বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আলিম এবার দশম শ্রেণীতে পড়ে।মেধাবী ছাত্র বাবা মায়ের আদরের ছেলে। বাবা একজন দিন মজুর। তাই হয়ত আলিমের আনেক স্বপ্ন মাটিচাপা পড়ে যায়। তার বাবা মা আনেক চেষ্টা করে তার স্বপ্ন গুলা পূরণ করার।কিন্তু দরিদ্রতার কাছে তাদের হাত পা বাধা। একদিন আলিম তার বাবার কাছে গিয়ে বলে বাবা ঐ বাড়ির ফাহাম বাইক কিনেছে,আমাকে একটা বাইক কিনে দাও না। তার বাবা ছেলের মুখের দিকে চেয়ে না করতে পারে নি।তিনি বলেন আলিম এস এস সি পরিক্ষায় ভালো করলে বাইক কিনে দিবে।আলিম ও অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়তে থাকে।আলিমের পরিক্ষা শেষ। আলিম A+ পেয়েছে।তাই দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়িতে এসে বাবাকে,A+ এর কথা বলে।তার বাবা অনেক খুশি হয়। ছেলেকে বলে" টেবিল এর উপর তোমার উপহার রয়েছে"। আলিম ভাবে টেবিলের উপর কিসের উপহার, বাবাতো বাইক দিবে বলেছিল। এসব ভাবতে ভাবতে টেবিলের কাছে গিয়ে দেখে একটা কুরআন শরিফ।সাথে সাথে আলিম ঘর থেকে বের হয়ে যায়।আর বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করে না।তার বাবা যোগাযোগ করাে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আলিম আর অনেক দিন বাড়ি ফিরেনা। এক বন্ধুর বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে আজ সে ডাক্তার। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ আলিম বাড়িতে যাচ্ছে। আলিম বাড়িতে গেলে তার মা হাতে একটি চিঠি দিয়ে কান্না করতে করতে বলে তোর বাবা বেচেঁ নেই। এ চিঠি তোকে দিতে বলেছে।আলিম চিঠি নিয়ে পড়তে থাকে,,
প্রিয় আলিম,
কেমন আছিস বাবা? আমার উপর তোর অনেক অভিমান তাই না? জানিস তোর কোনো ইচ্ছে কোনোদিন পূরন করতে পারিনি তাই খুব কষ্ট লাগতো।তুই যেদিন বাইক এর কথা বললি তোর মুখের দিকে চেয়ে না করতে পারিনি।আমার এতো টাকাও ছিল না। তখন থেকে টাকা জমাতে শুরু করি, জানিস আমি রক্ত বিক্রি করেছি এক ভদ্র লোকের কাছে তিনি অনেক বড়োলোক এবং ভালো মানুষ ছিলেন। আমাকে অনেক টাকা দেয়। আমি সেই টাকা দিয়ে বাইক কিনেছি তোর জন্য।সেদিন কুরআন শরিফের নিচে বাইকের চাবি ছিল। উল্টালেই দেখতে পারতি।কিন্তু তুই তা না করে আমাকে ছেড়ে চলে গেলি।এখনো আগের জায়গায় কুরআন শরিফের নিচে বাইকের চাবি আছে। বারান্দায় বাইক আছে। জানিস আমি তোর বাইককে খুব যত্ন করতাম।কারণ এটা তোর স্বপ্ন।
ইতি
তোর বাবা
আলিম যখন চিঠিটি পড়লো তার চোখ ভিজে গেল। সে টেবিলের কাছে গিয়ে দেখে আজও কুরআন শরিফটি সেখানে আছে। কুরআন শরিফের নিচ থেকে চাবিটি নিয়ে আলিম কাঁদতে থাকে।
,
,
শিক্ষা :ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে।আলিম যদি ধৈর্য ধরতো হয়তো গল্পটাই অন্য রকম হতো
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now