বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি বালক ও একটি আপেল গাছ

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD RABIUL ISLAM RABIN(guest) (০ পয়েন্ট)

X অনেক অনেক দিন আগে একটি বড় আপেল গাছ ছিল। একটি বালককে গাছটি খুব পছন্দ করতো।বালকটিও প্রতিদিন এসে গাছের চারপাশে খেলতো। গাছের ডালে উঠতো। আপেল খেতো। গাছের গুঁড়িতে শুয়ে তার ছায়ায় বিশ্রাম নিত।সেও গাছটিকে খুব ভালোবাসতো আর আপেল গাছটিও এতে খুব আনন্দ পেত।সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু অনেক দিন আর বালক গাছের নিচে খেলতে আসে না। একদিন হঠাৎ বালকটি আবার কাছে ফিরে এল। গাছটি বললো তুমি আবার ফিরে আসায় আমি খুব আনন্দিত।এসো আবার খেলা শুরু করো। কিন্তু বালকটি শুধালো , আমি এখন আর আগের বালকটি নেই। এখন আমি আর গাছের গুঁড়িতে দৌড়াদৌড়ি করে খেলা করিনা।আমার এখন খেলনা চাই, কিন্তু খেলনা কিনতে টাকা প্রয়োজন। গাছটি বললো কিন্তু আমার কাছে তো টাকা নেই। তুমি চাইলে আমার সকল আপেল পেড়ে বাজারে বিক্রি করে টাকা যোগাড় করতে পার। কথাটি বালকটির মনপুত হলো।সে সব আপেল গাছ থেকে পেড়ে ব‍্যাগে করে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বালকটি খুব আনন্দিত এবং বালকের আনন্দ দেখে গাছটি খুব তৃপ্ত ও আনন্দিত হলো। আপেল পেরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক দিন আর বালকের দেখা নেই সেই আপেল গাছের গোড়ায়।গাছটি খুব দুঃখ পেল। হঠাৎ একদিন বালকটি গাছের কাছে ফিরে এল ততদিনে সে পরিপূর্ণ যুবক। গাছটি তাতে খুব আনন্দিত।।বালকটিকে আবারো গাছের সাথে খেলতে অনুরোধ করলো সে ।। কিন্তু বালকটি জানালো, এখন আর তার সময় নেই সে এখন অনেক ব‍্যাস্ত। এখন তার বাড়ি বানানো খুবই দরকার।এজন্য গাছটির সাহায্য চাইলো,,,,,,, কিন্তু গাছটি জানালো তার কোনো বাড়ি নেই তাই তাকে সাহায্য করতে পারছে না ।তবে একটা বুদ্ধি দিলো তুমি চাইলে আমার কিছু ডাল.পালা কেটে নিয়ে যেত পারো আর তা দিয়ে বাড়ি বানাতে পার।। বালকটি তখন গাছের সকল ডাল,পালা কেটে নিয়ে হাসি মুখে বাড়ি অভিমুখে চলে গেলো পিছন ফিরে একবারও গাছটির দিকে তাকালো না। বালকটির আনন্দে গাছটিও খুব আনন্দিত ছিল।এর পর অনেক দিন বালকটির দেখা নেই গাছের গোড়ায়।গাছটি আবারো একা হয়ে গেল অনেক দিন পরে, হঠাৎ একদিন তপ্ত দুপুরে গাছের গোড়ায় বালকটির আগমন,ততদিনে তার যৌবন পড়তির দিকে। জীবনের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত তখন। গাছটি বালককে দেখে খুব খুশি হলো,আবার তার সাথে খেলার অনুরোধ করলো ।। কিন্তু বালকটি জানালো,``আমার এখন আর খেলার বয়স নেই । আমি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি । জীবন যুদ্ধে লড়তে লড়তে আজ আমি ক্লান্ত । আমাকে এখন আনন্দের জন্য, ক্লান্তি কাটাতে নদিতে মাছ ধরতে যেতে হবে। আমার কোনো নৌকা নেই তুমি কি আমাকে কোন সহায়তা করতে পারো ।। তুমি চাইলে আমার গুড়ি কেটে নিয়ে যেতে পারো এবং এটা দিয়ে নৌকা বানিয়ে নিতে পারো``। গাছের এমন পরামর্শে বালকটির চোখে মুখে আনন্দের শিহরণ খেলে গেলো।‌। সে তৎক্ষণাৎ কুড়াল দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে নিয়ে গেল এবং নৌকা বানিয়ে নদিতে চলে গেল মাছ শিকারে। অনেক দিন আর দেখা নেই এখানে। হঠাৎ অনেক দিন পর শেষ পর্যন্ত গাছের কাছে ফিরে এল লোকটি । ততদিনে সে জীবন সীমার শেষ প্রান্তে। কিন্তু গাছটি শুধালো দুঃখিত বালক। আমার কাছে এখন তোমাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই ।। কোন আপেল নেই..........'''''---- বৃদ্ধ হাসলো এবং বললো```,, আমার এখন আপেল খাওয়ার মতো দাঁত ও নেই।।। কোন ডাল পালা বা গুঁড়ি নেই যেখানে তুমি চড়বে ।। এখন গাছের ডালে চড়ার মতো ও এখন আমার নেই । সত‍্যিই এখন তোমাকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই । শুধু মৃতপ্রায় মুল গুলো ছাড়া___গাছটি বললো আমার শুধু বিশ্রাম নেওয়ার মতো একটা যায়গা চাই যেখানে বসে আমি আমার যতগুলো বছরের পাওয়া না পাওয়ার হিসাব একটু মেলাবো___বৃদ্ধটি বললো । তাহলে মৃতপ্রায় গাছের মূলই এর জন্য আদর্শ যায়গা ।এখানে বসো আর ভাবো জীবন তোমাকে কি দিয়েছে আর কি দেয়নি,কিকরা উচিত ছিল আর কিকরা ঠিক হয়নি____গাছটি বললো। লোকটি গাছের মুলে বসলো আর গাছটির অনেক আনন্দ হলো। আনন্দ গাছের কান্না হয়ে ঝরে পরলো ।। শিক্ষা,,,,, আমাদের প্রত্যেকের জিবনে এমন একটি আপেল কাছ আছে আর তারা হলো আমাদের পিতা-মাতা। এবার গাছটির ত‍্যাগ গুলোর সাথে আমাদের বাবা-মাকে মিলিয়ে দেখুন । আপনি কতটা ব‍্যাস্ত সেটা কোন কথা নয়,, বরং বাবা মায়ের সাথে জীবনের কথাগুলো শেয়ার করুন, সময় দিন।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি আপেল গাছ ও একটি বালক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now