বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অ্যামাজনে কয়েকদিন (পর্ব ১)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2 [এটি আমার লেখা দি রিটার্ন অব অল জিজে'স এর একটি গল্প,যা ১০০% আমার নিজের লেখা।আর একটা কথা,আমার সব গল্পেই পাঠক যেন নিজেকে খুঁজে পায় তাই আমি সবসময় আমি নামক যে চরিত্রটা সৃষ্টি করি তাতে পাঠক যেন নিজেকে কল্পনা করে তা বলি।এই গল্পেও আমি চরিত্রটাতে পাঠক নিজেকে কল্পনা করে পড়বেন,তাহলে আসল মজাটা পাবেন আশা করি] অ্যামাজন,পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট,প্রায় ৭০০০০০০ ব.কি.মি. ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট বন এটা,যার প্রায় ৫৫০০০০০ এলাকাই ঘন বনে আবৃত।রয়েছে হাজারো রকমের প্রাণী,রয়েছে না দেখা প্রকৃতির শত সহস্র বিস্ময়।রয়েছে নানান কল্প কাহিনী এবং মিথের জন্ম যার মূল ভূমি এই অ্যামাজন,যার আরেক নাম পৃথিবীর ফুসফুস।এই এতো বড় বনটি ৯ টি দেশে বিস্তৃত,বাংলাদেশের চাইতে কয়েক গুণ বড়,এই বনটির একটি বড় অংশ আছে ব্রাজিলে।এই বনেই রয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ নদী অ্যামাজন।এই বন হাজারো জন্তুর আবাস।এই বনের অভিযান মানে সত্যিকারের উত্তেজনা,অন্যরকম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা,রয়েছে অজানা শত ভয়।শত ভয় বিপদ দূর করে যারা অভিযান করে তারাই মূলত সত্যিকারের বীর, সত্যিকারের সাহসী মানব। আজ ০১ জুন ২০২৬,গত বছর আমরা সকল জিজেরা সুন্দরবনে অভিযান করেছিলাম।অভিযানটা যথেষ্ট রোমাঞ্চকর হয়েছিল,শেষে ঠিক করেছিলাম আমরা আবার অভিযান করব,আবার আামাদের দেখা হবে।তাই আমরা সকল জিজেরা বাংলার মাটি থেকে অনেক উপরে অবস্থান করছি,বিমানে,জিজের সংগাঠনিক বহু পরিবর্তন হয়েছে,অনেক নতুন কিছু তৈরী হয়েছে জিজেতে,সাথে অনেকে ব্যাক্তিগত জীবন এবং কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেছে।তাই সবাই আসতে চায় নি।জিজের প্রায় ১০০০০ সদস্যদের মাঝে মাত্র আসল ৩০ জন,যদিও কম মানুষ হলেই অভিযান ভালো জমে।তাই ঠিক হলো আমরা এই কয় জনই যাব।আমাদের গন্তব্য অ্যামাজন।সকল কাজ কর্ম এবং কঠিন পরিশ্রম শেষ করে আমরা ২ জুন অ্যামাজন উপকন্ঠে পৌছালাম।ঠিক হলো এখানে আমরা কয়েকদিন থাকব।জায়গাটা একটা আদিবাসী গ্রাম,তারা অন্যসব আদিবাসীদের মতো নয়, যথেষ্ঠ সভ্য এবং বন্ধুশুলভ।তাদের গ্রামটার নাম হলো ফারগুফার।এটা তাদের ভাষায় অর্থ হলো নদীর উপত্যকা।নামটা বিচিত্র,কারণ পাহারের একমাত্র উপত্যকা হতে শুনেছি আমি,আর এরা বলে কিনা নদীর উপত্যকা।অবশ্য নামটা দেওয়ার পিছনের কারণ আছে।কারণ হলো গ্রামটার একপাশে পাহার আছে এবং অন্যপাশে নদী,অনেকটা উপত্যকার মতো দেখতে।আমরা যারা আছি তাদের মধ্যে সবার নাম এখন বলছি না,যখন প্রয়োজন হবে তখন সবার নামই বলব।এখন কয়েকজন মুখ্যব্যাক্তির নাম না নিলেই নয়।আামাদের মধ্যে আছেন হৃদয়,রনি ভাই,আনিস ভাই,মফিজুল, ফারহান,কাব্য ভাই,সাঈম আরাফাত ভাই,শুভ,সাইমন ভাই,ইভা,রুবি আপু,আনিকা,সুস্মিতা,পুষ্প,তাহিরা আপু, রেহনুমা আপু,অপরাজিতা আপু,রামিশা, তুবা সহ আরও অনেকে,আর আমিতো আছিই। আমাদের পুরো দলটাকে লীড করছেন যিনি তার নাম মি.A।তিনি কখনও তার নামের মানেটা বলেন নি,অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ তিনি,আমাদের সবার চেয়ে বড়।তার সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি।তবে আমি জানি তিনি একজন পাকা মাপের অ্যাডভেঞ্চারকারী,তারই উৎসাহে আজ আমরা এখানে। আমরা প্রথমে গ্রামে এসেই গেলাম উপজাতিদের সর্দারের কাছে,তার নাম হলো মপিংলিত,এর অর্থ কী জানি না।তবে অনুমান করতে পারি,যেহেতু এরা সূর্যের পূজারি তাই তার নামের অর্থ হতে পারে সূর্যের ভৃত্য,এমনই নাম হয় এদের।উপজাতিদের মাঝে সর্দার আর কয়েকজন শুধু ইংরেজি জানে।আর কেউ জানে না।সর্দারটির সাথে কথা বলার পর তিনি আমাদের থাকার ব্যাবস্থা করলেন,খাওয়ার ব্যাবস্থাও তার।কারণ এরা অতিথি পছন্দ করে।তবে সর্দারকে জানালাম আমরা শুকর খাই না,যা তারা খায়।আমরা আমাদের থাকার জায়গায় গেলাম,দেখলাম ভালো ব্যাবস্থা,বাশের বেড়া দিয়ে তৈরী দুটো ঘর,উপরে পাতা আর বাশের চাল,ভালো একটা অভিজ্ঞতা হবে বুঝলাম।আমরা গ্রাম ঘুরতে থাকলাম ।অপরূপ সুন্দর গ্রাম,সবুজে ঘেরা,বাশের বেড়া দেওয়া ঘর,সাথে সহজ সরল মানুষগুলো,পাশে পাহাড় আর নদী,এক অপরূপ সুন্দরের রাজ্য। হৃদয়: সত্যিই কী অপরূপ জায়গা,একদম ছবির মতো। মফিজুল: হ্যা ভাই, ঠিক বলেছেন একদম ছবির মতো। সাঈম ভাই: কী অপরূপ সৌন্দর্য। রনি ভাই: আমার তো এখানেই থেকে যেতে ইচ্ছা করছে। আমি: তাহলে থাকুন না এখানে,কে মানা করেছে,দেশে ফিরে না হয় আপনার বস কে বলব রনি ভাই হারিয়ে গেছে। সবাই হাসি মজা করছি,অনেক কথা হচ্ছে।ইভা আর তুবা ছবি আঁকতে বসে গেছে,কয়েকটা আদিবাসী মেয়ে তাদের কাছে চুপচাপ বসে বসে ছবি আঁকা দেখছে।আনিস ভাই অপরাজিতা আপুকে নিয়ে ঘুরছেন।হৃদয় ভাই একসাথে কবিতা লিখছেন এবং ছবি আঁকছেন।তবে সবার থেকে দূরে।ইভা আর তুবা পাহাড়ের কাছে বসে আছে,আর হৃদয় ভাই নদীর কাছে ছবি আঁকছে।মফিজুল আর সুস্মিতা বসে আছে,ভালো বন্ধু ওরা,মফিজুল গান গাইছে,আর সুস্মিতা বসে বসে শুনছে।ওইদিকে তাহিরা আপু, রেহনুমা আপু, রুবি আপু,পুষ্প, রামিশা বসে আলাপ করছে।আমি, শুভ,রনি ভাই,সাঈম ভাই,ফারহান এরা সবাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করছি। খাবারের সময় আসল।খাবারের আয়োজন দেখে আমরা তো থ হয়ে গেলাম।আমাদের এতো অবাক হতে দেখে সাঈম ভাই বললেন,"এরা শুধু জীবন উপভোগকারী,এরা দেখবে সারাদিন শুধু খেতেই থাকবে,খাবারই এদের প্রিয় কাজ।"খাবার হিসেবে কয়েক রকমের মাছ,বুনো হরিণের গোশত,পাখির গোশত,বিভিন্ন ফলমূল সাথে আরও ৭/৮ প্রকারের অজানা খাবারের পদ।যথেষ্ঠ কসরত করে সব খাবার খেলাম,অনেক সুস্বাদু সব খাবার।সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখালম,বহু পাখি আকাশে উড়ছে,মারাত্মক সুন্দর সব দৃশ্য। পরদিন সকালে, সকালে ফজরের সময় উঠলাম আমরা,নামাজ পড়লাম,উপজাতিরা খৃষ্টান দেখেছে,কিন্তু মুসলিম বা হিন্দুদের উপাশনা দেখে নি,আমাদের নামাজ পড়া দেখে তারা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল।সূর্য উঠার আগেই আমরা পাহারে চড়লাম,পাহাড় হতে সূর্যোদয় দেখলাম,অনেক সুন্দর লাগছিল,বনের হাজারো পাখির কিচিরমিচির শব্দ,ঠান্ডা বাতাস,প্রকৃতিতে আল্লাহর এক অপরূপ দান।আমরা এর পর গ্রামে আসলাম।দেখলাম সবাই কাজ করছে।কয়েকজন জোয়ান লোক শিকার করতে যাবে,আমি এবং আমাদের কয়েকজন সঙ্গী আমাদের রাইফেল এবং অস্ত্র নিয়ে তাদের সাথে যাব ঠিক করলাম।অন্যদিকে গ্রামের মেয়েরা মাছ ধরছে,মফিজুল, ফারহান, সুস্মিতা,আনিকা এরা সবাই মাছ ধরছে তাদের সাথে।বাকি অন্য বড় মেয়েরা সবাই রান্নার কাজ করছে। কিছুক্ষণ পর আমরা শিকারে গেলাম,সেখানে মারাত্মক সব রোমাঞ্চ হলো,একটুর জন্য আমাদের জান চলে যেত।সেটা জানতে হলে পরের পর্বে চোখ রাখুন। [গল্পটা কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন।কোনো ভুল থাকলে ধরিয়ে দিবেন।আর অবশ্যই ভালো থাকবেন এবং ভালোর দলে থাকবেন] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ৩০ এবং শেষ]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ২৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৬]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৫]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৪]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২৩]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২২]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২১]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ২০]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৯]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৮]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন[পর্ব ১৭]
→ অ্যামাজনে কয়েকদিন [পর্ব ১৬]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now