বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রক্রিত ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X মিম ও সোহান দুজনের বাসাই এক জায়গায়।তারা দুজন পাশাপাশি দুইটা স্কুলে নবম শেণীতে পড়ত। একজায়গায় বাসা হওয়ার কারণে তারা দুজন দুজনাকে চিনত কিন্তু তাদের সেইভাবে কোনোদিন কথা হয় নি।নবম শ্রেণীর শেষের দিকে তাদের ফেসবুকে পরিচয় হয়।তো তারা দুজন ফেসবুকে কথা বলতে বলতে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়।তারা একে অপরকে তুই বলে ডাকা শুরু করল।সারা দিন রাত দুজনে ফেসবুকে কথা বলত।কিছুদিনের মধ্যে মিম আর সোহান খুব ভাল একটা বন্ধু হয়ে গেল।তারা দুজন দুজনার কাছে সবকিছু বলত।যেমন কে কোন ছেলে মেয়েকে পটাইছে।এভাবে তাদের বন্ধুত্ব ভালই চলছিল।হঠাৎ একদিন সকালে মিম ফেসবুকে প্রবেশ করে দেখল যে সোহান তাকে ম্যাসেজ দিছে।ম্যাসেজগুলো এমন যে আমি তোকে ভালবাসি,তুই আমার রাজকন্যা হবি,তুই আমার বাবুর আম্মু হবি।মিম তার প্রিয় বন্ধুর কাছে এমন ম্যাসেজ পেয়ে খুব অবাক হইছিল।সে কি উত্তর দিবে এই ম্যাসেজের ভেবে পাচ্ছিল না।তাই মিম আর কিছু বলল না চুপ করে ছিল হঠাৎ কিছুক্ষণ পর সোহান বলল যে এটা ওহ মজা করে বলছে।মিম মনে মনে ভাবল ইস যদি এটা সত্যি হত।এই ঘটনার পর মিম সোহানকে একটু একটু করে ভালবাসতে থাকে।সোহানের কোনো মেয়ের সাথে কথা বলা মিম পছন্দ করত না।তেমনি মিমের ও কোনো ছেলের সাথে কথা বলা সোহান পছন্দ করত না।আগে সোহান মিমিকে বিভিন্ন ছেলেকে দেখিয়ে বলতে এই এর সাথে প্রেম কর কিন্তু এখন আর বলে না। এখন আবার বলে এত ফ্রেণ্ড কেন তোর।এসব ভাল না এই বলে মিম কে পরামর্শ দিত।এসব দেখে মিম ও অনেক অবাক হত।ঘন্টার পর ঘন্টা তারা ফোন ও ফেসবুকে কথা বলত।সোহান মিমের প্রিয় বন্ধুর মত থাকলেও বয়ফ্রেণ্ড এর মত অধিকার খাটাইতো।কিন্তু কখনো সেটা প্রকাশ করত না।তো মিম ভাবে এটাকে সে কিভাবে নিবে।এর মধ্যে তাদের এস.এস.সি পরিক্ষা চলে আসে।তারা দুইজন দুই স্কুল থেকে পরিক্ষা দিচ্ছিল।এরমধ্যে একদিন সোহানের সাথে মিমের দেখা হলে মিম বলে কেরে তুই আর মেয়ে পটাস না।তখন সোহান বলল তোর মত এমন বন্ধু থাকতে কোনো গার্লফ্রেণ্ডের প্রয়োজন নাই রে।এবার মিম বলল তাও মেয়ে পটাস।মূলত মিম চায় যে সোহান স্বীকার করুক যে সোহান তাকে ভালোবাসে।সোহান আবার বলল তুই যদি চাস তাইলে ঠিক আছে একটা মেয়েকে পটাবনি।সত্যি সোহান এস.এস.সি পরিক্ষার মধ্যে একটা মেয়েকে পটাইলো।সেটা শুধুমাত্র মিমকে দেখানোর জন্য মন থেকে নয়।আর যেই মেয়েকে সোহান প্রেমিকা বানাইছিল সেই মেয়েটি ছিল খুব খারাপ।সে সোহানকে প্রত্যেকদিন খুব বিরক্ত করত।তো সোহান এবার মিম কে বলল মিম একটা কাহিণি হয়ে গেছে রে।মিম বলল বল কি হয়েছে।সোহান বলল যেই মেয়েকে প্রেমিকা করছিলাম সেটা মন থেকে নয় শুধুমাত্র তোকে দেখানো জন্য এবং তুই এটাকে কিভাবে নিশ সেটা দেখার জন্য।এখন ওই মেয়ে আমাক বিরক্ত করছে তোকে দেখাইতে গিয়ে আমি ফেসে গেছি রে।তুই আমায় এখন সাহায্য কর।ওই মেয়েকে ফোন করে বল যে তুই আমার গার্লফ্রেণ্ড।মিম রাজি হচ্ছিল না এটা করতে কিন্তু সোহানের অনুরোধ সে ফেলতে পারল না।মিম ওই মেয়েকে ফোন করে বলে যে আপু সোহানকে আর বিরক্ত কর না আমি ওর গার্লফ্রেণ্ড।ওহ আমাকে রাগানোর জন্য তোমার সাথে এমনটা করেছে।এটা শুনে ওই মেয়েটা মিম কে অপমান করে।মিম এতে সোহানের ওপর খুব রেগে যায়।এই প্রথম কারো কাছে সে অপমানিত হল।মিম সোহানকে বলল তুই আর কখনো আমাকে ফোন আর ম্যাসেজ দিবি না তোর সাথে আমার আর কোনো কথা নাই। এরপর সোহান তার ভূল বুঝতে পারে সে ফেসবুকে মিম কে তার ভালোবাসার কথা জানায়।মিম এই ম্যাসেজ দেখে খুব কাদে।এই কান্না ছিল সুখের কান্না।এই একটা কথা শুনার জন্য সে অনেকদিন অপেক্ষা করেছে। আর আজ তার সেই আশাটা পূরণ হয়েছে।এবার মিম সোহান কে বলল তুই প্রথম যেইদিন মজা করে ভালোবাসার কথা বলছিলি আমায় সেদিনই তোকে ভালবেসে ফেলছিলাম সোহান।এবার সোহান বলল ওইটা মজা ছিল না মিম ওইদিন সত্যি মন থেকেই তোকে ভালবাসার কথা বলছিলাম।এরপর শুরু হয়ে গেল তাদের মধ্যে এক ভালোবাসার সম্পর্ক।তারা একদিন ও দেখা না করে থাকতে পারত না।সবসময় তাদের ফেসবুকে কথা হইত।তারা দুই ঘন্টার মতোও ফোনে কথা বলত।এরমধ্যে মিম ও সোহানের এস.এস.সি রেজাল্ট দিয়ে দিল।সোহানের গোল্ডেন আসলো কিন্তু মিমের গোল্ডেন আসলো না।মিমের এক যায়গায় পড়ার কথা ছিল সেটা তার বাসা থেকে একটু দূরে।কিন্তু অনেক অসুস্থ থাকার কারণে তাকে আর বাসা থেকে দূরে যেতে দেওয়া হয় নি।মিমের যেই শহরে পড়ার কথা ছিল সেখানে সোহানের সুযোগ হয়ে গেল।এরমধ্যে রোজা চলে আসল।তাদের ভালোবাসার দিন দিন আরো উন্নতি হচ্ছিল।সোহান মিমের থেকে তার অনেক ছবি নিত।সোহান বলত তোরে না দেখে একমুহূর্তও থাকতে পারি না।এত ভালোবাসার মধ্যেও মিম কাদত সে ভাবে এসব সে স্বপ্ন দেখছে না তো।মিম সোহানকে বলল আচ্ছা এসব কোনো স্বপ্ন নয়তো।সোহান বলল নারে পাগলী এসব স্বপ্ন নয় সব সত্যি।এভাবেই চলছিল তাদের মিষ্টি ভালোবাসা।ঈদ এর দুইদিন আগে তারা এক যায়গায় ঘুরতে যায়।সেইদিন ছিল মিমের কাছে পুরো স্বপ্নের মত।সেইদিন তারা অনেক ঘুড়াঘুড়ি করে আর অনেক আনান্দ করে।ঈদ চলে আসল মিম ভাবতে লাগল আর বুঝি সোহানের সাথে দেখা হবে না কারণ সে পরাশুনার জন্য দূরে চলে যাবে।এইজন্য মিম অনেক কান্না করছিল।এইজন্যে সোহান বলল ওই পাগলী আমি তো বেশি দূরে যাচ্ছি না যখনই তোর কথা মনে পড়বে তোকে দেখার জন্যে চলে আসব।তাও মিম সোহানকে হারানোর ভয় পেত।আর সেটাই হলো।ঈদের পরেরদিন মিম তার নানু বাসায় বেরাতে যায়।সেখানেই তাদের শেষবারের মত দেখা হয়।সেইদিন অনেক কান্না করেছিল মিম কিন্তু সেটা সোহানকে বুঝতে দেয় নি।এর পরের দিন মিম দেখে যে সোহান তাকে ব্লক করে দিছে।মিম অন্য আইডি দিয়ে সোহানকে বলে কেন সে এমন করেছে কিন্তু সোহান কোনো উত্তরই দেয় না।ঈদের ৪ দিন পর মিম বাসায় আসে।তখন তার বাবা তাকে খুব মারধর করে।তারা বাবা আগে কখনো তাকে এভাবে মারে নাই।এতে সে তেমন কষ্ট পায় না।সে কষ্ট পায় সোহান কেন তাকে ব্লক দিয়েছে এটা ভেবে।সে তিনদিন ধরে খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ করে দেয়।সে প্রতিজ্ঞা করে যে সোহান যতদিন না তার ব্লক খুলতেছে সে কিচ্ছু খাবে না।মিমের এক বান্ধবি সোহান কে বলে যে তোমার ব্লক দেওয়ার কারণে মিম খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তুমি দয়াকরে ব্লক খোলো।এদিকে বাবার হাতে অনেক মার খাওয়া আর তিনদিন ধরে কিছু না খাওয়ার কারণে মিমের স্যালাইন চলছিল।মিম এখনো জানে না কেনই বা তার বাবা তাকে মারছিল আর কেনই বা সোহান ব্লক দিয়েছিল।সোহান এবার ব্লক খোলার পর মিম কে বলে মিম খেয়ে নে।মিম খেয়ে নেয়।এবার সোহান তাকে সব খুলে বলে কেন সে মিমকে ব্লক দিয়েছিল।সোহান বলল যে তার আম্মু তাকে ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছে যেন তোর সাথে আর কোন যোগাযোগ না রাখি।এবার মিম বলল কেনো এমন প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছে।সোহান বলল শুধু আমার পরিবার না তোর পরিবার ও আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে সব জেনে গেছে।তাই আমার আম্মু আমাকে দিয়ে এমন প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছে।এবার মিম বলল এখন কি করবি।তখন সোহান আর কিছু বলে না।এদিকে মিমের বাবাও তাকে বলে ওই ছেলে নয়তো আমি যেকোনো একজনকে বেছে নিতে হবে তোকে।বাবাকে বেছে নিলে ওই ছেলেকে তোকে ভূলতে হবে।মিম তারা বাবার কথাই শুনে।তারপর ও লুকিয়ে ম্যাসেজে কথা বলতো সোহান আর মিম।কিন্তু সেইসময় মিমের একটা কঠিন অসুখ থাকার জন্য সে সোহানকে অনেক গালিগালাজ করে অপমানে করে যাতে তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ না থাকে।এভাবেই তারা তাদের পরিবারের কথা ভেবে তারা একে অপরের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ না হলেও যখন সোহানের কথা মনে পরে মিম সোহানের আইডি তে গিয়ে তাকে ম্যাসেজ করে এভাবে দুই তিনদিন কথা বলে।কিন্তু মিম যে সোহানকে অপমান করেছিল সেটা মনে হলে সোহান ও মিমকে অপমান করে এরকম তাও ছয় সাতবার হয়ছে।এবার আর সহ্য করতে না পেরে মিম তার আইডি পরিবর্তন করে ফেলে।আইডি একেবারে নষ্ট করে ফেলে।সে আরো তার বাবাকে কথা দিয়েছে তাই সে আর চায় না এই সম্পর্কটিকে আর টিকিয়ে রাখতে। মিম মনে করে সে তার আম্মুর কথাই শুনে থাকুক।এরপর আর কথা হয় নি ওদের মধ্যে।মিম এখনো সোহানকে অনেক ভালোবাসে।তার জন্য দুয়া করে।রোজা সময় ছাড়াও সে মাঝেমধ্যে রোজা রাখে সোহানের জন্যে যাতে সে সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now