বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তবুও মাথা থেকে ঘটনাটা সরছে না।
আজ একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরে এলাম।শরীরটা
ভিষণ ক্লান্ত লাগছে।সাথে মাথাটাও ধরেছে।তাই না
খেয়েই ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গাঁ এলিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুম চলে এলো।মধ্যরাত
কয়টা বাজবে সঠিক বলতে পারবো না।তখন
প্রত্যেকটি মানুষই গভীর ঘুমে থাকে।তেমন
আমিও ছিলাম।কিন্তু মনে হলো আমি এক সাগরে
ভাসছি।আশেপাশে শুধু পানি আর সেই পানির মাঝে
ঢেউ খেলা করছে।আমি সেই পানিতে দুলতে
দুলতে চলে যাচ্ছি এক অন্য জগতে।কিছু পানির
ঝাপটা এসে আমার মুখের উপর পরলো।
.
তখনই লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম।মুখে হাত
দিয়ে দেখলাম মুখেও হালকা পানি।নাকি আমি
ঘেমেছি ঠিক বুঝতে পারছি না।তাই চলে গেলাম
ওয়াশরুমে।মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে তোয়ালে
হাতে নিয়ে গেলাম আয়নার সামনে।গিয়ে মুখ
মুচছি।কিন্তু লক্ষ্য করলাম আমি এদিকে মুখ মুচছি
কিন্তু আয়নার ভিতর আমি সোজাভাবে দাঁড়িয়ে আছি
নিজের দিকে।তাই চোখ ভালো করে কচলিয়ে
আবার দেখলাম।নাহ সব ঠিক আছে।ইদানিং কি হচ্ছে
কিছুই বুঝতে পারছি না।শরীরটাও ভালো নেই।
মনে হয় জ্বর আসবে।
তাই আর কিছু না ভেবে আবার শুয়ে ঘুমিয়ে
পড়লাম।
.
সকালে এতটাই জ্বর যে আজ অফিসে কিভাবে
যাবো তা নিয়েই ভাবছি।আর আজ নতুন প্রজেক্ট
এর ডিল ফাইনাল হবার কথা।সব দায়িত্ব আমার উপর।
আমাকেই সব কিছু ম্যানেজ করতে হবে।যদি
আমিই না যাই তাহলে আমার চাকরী আজই শেষ।
কিন্তু আমিতো বিছানা থেকে উঠতেই পারছি না।তাই
অফিসে ফোন করে বললাম।আমি আজ আসতে
পারবো না আমার ভিষণ জ্বর।
এরপর আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
পরদিন জ্বরটা আর ছিলো না।তাই গেলাম অফিসে।
মনে ভয় ছিলো হয়তো চাকরীটা আর নেই।
কিন্তু অফিসে গিয়ে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না।
আমি অফিসে ঢুকতেই স্যার ডেকে পাঠালেন
তার রুমে।
-আরে তমাল সাহেব আসেন আসেন।
কাল কি প্রেজেন্টেশন টাই না দিলেন।অফিসে
নাকি ফোন করেছিলেন সকালে আসতে
পারবেন না।আমিতো তখন চিন্তায় পরে
গিয়েছিলাম।পার্টিকে কি জবাব দিবো?
কিন্তু আপনিতো পরে এসে এত ভালো করে
প্রজেক্ট বুঝালেন যে ডিল সাথে সাথেই
ফাইনাল হয়ে গেলো।
-কিন্তু স্যার আমিতো কাল আসিই নি।কালতো আমার
জ্বর ছিলো।
-আপনি না আসলে তাহলে কাল প্রেজেন্টেশন
কে দিলো? মজা করছেন তাইতো?
-না স্যার মানে......
-হয়েছে থাক আর কিছু বলা লাগবে না।এই একটু
আকটু মজা চলেই।আর এ মাস থেকে আপনার
বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হবে।ভালো করে কাজ
করুন।তবে আপনার প্রমোশন নিশ্চিত।
-জ্বী স্যার ধন্যবাদ।আসি তাহলে আসসালামু
আলাইকুম।
-আসুন ওয়ালাইকুম আসসালাম।
.
স্যার এর কথা শুনে রীতিমত মাথা ঘুরছে।কি হচ্ছে
এসব আমার সাথে? আমি কোনো ভুল করছি
নাতো?আমিতো কাল সারাদিন বিছানায় শুয়া ছিলাম।
স্যার এর রুম থেকে বেড়িয়ে নিজের
কেবিনে যাওয়ার সময় অনেকেই স্বাধুবাদ
জানালো।আমিও হাসিমুখে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে
এলাম কেবিনে।তাহলে কি সত্যি আমার মতো
একই চেহারার অন্য একজন এসব করছে? সে
আমার জায়গায় এসে আমার কাজ কেন করছে? কি
চায় সে?
নাহ অনেক হয়েছে আমাকে সব কিছু তথ্য বের
করতেই হবে।কিন্তু কোথা থেকে তথ্য বের
করবো।আমিতো একটি বারও তাকে দেখি নি।এমন
কি তার সাথে আমার কথাও হয় নি।উফফ আর সহ্য
হচ্ছে না।আর কিছু চিন্তা করতে পারছি না।
.
অফিস থেকে বাসায় ফিরছি।সময় বিকেল ৫ টা।
দেখলাম মিলি আমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
-আপনি এখানে?(আমি)
-হ্যা।কাল আপনি যে কথাটা বলেছেনা তার উত্তর
দিতেই আপনাকে খুজছি।সকালেও এসেছিলাম
কিন্তু দেখলাম তালা দেওয়া।তাই ভাবলাম হয়তো
অফিস চলে গিয়েছেন।তাই এখন আসলাম।
-কাল আমি কি বলেছিলাম আপনাকে?
আমিতো কাল বিছানা থেকেই উঠি নি।
-উমা কাল আপনি সকালে আমাকে কয়েকটা লাল
গোলাপ দিয়ে প্রপোজ করলেন।
আর কাল উত্তরটা দিতে পারি নি।তাই এখন দিচ্ছি, 'আই
লাভ ইউ টু'
আর শুনেন এমন রসিকতা করবেন না।আর আজ
থেকে আমাকে তুমি করে বলবেন।আর আমিও
তুমি করেই বলবো।
(এই বলে মিলি চলে গেলো)
আমি মিলির কথা শুনে পুরোই বোবা হয়ে
গেলাম।মুখ দিয়ে কোনো কথাই যেন বের
হচ্ছে না।আমার মাথায় যেন আর কিছু কাজ করছে
না।চারপাশ যেন নীরব নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছে।
আমি কি করবো কাকে গিয়ে সব সত্যি বলবো
কিছুই বুঝতে পারছি না।আর কেউ আমার কথা বিশ্বাসই
বা করবে কেন?
.
রুমে গেলাম।গিয়ে ফ্রেশ হয়ে চিন্তা করছি।আর
মুখ মুছে নিজের চেহারা আয়নায় দেখছি।আমার
চেহারার একই মানুষ এই পৃথিবীতে আছে এও কি
সম্ভব?
এসব ভাবছি আর মুখটা আয়নায় দেখছি।কিন্তু
আয়নায়তো আমার চেহারা ভাসছে কিন্তু হাসিমুখে।
আমি আবার চোখ কচলিয়ে দেখলাম।নাহ
আয়নায়তো আমার চেহারা হাসছে।একবার চেহারা
আমার মতো আবার চেহারা কালো হয়ে যাচ্ছে।
ভয়ে চুপসে যেতে লাগলাম।তখন আয়নার
চেহারাটা বলতে লাগলো,
-কিরে কি চিন্তা করছিস? তোর এসব কাজ কে
করছে?(আয়না)
আমি অবাক হয়েই তাকিয়ে আছি মুখ ফুটে কিছুই
বলতে পারছি না।সে আবার বলতে লাগল।
-তোর এসব কাজ আমিই করেছি।আর কেন
করেছি তা বুঝতে পারবি খুব শীঘ্রই।
কি ভাবছিস আমি কে?
আমি এই আয়না জগৎের একটি রহস্য।যার চেহারা
পুরোটাই তোর মতো।কিন্তু স্বভাবটা ঠিক তোর
উল্টো।ভয় পাস না তোকে মারবো না।কারণ তুই
মরলে আমার কাজ যে অবশিষ্ট থেকে যাবে।
:
:
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now