বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পৃথিবীর সিংহাসন

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (০ পয়েন্ট)

X পৃথিবীর সিংহাসন শায়েখ মূসা জিবরীল বলেছিলেন, "যে জেরুজালেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।" উক্তিটা আরেকবার পড়ুন। এই বাক্যটি জেরুজালেমের ব্যাপারে আমাকে নতুন ভাবে ভাবতে উৎসাহিত করেছে। এ কয়দিনে মোটামুটি যা দাঁড় করালাম, সেগুলোই "জেরুজালেম; বিশ্বপরিচালনার জাদুরকাঠি" প্লাটফর্মে আপনাদের সাথে আলোচনা করার ইচ্ছাপোষণ করছি। গতানুগতিক ইতিহাসের কচকচানি শোনার ধৈর্য্য না থাকলে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। আগ্রহ থাকলে স্বাগত জানাচ্ছি। লেখাটা অপেক্ষাকৃত বড় বলে ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করবো ইনশাআল্লাহ। কয়েক পর্ব লাগতে পারে। পৃথিবীর সিংহাসন - ১ম পর্বঃ জেরুজালেম পবিত্র নগরী এটা যেমন সত্য, একইসাথে অভিশপ্ত নগরী বললেও ভুল হবে না। শহরটির গুরুত্ব বর্ণনায় একটি বাক্যই যথেষ্ট। আর তা হচ্ছে - "জেরুজালেম যার হাতের মুঠোয়, পৃথিবী তার আঙুলের ইশারায় নাচবে।" আজকের দিনে পৃথিবীর সামষ্টিক জনসংখ্যার এক চিমটি ইহুদিদের দুনিয়া কাঁপানো দাপট আর তাদের সুক্ষ্ম চালের নাগপাশে আটকে যাওয়া অসহায় পরাশক্তিগুলোকে দেখে অবাক হই। ৬০-৭০ বছর আগে যাদের পায়ে জুতা অবধি ছিলো না। কিসের জোরে। দুনিয়ায় ইতিহাসের পাতা কেটে ছিঁড়ে নিজের নাম খোদাই করা বিশ্বজয়ীরা এই ছোট্ট শহরটাকে দাঁত কামড়ে ধরে রাখতো কেন? কেন পৃথিবীর প্রসিদ্ধ তাবত ধর্মগুলো এটাকে নিজের অধিকার বলে দাবি করে? এখন পর্যন্ত পুরো পৃথিবী শাসন করেছে এমন চারজন সম্রাটের ব্যাপারে জানা যায়। দু'জন ন্যায়পরায়ণ। আর দু'জন অত্যাচারী। ন্যায়পরায়ণ দু'জন হলেন সম্রাট সলোমন (হজরত সুলাইমান আঃ) ও সিকান্দার জুলকারনাইন (আলেকজান্ডারঃ বিতর্ক আছে)। আর অত্যাচারী দু'জনের একজন হলো বাবেল সম্রাট নমরুদ। আরেকজন হলো বখতে নসর (নেবুচাঁদনেজার)। সেও বেবিলনের সম্রাট ছিলো। এদের মধ্যে নমরুদের শাসনামল জেরুজালেমের উৎপত্তির অনেক আগে। বাকি তিনজনই তাঁদের দিগ্বিজয়ী ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময় জেরুজালেমের পেছনে ব্যয় করেছেন। এছাড়াও হাজার হাজার বছর ধরে সকল পরাশক্তি, বিজেতা ও সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে জেরুজালেম যেন এক স্বপ্নের শহর। কেন? এর উত্তর একটাই। "বাইতুল মুকাদ্দাস - দুনিয়ার সিংহাসন।" পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে যেটা হাইকাল (টেম্পল) নামে উল্লিখিত হয়েছে। উৎপত্তিঃ মহাপ্লাবনের কিছু পরের কথা। নুহ (আ.) এর এক নাতি কান'আন বিন হাম বিন নুহ এই অঞ্চলে বাস করতে শুরু করেন। তাঁর নাম অনুসারে উক্ত অঞ্চলকে 'কেনান'(বর্তমান প্যালেস্টাইন) নামে ডাকা হতো। এই এলাকাতেই ইব্রাহীম (আ.) ইসমাঈল (আ.) কে কোরবানি দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। ইসহাক (আ.) এখানে নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করেন। ইসহাক (আ.)এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াকুব (আ.) তাঁর নবুওয়াতি এলাকা ফাদ্দান থেকে কেনানে হিজরত করেন। ইয়াকুব (আ.) এর অন্য নাম "ইসরাঈল (আ.)"। তাঁর বংশধরদের বনী ইসরাঈল নামে ডাকা হয়। ইয়াকুব (আ.) এর পুত্র ইউসুফ (আ.) বাল্যকালে তাঁর ভাইদের ষড়যন্ত্রে মিশরে দাস হিসেবে বিক্রি হন। পরবর্তী সময় সম্রাট দ্বিতীয় আমেনহোতেপের রাজত্বকালে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি ফারাও সাম্রাজ্যের আজিজে মিশর হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। সে ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতাকে মিশরে আমন্ত্রণ জানালে বনী ইসরাঈল মিশরে হিজরত করে এবং স্থায়ী বসতি স্থাপন করে বিস্তার ও ক্ষমতা লাভ করতে থাকে। মিশরে অনেক উত্থান পতনের পর সম্রাট দ্বিতীয় রামেসিসের(ওয়ালিদ ইবনে মুসআব) সময় হযরত মুসা (আ.) এর হাত ধরে ইসরাঈলী ১২টি গোত্রের লোহিত সাগর পার হয়ে মিশর থেকে প্রস্থান করা আর তাদের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে সম্রাট রামেসিসের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা আমরা জানি। কিবতি ফারাওদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েই তারা গো-বৎস পূজা, অকৃতজ্ঞতা, অবিশ্বাস ইত্যাদি নাফরমানীতে লিপ্ত হলে স্রষ্টার ক্রোধে অসংখ্য ইসরাঈলী ধ্বংস হয়। মুসা (আ.) এদের নিয়ে ৪০ বছর মরুভূমিতে(তীহ প্রান্তর) উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ান। অবশেষে এই গোত্রগুলো তাদের পূর্ববর্তী আবাসভূমি সিরিয়ার নিকটবর্তী কেনানে এসে পৌঁছায় এবং এই অঞ্চলের আশেপাশে বসতি স্থাপন করে। এখানে তারা বংশ বৃদ্ধি করে এবং সমৃদ্ধ একটি নগর তৈরি করতে সচেষ্ট হয়। এটিই জেরুজালেম। নতুন সমৃদ্ধ নগর অথচ সামরিক ক্ষেত্রে দুর্বল, এটা বাবেল রাজ জালুতকে প্রলুব্ধ করেছিলো। সে জেরুজালেমের উপর উপর্যুপরি আক্রমণ ও লুটতরাজ করতে থাকে। ইসরাঈলীগণ তখনকার নবী হিযকিল (আ.) এর কাছে একজন সেনাপ্রধানের আবদার করলে তিনি তালুত নামক এক ব্যক্তিকে নির্বাচন করে দিলেন। সেই বাহিনীর সবচেয়ে অল্পবয়সী সেনাটি ছিলেন পরবর্তী আল্লাহর পয়গম্বর হযরত দাউদ (আ.) (প্রফেট ডেভিড)। সেনাপতি তালুতের নেতৃত্বে লক্ষাধিক ইসরাঈলী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেও নানা অজুহাতে পিছু হটতে শুরু করে। অবশেষে সৈন্যসংখ্যা এসে ঠেকলো মাত্র ৩১৩ জনে। হিযকিল (আ.) এর পরামর্শে শিশু দাউদ স্বয়ং সম্রাট জালুতকে কিছু শর্তসাপেক্ষে মল্লযুদ্ধে আমন্ত্রণ জানিয়ে বসেন। সম্রাট জালুত মল্লযুদ্ধে দাউদের কাছে পরাজিত হলে শর্তানুযায়ী তার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং তার রাজত্বের বড় একটা অংশ দাউদ (আ.) এর হস্তগত হয়। এর মাধ্যমে দাউদ (আ.) বনী ইসরাঈলের নেতৃত্ব লাভ করলেন আর ইহুদিগণও পুনরায় রাজত্ব ও নেতৃত্বের স্বাদ পেলো। দাউদ (আ.) ধারাবাহিক যুদ্ধের মাধ্যমে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন এবং দীর্ঘদিন রাজত্ব করেন। তিনি আল্লাহর আদেশে বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সারাজীবন কেটেছে যুদ্ধের ময়দানে। সময় স্বল্পতার কারণে তিনি শুধু একটি তম্বু (গম্বুজ) নির্মাণের মাধ্যমে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তাঁর পুত্র ভাবিসম্রাট সুলাইমান (আ.) কে হাইকাল (বাইতুল মুকাদ্দাসকে পুর্ববর্তী কিতাব ও ইতিহাসবিদগণ এই নামে ডেকেছেন) নির্মাণের আদেশ দিয়ে যান। সুলাইমান (আ.) আল্লাহর ইচ্ছায় পৃথিবীর সমস্ত মানুষ ও প্রাণিকুলের উপর ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই তিনি হাইকাল নির্মাণে হাত দেন। খ্রীস্টপূর্ব ৯৫৭ সালে এর কাজ শেষ হয়। পৃথিবীতে মানুষ আগমনের তখন ৩১১০ বছর... (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পৃথিবীর সিংহাসন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now