বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসসালামু আলাইকুম।।।
গল্পঃ ♦পাগল♦
লেখকঃ গত তিনদিন ধরে লেখককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত করছে তাই লেখকের নাম মোহাম্মদ অজানা হোসেন
------------------------------------------
আমার নাম মনসুর আলী। আমি একজন সাংবাদিক। তবে সেইরকম সাংবাদিক না। ক্লাস নাইন পর্যন্ত লেখাপড়া করছি। আমার ইচ্ছা ছিল সাংবাদিক হওয়ার তাই বাড়ির পাশের সাংবাদিক অফিসে চাকরি নেই।আজ চাকরীর পহেলা দিন। আমি প্রমাণ করতে চাই ক্লাস নাইন পর্যন্ত লেখাপড়া করেও আমার মধ্যে হাজারগুণ প্রতিভা আছে। আমাদের অফিসের বস অনেক কিপটা আর অনেক অলস।আজ প্রথম দিন তাই সে আমাকে হরিদাসিনী পাগলগারদে যে কোন একজন পাগলের ইন্টারভিউ নিতে বলেছেন। আমিও রাজি হয়ে গেলাম।তাই সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়লাম হরিদাসিনী পাগলাগারদের উদ্দেশ্য। সেখানে গিয়ে অনেক পাগল দেখলাম কিন্তু একটাকেও পছন্দ হল না। তাই ইকটু ভিতরে গেলাম।সেখানে গিয়ে দেখি একটা পাগল চেয়ারে বসে বসে কলা খাচ্ছে আর পুটুস পাটুস উকুন মারছে তাই তারই ইন্টারভিউ নিব বলে ঠিক করলাম।আমি চেয়ার নিয়ে বসলাম————
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম মনসুর আলী
পাগলঃ আমার নাম আমীর খান
আমিঃ আমি আপনার ইন্টারভিউ নিতে এসেছি। আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব
সে কলার খোসাটা আমার হাতে দিয়ে বলল। ঠিক আছে করেন
আমিঃ প্রশ্ন নং ১/ আপনার নাম কি? (যদিও পূর্বে বলেছেন আবার বলেন)
২/ আপনি কোয়ালিটি কি?
৩/ আপনি কি কখনো প্রেম ভালোবাসা করেছেন?
৪/ আপনি বিয়ে করেছেন?
৫/ এখানে কিভাবে এসেছেন?
৬/ আপনার পাগল হয়ে কেমন লাগছে? পাগল হয়ে আপনার ইচ্ছা কি?
সে এখন চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে একটা বোতল হাতে নিয়ে বলতে লাগল
পাগলঃ আসসালামু আলাইকুম সাংবাদিক ভাইয়ারা এবং বোনেরা।আমি অনেক কাজের মানুষ। দেশের সমস্যা নিয়ে ভাবাই আমার কাজ। আপনারা যে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন এতে আমি খুব খুশি হয়েছি। প্রথম প্রশ্নের উওর আমার নাম আবুল হাশেম.....
আমি তাকে থামিয়ে বললাম, এই ইকটু আগে না বললেন আপনার নাম আমীর খান।
পাগলঃ আমি আমীর খানই হই না সালমান খানই হই মোট কথা আমি একজন ব্যস্ত এবং কাজের মানুষ আর এটাই আমার কোয়ালিটি
আমিঃ হুম বুঝলাম এবার তৃতীয় প্রশ্নের উওর দেন
পাগল এখন ইকটু লজ্জা পেয়ে গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে৷ বলল, জ্বি জীবনে আমি প্রেম ভালোবাসা করেছি। আমাদের পাশের চম্পা রাণী বস্তির খাইরুল সুন্দরী রে ভালো লাগছিল। তাকে আমি প্রপোজ করে একটা গান শুনাই,, খাইরুল লোওওওওওও তোর লম্বা মাথার কেশ চিকন চাকন হাসি দিয়া পাগল করলিরে খাইরুল লোওও......... । কিন্তু
আমিঃ কিন্তু কি?
পাগলঃ সে আমাকে ছ্যাকা দিয়ে ব্যাকা বানিয়ে রিকশাওয়ালা জব্বার মিয়ার লগে ভাইজ্ঞা যায়
আমিঃ So sad আমার ফাস্ট গার্লফ্রেন্ডও আমারে ছ্যাকা দিছিল
পাগলঃ তা চলেন ভাই দুইজন গলা ধরে কাঁদি
এরপর আমরা দুজন গলা ধরে কাঁদতে থাকিি তারপর কাঁদাকাদির পর্ব শেষ হলে তাকে পরের প্রশ্নের উওর দিতে বলি
পাগলঃ জ্বি আমি বিয়ে করেছি আমার বউয়ের নাম উর্মিলা
আমিঃ আরে এটাতো আমার দ্বিতীয় গার্লফ্রেন্ড এর নাম আচ্ছা আপনার কি বাচ্চা কাচ্চা আছে?.
পাগলঃ অবশ্যই দুইটা মেয়ে আছে
আমিঃ যাক এদিক থেকে আমার সাথে মিল নাই এবার বলুন আপনি এখানে এসেছেন কিভাবে?
সে এখন কলার খোসাটা নিয়ে চোখ মুছে বলল, কি বলব ভাই দুঃখের কথা যায়না মনের ব্যাথা আমি বিশ্ব মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলাম কিন্তু এই দুনিয়াতে মানবতা শেষ হয়ে গেছে আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষুক,ফকিন্নিদেরকে নিয়ে রেস্ট্রুরেন্ট সিনেমা হল সপিং মলে যেতাম। একটা ভিক্ষুক চাচারে কোট প্যান্ট দিয়ে বলছিলাম, চাচা আর কত ছেড়া লুঙ্গি পড়ে থাকবেন এই কোট প্যান্ট পড়ে আমার সাথে সিনেমা দেখতে চলেন।তারপর একটা ফকিন্নিরে বসুন্ধরার থ্রি পিছ আর শাড়ি দিছিলাম। বলছিলাম, আর কত তেনা পইড়া থাকবা বোন চল তোমাকে আমি ফ্যাশান সো তে নিয়ে যাই। এগুলো দেখে মানুষজন আমাকে পাগল ভেবে এখানে ভর্তি করায়
আমিঃ এরকম মানবতাসম্পূন্ন লোক আরও কয়েকটা থাকলে পাগলাগারদগুলো ভালোই চলত (মনে মনে)
পাগলঃ কিছু বলেছেন
আমিঃ আরে না কি আর বলব দেশের মানুষজনের ভিতর থেকে মানবতা উঠে গেছে। আপনার মতো জ্ঞানী মানুষকে কোথায় এনে
রাখল বউই দুঃখের বিষয়
সে এখন মাথার চুলগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে বলল, একদম ঠিক বলছেন আমি একজন মহাজ্ঞানী মানুষ তাই তো ১০০×১০০= কত হয় সেটা নিয়ে পাঁচদিন ধরে ভাবছি
আমিঃ একশো একশো গুণ করলে তো দশ হাজার হয়
পাগলঃ একদম হাসবেন না উওর কিভাবে দশহাজর হয় উওর একশো হয়
আমিঃ ক্যালকুলেটারে দেখতে পারেন
পাগলঃ ওইসব ক্যালকুলেটারে সব ভূল তথ্য দেয় ।। এইটা যে তৈরী করছে তার মনে হয় পেট খারাপ ছিল
আমিঃ ওহ তারমানে সকলে ভূল আর আপনি শুধু ঠিক
পাগলঃ হুম এজন্যই তো আমার মাথায় এত উকুন
এটা বলে মাথা থেকে একটা উকুন এনে টুস করে মারল
আমিঃ এটা পাগল নাকি পায়জামা ( মনে মনে)
আচ্ছা এবার শেষ প্রশ্নের উওর দেন আপনার পাগল হয়ে কেমন লাগছে আর পাগল হয়ে আপনার ইচ্ছা কি?
পাগলঃ কি কইলি তুই মুই পাগল এই কতডা কওয়ার সাহস তোরে কেডা দিছে মোর মতো জ্ঞানী একটাই আছে তুই পাগল,, Hey mister monsur what are you mean. I am not creazy.,, কেয়া বলতি তো মে পাগল নেহি
আমিঃ আচ্ছা আপনার মাতৃভাষা কোনটি
পাগলঃ চাং চুং সাপিং নিং ট্যাং টুং ওয়াকিং কিং ফিং কাং বাংগালা
আমিঃ এটা কি ভাষা
পাগলঃ চীন আর জাপানের ভাষা এক করে বলছি। এটার মানে হলো,, এতক্ষনেও বুঝলিনা আমার ভাষাা বাংলা
আমিঃ এখন বলেন আপনার ইচ্ছা কি?
এখন পাগলটা আমার পা জরিয়ে বলল, মনসুর ভাইয়া মনসুর ভাইয়া আমি এখান থেকে যেতে চাই আপনি আমাকে হেল্প করুন
আমি তার ইচ্ছা পূরণ করব বলে প্রতিস্রুতি দেই।এরপর পাগলাগারদের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তার ছাড়ানোর ব্যবস্থা করি।
আমিঃ৷ আপনি ছাড়া পাবেন
পাগলঃ ধন্যবাদ ভাইয়া
এরপর দারোয়ান এসে কামরাঙ্গা সাহেব বলে ডাক দেয়।তারপর সেই পাগলটা উঠে দাড়িয়ে চলে যেতে থাকে আমি তাকে বাঁধা দিয়ে বলি, এই আপনার নাম না আবুল হাশেম
পাগলঃ কে বলেছে আমার নাম তো কামরাঙ্গা খান।
এরপর সে চলে যায় আমি কোনমতে তার ইন্টারভিউয়ের রিপোর্ট অফিসে জমা দিয়ে মনে মনে বলি, লোকটা পাগল হলেও খুব ভালো তাকে ছাড়িয়ে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে
এরপর বাড়িতে এসে ফ্রেশ হই এমন সময় আমার স্ত্রী জমিলা বলে, জানো আজকে আমার কাকাবাবু এসেছে তোমাকো ডাকছে
আমিঃ কি বলো তোমার কাকাবাবু
তাকে দেখে আমি টাস্কি খাই । এতো সেই পাগলটা
আমি তাকে বলি, এই আপনি এখানে কেন আপনাকে তো পাগলগারদথেকে ছাড়িয়ে নিয়েছি
কাকাবাবু তো ক্ষেপে গিয়ে আমাকে একটা চড় দিয়ে বলে, কি বললে তুমি আমি পাগল আমি এ শহরের বিশিষ্ট শিল্পপতি আসলাম চৌধুরী। আর তুমি আমাকে পাগল বলছ জমিলা তোর জামাই এসব কি বলছে।
জমিলাঃ এই তুমি কি পাগল হয়ে গেলে।
কাকাবাবুঃ আরে ওকে পাগলাগারদে ভর্তি কর আমি এক্ষুনি হরিদাসিনী পাগলাগারদে কল করছি
আমিঃ আবার হরিদাসিনী
এরপর হরিদাসিনীর পাগলাগারদে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কোন সিট খালি নেই বলে ওই পাগলটার সিটে যার ইন্টারভিউ আমি নিয়েছি সেই সিটে আমাকে রাখা হয়।
আমি এখন চেয়ারে বসে বসে কলা খাচ্ছি এবং উকুন মারছি। আর সেই দিনের আাশায় রয়েছি যেদিন আমার মতো আরেকটা মগা সাংবাদিক এসে আমার ইন্টারভিউ নিবে আর আমি তার কাছে আমার ছাড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করব। কবে আসবে সেদিন
[বিঃদ্রঃ ভূলক্রুটি ক্ষমা করা লাগবেনা আর এই গল্পটা কাল্পনিক কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না যদি নেন তাহলে আমি "০০০" ডায়েল করব।এখন ভাবছেন এটাতে ডায়েল করে কি হবে? আমি একটা নতুন সার্ভিস খুলছি যেখানে ০০০ ডায়েল করলে আপনি সহজেই পাগল হতে পারবেন। এমনকি আপনি না পাগল হতে চাইলেও আপনাকে পাগল করে দেওয়া হবে। আর আপনি পাগল হলে আপনার বউ বাচ্চা অনাহারে মরবে তাই সিরিয়াসলি না নেওয়াই আপনার পক্ষে ভালো ' ]
বিনীত নিবেদক
আপনার একান্ত বাধ্যগত
মোহাম্মদ মফিজুল হোসেন
★সমাপ্ত ★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now