বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
????????সন্তানের বিরহে ইয়াকুব আ. দুঃখ ও অশ্রু বিসর্জন????
.
.
অতঃপর দ্বিতীয়বার আঘাত পাওয়ার পর ইয়াকুব আ. এ ব্যাপারে ছেলেদের সাথে বাক্যলাপ ত্যাগ করে মহান পালনকর্তার কাছেই ফরিয়াদ করতে লাগলেন। আর আগের স্মৃতিচারণ করে ইউসুফ আ. এর জন্য দিলের ব্যাকুলতা প্রকাশ করে বললেন,
یٰۤاَسَفٰی عَلٰی یُوْسُفَ
অর্থঃ হায় আফসোস! ইউসুফের জন্য।
এভাবে দুঃখে ও অশ্রু বিসর্জনে তাঁর চক্ষু বিবর্ণ হয়ে গেল। নিম্নোক্ত আয়াতে তা ব্যক্ত করা হয়েছে,
وَابْیَضَّتْ عَیْنٰهُ مِنَ الْحُزْنِ فَهُوَ کَظِیْمٌ○
অর্থঃ আর দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল এবং অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়ে তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৪)
তার চোখ সাদা বর্ণ ধারণ করার অর্থ হচ্ছে তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেল কিংবা দুর্বল হয়ে গেল।
তাফসীরবিদ মুকাতিল রহ. বলেন, ইয়াকুব আ. এর এ অবস্থা ছয় বছর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় দৃষ্টি প্রায় লোপ পেয়েছিল।
فَهُوَ کَظِیْمٌ
অর্থ, “তিনি স্তব্ধ হয়ে গেলেন।”
অর্থাৎ কারো কাছে নিজের মনোবেদনা প্রকাশ করতেন না। کَظِیْمٌ শব্দটি کظم থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ, বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভরে যাওয়া। উদ্দেশ্য এই যে, দুঃখ ও বিষদে তাঁর মন নির্মোহ হয়ে গেল এবং মুখ বন্ধ হয়ে গেল। কারও কাছে তিনি দুঃখের কথা বর্ণনা করতেন না।
ছেলেরা পিতার এহেন মনোবেদনা ও ইউসুফের জন্য আকুতি দেখে বলতে লাগলো,
تَاللهِ تَفْتَؤُا تَذْكُرُ یُوْسُفَ حَتّٰی تَكُوْنَ حَرَضًا اَوْ تَكُوْنَ مِنَ الْهٰلِکِیْنَ○
অর্থঃ আল্লাহর কসম, আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত হবেন না, যে পর্যন্ত মরণাপন্ন না হয়ে যান কিংবা নিঃশেষ না হন। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১৮৫)
ইয়াকুব আ. ছেলেদের কথা শুনে বললেন,
اِنَّمَاۤ اَشْكُوْا بَثِّیْ وَحُزْنِیْۤ اِلَی اللهِ وَاَعْلَمُ مِنَ اللهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ○
অর্থঃ আমি তো আমার দুঃখ ও বেদনা আল্লাহ তা‘আলার সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর তরফ থেকে আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১৮৬)
মহান আল্লাহর তরফ থেকে নিশ্চয়ই ইয়াকুব আ. ইউসুফ ও তাঁর ভাইয়ের ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। তাই তিনি বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর তরফ থেকে যা জানি, তোমরা তা জানো না।”
এরপর সেই সূত্রেই হযরত ইয়াকুব আ. ছেলেদের বললেন,
یٰبَنِیَّ اذْهَبُوْا فَتَحَسَّسُوْا مِنْ یُّوْسُفَ وَاَخِیْهِ وَلَا تَایْـَٔسُوْا مِنْ رَّوْحِ اللهِ ؕ اِنَّهٗ لَا یَایْـَٔسُ مِنْ رَّوْحِ اللهِ اِلَّا الْقَوْمُ الْکٰفِرُوْنَ○
অর্থঃ বৎসরা! যাও ইউসুফ ও তাঁর ভাইকে খোঁজ করো এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কাফের গোষ্ঠী ছাড়া অন্য কেউ নিরাশ হয় না। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭)
ইয়াকুব আ. এতদিন পর ছেলেদেরকে আদেশ দিলেন যে, যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে খোঁজ করো এবং তাদেরকে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না। এর আগে কখনো তিনি এমন আদেশ দেননি। এটা তাকদীরেরই ব্যাপার। এর আগে তাদেরকে পাওয়ার কোনো আভাস তিনি পান নি। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়ার পর তিনি সেই নির্দেশ দিলেন।
এক্ষেত্রে বিনয়ামীনকে পাওয়ার স্থান তো নির্দিষ্টই ছিল। তা ছিল মিসর, যেখানে তাকে আটক রাখা হয়েছে। সেই সাথে ইউসুফ আ. কেও খোঁজার সিদ্ধান্ত হলো। ওদিকে পরিবারের জন্য খাদ্য আনারও প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তাই সব উদ্দেশ্য মিলিয়ে ইয়াকুব আ. ছেলেদেরকে পুনরায় মিসরে পাঠালেন।
কেউ কেউ বলেন, আযীযে মিসর কর্তৃক ছেলেদের রসদপত্রের মধ্যে পণ্যমূল্য ফেরত দেওয়ার ঘটনা থেকে ইয়াকুব আ. প্রথমবার আঁচ করতে পেরেছিলেন যে, এই আযীযে মিসর খুবই ভদ্র ও দয়ালু ব্যক্তি। বিচিত্র নয় যে, তিনিই হয়তো তাঁর হারানো ইউসুফ। দ্বিতীয়ত বিনয়ামনীকে তাঁর রেখে দেওয়ার দ্বারা এ সম্ভাবনা প্রবল হলো।
ইউসুফ আ. ভাইয়েরা যখন পিতার নির্দেশ মুতাবিক মিসরে পৌঁছল এবং আযীযে মিসরের সাথে সাক্ষাত করলো, তখন নিতান্ত কাতরভাবে কথাবার্তা শুরু করলো এবং নিজের দরিদ্রতা ও নিঃস্বতা প্রকাশ করে বললো,
قَالُوْا یٰۤاَیُّهَا الْعَزِیْزُ مَسَّنَا وَاَهْلَنَا الضُّرُّ وَجِئْنَا بِبِضَاعَۃٍ مُّزْجٰىۃٍ فَاَوْفِ لَنَا الْکَیْلَ وَتَصَدَّقْ عَلَیْنَا ؕ اِنَّ اللهَ یَجْزِی الْمُتَصَدِّقِیْنَ○
অর্থঃ হে আযীয! আমরা ও আমাদের পরিজনবর্গ নিদারুণ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়েছি এবং আমরা অতি নগণ্য পুঁজি নিয়ে এসেছি। এমতাবস্থায় আমরা অনুরোধ করছি আপনি আমাদের রসদের পুরোপুরি বরাদ্ধ দিন এবং আমাদেরকে দান করুন। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা দানকারীদেরকে পুরস্কৃত করে থাকেন। (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৮)
এখানে بِبِضَاعَۃٍ مُّزْجٰىۃٍ “অতি নগণ্য পুঁজি”কে আরেক অর্থে কেউ কেউ “অচল পুঁজি” বলেছেন। অকেজো বস্তুগুলো কি ছিল, কুরআন ও হাদীসে তার কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই। তবে এ ব্যাপারে তাফসীরবিদগণের উক্তি বিভিন্ন রকম। কেউ বলেন, এগুলো ছিল কৃত্রিম রৌপ্যমুদ্রা, যা বাজারে অচল ছিল। কেউ বলেন, ঘরে ব্যবহারযোগ্য কিছু মামুলি আসবাবপত্র ছিল। এ হচ্ছে مُّزْجٰىۃٍ শব্দের ব্যাখ্যা। এর আসল অর্থ, এমন বস্তু যা নিজে সচল নয়, বরং জোরজবরদস্তি করে সচল করা হয়।
ইউসুফ আ. ভাইদের এহেন মিসকীনসূলভ কথাবার্তা শুনে এবং দুরবস্থা দেখে স্বভাবগতভাবে প্রকৃত অবস্থা করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঘটনা প্রবাহে অনুমিত হয় যে, ইউসুফ আ. এর উপর স্বীয় অবস্থা প্রকাশের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিধিনিষেধ ছিল, এখন তা অবসানের সময়ও এসে গিয়েছিল।
????সুত্রঃ এসো তাকওয়া অর্জন করি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now