বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুষ্পিতা আর আগের মতো নেই..অনেকটা পরিবর্তন দেখা যায় । যে মেয়েটার মন ছিল নরম মাটির মতো হঠাৎ কেমন করে শক্ত পাথরের মত হয়ে গেল। সে চায়নি এতটা পাষান হতে।কিন্তু জীবনের কিছু ঘটনা তাকে বাধ্য করেছে এমন হতে। কিন্তু এখন একটা কথা বারান্দায় বসে চুলগুলো খুলে দিয়ে কানে হেড ফোন দিয়ে ভাবে ; মানুষ এতটা পাষান হতে পারে কি ভাবে? ... নিজেকে সে এখন বোঝেনা.. কোনো কিছুর পরোয়া করে না এখন সে... জীবনটা যেমন যাবে যাক না...যন্ত্রণা পাবো কিন্তু সেটা তো; আর মৃত্যু যন্ত্রণা নয়...; অকৃতজ্ঞ নামক শব্দটা পরিচিত.. অমানুষ ; নির্দয় ;- বাকস্বাধীনতা ;- কিনবা ; স্বাধীন চেতা ;- নিজের আবিষ্কার..। কিন্তু একটা শব্দ খুব কানে বাধে...; আবেগ শব্দটা যেন মস্তিষ্কের হাজার আবর্জনার মধ্যে এক জায়গায় গিয়ে বরাবর লাফাতে থাকে....শব্দটার গায়ে হাজারও কাটা...; তার মস্তিষ্কে কাটাগুলো ক্ষত বিক্ষত ও রক্তাক্ত করে চলেছে প্রতি নিয়ত... রক্তগুলো আজ আবর্জনায় পরিণত হয়ছে
... বেশি না মাত্র দেড় বছর আগে তার জীবনটা এমন ছিল না...; সে ছিল অন্যরকম... ভালবেসেছিল একজনকে... নিজের জীবনটা চাইলেও সে হাসি মুখে দিয়ে দিতে পারতো...; কিন্তু সে কোথায়...???? ভালবাসত ছেলেটিও তাকে.....খুবববব...হয়ত খুব বেশি..... পুষ্পিতার যে স্বভাবের জন্য আজ তার ভালবাসা তার কাছে নেই সে স্বভাবটাকে বদলে ফেলেছে.... কিন্তু ফিরে পাবে না তাকে....সম্ভব নয়...বারান্দায় বসে গান শুনতে শুনতে হঠাৎ তার voice msg টা বেজে উঠল... পুরনো কিছু স্মৃতি মনে পড়ল...; হাতটা হাজারও চেষ্টা করেও পারেনি msg টা ডিলিট করতে... আজও সেই অক্ষমতা নিয়ে বেচে আছে পুষ্পিতা.... চুলগুলো বাতাসে উড়ছে...; হেড ফোনের শব্দ ক্রমশ তার হ্রদস্পন্দন বাড়িয়ে দিচ্ছে.... চোখ দিয়ে পানি প্রায় পরে যাবে যাবে.... কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা পানি গুলোর নরম গাল বেয়ে পরল না...কে যেন ভিতর থেকে টেনে রাখছে পানি গুলোকে বাইরে আসতে দিছেনা....ঠান্ডা পাথরের মতো পুষ্পিতার কানে কথাগুলো বার বার বাধছে.... পাথরের মতো শিথিল শরীরটা বারান্দায় লুটিয়ে আছে....এক বছর ধরে চোখ দুটো পাথর হয়ে আছে...কাঁদেনি পুষ্পিতা.... তার আজও মনে পরে সেই রাত...নিজেকে অপরাধী করে আজও প্রতিদিন নিজের মনকে ছুরি দিয়ে কাটছে.... রক্তাক্ত মন...তবে কালো... বর্নহীন রক্ত... ভালবাসার প্রস্তাব দিয়েছিল তাকে পুষ্পিতা.... না বলতে পারেনি সে....মাঝে মাঝে দেখা হত...পাগলামি করা ছিল পুষ্পিতার নিত্য দিনের কাজ...
হঠাৎ রাত ১২ টা... পুষ্পিতার আবদার...একটু আসবেন দেখতে ইচ্ছা করছে....এমন মিষ্টি আবদার কেউ প্রত্যাখান করতে পারে বলে তার জানা ছিল না...তাই দিন নেই রাত নেই সব আবদার পূরন করত সে...একসাথে কত রাস্তায় হেটেছে... সে হেটেছে সোজা আর পুষ্পিতা; তার দিকে মুখ করে তার; চোখে চোখ রেখে বিনা বাধায় উল্টো দিকে হেটেছে...কখনো হাতটা ধরে বসেছে... কিন্তু ভালবাসার নামে নোংরামি তাদের মাঝে ছিল না..পুষ্পিতা তাকে আর সে পুষ্পিতাকে ভালোবাসতো... কিন্তু এই পৃথিবীতে আরও একজন ছিল যে পুষ্পিতাকে ভালবাসতো... কিন্তু পুষ্পিতা তাকে বন্ধু ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে নি...যখন পুষ্পিতার খুব কষ্ট হতো তখনি তাকে ফোন করে আবদার করতো গানের...হঠাৎ রাতে গানের আবদার শুনে সে বলতো ; কেনো তার সাথে ঝগড়া করেছিস??? ; পুষ্পিতা বলতো ; সে আমাকে ভালবাসে আমি কেন তার সাথে ঝগড়া করব??? ঝগড়া করলে তোর কি??? তুই গান শোনা ...।।।। এসব কথা শুনে বন্ধুটার মনে তুফান তুলতো.. কিন্তু কিছু না বলে নিরবে থাকতো... পুষ্পিতার আবদার সে ফেলতে পারতো না।।।তাই গিটারটা হাতে নিয়ে গান গাইত সে...... হঠাৎ পুষ্পিতা ঘুমিয়ে যেত কিন্তু সে গান বন্ধ করতো না...পুষ্পিতা আর স্বপ্নের কথা জেনেও রুপ; পুষ্পিতাকে ভুলতে পারে না....এতো কথা কেন আজ মনে পরছে পুষ্পিতার সে জানে না....রুপ তো আজও পুষ্পিতাকে প্রাণটা দিয়ে ভালবাসে...পুষ্পিতা স্বপ্নকে ভুলে যাবে??? কি ভাবে সম্ভব... পুষ্পিতা স্বপ্নকে ভুলতে পারবে না..
ঐ সে চাঁদ!!! সেই রাতের আবদার!!! সবকিছু পুষ্পিতাকে মরিচিকায় ফেলে দিচ্ছে.... ঠাণ্ডা বাতাসেও সে ঘামছে... কেন সে সেদিন আবদার করল স্বপ্নের কাছে.... রাতের বেলায় পুষ্পিতার পাগলামি আবার শুরু... আজকে রাতে; আবার দুজনে রাস্তায় হাটবে... স্বপ্ন সোজা আর পুষ্পিতা উলটো দিকে তার হাত ধরে.... স্বপ্ন আসল...পুষ্পিতাও আসল....কেন পাগলামি করে পুষ্পিতা ছুটতে গেলো রাস্তায়...রাস্তায় হাটতে গিয়ে সে জীবনের সব রাস্তা হারিয়ে ফেললো...
রাস্তার ওই পারে কিছু একটা দেখে স্বপ্নকে না বলে ওইপারে ছুটে গেল...ওই পারে রুপ গোপনে অশ্রু বিসর্জন করছিল... রাস্তা দিয়ে যাছিল এক মাতাল driver... ট্রাক দিয়ে আর কিছুক্ষণের মাঝে পুষ্পিতাকে পিষে দেবে....পুষ্পিতার মন অন্যদিকে!!! সে ওপারে যেতে ব্যস্ত.... ছিটকে গিয়ে রাস্তার ওপারে!!!!! পুষ্পিতার আর্তনাত শুনে রুপ দেখতে গেলো কে????
দেখল; ক্ষত বিক্ষত পুষ্পিতা রাস্তায় পরে আছে... কিন্তু রাস্তায় আরও একজন ছিল...রক্তাক্ত অর্ধমৃত... ওটা স্বপ্ন ছিল.সে রাস্তায় পরে আছে পুষ্পিতাকে বাঁচাতে গিয়ে...
হাসপাতালে স্বপ্ন!!! পুষ্পিতা কেমন শক্ত হয়ে গেছে... কাঁদছে না...মুখে কথা নেই... চোখের পাতাও ফেলছে না...রুপ বলছে স্বপ্ন বেচে যাবে কিন্তু পুষ্পিতা পাগলের মতো বলছে স্বপ্ন চলে যাবে.... ওর চোখ বলছে ও চলে যাবে....হঠাৎ ডাক্তার বাইরে এলো বলল দেখা করতে চাইলে যান.. আমাদের হাতে যা ছিল আমরা করেছি... স্বপ্ন কথা বলছে না...তাকায় পুষ্পিতার দিকে...পাথরের চোখ নিয়ে হাত ধরে স্বপ্নের... স্বপ্ন অনেক কষ্ট করে পুষ্পিতাকে বুঝিয়ে দেয় রুপের হাত ধরার জন্য... কোনো দিন যেন না ছাড়ে রুপের হাত... স্বপ্নের শেষ আবদারটা রাখল রুপ আর পুষ্পিতা.... রুপ ভালোবাসত যেই পুষ্পিতাকে সে আজ শক্ত পাথর... তবুও তার হাত ধরে কাটিয়ে দিচ্ছে বাকি জীবন... কিন্তু এক জীবনে দুজনকে কিভাবে ভালবাসতে হয় পুষ্পিতা জানে না...ভালবাসে আজও স্বপ্নকে -----------রুপকে বন্ধুভাবে কিন্তু সেই বন্ধুই তার জীবনের ভালবাসা...যাকে হয়তো কোনো দিন মন থেকে ভালবাসতে পারবেনা... তবুও
ওর কাছে একটা বুক আছে যাতে মাথা রেখে স্বপ্নের কথা ভাবতে পারবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now