বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিছুটা ভুতুড়ে কিছুটা রহস্য

"অদ্ভুতুড়ে" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md. Ivan (০ পয়েন্ট)

X কিছুটা ভুতুড়ে কিছুটা রহস্য By Ivan আজ আপনাদের সাথে অদ্ভুত টাইপের একটি ঘটনা শেয়ার করব। হয়তো ভয় না পেতে পারেন তবে ঘটনাটির ব্যাখ্যা কেউ আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি! ঘটনাটি সত্য। ঘটনাটি আমার ফুপুর সাথে ঘটছে ।সেই ঘটনাই আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। , ঘটনাটি ঘটেছিলো 1992 সালে।ফুপুর নাম চম্পা।উনার হাসবেন্ড তখন পুলিশের চাকরী করতো।চম্পা ফুপু প্রথমবারের মত মা হবেন।উনার বাবার বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির সবাই তো মহা খুশি।রোজ সবাই জল্পনা কল্পনা করে,নতুন বাবু ঘরে এলে কি হবে না হবে।রোজ একটা করে নতুন নাম নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়।সবকিছু ভালই চলছিলো। তিন মাস পার হয়ে চার মাসে পড়তেই ফুপুর আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করলো।সেই সাথে বাড়তে থাকলো ফুপুর প্রতি বাড়ির সবার বার্তি যত্ন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ঘটতে শুরু করলো একটার পর একটা অদ্ভূদ ঘটনা। , একদিন দুপুর বেলা ফুপু নিজের ঘরে ঘুমুচ্ছিলো।হটাৎ ফুপুর মনে হলো নরম তুলতুলে একটা রোমশ কিছু ফুপুর হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।ফুপুর ঘুম ভেঙে গেলো। ফুপু চোখ মেলে দেখে এক জোড়া ছোট্ট কালো কুচকুচে রোমশ হাত উনার হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ফুপু ভয়ে চিতকার করে উঠে বসলো। ভয়ার্ত চোখে এদিক ওদিকে তাকিয়ে আর কোথাও ওই ছোট্ট হাত জোড়া কোথাও দেখতে পেলো না! ফুপুর চিতকারে দাদী ছুটে এলো। ফুপুর কাছে সব শোনার পর মাথায় হাত বুলিয়ে দাদী বললেন,তুমি হয়ত দুঃসপ্ন দেখেছো। ও কিছুনা, এসো দোয়া পরে ফুঁ দিয়ে দি.... , আর একবার রাতে। ফুপুর ঘুম আসছিলো না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করছে শুধু। ফুপা তখনও ফেরেননি। ঘরের লাইট নিভিয়ে দেয়া। বারান্দার আলো এসে মেঝেতে পরেছে।হটাত ফুপু বাচ্চা ছেলের কন্ঠে একটা চাপা হাসির আওয়াজ শুনতে পেলো।ফুপু উঠে বসে হাসির উৎস্য খুজতে লাগলো।ঘরের এক কোণ থেকে অন্য অন্ধকার কোনে একটা ছোট মানুষের ছায়া ছুটে গেলো!ফুপু সেই দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো কে?কে ওখানে? একটা বাচ্চা খিলখিল করে হেসে ওঠলো।ফুপু চমকে উঠলেন। এ বাড়িতে তো কোন বাচ্চা নেই।তাহলে?কে ও? ফুপু বিছানা ছেড়ে নেমে ঘরের ওই অন্ধকার কোনের দিকে এগিয়ে গেলো। একটা অবয়ব নড়েচড়ে উঠছে ওখানে।হাত বাড়িয়ে লাইটের সুইচটা অন করে দিলো ফুপু।লাইট জ্বলার পর তিনি অবাক হয়ে আর কেউ নেই! , এর ক'দিন পরের ঘটনা।ফুপু গোছল করতে গেছেন বাথরুমে। আগেকার দিনের বাড়ি।তাই বাথরুমে একটা বিশাল চৌবাচ্চা ছিলো।ফুপু দরজা লক করে যেই না পেছন ফিরেছে, দেখে কি... চৌবাচ্চার পানিতে বুদবুদ উঠছে। দেখতে দেখতে বড় একটা ঢেউ তুলে একটা ছোট্ট রোমশ কালো কুচকুচে মাথা আর হাত পানির নিচ থেকে উঁকি দিলো!ফুপু চিতকার দিয়ে মাথা ঘুরে মেঝেতে পরে গেলো।পরে চাচারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ফুপুকে উদ্ধার করলেন। জ্ঞান ফেরার পর ফুপু ভয়ে এলোমেলো কথা বলতে শুরু করলো। সে রাতে উনার খুব জ্বর আসলো। দাদী ফুপুকে নিয়ে গাইনী ডাক্তারের কাছে গেলো। , ফুপু ডাক্তারের সাথে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অদ্ভূদ ঘটনাগুলোও শেয়ার করলেন। সব শুনে গাইনী ডাক্তার ফুপুকে একজন সাইক্রিয়াটিস্ট ের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলেন।এমন কি তিনি নিজে তার পরিচিত সাইক্রিয়াটিস্ট ের সাথে কথা বলে ফুপুর জন্য একটা এপয়ন্টমেন্ট করে নিলেন।ফুপু সেখানে গেলেন আর সব খুলে বললেন। সাইক্রিয়টিস্ট বললেন,ফুপু একটা জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত! উনি নাকি অবচেতন মনে নিজের ভাবী সন্তানকে ভয় পাচ্চেন! ডাক্তারের কথা সত্যি প্রমান করতেই যেন ফুপু রোজ নিজের বাচ্চাকে স্বপ্নে দেখতে শুরু করলেন। তিনি দেখতেন ,একটা ছোট্ট কুচকুচে কালো রোমশ বাচ্চা উনার দিকে মা মা বলে ছুটে আসছে আর স্বপ্নের শেষ দিকে বাচ্চাটা সব সময়ই ফুপুকে খুন করতে চাইতো। দিন দিন ফুপুর অবস্থা অবনতী হতে লাগলো। অবস্থা এমন দাড়ালো যে তিনি স্বপ্ন দেখার ভয়ে ঘুমুতে পারতেন না।হুটহাট ঐ ভয়ঙ্কর মিশমিশে কালো বাচ্চাটাকে তিনি বাস্তবেও দেখতে পেতেন! , যথা সময়ে বাচ্চা ভূমিষ্ট হলো।ফুপু বাচ্চা জন্ম দিতে যেয়ে মারা গেলেন। সবচে' অদ্ভূদ ব্যাপার হলো,ফুপুর একটা ছেলে হলো,যে কিনা রোমশ এবং কুচকুচে কালো হয়ে জন্মেছিলো! বাচ্চাটা অবশ্য তিন বছর বয়সে মারা যায়!!!...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now