বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইফতারী কিনে বাসায় আসছিলাম । সবে মাত্র তিন তালায় উঠেছি দেখি বাড়িয়ালার মেয়ে দরজা ঠেলে বের হচ্ছে । আমি প্রথমে ভাবলাম মেয়েটার দিকে তাকাবো না ।
আসলেই আমি এই মেয়েটার দিকে সাধারনত তাকাই না । যখনই আসতে যেতে দেখা হয় আমি মাথা নিচ করে চলে যাই । কখনও চোখাচোখি হয় না । কিন্তু আজ আমি সিড়ির হাফ ভাগে এসে দাড়িয়ে পড়লাম । কি মনে হল আমি মেয়েটার দিকে চোখ তুলে চাইলাম ।
ইস !
কি টলটলে চোখ মেয়েটার !
আমার বুকের নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে গেল । এই মেয়েটার চোখ এতো সুন্দর কেন ?
আমি আমার চোখটা সরিয়ে নিতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না কেন জানি । আর অবাক হবার বিষয় মেয়েটাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
একই ভাবে !
আচ্ছা আমি যা ভাবছি মেয়েটাও কি এমনটা ভাবছে ?
নাহ !
আমার চোখ
মেয়েটার মত এতো সুন্দর না ! তাহলে মেয়েটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন?
আমি জানি না তবে এভাবে তাকিয়ে থাকাটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না । না জানি মেয়েটা কি ভাবছে আমার সম্পর্কে ?
আর দাড়ানো ঠিক হবে না ! আমি আমার মাথা নিচ করে উঠে চলে এলাম । কিন্তু কেন জানি মেয়েটার চোখের চাওনী আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না ।
কেন ? এতোদিন এই বাড়িতে আছি মেয়েটার সাথে কতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবারই আমি মাথা নিচ করে চলে আসতাম । কোন দিন চোখাচোখি হয়নি ।
আজ প্রথম হল । কেন হল ? না হলেই ভাল হত ।
ঝামেলা হত না ।
-আপনি প্রতিদিন ছাদে আসেন ?
ইফতারির শেষ প্রতিদিনই আমি ছাদে আসি । এই সময়টা কেন জানি খুব শান্তি শান্তি লাগে । আর ছাদের ফুরফুরে বাতাসটাও ভাল লাগে ।
কিন্তু আজ বিকেলের মেয়েটার সাথে চোখাচোখির হবার পর কেন জানি মনের ভিতর শান্তি লাগছে না । ঠিক এই সময় মেয়েটার কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম ।
মেয়েটা কে দেখে একটু চমকালাম । অন্য দিন তো মেয়েটা আসে না ছাদে । আজকে কেন আসলো ?
মেয়েটা আবার বলল
-আপনি প্রতিদিন আসেন ছাদে ?
-এই তো !
আমার কথা হারিয়ে গেল । কি বলব ঠিক বুঝতে পারলাম না । মেয়েটি বলল
-আমি আপনার অস্বস্থির কারন হচ্ছি না তো ?
-না না এমন কোন ব্যাপার না ।
মেয়েটি হাসলো ।
যদিও সন্ধ্যা তবুও দিনের আলো একেবারে মিলিয়ে যায় নি । আবছা আলোয় মেয়েটির হাসি যেন ...
কিসের সাথে যে তুলনা করি .. ঠিক বুঝতে পারলাম না ।
মেয়েটি বলল
-আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি ? অনেকদিন ভেবেছি ! করবো?
- করুন !
-আপনি কি কোন কারনে অপছন্দ করেন ?
কি বলে এই মেয়ে!! এই মেয়ে কে কিভাবে অপছন্দ করবো?
-নাহ ! অপছন্দ কেন করবো বলুন ?
-না আমার মনে হয়েছে কেন জানি ! আপনার সাথে যতবারই দেখা হয়েছে ততবারই আপনি কেমন জানি আমাকে এভোয়েড করে চলে গেছেন । কেমন যেন এড়িয়ে গেছেন ইচ্ছা করেই ।
কথা টা খানিকটা সত্যিই । আমি আসলেই এমনটা করেছি ! কেন করেছি আমি জানি না !
-তাহলে আপনি আমাকে দেখলে ওভাবে চলে কেন যেতেন ?? আমি বলছি না যে আমার সাথে আপনি কথা বলেন নি, এটা হতেই পারে ! কিন্তু আপনার আচরন টা যেন কেমন ছিল !!
-আসলে.........
মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।আমি তাকাতে পারছি না !
-আসলে আমি ঠিক জানি না কেন করতাম ! আমি ভাবতাম হয়তো আপনি পছন্দ করবেন না ।
মেয়েটি আবার হেসে উঠল । বলল
-আমি পছন্দ করবো না ? এমনটা কেন মনে হল আপনার ?
-আমি জানি না !
মেয়েটি হাসতেই থাকলো ! কি প্রানচঞ্চল হাসি !!বিরিয়ানি খেয়ে বাসায় আসছিলাম ! বাড়ির সামনের বিশাল ডিপার্টমেন্টাল দোকানটার দিকে চোখ চলে গেল ! দেখি বাড়িয়ালা মেয়ে ! কি যেন কিনছে
যদিও কিছু কেনার ইচ্ছা ছিল না তবুও ভিতরে ঢুকে পরলাম । মেয়েটার সাথে কিছুক্ষন কথা বলা যাক ! আমাকে দেখেই মেয়েটি বলল
-আরে আপনি ?
-এইতো !
-এতো রাত হল বাসায় ফিরতে ? কোথায় গিয়েছিলেন
-না । কোথাও যাই নি । পেট পুজা করতে গেছিলাম জিন্দাবাজার।
-কেন ? বাসায় রান্না হয়নি?
-কি করবো বলেন বুয়া আসে নি । তাই বাধ্য হয়ে বাইরে খেতে হল !!
একদম মিথ্যা কথা ! বুয়া এসেছে । কিন্তু আমার মাঝে মাঝেই বিরিয়ানি খাই কারন খেতে মন চায় । তাই রাতে চলে যাই বিরিয়ানি খেতে।
মেয়েটি মুখে কেমন একটা সিমপ্যাথির ভাব ফুটে উঠল ।
-বুয়া না আসলে খুব ঝামেলা হয় আপনার তাই না?
একটুা ঝামেলা হয় আরকি ? ব্যাপার না !
মেয়েটি আবার বলল
-তবে একটা মজাও আছে অবশ্য !
-কি মজা ?
-এই যে ইচ্ছা করলেই আপনারা বাইরে খেতে পারেন । জানেন, আমার আব্বু না বাইরের খাবার একদম পছন্দ করে না । আমাকে একটুও বাইরের খাবার খেতে দেয় না !!
-বড়ই দুঃখের বিষয় !
আমি এমন ভাবে বললাম মেয়েটা হেসে ফেলল । মেয়েটার হাসি সুন্দর !!
মেয়েটি বলল
-তা আমি কি কিনতে এসেছেন ?
-ও আসলে রাতএর খাবারের পর একটা আইসক্রিম না খেলে আমার ঠিক ভাল লাগে না ।
মেয়েটি আবার হাসলো !
আমি দোকানদার কে দুইটা চকবার দিতে বললাম । একটা মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম
-নিন !
-আরে না না ! এতো রাতে আইসক্রিম খাওয়া ঠিক হবে না ।
-আরে কোন সমস্যা নাই ! নিন !
মেয়েটা আইসক্রিম টা নিল ।
-ধন্যবাদ
মেয়েটার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে বাসায় ফিরে এলাম !
মেয়েটার সাথে কথা বলে ভালই লাগে !! জানি সামনে আবারও কথা হবে মেয়েটার সাথে !
ভোর বেলা সেহরী খেতে উঠেছি ! ভাত রান্না করে হবে । ইস এখন যদি তেহরীর দোকান টা খোলা থাকতো ভাল হত ! এই রান্না করে আর ভাল লাগে না । ঠিক তখনই কলিংবেল বেজে উঠল !
এই সময় কে এল !!
দরজা খুলে সত্যিই অবাক হতে হল !!
বাড়িয়ালার মেয়েটি !
এখন !
এই সময়ে ?
-আপনি ?
মেয়েটি একটু হাসলো !! বলল
-আজ না বুয়া আসে নি? তাই আপনার জন্য সেহরী নিয়ে এলাম !
আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম ।
মেয়েটি হাতের ঢাকা প্লেট টি আমার দিকে বাড়িয়ে দিল ।
-গরম করা আছে ! খেয়ে নিন ।
আমি বললাম
-আপনাকে ধন্যবাদ ! অনেক বেশি ধন্যবাদ !!
মেয়েটি আবার হাসলো ! ইস!! কি গভীর চোখ মেয়েটার ।
নাহ !!
এই মেয়েটার চোখের দিকে বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকলে আমি সত্যি মেয়েটার প্রেমে পড়ে যাবে !
যাওয়ার আগে মেয়েটি বলল
- কথা হবে ! এখন যাই কেমন?
কেমন একটা অনুমুতি চাচ্ছে যেন ! আমি যদি না বলি যেন যাবে না !!
আমার মনটা আসলেই ভাল হয়ে গেল !
মন ভাল নিয়ে সেহরী খেতে বসলাম !!সকালবেলা বাইরে বেরিয়েছি । জিন্দাবাজার যাবো । এখন ঈদের মৌসুম । জিন্দাবাজার এর দিকে তো যাবার উপায় নাই ভীড়ের ঠ্যালায় । সেই তুলনায় আম্বরখানায় ভীড় খানিকটা কম ।
রিক্সা ঠিক করতট যাবো এমন সময় পেছন থেকে কে যেন আমার কাধে হাত দিল । পিছনে ফিরে দেখি বাড়িয়ালার মেয়েটি । হাসি মুখে তাকিয়ে আমার দিকে ।
-কোথায় যাচ্ছেন ?
আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম । মেয়েটা বেশ সাজগোজ করে বেরিয়েছে । তার মানে মেয়েটিও কোথাও যাচ্ছে । আর খুব সম্ভাবনা আছে মেয়েটা শপিংয়ে যাচ্ছে ।
এখন !
লেট মি থিঙ্ক । মেয়েদের পছন্দের শপিংয়ের জায়গা কোথায় ?
জিন্দাবার নাকি আম্বরখানা?
-আমি ? একটু জিন্দাবাজার এর দিকে যাবো ভাবছি ।
মেয়েটি একটু হেসে উঠল ।
-ওমা ! তাই নাকি আমিও তো ঐ দিকে যাচ্ছি । চলুন এক সাথে যাওয়া যাক ।
আমার মনটা খুশি হল । একসাথে এতোটা পথ যাওয়া যাবে ।
একসাথে, এক রিক্সায় !
ওয়াও !
-কি হল আপনি এমন জড়সড় নিয়ে বসে আছেন কেন ? একটু সহজ হয়ে বসুন । নাকি আমার পাশে বসতে ...
মেয়েটি কথা শেষ করলো না ।
-না না কি বলছেন ? এমন কোন কথা না । আসলে ...
-আসলে ?
-আসলে আমি এর আগে কখনও কোন মেয়ের সাথে আমি রিক্সায় উঠি নাই তো , তাই !
মেয়েটি অবাক হল । সত্যিই মনে হল মেয়েটি আমার কথা শুনে অবাক হল ।
-আপনি সত্যি কোন মেয়ের সাথে রিক্সায় উঠেন নি ?
-জি না !
এবার মেয়েটি কেমন একটা রহস্যময় হাসি দিল ।
-কি হল ? হাসছেন যে ?
-না হাসছি না । আসলে আমার নিজেকে খুব লাকি মনে হচ্ছে । আমি প্রথম মেয়ে যে কি না আপনার সাথে রিক্সায় উঠেছি ! ইজেন্ট ইট অসাম ?
এই মেয়েটা কি সুইট ভাবেই কথা বলে ! আর অনুভূতি গুলো কি চমত্কার ভাবেই অনুভব করায় !
সময়টা আসলেই অনেক চমত্কার কাটলো । যদিও মেয়েটি কোন কিছুই কিনলো না কেবল ঘুড়লো ।
আমার কাছে অবশ্য খারাপ লাগছিল না । অন্য সময় হলে আমার বিরক্তির সীমা থাকতো না কিন্তু এই মেয়েটির সাথে সব কেমন যেন আনন্দের দিকে যায় !
যাওয়ার পথেও একসাথে রিক্সায় করে আসছিলাম । সব কিছু কি চমত্কারই না হচ্ছে !
কিন্তু একটা বিরক্তিকর ব্যাপার । সারাটা সময়ে মেয়েটির ফোন বারবার বেজে উঠছিল । আর মেয়েটি বারবার ফোন কেটে দিচ্ছিল ।
ফেরার পথেও দেখলাম মেয়েটির ফোন বার বার বেজে উঠছিল ।
-কোন সমস্যা ?
মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলো ।
-না কোন সমস্যা নাই । আমার এক বান্ধবী ফোন দিচ্ছে ।
-তা ধরুন ।
-না মানে ... আসলে ...
-আসলে ?
মেয়েটি বলল
-আসলে ও আমার জন্য ব্লু ওয়াটার এ ওয়েট করছে ।
-কেন ? ওয়েট করছে কেন ?
এবার মেয়েটা আবার একটু হাসি দিল
-ওর সাথে আমার দেখা করার কথা ছিল ওখানে !
-তাহলে আপনি জিন্দাবাজার এ কেন ......
আমি আর কোন কথা বলতে পারলাম না । আমি কেবল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে !
মেয়েটা কেমন একটা লজ্জা চেহারা নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now