বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Free Mode See Photos
#_অপ্রাপ্তি
????️আব্দুল্লাহ আল গালিব
,,
(জীবনে প্রথমবার আমার লেখা গল্প এটি। প্রত্যেকেই পড়ার অনুরোধ রইল।)
,,
,,
ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং,,,,(সকাল ৭টা?
,
এলার্মটা অফ করে আবার ৫ মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু একি ঘুম ভেঙ্গে উঠতেই চোখদুটো কপালে উঠে গেল!! সাতটা পঁয়তাল্লিশ বাজে!!এটাই বুঝি নিউটনের ফোর্থ ল; সকালে পাঁচ মিনিটের জন্য ঘুমিয়ে পড়লে সেটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট শুরু করালাম; জ্যাম আর পাউরুটি।সিঙ্গেলদের ব্রেকফাস্ট এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা শুধুই বিলাশিতা।
যাহোক ব্রেকফাস্ট সেরে বাইক নিয়ে রওনা দিলাম অফিসের পথে।আটটায় অফিস।আজ আবার নতুন প্রোজেক্ট ম্যানেজারের জয়েন করার কথা।যাস্ট টাইময়ে পৌঁছাতে না পাড়লে আবার বসের ঝাড়ি খেতে হবে।
ওহ আমার পরিচয়ই তো দেয়া হলো না।
-আমি আরিয়ান। বয়স ২৬ । একটা প্রোজেক্টে সাইট ম্যানেজার হিসেবে জব করছি।এখানে ধানমন্ডিতে একটা ফ্ল্যাট থাকি।আর বাবা মা গ্রামের বাড়িতে থাকে।
,,
এইতো অফিসে চলে এসেছি।
বাইকটা পার্ক করে রেখেই দ্রুত ডেস্কে চলে আসলাম। নতুন প্রোজেক্টটার পেপার্সগুলো দেখছিলাম।এমন সময় বসের ফোন,
-গুড মর্নিং, স্যার
- মর্নিং। আরিয়ান আমার রুমে একবার এসো তো।
-ওকে স্যার, আমি আসছি।
আমি ফোনটা রেখেই স্যারের রুমের দিকে রওনা দিলাম।
-আসব স্যার?
-হুম, আরিয়ান এসো,বোসো।
-থ্যাংকইউ স্যার।
-আরিয়ান দিজ ইজ প্রাপ্তি।আওয়ার নিউ প্রোজেক্ট ম্যানেজার।
এতক্ষণ আমি মেয়েটির দিকে লক্ষ্য করি নি। কিন্তু , আমি এবার মেয়েটির দিকে তাকাতেই বিরাট একটা থাক্কা গেলাম।
এ তো সেই প্রাপ্তি যার সাথে পাঁচ বছর আগে আমার শেষ দেখা হয়েছিল। প্রাপ্তি ও আমার দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেল।ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। মনে হচ্ছিল আমাকে এভাবে দেখার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। তবে বিষ্ময়টা চেপে রেখেই মলিনভাবে বললো
-হাই , আমি প্রাপ্তি
-হ্যালো ম্যাম, আমি আরিয়ান।
বস বললো, তাহলে তো তোমাদের পরিচয়টা হয়েই গেল। এখন তোমরা নেক্সট প্রোজেক্টটা নিয়ে কাজ শুরু করে দাও। মনে রাখবে এই প্রোজেক্টটা কিন্তু তোমাদের কেরিয়ারের জন্য অনেক ইম্পর্ট্যান্ট।
আমায় দুজনেই মাথা নাড়িয়ে,যে যার ডেস্কে চলে আসলাম।
এরপর আমার ডেস্কে এসে নতুন প্রোজেক্টের ফাইলটা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করালাম। কিন্তু কিছুতেই কাজে কনসেনট্রেট করতে পারছিলাম না।
এরপর বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে লেকের পাশের টং দোকানটাতে গিয়ে বাইকটা থামিয়ে বসে পড়লাম।
-কি ব্যাপার মামা, এতদিন পর আমার দোকানে আইলেন(দোকানদার মামা)
-আসলে কাজের চাপ বেশী তো,তাই সময় হয়ে ওঠে না।
-ওও আইচ্ছা।তা আজ আপনার মনটা খারাপ নাকি,মামা
-না মামা, সেরকম কিছু না।
-এই ন্যান আপনার ইস্পেশাল লেবুর চা।
-থ্যাংকইউ মামা,
বলেই আমি চা তে চুমুক দিলাম।চায়ে চুমুক দিতে দিতে ফিরে গেলাম সেই ৫ বছর আগের অতীতে,,,,
আজ ভার্সিটিতে আমার তৃতীয় দিন। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে হাঁটছিলাম।এমন সময় কয়েকজন বড়ভাই য়ের ডাক
-এই শোন
-জ্বি ভাই
-কি নাম
-জ্বি ,আরিয়ান
-কোন ডিপার্টমেন্ট
-জ্বি ,ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট
-এত জ্বি জ্বি কিসের।বড়ভাই দের দেখলে যে সালাম দিতে হয় জানিস না।(রেগে গিয়ে)
-সরি ভাই। ভুল হয়ে গেছে।
-কিসের সরি।তোকে তো এর শাস্তি পেতেই হবে।ঐ জে নীল। জামা পরা মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছিস।ওর নাম প্রাপ্তি। এই ভার্সিটির ক্লাস। সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে।তোকে প্রাপ্তিকে গিয়ে প্রোপোজ করতে হবে।
আর না হলে ১০০ বার কান ধরে উঠবোস করতে হবে।
আমি বুঝতে পারলাম এরা আমাকে র্যাগিং করছে। আমার পক্ষে ভরা ক্যাম্পাসে কানধরে উঠবোস করা সম্ভব নয়। তাই কোন কথা না বাড়িয়ে ভাইদের কথা মেনে নিলাম।তা না হলে সমস্যা হতে পারে। ওরা আমার হাতে একটা ফুল ধরিয়ে দিল।
আমি ফুল হাতে নিয়ে আস্তে আস্তে এগোতে থাকলাম। ভয়ে আমার পাদুটোকে কাঁপছিল। এরপর প্রাপ্তি আপুর কাছে যেতেই চোখ কপালে উঠে গেল।
এত সুন্দর কোন মেয়ে হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে তাকে বানিয়েছে। মনে হচ্ছিল তাকে দেখে যেন আমি অন্য এক জগতে হারিয়ে গেছি।তার মায়াভরা চোখদুটো আর চাঁদের মতো মুখখানা দেখে আমি পুরাই ফিদা,,,,
এরপর অগত্যা আমি হাটু গেড়ে তাকে ভরা ক্যাম্পাসের সামনে প্রোপোজ করে ফেললাম।
প্রাপ্তি আপু আমার দিকে তাকিয়ে হকচকিয়ে গেল। অগত্যা এমনটা মনে হয় সে আশা করে নি। রাগে গজগজ করতে লাগলো। মনে হচ্ছিল তার মায়াভরা চোখদুটো যেন এই বেরিয়ে এলো।
আমি তখনও বোকার মতো ফুল নিয়ে বসে আছি। এমন সময়,,,
-ঠাসসসসসসস,,,,,
কি ভেবেছিসটা কি বেয়াদব ,এটা কি কোন পার্ক নাকি।আর আমাকে প্রোপোজ করার সাহস পাস কোথা থেকে । স্ক্যাউন্ডেল কোথাকার।
বলেই প্রাপ্তি আপু হনহন করে চলে গেল।
আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে আছি।চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছিল। গোটা ক্যাম্পাস আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছিল। আমার মনে হচ্ছিল , মাটির নিচে ঢুকে যাই না কেন।
এরপর থেকে আর দুই দিন ভার্সিটিতে আসলাম না। তৃতীয় দিন ভার্সিটিতে আসলাম। ক্লাস শেষ করে ক্যাম্পাস দিয়ে হেঁটে হোস্টেলের দিকে যাচ্ছিলাম।
এমন সময় দেখি প্রাপ্তি আপু ও তার ফ্রেন্ডরা মাঠে বসে গল্প করছে। আমাকে দেখেই প্রাপ্তি আপু উঠে দাঁড়ালো। হনহন করে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। এদিকে আমারতো যাই যাই অবস্থা। ভয়ে ভিতরটা শুকিয়ে আসল।
এবার প্রাপ্তি আপু আমার সামনে এসে দাড়িয়ে পড়লো। কিন্তু উনি যা বললো তাতে তো আমি পুরোই অবাক,,,,,,,,,
,,
,,
চলবে,,
(১ম পর্ব)
(প্রথমবার গল্পটা লিখলাম। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
·
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now