বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#তার স্পর্শ❤
#পর্ব_৪
#Humayun_Kabir
আমি আম্মুর কোলেই ঘুমিয়ে পড়লাম।সকালে উঠে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলাম।আমি হাই তুলতে দেখলাম সকাল ৮টা বেজে গেছে আজ নামাজটা মিস গেল কিন্তু কাযা নামাজ পড়তে ওযু বানাতে গেলাম।
বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলে একটা ভালো অনুভূতি লাগে এটা সবাই বুঝে না।তারা বুঝে যারা সকালে নামায পড়ে।
নামাজের জন্য নিয়ত ধরে নামাজ পড়া শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ পর নামায শেষ আমার চোখ আম্মুকে খুজতেছে।শেষে আম্মুকে পেলাম।আম্মু ব্যালকনিতে দাড়িয়ে কি ভাবছে!
আমি চোখ দুটো বড় বড় করে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম"আম্মু কি ভাবছো?"
-কিছু না!
-কিছু না তো তুমি এভাবে মুখ করেছিলে যে তুমি আব্বুকে মিস করছিলে!
-তুই কিভাবে জানি!
-মানে আমি ঠিক ধরছি!শুধু টুক্কা মেরে।দেখছিলাম।
-হুমম তোর আব্বু আর আমি প্রতি সকালে এভাবে দাড়িয়ে চা দিয়ে আড্ডা দিতাম।
-আব্বুকে খুব মিস কর?
-অনেক!!
আম্মুর চোখে জল এসে গেল।এর চেয়ে আম্মুর চোখে জল দেখেছিলাম যখন ক্লাস ৭ এ।যখম আম্মু আব্বুর এক্সিডেন্ট এর খবর শুনছিলাম।
রুমে গিয়ে অনেক কেদেছিলাম আমি।
আম্মু কত দুঃখ দেখেছে আমাকে নিয়ে, যখন ক্লাস টেনে যখন দাদা-দাদিরা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক প্রেসার আম্মুকে দেয় তাই আম্মু আমাকে তাদের থেকে দূর এ শহরে নিয়ে আসে।
আমি ক্ষুধায় আম্মুকে জ্বালাচ্ছি।সকালে খালি পেট বেশি কথা বলা যায় না।আমি কোনোরকম ভাবে একটা বন দিয়ে ম্যানেজ করলাম।ততক্ষণে যতক্ষণ না একটা ভালো নাস্তা আমার কাছে আসে।
বনটা খেতে খেতে ফোন টিফছি তখনি উজ্জ্বলের আইডি আমার সামনে আসলো হয়তো রিদার সাথে এড আছে।কি একটা ফালতু পিক দিছে।
আইডিতে সব বন্ধুর সাথে ফটো। একটা-দুইটা আম্মু আর বোনের সাথে।কি কি অভদ্র ক্যাপশন দিছে।আমি দুই মিনিটে চেক করে বের হয়ে গেলাম।এ প্রত্যেকটা ছেলে এরকম যতসব নোংরামি।
ফোন ফেলে টিভি চালু করলাম।যতসব কিছু নেই যেটা আমি দেখবো।আম্মু পরাটা প্লেট করে এনে বলল"আজ তোর খালামণি আসছে
-ওয়াও!কখন?
-বিকেলে আর আমরা বের হবো!
খালামণি আসলে আমার ভালো লাগে!একটা খালাতো বোন আছে ক্লাস টেইনে!দুইজন বোনের মত মজা করি।শুনেই ভালো লাগছে।
আমি বিকেলের অপেক্ষায়।আর এটা শুনে খুশি যে কোথায় তো যেতে পারবো।
রিদা নিজের ঘরে পড়ছে।উজ্জ্বল প্লেন করছে আজ সে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হবে।
বিকেলের দিকে ভাতটা খেয়ে যাবে।
আমার অপেক্ষার প্রহর ভেঙ্গে খালামণিরা আসলো।আমি আমার খালাতো বোন রেনুকে দেখে খুশি। রেনুকে আমার রুমে নিয়ে গেলাম।
আম্মু আর খালামণির মাঝে সব ফালতু কথা।তাই আমি আর রেনু তাদের পাশেই বসি না।
-তুই কেমন আছস?
-আপু আমি ভালো আছি কিন্তু খুশিতে এত হাঁপাচ্ছ কেন?
-কই না তো! তোকে দেখে খুশি হচ্ছি!
-কিন্তু এরকম তো কখনও করনি!
-তুই এত ভাবিস কেন?
-আচ্ছা বল!
-কি বলবো?
-তুমি তো এখনও সিঙ্গেল কিন্তু....
-মানে?
-আমি এখম মিঙ্গেল!
-কি বলিস!!!!(চিল্লিয়ে বললাম)
-আস্তে আস্তে আম্মু শুনে যাবে!
-ছেলে কেমন?কিসে পড়ে? কোথায় থাকে?মা-বাবা কেমন?
-ছেলেটা ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে। বাসা ধানমন্ডিতে!আমার সাথে প্রতিদিন দেখা হয়!
-পরিচয় কেমন হয়ছে?
-বন্ধুর মাধ্যমে!
-ছেলে ভালো তো!
-কোনো সন্দেহ নেই!
-ফটো আছে?
-এতো দেখ(ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে)
-দেখতো ভালো!
আমি রেনুর দিকে হা করো দেখে আছি এতো টুকু মেয়ে যার দুধের দাঁত পড়েনি সে এখন প্রেমে জড়াচ্ছে।
-কি ভাবছো?
-কিছু না!
-আচ্ছা তুই ফ্রেশ হয়ে আয়!আমরা তারপর খেতে বসবো!
-আচ্ছা ঠিক আছে!
আমি ডায়নিং টেবিলে গিয়ে বসলাম।সবাই খেতে বসলাম।খালামণি আম্মুর সাথে কথা বলছে আমি আর রেনু চুপ হয়ে ভাত খাচ্ছি।
কিছুক্ষণ ভাত খাওয়া শেষ উঠে নিচে রুমে চলে গেলাম।আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপছি।
কিছুক্ষণ পর রেনু আমার পাশে শুয়ে পড়লো।
সে টিভি দেখছে আম্মু আর খালামণির কথা এখনও শেষ হয়নি।আমি বুঝলামই না কখন চোখ লেগে আসলো।রেনু আপু আপু করে চিল্লায়া কানটা জ্বালা পালা করতেছে।
চোখে আঙুল গুলাতে গুলাতে বাথরুমের দিকে যাচ্ছি।
,
,
,
চলবে,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now