বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি হচ্ছি এক করোনা ভাইরাস।সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আমি এখন এক আতঙ্কের নাম।প্রথিবী চলছিল তার স্বাভাবিক গতিতে কিন্তু ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান প্রদেশে আমার আবির্ভাব হলো।একজন দুজন করে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হলো তার সাথে বাড়তে থাকলো মৃত্যুর সংখ্যা।চীনের মত সবদিক দিয়ে উন্নত এক দেশ যারা পুরো প্রথিবীর অর্থনীতি সামলায় সেই চীন আজ আমার কাছে অসহায়।তাদের চিকিৎসা সেবা আমার কাছে নাজুক হয়ে পড়েছে।আমার তাণ্ডব চলছিল তখন শুধু চীনের উহান প্রদেশে।আর টিভিতে সেটা সারা প্রথিবীর মানুষ দেখছিল।তারা ভাবছিল এটা একটা সাধারণ ব্যাপার শুধু চীনের মধ্যেই থাকবে আমাদের দেশে আর আসবে না আমরা নিরাপদই আছি।কিন্তু তাদের ধারনা ভূল প্রমাণ করে আমি এবার এগিয়ে গেলাম পুরো বিশ্বের দিকে।আমি খুব ছোয়াচে একটি ভাইরাস।আক্রান্ত ব্যাক্তির হাঁচি,কাশি এমনকি নি:শ্বাসের মাধ্যমেও আমি ছড়িয়ে পড়ি।চীনে থাকা বিদেশীরা তারা নিজে দেশে চলে গিয়ে বাড়িয়ে দিলে তাদের দেশে আমার ঝুকি।প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া,হংকং,তাইওয়ান হয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি,স্পেন,ফ্রান্স,ইংল্যাণ্ড সহ প্রায় ২১০ টার মত দেশে আমি ছড়িয়ে পড়লাম।চীনের পরে বেশি তাণ্ডব চালালাম আমি ইতালিতে।লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হলো হাজার হাজার মানুষ মারা গেলো।একটু দেরিতে হলেও আমি হানা দিলাম প্রথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকাতে।সেখানে গিয়ে আমার তাণ্ডব যেন দশ গুণ বৃদ্ধি পেলো।আমেরিকা হয়ে গেলো আমার এক নম্বর হটস্পট।লাক্ষ লাক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, এক লক্ষের কাছাকাছি মানুষ মারা গেছে।সেই সংখ্যাটা কোথায় যায় তাহ তারা কল্পনাও করতে পারবে না।পুরো প্রথিবীর আক্রান্ত মৃত্যুর হারে এক তৃতীয়াংশই আমেরিকাতে।আমেরিকার পেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু করে দিল তদন্ত চীনের বিরুদ্ধে।আর বললেন চীনের উহানের কোনো এক ল্যাবরেটরি থেকে আমি সৃষ্টি হয়েছি।তিনি সবসময় চীনের দোষ দিতে লাগলেন।চীনও পালটা জবাব দিয়ে বললো ট্রাম্প নিজের ব্যার্থতা ঢাকতে চীনের দোষ দিচ্ছেন।শুরু হয়ে গেল দু পক্ষের বাগবিতণ্ডা। আবার অনেক মত দেয় বাদূরের মাধ্যমে আমি সৃষ্টি হয়েছি।কিন্ত আমি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে সেই রহস্য না হয় অজানাই থাক আপাতত।মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী তারা নিশ্চয় এই রহস্য উদঘাটন করতে পারবে।ইউরোপ থেকে আমি তাণ্ডব চালিয়েছি এশিয়া তেও।তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ বাংলাদেশ এ ইতালি ফেরত একজন ব্যাক্তির মাধ্যমে ৮ই মার্চ ২০২০ আমি প্রথম হানা দেই।তারপর আমার কারণে প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ই মার্চ।এই দেশে এসে আমি অবাকের পর অবাক হয়েছি এবং হচ্ছি।আমার আসার খবর শোনামাত্রই লোকজন সুরক্ষা সামগ্রি হ্যাণ্ড স্যানিটাইজার,মাস্ক ইত্যাদি কেনার হিড়িক লাগিয়ে দিলো।কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী এসব সুরক্ষা সামগ্রি মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দিতে লাগলো।বিশেষ করে মাস্ক এর দাম বাড়িয়ে দিলো।সত্যি আমি অনেক অবাক এমন এক দুর্যোগ এর সময় এরা নিজেদের ব্যাবসা নিয়ে আছে নিজেদের লাভ খুজছে।প্রথিবীর অন্যান্য দেশের মতো লোকজন কে সতর্ক করতে আমার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ সরকার সবকিছু বন্ধ করে দিল মানুষ কে ঘরে থাকতে বললো।কিন্তু এই গরীব দেশে লোকজন কিভাবে ঘড়ে থাকবে।হতদরিদ্র মানুষ তারা বাহিরে না বের হলে কিভাবে চলবে।তারা আমার জন্য নয় মারা যাবে খাদ্যের অভাবে।সরকার ত্রাণ দেওয়ার ব্যাবস্থা করলো এসব হতদরিদ্র মানুষের জন্য।কিন্তু সার্থপর কিছু মানুষ সেখানেও ভাগ বসালো।ত্রাণ চুরি করে নিজের কাছে রাখলো।এমনকি এই দেশে খাটের পাটাতনের নিচে তেল পাওয়া যায়।সত্যি কি অবাক করা একটি দেশ যেন অবাক একটা দেশ আর তার রাজধানী বাংলাদেশ।এমনকি এই দেশে এসে আমাকে শুনতে হয়েছে "আমরা করনার থেকে শক্তিশালী" এসব দেখে আমার এটাই মনে হচ্ছে সারাবিশ্বে তাণ্ডব চালিয়ে আজ আমি বাংলাদেশে এসে লজ্জিত।এখানে আমাকে কেউ গূরুত্বই দিচ্ছে না।সেই ভূল আর অব্যাবস্থাপনায় আজ বাংলাদেশ এর অবস্থাও নাজুক।আমার কারোণে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।
আজ ১৫ই মে ২০২০।আমি এখনো আমার ধ্বংশলীলা চালিয়ে যাচ্ছি সারাবিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।মৃত্যুর সংখ্যাও লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।কিছু মানুষ সুস্থও হয়েছে।বিশ্বের উন্নত কত দেশ চিকিৎসা সেবা নিয়ে তাদের কত গর্ব কিন্তু আজ আমার কাছে তারা সবাই অসহায়।কিছুতেই কিছু করতে পারছে না তারা।আমাকে নিরাময় করার ভ্যাকসিন ও যে এখন পর্যন্ত আবিশষ্কার হয় নি।বিশ্বের অনেক দেশ আমাকে নির্মূলের ভ্যাকসিন বানানোর চেষ্টা করছে।পুরো বিশ্ব আজ লকডাউন।মানুষ আজ ঘরবন্দি।কিছু দেশ অবশ্য আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে।এমনকি আমার জন্মভূমি চীনও বলা যায় নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে।তাও মাঝেমধ্যে তাও একটু হানা দিচ্ছি চীনে।আসলে জন্মভূমি তো একেবারে চলে গেলে হয় একটু তো মাঝেমধ্যে আত্মপ্রকাশ করতেই হয়।যাই হোক আজ আমার থেকে সুস্থ থাকার কত গাইডলাইন কত সতর্কতা নিয়েছে সকল দেশ।কিন্তু হে মানবকুল তোমার কি ভেবে দেখো না কেন এমন ভাইরাস আসে প্রথিবীতে?আগেও কি এমন প্রাণঘাতি ভাইরাস আসে নি এই প্রথিবীতে?এটা কি সৃষ্টিকর্তার থেকে কোনো গজব নয় কি?মানুষ আজ পারমানবিক বোমা বানায়,এক দেশ আরেক দেশে বোমা ফেলায়।দেখায় কে কার থেকে বেশি শক্তিশালী।কলকারখানা,ইটের ভাটার ধোঁয়া প্রকৃতি কে আজ দূষিত করে দিচ্ছে।মানুষ আজ নদীকে দূষিত করে পুরো নদীকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিচ্ছে।ঢাকার বুড়িগঙ্গা কি তার উদাহারণ নয়?যেই গাছে মানুষকে অক্সিজেন দেয় আজ জীবনের তাগিদে মানুষ সেই গাছ কেটে বন উজাড় করে দিচ্ছে এমনকি সেখানে নতুন গাছও লাগাচ্ছে না।আসলে মানুষ আজ কত স্বার্থপর হয়ে গেছে।মানুষের কারণে আজ ওজন স্তর ধ্বংশ হচ্ছে।মানুষ আজ প্রকৃতিকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে।প্রক্রিতিকে এত শাস্তি দিলে প্রকৃতি কি তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে না?তাইতো আজ আমি এক করোনা ভাইরাস আসার ফলে নেই কোনো দেশের সাথে কোনো দেশের যুদ্ধ,নেই গাছ কাটা,নেই কলকারখানার ধোঁয়া,নেই নদী দূষণের কোনো চিহ্ন।আমার কারণে সকল মানুষ আজ নিজ নিজ ঘরবন্দি।আর সেই জায়গা নিয়েছে পশুপাখি।তারা আজ সর্বত্র অবাধে চলাফেরা করছে।যা অনেক দিন পৃথিবী তে দেখা যায় নি তাই দেখা যাচ্ছে।কক্সবাজার সমুদ্রে ডলফিন দেখতে পাওয়া কি তার একটি জ্বলজান্ত উদাহারণ নয়?।প্রকৃতি আজ নিজেকে সাজিয়ে নিচ্ছে তার মত করে।মানুষকে আজ প্রকৃতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে কিভাবে পৃকিতি কে রক্ষা করতে হয়।আমি আসার ফলে মানুষ আমার নেতিবাচক দিকটাই দেখছে কিন্তু আমার ইতিবাচক দিকটা কি মানুষের চোঁখে পড়ছে না।আমি এখনো আমার তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছি পুরো বিশ্বে।কবে আমি পুরোপুরি নির্মুল হবো তাহ আজ কেউ জানে না।হয়তো একদিন আমি চলে যাব।কিন্তু মানুষ কি সভ্য হবে?প্রকৃতি কে কি তার নিজের মত করে বাঁচতে দিবে।যদি মানুষ তাদের ভূল থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে তাইলে বর্তমান পরিস্থিতির থেকেও ভয়বাহ হয়ে অদূর ভবিষৎ এ আমি আবার আসবো ফিরে কিংবা আমার মতো আর অনেক ভাইরাসের সৃষ্টি হবে মানুষকে শিক্ষা দিতে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now