বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পদার্থবিজ্ঞানের মোটা বইটা হাতে নিয়ে আপনমনে
হাটছি । মনে মনে নিউটন , আইনস্টাইন , ফ্যারাডের
সূত্রগুলো আওড়াচ্ছি আর ঐ ব্যাটাগুলোর
চোদ্দগুষ্টি উদ্দার করছি । একটু পর স্যারের
বাসায় পরিক্ষা । অথচ যা পড়েছি সবই ভুলে গেছি
প্রায় । হটাত্ ঠাস্ করে মাথার পিছনে কে যেনো
থাপ্পড় দিলো । আমার তখন মেজাজ এমনিতেই
গরম । তার উপর মাথার মধ্যে এতো নিখুঁত
চপোটাঘাতের পর মগজের টেম্পারেচার গলনাংক
থেকে স্ফুটনাংক পৌছে গেলো ।
দাড়িয়ে গেলাম । হাতের মুঠো পাকিয়ে , দাতে দাত
চেপে ঘুরেই একটা ঘুষি দিতে গেলাম থাপ্পড়ের
অসভ্য মালিককে ।কিন্তু আমার হাত মাঝপথেই
থেমে গেলো । আমার সামনে নিশা দাড়ানো । ভারি
পাওয়ারের চশমার আড়াল থেকে বড় বড় মাথাময়
চোখগুলো দেখতে পেলাম । সেখানে তখন ভয় খেলা
করছে। হাত নামিয়ে ঝাঝালো কন্ঠে বললাম "এখনই
তো মাইর খাইতি । তারপর হসপিটালে নিয়ে যেতে
হতো আমার ।" নিশা দ্বিগুন ঝাঝালো কন্ঠে বললো
"তো কি করবো ? ধ্যান্দা পোলা । কয়বার ডাকছি
জানিস ! কি চিন্তা করিস এতো ?"
আমি তখন বিমর্ষ কন্ঠে বললাম "আরেহ্ বলিস না
। ঐ ব্যাটা নিউটন , আইনস্টাইনের সূত্র পড়তে
পড়তে লাইফটা হেল হইয়া গেলো । টাইম মেশিন
থাকলে অতিতে গিয়া সবডিরে খুন করতাম ।" আমার
কথা শুনে নিশা হেসে কুটিকুটি । হাসতে হাসতে ওর
চোখে পানি এসে গেলো । হাসলে ওকে বেশ ভালো
লাগে । আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি তার দিকে ।
ইন্টারের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি ।
নিশাটাও ভর্তি হয়েছে এখানে । বুয়েটে টিকার পরও
কেনো সে এখানে ভর্তি হলো ঐ রহস্যের সমাধান
হাজার ভেবেও খুঁজে পেলাম না । আমাদের আড্ডার
প্রধান ছিলো নিশা । আমার বরাবরই এসব আড্ডা
ভালো লাগে না , তার চেয়ে নিজের জগত্ নিয়ে
থাকতেই বেশি ভালো লাগে । কিন্তু নিশার জন্য
আড্ডাতে বসতেই হয় । কত যে ফন্দি করি
পাগলিটার হাত থেকে বাচার ! কোন লাভই হয় না ।
একেবারে গ্রিক বীর হারকিউলিসের মতো দুর্নিবার
নিশা ।
একবার বাসায় শুয়ে আছি । ও বার বার ফোন
দিচ্ছিলো । আমি ইচ্ছা করে ফোন রিসিভ করিনি ।
নিশা বাসায় আসে । আম্মাকে জিজ্ঞেস করে
"আন্টি সিয়াম কই ?" আম্মা হাসিমুখে দেখিয়ে দেন
আমার রুম । আম্মা আব্বা নিশাকে এত্তো আদর
করে আর সাপোর্ট করে যে মাঝে মাঝে কনফিউজ
হয়ে যাই আসলে তাদের সন্তান আমি ! নাকি নিশা !
নিশা রুমে ঢুকে অনেকক্ষন ডাকাডাকি করে আমি ।
আমি তখন ভান করে আছি ঘুমানোর । নিশা একের
পর এক ঝাড়ি দিচ্ছে । আর আমি প্রতিজ্ঞা
করেছি আজকে আর যাই হোক ঘুম থেকে উঠবো না।
একটু পর নিশা চলে গেলো । আর আমি তখন খুশিতে
আটখানা । এখন আমার ছাম্মাকছাল্লো টাইপের
নাচ দিতে ইচ্ছা করতেছে ।
মুখে ৩৬০ ওয়াটের বাল্বের আলোর মতো হাসি ফুটে
উঠলো । হটাত্ ছপাত্ করে আমার সারা শরীরে পানি
পরলো । আমি ধড়মড় করে উঠে বসলাম । তাকিয়ে
দেখি নিশা একটা বালতি নিয়ে দাবাং স্টাইলে
দাড়িয়ে আছে । ঐ দিন আমার কপালে নানান
দুর্ভোগ জুটেছিলো । থাক ওসব না বলাই ভালো ।
তারপর থেকে আমি একেবারে ভালো ছেলে হয়ে গেছি
। নিশার সব আজাইরা কাজে আমাকে হাজির দেখা
যেতো।
এভাবেই চলছিলো সব । হটাত্ একদিন শুনি নিশার
বাবা মারা গেছেন । খবরটা শোনার পর স্তব্ধ হয়ে
গেলাম । আঙ্কেল আমাকে ভীষন আদর করতেন ।
আব্বা আম্মাকে নিয়ে দ্রুত তাদের বাসায় গেলাম ।
গিয়ে দেখি সেখানে অনেক মানুষ । আঙ্কেলের
লাসটা যেখানে রাখা তার পাশেই আন্টি আর নিশা
আহাজারি করছে । আম্মা দ্রুত গিয়ে নিশার
আম্মুকে ধরলেন । নিশাকে ওভাবে কখনো কাদতে
দেখি নি।
ঐ দিনই প্রথম নিশার জন্য আলাদা একটা টান
অনুভব করেছিলাম । মনের গহিনে নিশা যে তার
নিজের স্থান করে নিয়েছে সেই দিনই প্রথম খুঁজে
পেলাম । ঐ দিন আঙ্কেলকে কবর দিয়ে আসার পর
নিশা আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলো । তার
দিকে এগিয়ে গেলাম । প্রাণচন্বল নিশার কোন
অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম না ঐ নিশার মধ্যে । বুকের
ভিতর একটা বিশাল শূন্যতা টের পেলাম সেদিন ।
নিশার কাছাকাছি যাওয়ার পরই , সে হু হু করে কেঁদে
জড়িয়ে ধরলো আমাকে । শক্ত করে ধরে রইলো
আমাকে । আমি সেদিন হতভম্ব হয়ে যাই । নিশাকে
পাল্টা জড়িয়ে ধরার সাহস ছিলো না । কষ্ট
হচ্ছিলো খুব ।
তারপর পুরো এক মাস নিশার সাথে দেখা করিনি ।
ওকে কিভাবে বলবো যে ওকে আমি ভালবাসি ।
দোটানায় আছি । ও কি আমাকে ভালবাসে ? এই
ছাইপাশ চিন্তা করতে করতে এক মাস চলে গেলো ।
নিশা তখন আঙ্কেলের মিলাদ আর বাসার টুকটাক
কাজ নিয়ে ব্যাস্ত ছিলো । আস্তে আস্তে সে
স্বাভাবিক হয়ে উঠতে লাগলো আবার । আরো
কয়েকমাস পর । নিশা তখন পুরোপুরি স্বাভাবিক ।
আমি অপেক্ষায় আছি ১৪ই ফেব্রুয়ারির । ঐ দিন
যেভাবেই হোক ওকে বলবই বলবো । ১৪ই ফেব্রুয়ারি
ভোরে ওকে ফোন করে টিএসসিতে আসতে বললাম ।
ও জানতে চাইলো কেনো । কিন্তু আমি কিছু না বলে
ফোন কেটে দিলাম ।
দাড়িয়ে ছিলাম । দূর থেকে দেখলাম নিশা আসছে ।
লাল সাদা একটা শাড়ি পরেছে সে । অপূর্ব লাগছে
তাকে । পান্জাবিটা ঠিক করে নিলাম । ফুলগুলো
আড়াল করে এগিয়ে গেলাম তার দিকে । তার
কাছাকাছি গিয়ে তাকে অবাক করে দিয়ে একটা হাটু
গেড়ে তার সামনে বসলাম । তারপর গোলাপ গুলো
তার সামনে ধরে বললাম . .
"তোমায় নিয়ে হৃদয়ে আমার হাজার সপ্ন আঁকা ,
তুমি আমার সেই রাজকণ্যা , সপ্নে যাকে দেখা ।
তোমার জন্য হৃদয়ে আমার অনেক ভালবাসা , যেথায়
আছে একটা ঘর , সুখ আনন্দে ঠাসা ।
জড়িয়ে নাও আপন করে এই আমাকে , হৃদয় দিয়ে
বলছি তোমায় , ভালবাসি তোমাকে ।"
আবার বুক তখন ধুকপুক করছে । নিশার
হাস্যজ্জ্বল মুখটা থেকে হাসি মুছে গেলো । আর
আমার হৃদপিন্ড একটা বিট্ মিস করলো । নিশা কিছু
বলছে না । চুপ করে দাড়িয়ে আছে । আমি আর কিছু
না বলে উঠে দাড়ালাম । ঘুরে হাটা ধরলাম । হটাত্
ঠাস্ করে মাথায় থাপ্পড় মারলো কে যেনো । মেজাজ
সপ্তমে চড়ে গেলো । ফুলসহ মুঠো এক করে ঘুরেই
ঘুষি দিতে গেলাম । মাঝপথেই থেমে গেলো আমার
হাত । নিশা দাড়িয়ে আছে । তার চোখে অশ্রু
মেশানো হাসি খেলা করছে ।
আমার পান্জাবির কলার ধরে হ্যাচকা টান দিয়ে
বলল "টানা ৫ বছর লাগিয়েছিস কথাটা বলতে । আর
এক বছর গেলে তোকে খুন করতাম আমি ।" আমি
তখন খুশি হব কি ! বাতাসের অভাবে খাবি খাচ্ছি ।
উফ্ কলারটা এত্তো জোরে ধরেছে ! একেই হয়তো
বলে ভালবাসার সাইড এফেক্ট !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now