বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসসালামু আলাইকুম।।
গল্পঃ ✌লুঙ্গি কেলেঙ্কারি ✌
লেখকঃ
------------------------------------------
একটা শার্ট এবং পেন্ট পড়ে গায়ে বসুন্ধরা মার্কেটের সেন্ট লাগিয়ে ঝাক্কাস একখান সানগ্লাস পড়ে আব্বার দোকানে যাইতাছিলাম।আব্বা আমার লুঙ্গির ব্যবসা করে।। কতবার বললাম এই লুঙ্গির ব্যবসা ছেড়ে অন্য কোন ব্র্যান্ডের ব্যবসা কর। লুঙ্গি ছেড়ে থ্রি পিছ অথবা পায়জামা পাঞ্জাবীর ব্যবসা করলেও তো মান সম্মান থাকত কিন্তু আব্বা আমার লুঙ্গি প্রিয় তাই লুঙ্গি ছাড়া অন্য কোন ব্যবসায় হাত দেয়না। এমনকি এইবারের জম্মদিনেও আব্বা আমায় কালা মানিকের লুঙগি গিফট করছে। আমার বন্ধুরা তো হাসতে হাসতে শেষ। পরে এই লুঙ্গি আমার দুলাভাইরে দিয়া দেই কারণ আমি লুঙ্গি পইড়া থাকতে পারিনা। প্যন্টেই আমার জন্য শ্রেয়।
আমি দোকানে যেয়ে পায়ের ওপর পা তুলে গরম গরম চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় আব্বা এসে আমার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে বলল————
আব্বাঃ ওই উঠ!! উঠ তুই এহানে এমন করে পায়ের ওপর পা তুলে বইসা আছছ ক্যান? আবার চা খাস চা পাতির দাম কত জানস?
আমিঃ আব্বা একখান কথা কওয়ার লাইজ্ঞা আসছিলাম।যদি অভয় দেন তাইলে বলব
আব্বাঃ এত আল্লাদ দেহাইতে হইবনা যা কওয়ার তাড়াতাড়ি কও
আমিঃ ইয়ে মানে!আব্বা আমরা বন্ধুরা ঠিক করছি পিকনিক এ যামু তাই.......
আব্বাঃ তাই কিছু টেয়া লাগব এই তো। আমার কাছে খুচরা ২০ টেয়া পইড়া আছে পারলে এইটা নিয়া যা
আমিঃ কি কও আব্বা মাএ ২০ টেয়া অন্তত ৫০০ টেয়া না নিয়া লাগ।।
আব্বাঃ দেখ্ তোগর সময় আমরা ২০ টেয়াও পাইতাম না।১০ টেয়া দিয়া বনভোজন মানে পিকনিকে যাইতাম। আমি যে বিশটা টাহা দিলাম এডাই তোর ভাগ্য বুঝলি
আমিঃ আব্বা প্লিজ অন্তত ১০০টা টাহা দেন সোনা আব্বা দিয়া দেন। দেহেন আপনি কি চান যে আপনার পোলা মাএ ২০ টাহা নিয়া পিকনিকে যাইয়া মান সম্মান ডুবাইব তাই দিয়া দেন বাপ প্লিইইইজ
আব্বাঃ দিমু তয় এক শর্ত আছে?
আমিঃ কি শর্ত?
আব্বাঃ পিকনিকে তুই লুঙ্গি পইড়া যাবি
আমিঃ এ্যাএ্যাএ্যা!! লুঙ্গি
আব্বাঃ হ তুই যদি লুঙ্গি পইড়া যাস তাইলে তোরে ১০০ না ৫০০ টাহা দিমু বুঝলি আমার পোলা
কি আর করার পিকনিকে যাইতে টাকা নিতে হইলে শর্ত তো মানতেই হইব।
রাএে শুইয়া শুইয়া মোবাইলে ফেসবুকে চ্যাট করতাছিলাম।এমন সময় আব্বা ঘরে কাশি দিতে দিতে আসল। আমায় দেখে বলল, বাবা কুদ্দুস আমার কাছে আসতো ইকটু কথা আছে তোমার লগে।
আমিঃ জ্বি আব্বা বলেন
আব্বাঃ তুই বরাবরই লুঙ্গির বিরোধিতা করস কিন্তু তুই কি জানস লুঙ্গি কি জিনিস?
আমিঃ আরে আব্বা এইডা কোন কথা হইল ওই ঢোলাঢালা মতো যে পড়ে দুই দিক সমান। হেইডাইতো লুঙ্গি। লুঙ্গি পড়তে তেমন কোন অসুবিধা নাই দুইদিক সমান। আব্বা আমি ঠিক কইছিনা।
আব্বাঃ হতচ্ছাড়া লুঙ্গির সম্পর্কে দেহি তোর কোন জ্ঞানই নাই অবশ্য থাকব কি কইরা তুই তো লুঙ্গি পরওসিইনা। শোন লুঙ্গি আমগর গর্ব লুঙ্গি ছাড়া আমগর বাঙালী পুরুষ জাতি রে কেমন জানি খালি খালি লাগে।
আমিঃ
আব্বাঃ আমি তোর মায়েরে লুঙ্গি পইরাই বিয়া করছিলাম।এই লুঙ্গির জন্যই তোর মা আমারে পছন্দ করছিল আমার বাপ দাদারা ওই লুঙ্গি পইরাই মুক্তিযুদ্ধ করছিল
আমিঃ
আব্বাঃ আমি তোরে লুঙ্গির ইতিহাসটা কইতে পারতাম কিন্তু এহন নয়টা বাজে আরেকটু পর চ্যানেল আই-এ মোশারফ করিমের ফাটাফাটি নাটক দিব। তাই আর কইতে পারলাম না। আমি গেলাম বিষয়টা ভেবে দেখিস।
আমার মাথা ঘুরতাছে লুঙ্গি আমগর গর্ব গুগুলে যাইয়া লুঙগি সম্পর্কে জানতে হইব। তাড়াতাড়ি কইরা গুগুলে সার্চ দিয়া জানলাম।বাহ!বাব্বাহ লুঙ্গি তো আসলেই আমগর বাঙালি পুরুষগর গর্ব। এহন থেইক্কা তাইলে লুঙ্গি পড়া শুরু করমু। আমি আব্বার দোকান থেকে ২০টা লুঙ্গি নিয়া আসলাম সব লুঙ্গি পড়লাম পইড়া লুঙ্গি ডান্স দিলাম।আর লুঙ্গি পইড়া রাএে ঘুমানোর সময় অনেক আরাম আছে লুঙ্গি প্যন্টের মতো টাইট না। পুরাই ঢোলাঢালা।ইশশশশ! আগে যে কি লাইজ্ঞা লুঙ্গিরে অপছন্দ করতাম। আস্তে আস্তে লুঙ্গির সাথে আমার গভীর সম্পর্ক হয় এহন বন্ধু রা আমারে লুঙ্গি ভাই বইল্লা ডাকে।দিন যাইতে থাকে পিকনিকের সময় হয়ে যায়। আমি এই লুঙ্গি পইড়াই গাড়িতে উঠলাম। অবশ্য আমারে নিয়াইকটু হাসাহাসি হইছিল কিন্তু আমি তোয়াক্কা করিনাই।লুঙগি পইড়া যাইতে যাইতে একটা গান গাইতাছিলাম।গানটা হইল·–··–· "সাধের লুঙ্গি বানাইলো মোরে বৈরাগী ও সাধের লুঙ্গি বানাইল মোরে বৈরাগী। লুঙ্গির সামনের দিল দেখিলাম পিছনের দিক দেখিলাম লুঙ্গিরে বানাইলাম ডুগডুগি হায়রে লুঙ্গিরে বানাইলাম ডুগডুগি। সাধের লুঙগি বানাইলো মোরে বৈরাগী..........।।এভাবে পিকনিকে পৌঁছানোর পর একদিন এক রমনীকে দেখে আমার হার্টবিট বাড়তে থাকল। এতদিন প্যান্ট শার্ট পইড়া কতজনরে প্রপোজ করছিলাম কিন্তু কাজ হয়নাই দেখি লুঙ্গি পইড়া যদি কিছু হয়।। তাই ঠিক করলাম কালই একটা গোলাপ নিয়া তার কাছে যাব। যেইভাবা সেই কাজ দোকান থেইক্কা শাহ আমানতের লুঙ্গি কিনি।দোকানদাররে বারবার বলতাছিলাম ভালো মানের লুঙগি যেন হয় ।দোকানদার বারবার বলছিল, এইটা নিয়া যায় ১০০%খাটি লুঙ্গি কোন ভেজাল নাই।আমি সেই অনুযায়ী নিয়ে নেই।
আমার পরিকল্পনা ছিল আমি দৌড়ে এসে তাকে গোলাপ আর চিরকুট দিব কারণ এরকম স্টাইলে হিরো হিরো লাগে।কিন্তু এই পরিকল্পনা যে আমার কাল হবে তা কে জানত।
------ আমি আড়াল থেকে দেখি সে বসে বসে ফুল গুনছে মনে করেছিলাম নিশ্চই ফ্রেশ মাইন্ডে আছে তাই দৌড়ে এসে তাকে গোলাপ আর হাতে চিরকুট দিয়ে বললাম,,,,এক বিন্দু ভালোবাসা দেও মুই এক সিন্ধু হৃদয় দিমু।মনে প্রাণে আছ তুমি চিরদিনই মুই তোমার রব। দেখি রমনী হা হা হা করে হাসতাছে মনে করছিলাম আমার স্টাইলে খুশি হয়ে হাসছে কিন্তু সে হাত দিয়ে আমার লুঙ্গির দিকে তাকাইতে বলল যেই আমি লুঙ্গির দিকে দেখলাম সেই আমার চক্ষু চড়াক গাছ আমার লুঙ্গি নিজের জায়গায় নাই সে রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমি ঝাপসা চোখে দেখছি আমার মান সম্মান সব কিছু রাস্তায় হাডুডু খেলছে তাই মান সম্মান একটা একটা করে উঠিয়ে কাদঁতে কাদঁতে দিলাম ভো দৌড়। কি লজ্জ কি লজ্জা.................................................
[ বিঃদ্রঃ গল্পটি পুরাই অশুদ্ধ ভাষায় লিখা। আর কেউ এই গল্প সিরিয়াসলি নিবেন না কারণ এটা পুরাই কাল্পনিক। যদি সিরিয়াসলি নেন তাহলে তাকে একটা ছেড়া লুঙ্গি গিফট করা হবে
আর গল্প টি পড়তে নিশ্চই অনেক অনেক অনেক অনেক এনার্জি খরচ হইছে তাই সকলে বাড়িত যাইয়া নাকে তেল দিয়া ঘুমান]
★★★★★★★আল্লাহ হাফেজ★★★★★★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now