বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হাঁসের মাংস
-নিশাত তাসনিম
একপ্রকার দৌড়াতে দৌড়াতে রিনি তার শ্বাশুড়ির রুমে পৌঁছালো।
-'মা, হাঁসের মাংস রান্না করতে পারো তো; ঝাল করে?'
তার শ্বাশুড়ি মা একটু অবাকই হলো।
-'এই রাত্রে বেলা তুমি হাঁস পেলে কোথায়? আর এ বাসায় তো হাঁস খায়না কেউ!'
-'না মানে আজ আপনার ছেলে বলছিলো আমার প্রিয় খাবার কি? মনে হয় আনবে কাল। কিন্তু নিজে তো কোনদিন রান্না করিনি আগে।'
এইবার শ্বাশুড়ি তার ঝুলি খুলে বসল।
'হাঁস আনত আমার বাবা। সে-কি বড় বড় হাঁস। তখন তো অনেক রকমের হাঁস পাওয়া যেত এলাকায়। শনিবার করে বাজার বসতো, আর আমার বাবা প্রতি বাজারে হাঁস আনত। একবার হলো কি জানো? আমি তখন ছোট, হাঁস ধরতে গেলাম আর হাঁস আমাকে নিয়ে উড়ে গেলো। আমি তো হাঁস ছাড়বোই না। পরে আমার দাদা পা ধরে নামালো, আমি আর হাঁস দুইজনই মর্ত্যে নেমে এলাম। হাহা।'
- 'তার মানে তুমি হাঁস খেতে পা্রো? গন্ধ লাগেনা?'
- 'আরে না, কি যে বলো। হাঁসের মাংস তো রক্তে মিশে আছে। তবে এই বাড়িতে এসে আর খাইনি কখনও। এখানে এসে শুনি তোমার শ্বশুরের নাকি হাঁসে গন্ধ লাগে, কেউ খায়না। তাই আমিও ভুলে গেছি সেই স্বাদ।'
- 'বিয়ের পর কত কিছু যে পাল্টাতে হয়!'
- 'আমি মুরগির গিলা-কলিজা পছন্দ করতাম, এসে দেখি তোমার শ্বশুরেরও নাকি এটা ভাল্লাগে। দিয়ে দিই, খাইনা আর। কি বলবো খেতেই পারিনা। মানুষটার পছন্দ যে।'
-
এই কথোপকথনের একদিন যায়, দুইদিন যায়, একমাস থেকে ছ'মাসে ঠেকে। হাঁসের মাংস আর বাসায় আসে না। বউ শ্বাশুড়ি কেউ কাউকে বলে না কিন্তু দু'জনই রোজ বাজারের ব্যাগে হাঁস খুঁজে অগোচরে। সেখানে ভাইয়ের পছন্দের খাসির মাংস আসে, বোনের আইসক্রিম আসে, বাবার লাউ শাকও আসে, শুধু গন্ধযুক্ত হাঁস আসেনা।
রিনি কখনও চিংড়ি খেতে পারে না। কিন্তু এ বাড়ির সবার এ জিনিস খুব পছন্দের। রান্না করতে গিয়ে রিনির কখনও নাক কুঁচকে যেত, কখনও চোখে জল আসতো। অভ্যাস হয়ে গেছে তাও। এখন চিংড়ি রান্না করে চেখে একটু জল দিয়ে গড়গড় করে নিলেই হয়, আর খারাপ লাগে না। তবে যেদিন বাসায় গলদা চিংড়ি ভুনা আর নারকেলে ডুবিয়ে চিংড়ি খাওয়া হয় সেদিন যে ডাল ছাড়া আর তেমন কিছু রান্না হয় না, তা ভাবলে প্রথমে খারাপ লাগতো। রিনি চাইলেই রান্না করতে পারে যে কোন কিছু, তবে আবেগি মেয়েটা চাইতো, কেউ একজন তার প্রিয় কোন কিছু হাতে নিয়ে এসে বলুক, সবাই যখন চিংড়ি খাবে তখন তুমি এটা খেও। হয়ে উঠেনি তা কখনও। কে জানে, হয়ত তার বরটাই জানেনা সে চিংড়ি খেতে পারেনা।
প্রায় একবছর পর রিনি যখন তার নিজের বাবা-মায়ের কাছে যাচ্ছিল, শ্বাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো,
'মা, এইবার আম্মুকে বলে হাঁসের মাংস রান্না করিয়ে নিয়ে আসবো। বাকি দুইজনের সামনে বসে খাবো।'
জবাবে অপরপক্ষ কিছুই বললো না, শুধু গলা থেকে হাতটা নামিয়ে দিয়ে ক্রূর হাসি দিয়ে বললো, 'গিয়ে দেখ, কি হয়। আর স্বপ্ন দেখা কমিয়ে দে।'
শ্বাশুড়ির কথাকে ভেংচি কেটে সেদিন বাবার বাড়ি এলো রিনি। তার মা ব্যস্ত তাদের একমাত্র মেয়ের জামাইয়ের যত্নতে। রিনি তার সেই হাঁসের মাংসের কথা বলারই সুযোগ পাচ্ছে না কিছুতেই। তবু পিঠা বানানোর আসরে বসে মা-কে গিয়ে বললো, 'মা, হাঁসের মাংস দিয়ে পিঠাটা কিন্তু বেশি ভালো লাগতো। করবে হাঁস রান্না?'
মেয়ের কথায় মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভাঙলো। 'পাগলে পেয়েছে তোকে। জামাই নাকি হাঁস এর গন্ধ সহ্য করতে পারেনা। পারলে আমার কাজে সাহায্য কর, না পারলে দূরে যা তো। জ্বালাবি না।'
শ্বাশুড়ির ক্রূর হাসিটা খেলে গেলো রিনির ঠোঁটেও। তার নিজের মা আজ তাকে রেখে অন্যর পছন্দ নিয়ে ব্যস্ত। থাকুক কিছু চাওয়া অগোচরেই।
অগোচরেই বিশাল বাড়িটার শ্বাশুড়ি-বউ প্রতিদিন বাজারের ব্যাগ হাতরে বেড়ায় একটা হাঁসের অপেক্ষায়। এখন আর কেউ কাউকে বলেনা কিছু............
কপি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now