বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিনেমার টিকিট

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TahmiNa ZiNat PrOmi (০ পয়েন্ট)

X সুন্দর এই পৃথিবীতে ক্ষণিকের জীবন আমাদের,,জীবনটা ছোট কিন্তু সবগুলো অনেক বড়,পাওয়া, না পাওয়ার মাঝে আমাদের জীবন প্রবাহিত-বিচিত্র ধরনের মানুষ এই জগতে, তেমনি এই জগতের এক সাধারণ চাকুরিজীবী,নাম তার আজিজ পাঠান,তিনি নিজেকে খুবই বড় ভাবতেন,কিন্তু অনেক কিপটে ছিলো পাঠান সাহেব,সবাই তাকে কিপটে পাঠান বলে ডাকতো,আড়ালে বলতে পারলেও,সামনে বলার সাহস আধৌ কারো হয়নি(যৌবন থেকেই রাগী) -পাঠান সাহেব যখন নতুন বিয়ে করেছিলেন ২৯বছর বয়সে তখনের কথা,২০০৮ সাল,ফেব্রুয়ারি মাসের ২২তারিখে, সদ্য বিয়ে করেছেন,বউকে নিয়ে একটা শহরে দুটি রোম নিয়ে থাকেন,সাদামাটা জীবন,তবে ভীষণ রাগী-গ্রামে পাওয়ার থাকলেও শহরে ছিল না, নিয়তির পরিহাস কিপটে পাঠান বউ পেলো খুবই বিলাসিতার সাগরকন্যা,বিয়ের ১০দিন গেলো, এক রাতে স্বামী স্ত্রী কথা বলছে- স্বামী ঃ-কেমন লাগছে শহরে? স্ত্রী ঃ-ভালো,তবে বাসা খুবই ছোট,আর সব কাজ আমার করা লাগে,আপনে কাজের লোক রেখে দিন স্বামী ঃ-শোনো,যা আয় করি তা দিয়ে এটাই যথেষ্ট ভালো করে থাকা,আর আমি মাসে মাইনে পায় ১০,০০০টাকা,অতিরিক্ত আশা বাদ দিও স্ত্রী ঃ-দশ হাজার টাকা,কোন কপালে যে আপনের কাছে বিয়ে বসলাম,আর তো কিপটে,রোজ ৩০টাকার মাছ আনেন,কি না কি খাই(কাঁদতে শুরু করলো) স্বামী ঃ- নেকামি করিস,তোর বাপের বাড়ির নাকি টাকা যে তোকে মোরগ পোলাও খাওয়াবো, স্ত্রী ঃ-কিপটে একটা,নতুন বিয়ে করলে ঘুরতে তো নিয়ে যেতে পারেন স্বামী ঃ- নিকুচি করি ঘুরাঘুরি,(লাইট অফ করে দিলো) পরেরদিন,বাজার করতে গেলো কিপটে পাঠান দোকানদার ঃ-স্যার,আপনাকে কেমন দেখাচ্ছে? পাঠানঃ- আর বলো না,বউটা ঘুরতে চাই,ঘুরলেই টাকা খরচ, দোকানদার ঃ- ঘুরে আসুন,ম্যাডাম খুশি হবে,নতুন বিয়ে করেছেন তো পাঠানঃ- এই মিয়া,২০টাকার পটল দে(রেগে গিয়ে) মাতাব্বরি কর মিয়া, দোকানদার ঃ- যান যান,কিপটে মনে হয়(মনে মনে) পাঠান বাড়ি গেলেন- ঠিক দুইদিন পর- কে জেনো দরজায় নক করছে,বউ গিয়ে দরজা খুললো,দেখলো মাটিতে একটি বেনামি১টিখাম হলুদ রঙের পড়ে আছে,তিনি হাতে নিলেন-দেখেন একটি সিনেমার টিকিট আগামীকাল ৫টার শো, বউ তো সেই খুশি,নাম তার জামিলা- জামিলাঃ- মনের আশাটা বোধহয় পূর্ণ হলো,ঘুরতে যাবো,(মনে মনে)তবে কে দিলো সন্ধ্যায় পাঠান মিয়া বাড়ি এলেন, পাঠানঃ- কি ব্যাপার এতো খুশি জামিলাঃ- একটা টিকিট! (খুশিতে) পাঠানঃ-কিসের? জামিলাঃ-সিনেমা পাঠানঃ-ভালো,কে দিলো জামিলাঃ-জানি না তো,কাল ৫টার শো,নিয়ে যাবেন পাঠানঃ-কে দিলো এটা?তোমার বান্ধবী জামিলাঃ-আপনার বন্ধুরা হয়তো,না জানিয়ে উপহারস্বরুপ পাঠালো,কল দেন, পাঠানঃ-মাথা খারাপ,টাকা কাটবে,জনে জনে দিব না কল- জামিলাঃ-কাল যাবো তো পাঠানঃ-সময় নেই, জামিলাঃ-আর বলবো না,চলুন না,ফ্রিতে পেলাম টিকিট টা,হল টা কাছেই ১৫টাকা ভাড়া, পাঠানঃ-যাই,নয়তো কানের কাছে পটরপটর(মনে মনে)ঠিক আছে জামিলা অনেক খুশি,ঘুরতে পাগল সে, পরদিন,বিকাল পাঁচ টা বাজার আগে তারা হলে গেলো, পাঠানঃ-১৫টাকা গেলো,যাওয়ার সময হেঁটে যাওয়া হবে, জামিলাঃ-হু,দেখুন তো সিনেমা টা, পাঠানঃ-দেখো,নবাবজাদি কি খুশি(মনে মনে) জামিলাঃ-কিপটে,একটা লজেন্স ও খাওয়াই না(মনে মনে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাড়ি ফিরলো,দেখে তালা ভাঙা পাঠানঃ-এ কি হলো,হায় হায় রে,তাড়াতাড়ি টাকার বক্স খুললো,টাকা নেই, জামিলাঃ-আমার বাবার দেয়া ১০০০০টাকার চেইনটা নেই,আপনার জন্য বলছিলাম চেইন টা দিয়ে যায়,না করলেন,চুরি হবে বলে,এখন তো নিলো(কাঁদতে কাঁদতে) পাঠানঃ-চুপ করো,তোর সিনেমার জন্য আমার ২০০০০টাকা গেলো,আর অনেক কিছু ঘরে নেই,, একে অপরকে দোষ দিয়ে ৩দিন গেলো, হঠাৎ এক সকালে আরেকটা খাম পেলো তারা- পাঠান সাহেব তা বের করলো,লেখা আছে কেমন হলো সিনেমা টা,ভালো লেগেছে,জানি খুব কষ্টে আছো স্বামী স্ত্রী, আমি হলাম বেনামি চোর,সেই বেনামি খামে ৫০টাকার ২টাসিনেমার টিকিট দিয়ে তোমার যজ্ঞের ধন নিয়ে নিলাম,কিপটামি ছাড় মিয়া পাঠান,বাজারে তোর কিপটামি দেখে ভাবলাম তোর আছে বটে, তোর পিছু এসে বাড়ি চিনলাম, তোর কিপটামি আর তোর বউয়ের বাহিরে যাওয়ার আকাঙ্কা দেখে সুযোগ টা নিয়ে নিলাম, পড়া শেষ করে স্বামী ভাবলো যদি এতো কিপটামি না করে আগেই বাহিরে যেতাম,বাইরের কেউই শুনতো না,আজ এমন হতো না,স্ত্রী বলে আমার এই বেনামি টিকিট পেয়ে এতোটা আনন্দিত হওয়া ঠিক হয় নি,যাওয়ার বায়না টা এতো জুড়ালো ঠিক হয় নি,হারালাম তো অনেক কিছু, তারা শুধরে গেলো,পাঠান সাহেব কিপটামি করেনা সাধ্যমতো চলে,জামিলা আর এতো উতলা হয় না কোনো কিছু পাওয়ার ব্যাপারে,, (আমরা এই গল্প থেকে শিখতে পারি যে এতোটা কিপটামি আর এতোটা কিছু পাওয়ার আকাঙ্কা একসাথে হলে এবং বাহিরের লোক তা জানতে পারলে তাদের কেউ এই দুইয়ের মধ্যকারে অল্প দিয়ে অনেক কিছু হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে,কিপটামি না করি সাধ্যমতো চলি,এবং সবসময়ই সব আকাঙ্কা পূরণের উতলা না হই,,নিজের টাকা বাঁচাতে এবং আকাঙ্কা পূরণের এতো উতলা না হই,অন্যের দেয়া জিনিসে অন্ধ হয়ে তার ব্যবহার না করি,এতে আমাদের অনেকটা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে যা আমরা টের পাই না)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now