বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুর পথে কিছু কথা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ-সাফায়েত হোসেন সরণ(guest) (০ পয়েন্ট)

X আজ সকাল সকাল ঘুমটা ভেংগে গেল।চারিদিক যেন খুব শান্ত লাগছে।অবশ্য ইতালির মত জায়গায় বেশি কোলাহল তো চোখে পড়ে না।এটা তো আর বাংলাদেশ না যে অনেক শোরগোল, কোলাহলে ব্যস্ত থাকবে।উন্নত এই দেশে সবাই শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় কি কারো আছে।বাংলাদেশের মতো আন্তরিকতা কি সব দেশে পাবো এটা ভাবাও ঠিক না।যাহ কথায় কথায় আমার পরিচয় টা দিতেই ভূলে গেছি।আমি সুজন পেটের দায়ে ইতালিতে ১০ বছর হলো আসছি।এখানকার রেস্টুরেন্টে কাজ করি। ২ বছর আগে দেশে গেছি অনেকদিন পর যাওয়াতে বাবা মা তো অনেক খুশি প্রথমে তো জরাই ধরে কি কান্নাটাই না করলো আমিও কেদে দিয়েছিলাম সাথে সাথে।ছয়মাস দেশে কাটিয়ে আবার ফিরে আসছি।পরিবারের লোকজন বললো দেশে কিছু করা যায় না আমি বললাম দেশে কি করবো ওখানে একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করি ভালই কামাই হয়।বাসায় টাকা পাঠাই এতে ভালই চলে যায় আমার পরিবারের। আর দেশে কি আর ভাল কাজের সুযোগ আছে।সবার কথা উপেক্ষা করেই আবার চলে আসছি ইউরোপের দেশ ইতালিতে।অতিত থেকে বাস্তবে ফিরি আসলে আমি তেমন পড়াশুনা করি নাই পরিবারের অবস্থা ভাল ছিল না।অষ্টম শেণী পাশ করেছি তারপর আর পড়াশুনা করতে পারি নি।তখন পরিস্থিতি ও অনুকুলে ছিল না।সকাল সকাল ঘুম ভেংগে যাওয়ার পর চারপাশের দিকে একটু তাকালাম।সব ফাকা অনেকদিন থেকেই সব ফাকা কাউকে বাসা থেকে বার হতে দিচ্ছে না।শুনলাম করনা ভাইরাস নামে কি জেন একটা ভাইরাসের সৃষ্টি হয়েছে।অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।ভাইরাসটা নাকি খুবই ছোয়াছে।আক্রান্ত ব্যাক্তির হাঁচি,কাশি,বাতাসের মাধ্যেমে ছড়িয়ে যায়।চীনে নাকি প্রথম ধরা পরে এই ভাইরাসটি।আর এখন শুনি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে গেছে ভাইরাসটি।ইতালিতে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এভাবে একগুয়ে জীবন কি ভাল লাগে।কাজ কাম নাই কি করে যে সময় কাটাই।বাসা থেকে ফোন করে খোজ নিচ্ছে কেমন আছি আমি।সাবধানে থাকতে বলছে বাবা মা।আমি নিজেও অনেক চিন্তায় আছি বাংলাদেশে এই ভাইরাসটা যদি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে তাইলে কি হবে।আমার দেশতো অনেক ঘনবসতি অনেক মানুষ মারা যাবে।আমার পরিবারের কি হবে।বোনটার বিয়ে হয়েছে তাও যেন পিচ্চি রয়ে গেল।খালি ফোন দিয়ে বলে ভাইয়া তুই চলে আয় তোরে অনেকদিন দেখি নাই।কিন্তু আপনারাই বলেন কিভাবে আসি আমি।আমি বাসার বর ছেলে আমার অনেক দায়িত্ব আছে।পরিবারটা কে তো আমাকেই দেখা লাগবে।বাবার ও বয়স হয়েছে কাজ কাম তো আর আগের মত করতে পারে না।পরিবারের জন্য আমি নিজেও এখনো বিয়ে করি নি।তাছাড়া করনার যে পাদুর্ভাব হয়েছে এই অবস্থায় দেশে গিয়ে দেশকে কি বিপদে ফেলব।যদি ভাইরাসটা আমার হয়ে যায়।আমি ওদের কে বলি ভাইরাস থেকে নিজেকে শুরক্ষিত রাখতে সাবান দিয়ে হাত ধুবি,লোক সমাগম এড়িয়ে চলবি,বাড়িঘর পরিষ্কার রাখবি।কিন্তু আমার বাবা মা যেন বুঝেই না বলে বাড়িতে বশে থাকা যায় কাজ কাম নাই সেগুলো কে করবে তখন একরাশ হতাশা জন্মে মনে।কি করে বোঝাই যে তোমরাই আমার সব তোমাদের কিছু হলে আমি বাচবো কি করে।কিন্তু আমি কি বাচবো সত্যি?যেই শঙ্কায় দেশে যেতে চাচ্ছিলাম না সেই ভাইরাস আজ আমার শরিরে বাসা বেধেছে।হাঁচি,কাশি ও গলা ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছি।হাসপাতালে পরিক্ষা করে আমার শরীরে করনা ভাইরাস ধরা পড়েছে।যেই বাসাতে থাকতে একগুয়ে লাগতো আর এখন আমার জায়গা হাসপাতালের বেডে। আজ দশদিন ধরে করনা ভাইরাস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।নিজেকে নিয়ে ভাবি না ভাবি হাজার মাইল দূরে থাকা আমার পরিবার টা কেমন আছে সেটা ভেবে চোখের পানি যেন আপনা আপনি গড়িয়ে পরে।এতো উন্নত দেশ তাও করনা ভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে তাইলে আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ তো অনেক গরিব দেশ কিভাবে এই ভাইরাস মোকাবেলা করবে।এই চিন্তায় দিনগুলো কেটে যাচ্ছে।কত মানুষ মরে যাচ্ছে খবর পাচ্ছি আমিও যেন মৃত্যুর দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছি।না জানি কবে বলে জীবনের প্রদিপ নিভে যায়।বাবা,মা, ভাই, বোন কে ছেড়ে চলে যাই না ফেরার দেশে।গূরত্ব দেই নি প্রথমে ভাইরাস টাকে। তাই আজ আমার এই দশা।কার থেকে যে ছড়িয়ে গেল আজও সেটা বুঝলাম না।হয়তো বা রেস্টুরেন্টে কোনো করানা আক্রান্ত রুগি ছিল তার সংস্পর্শে চলে গেছিলাম।আজ আর ভেবে কি করবো।মা একদিন ফোন দিয়েছিল হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি অনেক অনুরোধ করে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে ফোনটা ধরলাম।মা বললো কেমন আছিস সুজন।আমি বললাম ভাল আছি মা।আমার শরিরে যে একটা ভাইরাস বাসা বেধেছে সেটা বলি নাই মাকে দুশ্চিন্তা করবে বলে।তাও মা কিছুটা আন্দাজ করলো যে আমার কিছু হয়েছে।আসলে মায়ের মন তো ঠিকই আন্দাজ করে ফেলেছে।অনেক কষ্ট করে মাকে বুঝালাম যে আমি ঠিক আছি এমনি একটু শর্দি কাশি হয়েছে।অবশেষে মাকে শান্ত করতে পারলাম।ফোনে কথা শেষে ভাবলাম মা কি আদো বুঝলো নাকি এখনো চিন্তা করছে আমাকে নিয়ে।যাই হোক হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে ভাবি আবার কি কোনোদিন ফিরতে পারবো মায়ের কোলে।আমার সুজলা সুফলা বাংলাদেশে।রহিম চাচার চায়ের দোকানে বসে বন্ধুরা মিলে কি আর চা খতে পারবো।এরকম হাজারো চিন্তা নিয়ে দিন কাটছে আমার।তাই আজ অনুরোধ করে বলছি আপনারা করনা ভাইরাসটাকে গুরুত্ব দিন।এটা আলাহর দেওয়া একটা শাস্তি।সবাই লোকসমাগম এড়িয়ে চলবেন।প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হবেন না।বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখবেন।সবাই সচেতন হওয়ার চেষ্টা করেন।ভাল করে হাত ধুয়ে খাবার খাবেন।মাছ,মাংশ ভালভাবে রান্না করে খাবেন।ডাক্তারদের চোঁখ এড়িয়ে আপনাদের কিছু জানানোর জন্যই তাই লিখতে বসলাম আমার মনের মধ্যে জমে থাকা কিছু কথাগুলো।কথাগুলো বলে যেন আজ অনেক হালকা লাগছে নিজেকে।নিজেকে যেন দেশপ্রেমিক মনে হচ্ছে।মনে হচ্ছে দেশের জন্য অন্ততো কিছু তো করতে পারলাম।আরো অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু আর পারছি না গভির ঘুম যেন আমাকে ঘিরে ধরছে না জানি এটাই শেষ ঘুম কি না এই ঘুমের মাধ্যেমেই বিদায় নেই কিনা এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে।????????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মৃত্যুর পথে কিছু কথা
→ মৃত্যুর পথে কিছু কথা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now