বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রহস্যময়ী আয়না"" শেষ পর্ব

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niloy (০ পয়েন্ট)

X "রহস্যময়ী আয়না"" শেষ পর্ব : : কথাগুলো বলেই আয়নার মাঝেই হাওয়া হয়ে গেলো আয়নার সেই মানুষটি।আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম আয়নার দিকে।তবুও বুকে কিছুটা সাহস নিয়ে আয়নার হাতড়াতে লাগলাম দেখার জন্য যে কিছু আছে কিনা।নাহ কিছুই নেই।এখন আয়নায় শুধু মাত্র আমার মুখ দেখা যাচ্ছে। . সারা রাত ঘুম হলো না।শুধু আয়নাটাকে নিয়ে আর আয়নার ওই মানুষটাকে নিয়েই ভাবছি।আয়নাটা আমার কাছে থাকলেই আমার কোনো না কোনো ক্ষতি সে করবেই।তাহলে এখন কি করা যায়? অনেকক্ষণ চিন্তা করার পর উপায় খুঁজে পেলাম। আমি আয়নাটা নিয়ে ছাদে চলে গেলাম।ছাদে গিয়ে আয়নাটা ছুড়ে মারলাম দূরে।এরপর আবার রুমে এসে শুয়ে পরলাম।আর কোনো চিন্তা নেই আমার। তখন এক ঘুম দিলাম।কিন্তু হঠাৎ মনে হলো আমার খাট নড়ছে।চারপাশে প্রচন্ড বাতাস বইছে।শোঁ শোঁ আওয়াজ ভাসছে কানে।চোখ খুলে দেখলাম কিছুই নেই।এরপর লাইট জ্বালাতেই দেখলাম আয়নাটা আবার সেই আয়নার জায়গায়।কিন্তু আয়নাটা এখানে আসলো কিভাবে? আমার চোখ তখন কপালে।আমি ভয়ে ভয়ে গেলাম আয়নাটার কাছে।আবার যদি সেই লোকটি আমার ক্ষতি করে? নাহ তেমন কিছুই হলো না।কিন্তু আর ঘুমুতে পাড়লাম না ভয়ে। মাথায় শুধু একটাই চিন্তা আয়নাটা কিভাবে আমার জীবন থেকে সড়ানো যায়? এভাবে পেরিয়ে গেলো আরো দু'দিন। আমার ঘুম নেই চোখে।শুধু মাথায় সেই একটাই চিন্তা।আয়নাটাওতো কিছু করছে না বা বলছে না।তবুও এটাকে যে করেই হোক শেষ করতেই হবে কিন্তু কিভাবে? . হঠাৎ মনে হলো আচ্ছা আয়নার মাঝেই যখন ওই মানুষটি থাকে তাহলে কেন না আয়নাটাই ভেঙ্গে ফেলি? এইসব ভাবতেই আয়নাটা হাতে নিয়ে এক আছাড় মেরে কয়েক টুকরো করে ফেললাম।চারপাশে শুধু আয়নার টুকরোগুলো।যাক অবশেষে শেষ করতে পারলাম।শ্বস্তির নিশ্বাস নিলাম। কিন্তু হঠাৎ শুনতে পেলাম অনেকগুলো হাসির শব্দ।আমি অবাক হয়ে ভয়ে ভয়ে নিচে তাকালাম।দেখলাম আয়নার প্রত্যেকটি টুকরোতে আয়নার লোকটির ছবি আর সে হাসছে জুড়ে জুড়ে হাসছে।এরপর ধীরে ধীরে আয়নার কাচগুলো একসাথে মিলে গেলো।আবার সেই আগের মতো।যেন আয়নাটা কখনই ভাঙ্গে নি।আমি ভয়ে পুরোই চুপসে গেলাম।পুরো শরীর থেকে ঘাম ঝড়ছে।গলা শুকিয়ে গেছে। আয়না থেকে লোকটি বলতে লাগলো, -তুই যা কিছুই করিস না কেন আমাকে শেষ করতে পারবি না।আমাকে তোর থেকে আলাদা করতে পারবি না। আমি এই আয়না জগতের রহস্য।আমাকে শেষ করা এত সহজ না।আর তোর ওই পৃথীবি থেকেতো কোনোদিনও পারবি না। . আমি কিছু ভয়ে ভয়ে বললাম, -তাহলে আমার কাছ থেকে আপনি কি চান? -চাই অনেক কিছু।তবে সময় হলেই তুই বুঝতে পারবি।আর এই বোকামি করিস না তাহলে তোরতো ক্ষতি হবে সাথে তোর মিলিরও ক্ষতি হবে। . কথাটা শুনে যেন আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।আমি নড়তে পারছি না।আমার কিছু হলে সমস্যা নেই। কিন্তু মিলির কিছু আমি হতে দিবো না। . কেটে গেলো কয়েকটা দিন।কিন্তু আয়নার লোকটি এখন আর আসছে না। আমি বসে বসে শুধু ভাবছি।তখন দরজায় কে যেন কড়া নাড়লো।আমি দরজা খুলতেই দেখলাম মিলি। -তুমি এখানে?(আমি) -হ্যা তুমি কোথায় ছিলে? তোমার জন্য কতদিন আমি গেটের সামনে অপেক্ষা করেছি।তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে। -হ্যা বলো। -চলো ভিতরে চলো। -হুম বলো। -আমার বিয়ের জন্য পাত্র দেখছে।যে কোনো মুহূর্তে বিয়ে হয়ে যেতে পারে।তাই কয়েকদিনের মধ্যেই তুমি আমাকে বিয়ে করবে। -কিন্তু এত অল্প সময়ে কিভাবে সম্ভব?আর তোমার পরিবার কি মেনে নিবে? -আমি কিছু জানি না।তুমি কয়েকদিনের মধ্যে আমাকে বিয়ে করবে আর নাহয় আমার মরা মুখ দেখবে। -তুমি এসব কি বলছো।আচ্ছা তুমি বাসায় যাও আমি দেখছি কি করা যায়।আমি ফোন দিবো তোমাকে। -ঠিক আছে।আমি তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকবো।(মিলি চলে গেলো) . মিলির কথা শুনে আমি আরো চিন্তায় পরে গেলাম।এখন কি করবো কোথায় যাবো? মিলিকে এখানে আনলে আয়নাটা যদি মিলির ক্ষতি করে? আর বিয়ে না করলে মিলি যদি সত্যি কিছু করে বসে? নাহ কিছু একটা করতে হবে আমাকে। এসব ভাবছি আর তখনই আয়নাটা থেকে কথা বলছে, -কিরে তুই এত চিন্তিত কেন?হুম জানি আমি।আমার কাছে এর উপায় আছে।শুনবি নাকি। . আমি ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম আয়নাটার সামনে। -জ্বী। -তাহলে দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কাছে আয়। আমি আয়নার সামনে গেলাম।হঠাৎ একটি হাত আয়নার থেকে এসে আমাকে টেনে নিয়ে গেলো আয়নার ভিতরে। আমি এখন আয়না জগতে।আর আয়নার সেই লোকটি বাহিরে।আমার জায়গায় এখন সে দাঁড়িয়ে আছে।আর হাসছে।আমি চিৎকার করছি কিন্তু কেউ শুনছে না।আয়নার লোকটি ঠিক আমার মতো করেই চলছে কথা বলছে। আমি এই আয়না জগৎ থেকে কিছুই করতে পারছি না।আমি যে এখন এখানেই বন্দি হয়ে আছি। . আয়না জগৎের চারপাশে শুধু বিশাল সাগর আর সাগর।আর সাগরের মাঝখানে রয়েছে অনেকগুলো আয়না। কিন্তু আমি এখান থেকে কোথাও নড়তে পারছি না।নাহয় নড়লেই আমি সাগরে পরে যাবো। . আমি এই আয়নার থেকে জুড়ে জুড়ে চিৎকার করছি কিন্তু কেউ আমার চিৎকার শুনছে না।আমি এখন এখান থেকে কিভাবে বের হবো? . কেটে গেলো একটা দিন।আমি এখনও সেই আয়নায় বন্দী।বের হওয়ার কোনো রাস্তাই নেই আমার কাছে। সেই আয়নার লোকটি ঘরে ঢুকলো। আমার দিকে তাকিয়ে সে হাসছে। -কিরে কেমন লাগছে আয়না জগতে? -প্লিজ আমাকে এখান থেকে বের করুণ।আপনি যা বলবেন তাই আমি করবো।আপনি কি চান আমাকে বলুন আমি সব করবো। -আমি যা চাই তাতো আমাকেই করতে হবে।শুনবি আমি কি চাই? -(আমি হ্যা সূচক মাথা নাড়ালাম আস্তে করে।) -আমি চাই আমি এই পৃথীবিতে হাজার বছর ধরে বেচে থাকবো।আমি এই পৃথীবিতে শুধু মাত্র একটি মানুষ হয়ে থাকবো যার বয়স হবে হাজার বছর।যাকে দেখে সবাই ভয় করবে।যার কথা সবাইকে শুনতে হবে।নাহলে এর পরিণতি হবে শুধুই মৃত্যু।আমি প্রথমে তোর থেকে তোর রুহু নিয়ে নিজের মধ্যে প্রবেশ করবো।এরপর তোর মিলিকে আমি বিয়ে করবো।এরপর যদি ওর সন্তান হয় তাহলে ওই সন্তানের রুহু নিয়েও আমি নিজের মধ্যে প্রবেশ করবো।তাহলে তোদের দ্বারাই আমি আরো বেচে থাকবো ১০০ বছর।এভাবেই আমি মানুষের রুহু নিবো ধীরে ধীরে।কিন্তু প্রথমে তোরটা না হলে আমি অন্যের রুহু নিতে পারবো না শরীরে। (এই বলে সে আবার বেড়িয়ে পরলো) আমি ওর কথা শুনে ভয়ে আতকে উঠলাম।নাহ মিলির কিছু হতে দিতে পারি না আমি।এই পৃথীবিতে ও থাকলে পৃথীবি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাকে কিছু করতেই হবে। আমি শুধু ভাবছি কি করা যায়? . পেরিয়ে গেলো আরো একটি রাত। পরদিন সকালে দেখি কে যেন দরজা খুলছে।আমি দেখে পুরোই অবাক। ওই লোকটি আমার মিলিকে নিয়ে এসেছে।তার মানে ওরা আজকেই বিয়ে করবে।বাহিরের কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি আমি।আমি মিলিকে ডাকছি কিন্তু মিলি আমার কথা শুনছে না। বাহির থেকে মিলি ওই লোকটির সাথে কথা বলছে, -আচ্ছা আমরাতো পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখনওতো বিয়েই করলাম না? (মিলি) -চিন্তা করো না আমি বিকেলে কাজী নিয়ে আসবো।তুমি রেডি থেকো। -আচ্ছা।কিন্তু তুমি কোথায় যাচ্ছ? -একটু মার্কেটে যাচ্ছি।তোমার জন্যতো কিছু আনতে হবে তাই না? -আচ্ছা তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। . আমি মিলিকে ডাকছি।কিন্তু কেউতো আমার কথা শুনছে না।কি করবো আমি? এর থেকে ভালো আমি এই সাগরেই ঢুবে যাই। তাই ধীরে ধীরে পিছনে যেতে লাগলাম।যখন সাগরের পানিতে পা দিলাম।সাথে সাথে সাগরের পানি উধাও হয়ে গেলো।চারপাশে শুধু আয়না আর মাঝখানে আমি দাঁড়িয়ে আছি। তার মানে এর ভিতরেও কোনো রহস্য আছে? সবই ধোকা।যা দেখা যায় তার উল্টোটাই রয়েছে এই আয়না জগৎে। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। অনেক ভাবার পর ওই লোকটির একটা কথা মাথায় আসলো।ও বলেছিলো আমাকে পৃথীবিতে থেকে আমি ওকে শেষ করতে পারবো না।তার মানে এখানেই ওকে শেষ করার রহস্য লুকিয়ে আছে।আমাকে খুঁজে বের করতে হবে। হয়তো এই আয়নাগুলোর মাঝেই ওর শেষটা লুকিয়ে আছে।কিন্তু বুঝবো কি করে? . একটু পর কানে ভেসে এলো মিলি কার সাথে যেন কথা বলছে।দেখলাম ও রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।আমি এরপর আয়নার সামনে যেতে লাগলাম। আয়নাগুলো হাত লাগাতেই নিমিষেই বালিতে পরিণত হতে লাগলো।আমি প্রত্যেকটি আয়নার কাছে গিয়ে স্পর্শ করতে লাগলাম।সবগুলোই স্পর্শ পেলেই বালি হয়ে নিচে পরে যাচ্ছে। একটি একটি করে সবগুলোতে স্পর্শ করলাম।কিন্তু অনেকগুলো আয়নার মাঝে একটি আয়নাতে স্পর্শ করার পরেও আয়নাটা বালিতে পরিণত হলো না।তখন ভাবতে লাগলাম তাহলে এটাই কি ওর শেষ করার একটি অস্ত্র। আমি আয়নাটা হাতে নিলাম।এর মাঝেই দেখলাম ওই লোকটি ঘরে ঢুকলো।সাথে মিলি নেই।সে আমার হাতে আয়নাটা দেখে প্রচন্ড ঘাবড়ে গেলো।আমি তখনই বুঝতে পারলাম এই আয়নার মাঝেই ওর অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে।সে আয়নার ভিতরে ঢুকছে।আমি তখনই আয়নাটা হাত থেকে আছাড় মারলাম।সাথে সাথে আয়নাটা ভেঙ্গে গেলো।আর লোকটির শরীর থেকে মাংস খসে খসে পরছে আর তা বালুতে পরিণত হচ্ছে।আমি পকেট হাতড়াতে লাগলাম।কারণ আমার পকেটে সব সময় লাইটার থাকতো। লাইটারটা খুঁজে পেতেই আয়নাগুলোর মাঝে আগুণ ধরিয়ে দিলাম।আর লোকটিও পুড়তে লাগলো।একসময় বালিতে মিশে গেলো।আমিও আয়না থেকে বের আসতে পারলাম।এরপর সেই আয়নাটা আমি অনেক দূরে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসি। . আজও অনেক বছর হয়ে গেলো কিন্তু আমার স্ত্রীকে সব বলার পরও আমার স্ত্রী মানে মিলি কথাটা কোনো ভাবেই বিশ্বাস করছে না। : : : (সমাপ্তি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৬৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now