বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শরীফ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে। সিগারেট টানছে। নিশ্বাসের সাথে মিশিয়ে সিগারেট টানা। সিগারেট টানার এ দৃশ্য সাদৃশ্য দেখার মতো। যে কোনদিন সিগারেট টানেনি সে এই দৃশ্য দেখলে নিশ্চয়ই তার লোভ হবে। জব্বর লোভ। মেয়ে মানুষের লোভের মতো। কাঁচা টাকার লোভের মতো।
একটা শেষ। আরেকটি সিগারেট দুই ঠোঁটের মাঝখানে। ঠোঁটের নীলাভ গোলাপি মাংসগুলো সিগারেটের সাথে চুমোচুমিতে ব্যস্ত। বাম হাতে ম্যাচের বাক্স। একটি কাঠি তিন আঙুলের মাঝামাঝি। সবেমাত্র সিগারেট ধরিয়ে একটা আত্মার সংমিশ্রণের টান দিয়েছে। হুট করেই তখন একটা বাস এসে শরীফের সামনে ব্রেক কষে। শরীফ ভয়ে লাফ দিয়ে ওঠে। নর্দমার কাছাকাছি পড়ে আছে। জুতো দুটোর একটি নর্দমার জলে স্নান করছে। ম্যাচ বাক্সের সবকটি কাঠি এলোপাতাড়ি শুয়ে আছে রাস্তায়। সিগারেট তখনও নিবুনিবু করে জ্বলছে। মোবাইল আর ব্যাটারি আলাদা অবস্থানে।
শরীফ খুঁড়ে খুঁড়ে হাঁটতে হাঁটতে সিগারেটটি হাতে তুলে নিল। ফুঁ দিয়ে আবার সিগারেট টানতে শুরু করলো। বাসের সামনে গিয়ে ধমক দিয়ে বলল, 'এই মিয়া! চোক্কে দ্যাকেন না। এইভাবে কেউ হুট করে চালায় নাহি।'
ড্রাইভার বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলে ওঠে, ' হ, এক্কেবারে হাঁচা কতা কইছেন। প্রত্থম প্রত্থম তো।'
আরে! মানিক ওস্তাদ যে। কেবা আছেন?
হ, আল্লায় ভালোই রাইখচে।
আপনে ক্যামন আচেন?
হ, আমিও ভালোই আচি।
ও আচ্চা। বাসে ওডেন। যাইতে যাইতে কতা অইবো।
ঠিহক আছে। উঠতাছি। আমিতো...।
আমি তো কি?
না, থাকুক। পরে একসময় কমু।
বাস চলতে শুরু করলো। শরীফ মানিকের পাশে সিটে বসে আছে। মানিক পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করলো। সিগারেটের প্যাকেট শরীফের দিকে বাড়িয়ে বলল, সিগারেট ধরান। টানি।
শরীফ বলল, ' আমার কাছে আছে। আমারডাই ধরায়।'
আরে না। আপনেরডা ধরাবেন ক্যা? আমি দিচি আমারডাই ধরান।
আচ্চা, ঠিক আচে। আপেনরডাই ধরাই তইলে।
সিগারেট টানছে দু'জনে। যাকে বলে ভাগাভাগি, অর্ধার্ধি। দুটান করে টানছে। দুবার নিশ্বাস নেওয়ার মতো। দুটান শরীফ, দুটান মানিক। আসলেই, সত্যি করে একটি কথা বলাই বাহুল্য, সিগারেটের সম্পর্কই হলো আত্মার সম্পর্ক। পৃথিবীর একমাত্র সম্পর্ক। যে সম্পর্কে কোন ঘুণপোকা নেই। নেই কোন বিবাদ বিষাদ অসহায়ত্ব। এর কারণ হলো - সিগারেট সব পেশাতেই মানানসই।
সিগারেট শেষ। একটি সিগারেট দু'জনে সমানতালে টানছে। কতক্ষণই আর আস্ত থাকে। নিকোটিন পুড়ে ছাইপাঁশ হয়ে ফুরিয়ে গেছে। তবুও, শেষ টান শরীফের। শরীফ বলল, 'সিগারেটের শেষ টানে ঠোঁট পোড়ে। আত্মা পোড়ে না। তবে ঠোঁট পোড়ার যন্ত্রণায় বুক পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দুঃখগুলো ভুলে থাকা যায় কিছু সময়ের জন্য।
মানিক আরেকটি সিগারেট হাতে ধরিয়ে দিল। না, এই সিগারেটটি প্যাকেটের না। স্টিয়ারিংয়ের সাথে পেঁচানো পুরানো কাপড় ভাঁজ থেকে নেওয়া।
ওস্তাদ! আবার ধরামু?
হ, ধরান। সমচ্যা নেই। তবে...।
তবে কি ওস্তাদ?
আমি আর টানমু না।
তয় যে দিলেন।
দিলাম, আপনেরতো সিগারেট টাইন্যা হাউস মেটে নাই এজন্যে...।
এক্কেবারে ঠিহক কতা কইচেন। সিগারেট ভাগাভাগি করে টানেল সম্পর্ক অয়। কিন্তু আত্মায় শান্তি মেলে না।
এজন্যই তো পুরো সিগারেট হাতে ধরাইয়া দিচি। মনের সুখে টানেন।
শরীফ সিগারেট টানছে। বাস ভর্তি করে সিগারেটের ধোঁয়াগুলো পায়তারা করছে। কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলার মতো। হঠাৎ খ্যাঁক খ্যাঁক করে কেশে উঠলো মানিক। মানিকের কাশিতে শরীফ মিষ্টি হেসে উঠলো। মানিক মিয়া তখন জিজ্ঞেস করলো, কি ব্যাপার? হাসলেন যে।
না, কিচ্চু না। এমনিতেই হাসলাম।
না, আপনে কইলেই কি আমি বিশ্বাস করমু। ঘটনা কি খুইল্লা কন?
আসলে হইচে কি ওস্তাদ! শ্যাষবার মাল খাইচিলাম। মালডা বেশ জব্বর ছিলো। যখন আকাম করতেচিলাম তখন মালডায় আপনের মতো খ্যাঁক খ্যাঁক করে কেশে উঠচিলো। সেজন্য...।
কিন্তু ওস্তাদ...
কি হলো? থামলেন ক্যা?
আসলে অইসে কি ওস্তাদ? থানা থেকে আসার পরে সঙ্গী সাথী কাউরে খুইজা পাইতেছি না। হঠাৎ যে কই লুকাইলো।
ও আচ্চা! তাই।
হ, ওস্তাদ। ঠিহক কতা।
কিছুক্কণ পরে আপেনেরেও খুঁইজ্যা পাওয়া যাইতো না।
মানে কি?
কুনো মানে নাই। সত্যি সত্যি খুঁইজ্যা পাওয়া যাইতো না।
শরীফের মাথা ঘুরছে। চোখে কোনকিছু দেখছে না। যেটুকু দেখছে ঝাপসা। দেখা যায়, দেখা যায় না। সব যেন গড়মিল, অমিল। সামনের সবকিছু যেন অগোছালো। এলোমেলো এলোপাতাড়ি।
কি! মাথা ঘুরচে। বনবন করে ঘুরচে। চোখ দুটো ঝাপসা। সামনের সবকিছু অগোছালো, এলোমেলো এলোপাতাড়ি?
হ, একদম ঠিহক।
তইলে, সিগারেট নিজের কাজ শুরু কইরা দিচে। আমার আর কিচ্চু করার নাই।
তার মানে। মানে কি?
মানে কিছুই না। তরে আমি...।
কি কচ্চেন এগুলা?
ক্যান? তোর মনে নাই। তুই কি করচিলি?
আমি কিচ্চু করিনি।
হ, আসলেই তো তুই কিচ্চুই করোস নাই।
শরীফ অজ্ঞান। হাতপা ছেড়ে দিয়েছে। শুধু নিশ্বাসটুকু চলছে।
হঠাৎ, মিনিট খানেক পর। বিকট শব্দ। এক্সিডেন্ট। বাসের সাথে বাসের। মানিক দৌড়ে গিয়ে দেখে শরীফ জীবিত নেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now