বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সংক্রমন-০৩

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তিন সেদিন রাতে আমাকে এটুকুই বলেছিলেন তোমার মা।হ্যা লিন্ডা, তুমিই জেনিফার বেনেটের ৩য় সন্তান অ্যনা।তোমার মায়ের অনুরোধে আর তোমাকে বাচানোর জন্য তোমার মাকে পাগল সাজিয়ে একঘরে করে রাখি আমি। যাতে তোমার মায়ের শরীরে তোমার উপস্থিতি কেউ জানতে না পারে।বিশেষত তোমার বাবা।তোমার জন্মলগ্ন যখন আসন্ন তখন একরাতে তোমার মাকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আসি আমি।শহর থেকে দুরে এক চার্চে তোমার জন্ম হয়।তোমার মার সাথে বড়জোর মাস দুই থাকতে পেরেছিলে তুমি।তোমাকে চার্চের আশ্রমে রেখে তোমার মাকে নিয়ে আবার জেনিথবার্গ ফিরি আমি। তোমার মা নিজের জীবন নিয়ে সন্দিহান থাকলেও ঐ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার একমাত্র কারন ছিল তোমার বাবার শয়তান হওয়ার স্বপ্ন ভন্ডুল করা।বাড়ি ফিরে তোমার মা সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। কিন্তু অশুভ কিছু একটার অপেক্ষা ছিল আমাদের দুজনেরই।তবে বেশি অপেক্ষা করতে হলো না।একরাতে বাড়ি থেকে উধাও হলেন তোমার মা আর বাবা।আমার বুঝতে বাকী রইল না কি ঘটেছে।একবার ভাবলাম তোমার বাবার মুখোশ উন্মোচন করবো আমি,কিন্তু সেই সময়টা পেলাম না।সবাই সন্দেহের তীর আমার উপর ছুড়লো।ঐ মুহুর্তে নিজের ছেলের জীবন বাচাতে পালানো ছাড়া উপায় ছিল না আমার। মাস চারেক পর বাড়ীটা নিলামে বেচে দিল সরকার। ব্যবসায়ী জন মিল্টন ও তার স্ত্রীর কাছে। কিছু দিন পর তারাও নিখোজ হলেন ।সব খবরই পাচ্ছিলাম আমি ।সবাই ধরে নিল বাড়িটা শয়তানের নজরে আছে ।শুধু আমি জানতাম কি ঘটছে সেখানে ।বেশ কিছুদিন পর সবার অলক্ষ্যে রাতের অন্ধকারে ঐ বাড়ীতে ফিরি আমি।তোমার মায়ের প্রতি আনুগত্যই জীবন বাজি রেখে ঐ শয়তানের প্রাসাদে ফিরতে বাধ্য করেছিল আমায়।তোমার মায়ের বর্ননা অনুযায়ী শোবার ঘরের বড় আয়নাটা ঠেলে বেসমেন্টে নামি আমি।তোমার মা এর বর্ননা অনুযায়ী দেয়ালের ছবি এবং বেদী টা চোখে পড়ে আমার তারসাথে সেই কালো ডায়রীটাও।তোমার মায়ের পরিনতি জানতেই ডায়রীটা খুলে পড়তে থাকি আমি।কিন্তু শেষের দিকের লেখাগুলো ফ্রেড্রিকের ছিল না।ফ্রেড্রিক তোমার মা এবং ব্যবসায়ী জন দম্পত্তিকে খুন করেনি বরং ফ্রেড্রিককেই খুন করা হয়েছে।ফ্রেড্রিককে হত্যাকারীই জন দম্পত্তিকে হত্যা করেছে।আর এই হত্যাকারী আর কেউ নয়,তোমার মা জেনিফার বেনেট! লেখাগুলোর শেষে তোমার মায়ের সিগনেচার দেখে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।বুঝতে বাকি রইল না যে,শয়তানি শক্তির আরাধনা করতে তোমার বাবা তোমার দুই বোন কে হত্যা করেছিল এবং তোমার মাকে হত্যা করতে চেয়েছিল,নিজের জীবন বাচাতে গিয়ে তোমার বাবাকে হত্যা করার পর সেই শয়তানি শক্তির লোভ তোমার মাকেও পেয়ে বসে ।হ্যা আত্মরক্ষা করতেই তোমার বাবাকে খুন করতে হয়েছিল তোমার মায়ের,কিন্তু খুন করার পর তোমার মায়ের মধ্যে থাকা শয়তানের নজর পড়ে তোমার বাবার বৃদ্ধাঙুলির উপর ।ততক্ষনে আরাধ্য ৬ টি হাড়ের মধ্য ৫ টি পেয়ে গেছে তোমার মা ।আমি ভয় যতটা পেয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম ।এবং এই বাড়ীতে আমার পরিনতি আন্দাজ করতে পারছিলাম। যদিও তোমার মাকে ওখানে তখনও দেখতে পাইনি আমি।ঠিক তখনই বেসমেন্টের ডালাটা খোলার আওয়াজ পেলাম আমি।কিছুক্ষনের মধ্যেই তোমার মা জেনিফারকে দেখতে পেলাম সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে।ও বললো ,‘কেমন আছো মারিয়া? আমাকে জীবিত দেখে অবাক হচ্ছো নিশ্চয়?’ জেনিফারের চোখেমুখে ক্রুর হাসির প্রচ্ছন্ন ঝিলিক আমাকে বলে দিল ও এখন আর আমার দেখা সেই জেনিফার নেই ।ও এখন লুসিফারের দাসী । আমি বললাম ‘বাহ জেনিফার। মানুষ থেকে পিশাচ হয়ে গেছ তুমি।৫ টা হাড় তো পেয়েই গেছো।’ হাসতে হাসতে জেনিফার আমার দিকে এগোতে থাকলো আর বললো ‘উহু! ছয়টাই ।বুড়ো আঙুল তো তোমারও আছে,তাইনা,মারিয়া?’ বলতে বলতেই ও দেয়ালে হেলান দেয়া মাটি কাটা বেলচাটা তুলে নিলো । কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি নিজের মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখতে পেলাম।জেনিফার কাছে আসতেই নির্দয়ের মত আমার হাতের লন্ঠনটা আছড়ে ফেললাম ওর মাথায়। লন্ঠন নিভে গেল আর সাথে সাথে তীব্র অন্ধকারে মিশে গেল জেনিফারের কর্কশ চিত্কার।হ্যা অ্যনা.তোমার মা’কে মারতে হয়েছিল আমার। ঐঘর থেকে হাড়ের পুটলী আর কালো ডায়রীটা উদ্ধার করে নিয়ে চলে আসি আমি। তোমার বাবার হাতে তোমার দুই বোন হত্যা,তোমার মায়ের হাতে তোমার বাবা এবং ব্যবসায়ী দম্পতি হত্যা এবং পরবর্তীতে আমাকে হত্যা করার চেষ্টার মধ্যে দিয়ে শয়তানী শক্তি সাধনা করার যে ধারা চলে আসছিল তা আমি ঐ বাড়িতেই শেষ করে দিয়ে এসেছি ভেবে স্বস্তি পেয়েছিলাম।কিন্তু বুঝতে পারিনি শয়তান এসেছিল আমার সাথেই।ঐ কালো ডায়রী আর হাড়ের পুটলিটাতে।পনের বছর বয়সে আমার ছেলে লিও লুকিয়ে রাখা ঐ কালো ডায়রী আর হাড়ের পুটলীটা নিয়ে বাড়ি ছাড়ে।এতদিন তার কোন খোজ পাইনি আমি।ধরে নিয়েছিলাম,শয়তানি শক্তির মোহ তাকেও পেয়ে বসেছে।বয়স হয়েছে আমার। বাঁচবোনা বেশিদিন।জীবনের শেষ দিকে এসে তোমাকে দেখতে খুবই ইচ্ছা হলো।তোমার খোঁজে সেই আশ্রমে গেলাম আমি।শুনলাম অনেক আগেই আশ্রম থেকে চলে গেছ তুমি জীবনটা তৈরী করতে। বিয়েও করেছো এবং স্বামীকে নিয়ে আশ্রমে বেড়াতে এসেছিল ক’দিন আগে । তোমার আর তোমার স্বামীর ছবি দেখলাম আশ্রমের ফাদারের কাছে। আমার ১৫ বছরের লিও ২৫ বছরের টগবগে যুবক এবং তোমার স্বামী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তোমার পাশে।চিনতে ভুল হয়নি আমার।হ্যা অ্যনা ভাগ্যের ফেরে আমার ছেলে লিও আজ তোমার স্বামী।আমি বুড়ো হয়েছি,মা।মরন শয্যায় শুয়ে তোমাকে সবকিছু জানানোর প্রয়োজন বোধ করলাম।অ্যনা,লিও যদি ওর কাঙ্খিত ৬ নম্বর হাড়টা আজও পেয়ে না থাকে তবে তোমার বুড়ো আঙুলের উপর ওর নজর পড়েছে হয়তো। ঈশ্বরই শয়তানের বিনাসকারী,মা।তার উপর বিশ্বাস রেখে যা ঠিক মনে হয় করো মা।সাবধানে থেকো।ঈশ্বর তোমার সাথে থাকুন। -মারিয়া লরেন্স


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now