবে।"
আকাশে চতুর্থ চক্কর শেষেই বিমানের চাকা
মাটি স্পর্শ করল। অ্যাটেনডেন্টরা খুশিতে
চেঁচাল, "অ্যাটেনশন! আমরা কিন্তু নামছি।"
এবার জোরে সামনের দিকে ছুটে চলল বিমান।
কিন্তু এই বিমানের জন্য রানওয়েটি যে
একেবারেই ছোট! জোরে ছুটতে গিয়ে কোথাও
ধাক্কা খেলেই আর দেখতে হবে না। সব শেষ।
পাইলট বিমানের গতি ঘণ্টায় ৩৮০ কিলোমিটার
থেকে ১০০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনলেন।
পাইলট ইব্রাহীমভ মনে মনে প্রার্থনা করলেন,
"আল্লাহ, আমাদের সাহায্য করো। তীরে এনে
তরী ডুবিয়ো না প্রভু!"
অবশেষে বিমান থামল। চাকার ঘর্ষণে মাটি
চূর্ণ হয়ে ধোঁয়ার মতো উড়তে লাগল। অনেকে
আগুন লেগেছে মনে করে চিৎকার করে উঠল,
"দরজা খুলে দাও।" অনেকে স্বস্তিতে চিৎকার
করে উঠল।
এ সময় রোকাইয়েভা কান্নায় ভেঙে পড়ল।
যুবায়েরভ গভীর আবেগে স্ত্রীর মাথাটি
নিজের কাঁধে টেনে নিলো। তার মনে হলো,
এই মেয়েটিকে তার খু-উ-ব দরকার। চাকরির
কারণে না-হয় থাকতেই হলো দু’জন দুই জায়গায়।
এ নিয়ে এত খিটিমিটির কী আছে! সে
রোকাইয়েভার কানের কাছে মুখ নিয়ে
ফিসফিসিয়ে বলল, "কোনো চিন্তা কোরো না।
এভরিথিং ইজ ফাইন!"
বিদেশী সাময়িকী অবলম্বনে…………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now