বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:::ভূতুরে MH2
খাবিবের পূর্বপরুষরাও এই চা বাগানের মালিক ছিল,তার দাদার বাবার নাম ছিল শওকত ওসমান,তিনি ছিলেন ইংরেজদের একজন জমিদার তুল্য ব্যাক্তি,ফলে ইংরেজদের কাছ থেকে বহু সম্পদ লাভ করেছিলেন তিনি।তিনি ছিলেন কিছুটা স্বার্থপর টাইপের,তার মতে তার সম্পত্তি তারই পাওয়া উচিৎ।তাই তিনি ভাবতেন সবসময় কী করে তার সম্পদ তার নিজেরই থাকবে।তার সবসময় এই চিন্তাই থাকত।
একদিন এক তান্ত্রিক আসল,সে তাকে পরামর্শ দিল যে যদি কোনো মেয়েকে তার ওই ঘরের নিচের কক্ষে রাখা হয়,সাথে সব সম্পদ রাখা হয় তারপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়,তাহলে ওই মেয়েটা ওইখানে মারা যাবে আর তার আত্মা এইসব সম্পদ পাহাড়া দিবে।শওকত ওসমানও রাজি হয়ে গেলেন,এক চা বাগানের কর্মচারীর মেয়েকে ধরে তিনি বন্দী করে রাখলেন।তান্ত্রিক তার মন্ত্র শুরু করল,তখন ওই মেয়েটা চিৎকার করে তাকে অভিশাপ দিচ্ছিল,ওই ঘরের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় যক্ষের ধন।
শওকত ওসমান এখন নিশ্চিন্ত,তার সম্পদ তারই থাকবে।কিন্তু কয়েকদিন পর যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন,তখন তিনি অনেক দুঃস্বপ্ন দেখতেন,তিনি দেখতেন একজন লোক কবর খুড়ছে,আর একজন ভয়ঙ্কর দর্শন মহিলা তাকে বলছে ওই কবরটা তোমার।তিনি ধরফর করে ঘুম থেকে উঠতেন।তারপর তিনি দেখতেন ওই মেয়েটি(যাকে বন্দি করা হয়েছিল) তার মাথার কাছে দাড়িয়ে আছে,আর তারদিকে অপলক চোখে তাকিয়ে আছে।তখন তিনি চিৎকার দিতে চাইতেন,কিন্তু পারতেন না।কেউ একজন তার পা আচড়ে দিত,তার সমস্ত গায়ে কিলবিল করত কী যেন একটা কিছু(একবার ভাবুন আপনার কেমন লাগত)।
কয়েকদিন পর,,,
শওকত ওসমান আজ ঘুমাতে গেলেন,তার বউ বাপের বাড়ি বেড়াতে গেছে,তাই একা একাই শুলেন।রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন,ওই ভয়ঙ্কর মহিলাটি বলছে আজই তোমার এখানে কবর হবে,তারপর তাকে ধাক্কা দিয়ে কবরে ফেলে দেওয়া হয়,মাটিচাপা দিতে শুরু করে সবাই।ওই মেয়েটাও এখানে আছে।তার দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে।হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে যায়।তিনি দেখেন সেই মেয়েটা যাকে তিনি জ্যান্ত বন্দি করে ফেলেছিলেন সেই মেয়ে তার উপর ঝুকে আছে।তারসারা শরীরে কিছু একটা কিলবিল করছে।তিনি চিৎকার করতে চাইছেন,কিন্তু পারছেন না।ওই মেয়েটা তার গলা চেপে ধরল,সাথে কেউ তার পা আচড়ে দিতে থাকল,তিনি ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত পা ছুড়তে চাইলেন কিন্তু পারছেন না।ওইমেয়েটা মুখে একটা নিষ্ঠুর হাসি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে,আস্তে আস্তে গলার চাপটা বাড়ছে,দম বন্ধ হয়ে আসছে,চোখে সব ঝাপসা ভাসছে,তারপর,,,,,,,,,,,,,,
সকালে সকলে এসে দেখলেন শওকত ওসমান মারা গেছেন,তার পা বেয়ে রক্ত বের হচ্ছে,চোখটা কেউ থেতলে দিয়েছে,মুখটা কেঁটে ফেলেছে,গলায় কারো টিপ দিয়ে ধরার চিহ্ন।(আপনি কল্পনা করুন এমন একটা লাশ আপনার সামনে আছে,কী হবে আপনার অনুভূতি)।
সকলে তার কবর দিয়ে দিল।
এখন সকলের স্বপ্নেই এই ঘটনা আসছে,সকলে ওই ভয়টা পাচ্ছে।তখন খাবিবের দাদা এক হুজুকে আনলেন,তিনি বললেন তিনি ওই বন্ধ দরজার উপর একটা পাথর চাপা দিবেন।কেউ যেন তা না সরায়,আর তাদের এই বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।কথামতো তাই হলো,তার দাদা একটা আলাদা বাড়ি বানালেন।সেখানে চলে গেলেন।
তার দাদার সময় চলে গেল।তার বাবার সময় যখন আসল,চা বাগানের পরিধি আরও বাড়ল,ওই পুরোনো বাড়ি ঘিরে চা বাগান সৃষ্টি হল।কিন্তু যারাই ওই বাড়ির কাছে চা তুলতে যেত তারাই ওই জায়গায় একটা মেয়েকে কান্না করতে দেখত।তাছাড়া ওই বাড়িতে জুজু থাকে বলেও গুজব ওঠল,তখন তার বাবা ঢাকায় চলে আসেন তার পরিবার নিয়ে,মাঝেমাঝে চা বাগানে গিয়ে তার অবস্থা আয় ব্যায় পর্যবেক্ষণ করতেন।খাবিবও তাই করত।
এখন সবাই ভাবছে ওই বাড়ির মনে হয় পাথরটা সরে গেছে অথবা জুজু ছাড়া পেয়েছে,সেই ওই মেয়েটাকে নিয়ে গেছে।
[ যারা প্রথম পর্বটা পড়েন নি তারা কিছুই বুঝবেন না,তাই আমার নামে ক্লিক করে পড়ে নিন।আর গল্পটা কেমন লাগল অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।ভালো থাকুন এবং অন্যকেও ভালো রাখুন]
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now