বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চার অক্ষরের ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাকারিয়া মোহাম্মদ(guest) (০ পয়েন্ট)

X প্রতিদিন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে বিকেল হয়ে যায়। খুবই ক্লান্ত লাগে। দেহের ভারে পা গুলো যেন অবস হয়ে আসে। অস্থিগুলো আমার সাথে রিতিমত যুদ্ধ শুরু করে দেয়। চলতেই চায়না যেন। কিন্তু বাসায় ফিরেই আমার চাঁদমুখ দেখব একথা ভেবে আবার মন ভালো হয়ে যায়। অলৌকিক শক্তি ভর করে আমার উপর। চাঁদমুখ নিয়ে গবেষনা শুরু করে দিয়েছেন তাইতো? দাড়ান আমিই বলছি। চাঁদমুখ আমার স্ত্রী। ওর নাম কিন্তু চাঁদমুখ না। নিহা। অসম্ভব ভালোবাসে আমায়। তাইতো বাবা মা আত্মীয় স্বজন ছেড়ে চলে এসেছে। রাজপ্রাসাদ চেড়ে চলে এসেছে গরিবের কুঠিরে। শুধু আমার জন্য। আমার জিবনের স্বার্থকতা এই একটা জিনিসে যে নিহার মত কেউ আমাকে মন দিয়ে ভালোবেসেছে। ও এভাবে চলে এসে আমার দায়িত¦টা অনেকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। কতটুকু পালন করতে পারছি জানিনা। তবে নিহার জোর দাবী আমরা সুখে আছি। হ্যা, সুখেই আছি। অসম্ভব সুখে। আজ আর বাসায় ফিরতে ইচ্ছে করছে না। পরিবেশটা খুব সুন্দর। মন ভালো করে দেয়ার মত। আমি কিন্তু একজন খাঁটি প্রকৃতি প্রেমিক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভালো লাগে। গ্রামের মত শহরে তো আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ নেই, তাই সময় পেলেই কোন পার্কে চলে যাই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে প্রাকৃতির কোলেই ঘুমিয়ে পড়ি। নিহার এতে ঘোর আপত্তি। বলে, তুমি পার্কের বেঞ্চে ঘুমিয়ে পড়বে তখন যে কোন দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে ইত্যাদি আর কত কি। তবুও মাঝে মাঝে চুরি করে পার্কে যাই। আজকেও না হয় চুরিটা করে ফেলি। পড়ন্ত বিকেল। সূর্যের ঘরে ফেরা, পাখিদের কিচিরমিচির করে নীড়ে ফেরার প্রতিযোগীতা এই সব দেখতে দেখতেই সন্ধা ঘনিয়ে এলো। বৃষ্টির একটা ফোটা কপালে পড়তেই ঘোর কাটলো। আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছে এখনই বৃষ্টি নামবে। বৃষ্টির আগেই বাসায় যেতে হবে নয়তো আবার মহারানীর বকা খেতে হবে এক ঝুড়ি। কোথায় ছিলে এতক্ষণ? বৃষ্টি নামবে বুঝতে পারনি? ইত্যাদি নানা প্রশড়ব করে শেষে মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে। অর্ধেক রাস্তা যেতেই বৃষ্টি শুরু হল। বৃষ্টির আগে আর বাসায় ফেরা হবেনা। ভাবলাম কোথাও অপেক্ষা করি। আবার বৃষ্টিতে ভেজারও খুব লোভ হচ্ছিলো। শেষে লোভটা আর সামলাতে পারলামনা। বৃষ্টির ফোটা গায়ে মেখেই বাসার পথ ধরলাম। বৃষ্টিতে ভিজতে বেশ ভালোই লাগছে। অনেকদিন বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি। নিহার সাথে বৃষ্টিতে কত ভিজেছি! তখন ও অনার্স ফাস্ট ইয়ারে আর আমি ফাইনাল ইয়ার। কলেজ শেষ করে দুজন একসাথে হেটে বাসায় ফিরছি। তখনই শুরু হল বৃষ্টি। সে কি বৃষ্টি... নিহার সাথে অবশ্য একটা ছাতা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি এমন যে ছাতায় দুজন কি একজনও বৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচা অসম্ভব। ওদিকে নিহার বায়না বৃষ্টিতে ভিজবে। অনেক বললাম, বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগবে,শরির খারাপ করবে, কি দরকার এসবের তার চেয়ে বরং আমরা কোথাও দাড়াই বৃষ্টি থামুক তার পর যাব। কিন্তৃু নিহা যে বৃষ্টিতে ভিজবেই সাথে আমাকেও। মেয়েরা কিšতু না কে কিভাবে হ্যা করতে হয় এই বিষয়টা খুব ভালো করেই জানে। তারা মুখে যখন পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য মেখে আদুরে গলায় তুমার কাছে কিছু চাইবে তখন কিছুতেই না করতে পারবেনা। এটা তাদের জন্য প্রকৃতি প্রদত্ত দান। নিহাও মাঝে মাঝে এই কৌশলটা অবলম্বন করতে ভূল করেনা। ফলে অনেক সময় ইচ্ছা না থাকা সত্তে¦ও অনেক কিছু করতে হয়। এই যেমন ভিজতে হলো। বিকেলের দিকে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশিই লাগছিলো। অসুস্থ বোধ করছিলাম। তাই একটু ঘুমিয়ে পড়লাম। রাতের দিকে বুঝলাম গা জ¦রে পুড়ে যাচ্ছে। চোখে যেন আগেড়বয়গিরির উত্তপ্ত লাভা ফোটা ফোটা করে ফেলা হচ্ছে। কানদুটো চেঁপে ধরেছে জাহানড়বামের কোন পাহারাদার। শরীর কাঁপছে। কোনমতে কম্বলমুড়ি দিয়ে রাতটা পার করলাম। সকালে ঘুম ভাঙ্গলো দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে। দেয়াল ঘঢ়িটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সকাল ৮ টা। এই সময় আবার কে এলো? জ্বরটা এখনও সারেনি। অনেক কষ্টে এক রাশ বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খোলেই দেখি নিহা দাড়িয়ে। চোখদুটো লাল,মুখটা ফোলা দেখেই বুঝা যাচ্ছে রাতে ঘুমায়নি। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই শুরু করলো,কাল রাতে কোথায় ছিলে? কার সাথে ছিলে সারা রাত? রাতে কতবার তুমাকে ফোন দিয়েছি জানো? আর জানবেই বা কেন তুমি তো অন্য কাউকে নিয়ে ব্যাস্ত। আমার কোন দাম নাই তুমার কাছে। একদমে বলে গেলো কথাগুলো। আমি কিছুই বললাম না। কারণ মোবাইলটা হাতে নিয়েই দেখলাম ৩৩ টা মিসড কল। এতোটা কল দেয়ার পর ও কেন আমি হয়তো এর চেয়ে বেশী রাগ করতাম। তাই আপাতত চুপ থাকলাম। নিহা শাসনের সুরে বলল,কি হলো কিছু বলছনা যে? আমি আস্তে করে ওর হাতটা আমার আমার কপালে রাখলাম। বললাম, রাতে জ্বরের ঘোরে কিচ্ছু টের পাইনি। নিহা কপালে হাত রেখেই বললো, একি তুমার তো জ্বরে গা পোড়ে যাচ্ছে। ডাক্তার দেখাওনি? না সামান্য এমনিতেই সেরে যাবে। কি এমনিতে সেরে যাবে? কাল থেকে জ্বরে গা পোড়ে যাচ্ছে আর তুমি আমাকে একবার ফোন করার প্রয়োজন মনে করলেনা। এদিকে আমি কিছু না জেনে তুমাকে যা ইচ্ছা তা বলে যাচ্ছি। বলেই প্রায় কেঁদে ফেললো। আমি ওকে সান্তনা দিয়ে বললাম, ঠিক আছে আমি কিছু মনে করিনি। এবার কাঁদা বন্ধ হাসো তো। নিহা মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল, তাহলে চলো তুমাকে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসি। আমি ইতস্ত করে বললাম,কি দরকার বলো? সামান্য জ্বর ই তো ও এমনিতেই সেরে যাবে। নিহা মনে হয় আমার ইতস্তের কারণটা বুঝতে পারলো। বলল, টাকা নাই তো? চলো আমার কাছে টাকা আছে। আমি কিছু বললাম না। মাথা নিচু করে থাকলাম আর ভাবলাম এই মেয়েটা আমাকে এতটা ভালোবাসে! ওর সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই মেয়েটা শুধু আমাকে দিয়েই আসছে কোনদিন ওকে কিছু দিতে পারিনি। তবুও যে কেন আমার মত একটা অকর্মাকে এখনও ভালোবাসে সেটা একটা বিরাট রহস্য। বৃষ্টিতে ভিজে এই সব পুরনো স্মৃতি ভাবতে ভাবতে কেমনে যে রাস্তাটা শেষ হয়ে এলো বুঝতেই পারলামনা। একবার নয় দুই বার নয় গুনে গুনে তেরবার কলিং বেল টিপেও নিহা দরজা খোলছে না কেন? যেখানে কোনদিন দুইবার কলিং বেল টিপতে হয়নি। নিজেই নিজেই ভাবছিলাম। হঠাৎ করেই মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। নিহার ফোন। যা অনুমান করেছি তাই। বাসায় দেরি করে ফিরেছি বলে অভিমান করে বসে আছে। দরজাটা পর্যন্ত খুলছে না। ফোনটা ধরতেই নিহা অভিযোগের সুরে বলল, বাসায় আর ফিরলে কেন? অফিস কখন শেষ হয়েছে আর এখন কয়টা বাঁজে? কেউ কৈফিয়ত চাইলে স্বাভাবিক ভাবেই বিরক্ত লাগে, কিন্তু নিহার বেলায় বিষয়টা একেবারেই ভিনড়ব। ওর কাছে কৈফিয়ত দিতে কেন জানি ভালোই লাগে। আমি আসামির মত ভুল স্বীকার করে বললাম, এবার দরজাটা তো খোল। আর এরকম হবে না। সত্যি বলছ তো? হ্যা একদম সত্যি বলছি। আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে একটা কবিতা শোনাও। আমি টুকটাক লেখালেখি করি । নিহা আবার আমার কবিতার অসম্ভব ভক্ত। মাঝে মাঝেই চন্দ্র¯ড়বান করে চা খেতে খেতে ও আমার কাছে কবিতা শোনতে চায়। আর একবার যদি বলে কবিতা শোনবে তবে কবিতা না শুনিয়ে নিস্তার নেই। তাই আর না করলাম না, কারণ লাভ নেই। একবার যখন বলেছে কবিতা না শোনলে দরজা খুলবে না তো খুলবেইনা। ভাবছেন এ আবার কি ছেলেমানুষি। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার কাছে ওর ছেলেমানুষি অসম্ভব ভালো লাগে। অফিসে বসে বসে যে কবিতাটা লিখেছি সেটাই শুনিয়ে দেই কি বলেন? বৃষ্টি ঝরা এক বর্ষায় তোমায় দেখেছিলাম, আমি স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে শুধু তোমায় দেখেছিলাম। মায়া মায়া মুখটি তোমার বৃষ্টির ফোটা লেগে, এতো সুন্দর লাগছিলো তোমায় প্রকৃতি দেখেছে জেগে। ঘুমন্ত সব গাছগাছালি ভেঙে দিয়ে দুষ্ট আড়ি, উড়ন্ত সব শালিক কোয়েল ভুরে গেছে পথ তাদেরই। ফোটা ফোটা বৃষ্টি গড়াচ্ছিলো তোমার ললাট বেয়ে, এতো সুন্দর লাগছিলো তোমায় প্রকৃতি দেখেছে জেগে। বাতাস হারিয়ে গতি তার ঠাই দাড়িয়ে রয়েছে, শিমুল, পলাশ, কৃষ্ঞচূড়া লজ্জায় গা ঢাকছে। ফোটা ফোটা বৃষ্টি তোমার নরম গালে লেগে, এতো সুন্দর লাগছিলো তোমায় প্রকৃতি দেখেছে জেগে। রোদ মনে হয় ভয় পেয়েছে গা পোঁড়ে যায় যদি, এলো মেলো হয়ে যাবে আকাশ বাতাস সবই। বৃষ্টিকে তাই পাঠিয়ে দিয়েছে ঝরতে একে বেঁকে। এতো সুন্দর লাগছিলো তোমায় প্রকৃতি দেখেছে জেগে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now