বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্যা ভেম্প্যায়ার

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নয়ন চন্দ্র আচার্য্য (০ পয়েন্ট)

X আমার একটা বিরাট বড় ফ্যান অনেকদিন থেকেই দেখা করতে চাচ্ছে। কি আর করার গেলাম দেখা করতে। . তার দেওয়া ঠিকানার রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসলাম। দেখলাম একটা অপরূপ সুন্দ্রুরি মেয়ে বসে আছে। আর কেউ নেই রেস্টুরেন্টে, পুরোটাই ফাঁকা। আমার ফ্যানের দেখা নেই। আচ্ছা এই মেয়েটাই সেই ফ্যানটা না তো আবার। এসব ভাবতে ভাবতেই মেয়েটা উঠে এসে বলছে এই যে মিস্টার রফিকুল (রাফি)। আসার কথা ছিলো কখন আর আসলেন কখন.? . আমাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে মেয়েটা বলতে লাগলো... ফ্যানঃ দেখুন আমি কিন্তু আপনার বড় ফ্যান। আপনি নিজেকে বড় কোনো লেখক না বললেও আমি আপনার লেখার অনেক বড় ভক্ত। আসলে ভূতের গল্প আমার ছোটবেলা থেকেই অনেক প্রিয়। আর এখনকার যুগে তো সবাই ফেসবুকেই গল্প লিখে। আর ফেসবুকে গল্প পড়তে পড়তে আপনার গল্পের সাথে পরিচয়। . আপনি যে ভয়ঙ্কর গল্প লিখেন পড়তে গেলে তো আমার ঘাম ছুটে। রাতের বেলা বাথরুমে যেতে হলে আম্মুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আপনার গল্প পড়ে যতটা ভয় পেয়েছি তা আর কোনো গল্প পড়ে পাইনি। খুনের বিস্তারিত বর্ননা এত ভয়াবহভাবে কিভাবে উপস্থাপন করেন। আমার তো মনে পড়লেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। আমি তারপরও ভূতের গল্পের নেশা ছাড়তে পারিনা। বরং আরো প্রেমে পড়ে যাই। . আপনার লেখায় এক ধরনের নেশা কাজ করে। আমি প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকেই আগে আপনার প্রফাইল চেক করে দেখি নতুন কোনো গল্প দিয়েছেন কিনা। . এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে শ্রেয়া থেমে গেলো। আমি সাথে আনা পানির বোতল টা হাতে নিয়ে সব পানি একবারেই খেয়ে ফেললাম। . মনে মনে বলছি এমনিতেই যে গরম তার উপর এই বাচাল মেয়েটার প্যাচাল শুনে মনে হয় আমাকে আজ পাবনায় ভর্তি হতে হবে। . এ পর্যন্ত একশো বারেরও বেশি বলেছে সে আমার কত বড় ফ্যান। যাইহোক, গরমে আমাদের ফ্যানের প্রয়োজন পড়বেই কিন্তু এমন ফ্যান কপালে জুটলে তো মসিবত। এত কথা বলে কিভাবে! . শ্রেয়া এক নজর আমার দিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলো.. -: আপনি কথা বলছেন না কেনো? বিরক্ত হচ্ছেন নাকি! . আমিঃ আরে না, কি যে বলো! আসলে লেখকেরা একটু ভাবুক টাইপের হয়। আমিও ব্যতিক্রম না। তাছাড়া ছোটবেলা থেকে কথা একটু কম বলার অভ্যাস। . শ্রেয়াঃ আমার উল্টো। আমি একটু বেশি কথা বলি।বিরক্ত হবেন না প্লিজ। . আমিঃ আরে না বিরক্ত হবো কেনো? লেখকদের শোনার অভ্যাস আছে। তাড়া মনোযোগ দিয়ে শুনতে ভালোবাসে। . শ্রেয়াঃ কিন্তু আমার অকাজের কথা শুনে আপনার বিরক্ত লাগাটাই তো স্বাভাবিক। . আমিঃ আরে তেমনটা না।আমি আমার ফ্যানদের খুব ভালোবাসি। . শ্রেয়াঃ ও রিয়্যালি! আমিঃ হ্যাঁ। অনেক ভালোবাসি। এতটা ভালোবাসি যে তারা কল্পনাও করতে পারবে না। . শ্রেয়াঃ হয়েছে হয়েছে এত ভালোবাসতে হবেনা। আপনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন আজ সম্পুর্ন দিনটা আমাকে দিবেন।তাই কথা রাখতে হবে আপনাকে। এমনিতেই দেখা হতে হতেই অর্ধেক দিন শেষ হয়ে গেছে।এখন এখান থেকে চলুন। . হনহন করে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো শ্রেয়া। ওর হাত ছাড়ার ইচ্ছা হলোনা আমার।জিজ্ঞেস করলাম ... আমিঃ আমরা কোথায় যাচ্ছি? শ্রেয়াঃ ও মিস্টার! এত প্রশ্ন করেন কেনো? আমার শহরে এসেছেন আমি যেখানে খুশি সেখানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেরুবো। আপনি চুপচাপ আমার সাথে পথ চলুন। . মেয়েটার কথায় একদম চুপ করে গেলাম।কোনো মেয়ে আজ পর্যন্ত এতটা অধিকার ফলায়নি আমার উপর।একটু পরেই জারিন একটা রিক্সা দাড় করিয়ে ফেললো।দুজনে উঠে পড়লাম রিক্সায়। জারিন রিক্সাওয়ালাকে কোনো একটা পার্কের উদ্দেশ্যে যেতে বললো।আমি চুপচাপ দেখে চলেছি সব।দুজন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বসে আছি। . আমার কেমন একটু একটু আনইজি লাগছে। তবে একটু পরেই বিষয়টা উপভোগ করার চেষ্টা করতে লাগলাম।নিজেকে একটু প্রেমিক ভাবলে মন্দ হবেনা। মেয়েটাও তো কম সুন্দর না। শ্রেয়া হঠাৎ বলে উঠলো ... . শ্রেয়াঃ চুপ করতে বলেছিলাম বলে কি একেবারে মৌনরোগি হয়ে গেলেন নাকি! . আমিঃ না আসলে .. . শ্রেয়াঃ আরে বুঝেছি.. প্রথম কোনো মেয়ের সাথে রিক্সায় উঠলে এরকম লাগে। আগে কখনো প্রেম করেছিলেন নাকি? . আমিঃ ইয়ে মানে . শ্রেয়াঃ আরে বুঝেছি ছ্যাকা খেয়েছেন মনে হয়। দুদিন আগেও তো মনে হয় ফেসবুকে ছ্যাকামূলক পোস্ট করেছিলেন।আচ্ছা সে যাক। প্রেমিকার সাথে কখনো রিক্সায় ঘুরেছিলেন? . আমি কি উত্তর দিবো বুঝছি না।মেয়েটা অনেক পার্সোনাল বিষয়ে প্রশ্ন করছে। করাটাই সাভাবিক। এই ধরনের মেয়েরা মিসুক টাইপের হয়। তারা অল্পতেই মানুষকে খুব আপন করে নেয়। আমি আবার এতটা পারিনা। . শ্রেয়াঃ কি মশাই চুপ করে রইলেন যে? আচ্ছা থাক বলতে হবেনা। আপনার ফেসবুকের ছবিগুলো খুব অদ্ভুত। কিন্তু ছবির থেকেও বাস্তবে আপনি একটু বেশি সুন্দর।ছবিতে একটু বেশি বোকা বোকা লাগে। . আমিঃ তাই নাকি! জানতাম না তো! . শ্রেয়াঃ আপনি আপনার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন না। . আমিঃ আমি জানিনা তো কি তুমি জানো? . শ্রেয়াঃ যদিও এখনো পুরোপুরি সবকিছু জানিনা, তবে আস্তে আস্তে জেনে নেবো। আপনিও জানাবেন। . আমিঃ পুরোটা জানলে তখন আমার কাছেই ঘেষবে না আর। . শ্রেয়াঃ কিহ!!! . আমিঃ বলছিলাম যে,পুরোটা জানতে হলে তো আমার কাছাকাছি গা ঘেষে থাকতে হবে। . শ্রেয়াঃ গা ঘেষেই তো বসে আছি। এখন নামুন। পার্কে এসে গেছি। রিক্সা পার্কের সামনে দাড়িয়ে গেলো। শ্রেয়া রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। . পার্কে ঢুকে দুজনে ঘাসের উপর বসে পড়লাম।পার্কে আরো বিভিন্ন বয়সের কাপল চোখে পড়লো। আমি জারিনকে প্রশ্ন করলাম ... . আমিঃ আমরা পার্কে কেনো এসেছি? আমরা কি প্রেমিক প্রেমিকা? . শ্রেয়াঃ ভুলেও এমনটা ভাববেন না। এত সস্তায় শ্রেয়াকে প্রেমিকা বানানো যায়না। জানেন এ পর্যন্ত কতগুলো ছেলের প্রোপোজাল রিজেক্ট করেছি। . মেয়ের কথার মধ্যে এক প্রকার গর্ববোধ। আমি আবারও প্রশ্ন করলাম.. আমিঃ তাহলে আমাদের এখানে কি কাজ থাকতে পারে? . শ্রেয়াঃ আসলে ভূতের গল্প লিখতে লিখতে আপনি একটু বেশি আনরোম্যান্টিক হয়ে গেছেন। তাই পার্কে নিয়ে এলাম যাতে প্রেম ভালোবাসা বিষয়ে একটু অভিজ্ঞতা হয় যাতে করে দু একটা লাভ স্টোরিও লিখতে পারেন। . আমিঃ ওহ আচ্ছা। কিন্তু এইভাবে দেখে কি আর প্রেমে অভিজ্ঞতা হয়। অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে তো প্রেম করতে হবে। . শ্রেয়াঃ তো সামনে জলজ্যান্ত একটা মেয়ে বসে থাকতেও প্রেম করতে পারছেন না কেনো? অনুভূতি এতটা ভোতা কেনো আপনার? একটা মেয়ে তখন থেকে আপনার সাথে অথচ আপনি তার মন বুঝতে পারলেন না। . আমিঃ কি করে বুঝবো.. কবি বলেছেন, মেয়েদের মন বুঝা নয়রে নয় সোজা। . শ্রেয়াঃ চুপ করেন, এমন কথা কবি কখনোই বলেননি। . আমিঃ তাহলে কে বলেছেন? . শ্রেয়াঃ বোকারাম ওইটা একটা গান। . আমিঃ ওহ। আমি ভালো করে শুনিনি তো তাই জানিনা। . শ্রেয়াঃ কিছুই জানেন না তাহলে এত সুন্দর গল্প লিখেন কিভাবে? আমিঃ যে বিষয়ে জানি সে বিষয়ে তো লিখতে পারবোই। . শ্রেয়াঃ খুন বিষয়ে এত জানেন কিভাবে? ভ্যাম্পায়ার বিষয়ে এতকিছু কিভাবে জানেন? . আমি একটু ইতস্তত বোধ করলাম এমন প্রশ্ন শুনে।একটু ভেবে বললাম। আসলে বই পড়তে পড়তে এখন নিজেই লিখতে পারি। . শ্রেয়াঃ তা ভ্যাম্পায়ার বিষয়ে এত অভিজ্ঞতা কোথায় পেলেন? আমার তো মনেহয় কোনো বইয়েও এত সুন্দর ভাবে ভ্যাম্পায়ারের শিকার ধরার গল্প উপস্থাপন করা হয়নি। পড়ার সময় মনে হয় যেনো সবকিছু চোখের সামনে ঘটে যাচ্ছে।বুকের ধুকধুকানি বেড়ে যায় পড়ার সময়। ইশ কি ভয়ংকর। কিভাবে এত ভয়ংকর গল্প লিখেন! চেহারা দেখে তো বোকারাম লাগে আপনাকে। . আমিঃ কি করে লিখি সেটা সময় হলেই জানতে পারবে। . পার্কে কিছুক্ষণ আলাপচারিতায় ভালোই সময় পার করলাম। জারিন এবার উঠতে চাইলো। দাড়ুন চঞ্চল মেয়ে। এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির থাকতে পারেনা। আমার দিকে তাকিয়ে বললো.. শ্রেয়াঃ লেখালেখি পরে হবে। চলুন অন্য কোথাও যাওয়া যাক। বিকেল হয়ে গেছে। . আমি শ্রেয়াকে উদ্দেশ্য করে বললাম ... আমিঃ তুমি তো অনেক ঘুরালে। শেষে আমার একটা আবদার ছিলো। . শ্রেয়াঃ আবদার! আমার কাছে! বলে ফেলুন .. . আমিঃ আশেপাশে কোথাও রেল লাইন আছে? . শ্রেয়াঃ রেল লাইন কেনো? এই বয়সে আত্মহত্যা করতে চান নাকি? . আমিঃ আরে না। আসলে পড়ন্ত বিকেলে রেল লাইন দিয়ে হাটতে অনেক ভালো লাগে। সাথে একজন সঙ্গি থাকলে তো কথাই নেই। . শ্রেয়াঃ অনেক উন্নতি হলো দেখছি পার্কে নিয়ে এসে।যাক অন্তত দু একটা লাভ স্টোরি পাওয়া যাবে। . জারিন আর আমি রেল লাইন দিয়ে হাটছি। পড়ন্ত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে আসছে। চারদিকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। আমরা রেল লাইন দিয়ে হাটতে হাটতে অনেক দূরে এসে গেছি। রেল লাইনের দুই ধারে জঙ্গল। কথা বলতে বলতে এতদূর এসে গেছি তা খেয়ালই করিনি আমি। . শ্রেয়া ভয়ে ভয়ে বললো.. - চলুন ফিরে যাওয়া যাক। আমার কেমন ভয় ভয় করছে।আর জায়গাটাও সুবিধার লাগছে না। . আমিঃ সাথে একটা পুরুষ মানুষ থাকতেও এত ভয়! . শ্রেয়াঃ ভয়টা তো সেখানেই। . আমিঃ ওহ আচ্ছা। আমি তো অপরিচিত লোকের মতোই। বিশ্বাস করাটাও রিস্কি। তবে তুমি আমাকে তখন জিজ্ঞেস করেছিলে আমি এতটা ভয়ন্কর গল্প কিভাবে লিখি। আমার মনেহয় সেটা তোমাকে জানিয়ে দেয়ার এখনি সময়। . শ্রেয়াঃ ওসব পড়ে হবে। আগে ফিরে যাই। . শ্রেয়ার কন্ঠে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। আমি অভয় দিয়ে বললাম.. এত ভয় কিসের! আমিতো আছি সাথে। আমি ভেবেছিলাম শ্রেয়া আমার কথায় সাহস পাবে। কিন্তু সে উল্টো আমাকে দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠলো। . ভাগ্যিস জায়গাটা খুবই নির্জন তাই কেউ শুনতে পায়নি ওর চিৎকার। আমি লক্ষ করলাম আমার শরীরের চামড়ার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর সেটা দেখেই জারিন ভয় পেয়ে চিৎকার করেছে। . শ্রেয়া আবার চিৎকার করে বললো.. - আপনি কি মানুষ!!!! . আমি একটা অট্টহাসি দিয়ে বললাম ... - যাক এতক্ষণে বুদ্ধিমতি মেয়ের মতো প্রশ্ন করেছো। . একটা মানুষ কি কখনো একটা ভ্যাম্পায়ারের সম্বন্ধে এতটা অভিজ্ঞতা রাখে? তুমি জানোনা আমার লেখা গল্পগুলো কতটা ভয়ংকর? আর এতটা ভয়ংকর হয় কারণ আমি মানুষের আর্তনাদগুলো খুব ভালোভাবে অনুভব করি। . মানুষের ভয় টা খুব নিখুঁতভাবে অনুভব করি। আর তাইতো গল্পগুলো এতটা নিখুঁত আর ভয়ংকর হয়। আমার গল্পগুলো যে সত্যি। তবুও তুমি আমার অনুভূতি কে ভোতা বললে। . শ্রেয়া আমাকে দেখে ভয়ে কাতর হয়ে গেছে। একটু আগের সেই পরিচিত মানুষটা যেনো হঠাৎ কিভাবে বদলে গেলো তা সে এখনো মেনে নিতে পারছে না। . চারিদিকে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। ভয়ে পাথরের মতো দাড়িয়ে আছে শ্রেয়া। দৌড়ে পালানোর মতো শক্তিটাও হারিয়ে ফেলেছে তার মস্তিষ্ক। . অনুনয় করে বলতে লাগলো.. - প্লিজ আমাকে যেতে দিন। . আমি আবার একটা অট্টহাসি দিয়ে বললাম ... - কি করে ছেড়ে দেবো তোমায়? তুমি যে আমার রক্তের তেষ্টা মিটাবে একটু পর আর হয়ে যাবে আমার লেখা নতুন একটা গল্প। . চিরকাল এভাবেই শিকার করবো আর গল্প লিখে তা ইতিহাস করে রাখবো। লোকে কি আর জানবে এটা গল্প হলেও সত্যি। . তুমি ভয় পেওনা। খুব যত্ন করে কামড় বসাবো তোমার ঘাড়ে।তারপর তোমাকে মারার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা গল্প লিখবো যত্ন করে সাজিয়ে গুছিয়ে। . শ্রেয়া দৌড়াতে যাবে এমন সময় আমি ওকে ধরে ফেললাম হিংস্র চিতার মতো।মুহুর্তেই একটা পশুর মতো হতে লাগলাম। . পাশের ঝোপ থেকে কিছু কুকুর ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করতে লাগলো। গাছ থেকে ডানা ঝাপটে উড়ে গেলো লটকে থাকা কিছু বাদুড়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্রেয়ার ঘাড়ে বসিয়ে দিলাম কামড়। মুহুর্তেই অজ্ঞান হয়ে গেলো সে।শরীরের সব রক্ত চুষে নিলাম। . শ্রেয়ার রক্তশূণ্য দেহটা রেল লাইনের উপরে খুব যত্ন করে শুইয়ে দিলাম যাতে ট্রেনে কাটা পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। শেয়াল কুকুরের খাদ্য হলেও মন্দ হবেনা। . পরেরদিন সকালেই খবরের কাগজে তাজা খবর, ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছে এক মেয়ে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এক ফোটা রক্তও শরীর থেকে বেরোয়নি। . পত্রিকাটা ছুড়ে ফেলে দিলাম। আমি বরং শ্রেয়াকে হত্যার গল্পটা ফেসবুকে পোস্ট করে দেই। . তাছাড়া নতুন একটা মেয়ে কদিন থেকেই আমার সাথে দেখা করার জন্য অস্থির হয়ে গেছে। এটার রক্ত সাবার করা যায় কিভাবে তার একটা নীল নকশা অঙ্কন করা যাক এবার। বিঃদ্রঃ জারিনেই শ্রেয়া আর শ্রেয়াই জারিন। . - ক্রেডিটঃ NOYAN (ভাই) - সমাপ্ত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now