বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রেসিডেন্ট আহমদ আরদোগাল বাবাগলু, প্রধানমন্ত্রী হোসেইন ইসমাইল সেলিক ও তুরস্কের নিরাপত্তাপ্রধান জেনারেল মোস্তফার চোখে-মুখেও বিস্ময়, উদ্বেগ, আতংক! প্রেসিডেন্ট বললেন আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, ‘মি. খালেদ, ভয়ংকর এক তথ্য আপনি দিলেন। আপনি সত্য বলেছেন এবং বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির বক্তব্যে বুঝেছি, এ ধরনের অস্ত্র তৈরি থিয়োরিটিক্যালি সম্ভব। কিন্তু যিনি আপনাকে খবরটি দিয়েছেন বা যে সুত্রে আপনি খবরটি পেয়েছেন, সেই সুত্র কতটা সত্য ইনফরমেশন দিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?’ ‘মি. প্রেসিডেন্ট, সুত্রের সত্যতা সম্পর্কে আমি একশ’ ভাগ নিশ্চিত।’ কোন প্রকার সন্দেহ থাকলে বিষয়টা আমি এখানে তুলতাম না’। বলল আহমদ মুসা ধীর ও দৃঢ় কণ্ঠে। ‘ধন্যবাদ আহমদ মুসা। কথাটা বললাম এই কারনে যে, খবরটা শ্বাসরুদ্ধ হবার মতো ভয়ংকর, বিশেষ করে ‘থ্রি জিরো’র মতো সন্ত্রাসী সংস্থার হাতে এই অস্ত্র গেলে গোটা পৃথিবীতে তো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে!’ প্রেসিডেন্ট বললেন উদ্বিগ্ন কণ্ঠে। ‘ওদের সংঘটনের নাম ‘One World Orbit’। তারা গোটা দুনিয়া দখল করে একক একটি রাষ্ট্র বানাতে চায় যার নিয়ন্ত্রক হবে তারা। এজন্যই এমন অস্ত্র তাঁদের চাই, যা দিয়ে কয়েক মুহূর্তে দুনিয়ার সব শক্তিকে ধ্বংস করতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাহলে ওঁরা তো পশ্চিমাদেরও বিরোধী?’ প্রেসিডেন্ট বললেন। ‘অবশ্যই। প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমাদের বন্ধু নয়, ওদের ব্যবহার করছে মাত্র।’ বলল আহমদ মুসা। ‘থ্রি জিরো’-এর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পূর্ব-পশ্চিম সবাই আমরা এক হতে পারি, একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারি। অন্তত ভয়ংকর এই অস্ত্রের ব্যাপারে এক সাথে কাজ করতে পারি।’ বললেন প্রধানমন্ত্রী। ‘পশ্চিমীদের জানালে হিতে বিপরীত হতে পারে। পশ্চিমীরা সন্ত্রাসী এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে অস্ত্রটা নিয়ে সেটা আমাদের উপর প্রয়োগ করতে পারে। ‘থ্রি জিরো’ বিপদে পড়লে ওদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আমাদের ধ্বংস করার সুযোগ নিতে পারে। সুতরাং কল্যাণ হলো, বিষয়টা কাউকে না জানিয়ে এই ভয়ংকর অস্ত্রের হাত থেকে দুনিয়ার মানুষকে রক্ষার জন্যে আমাদেরই উদ্যোগ গ্রহন করা।’ আহমদ মুসা বলল। স্বস্তিতে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও নিরাপত্তাপ্রধান জেনারেল মোস্তফার। পরক্ষনেই আবার উদ্বেগ নেমে এলো প্রেসিডেন্টের চোখে-মুখে। বললেন, ‘কিন্তু আমরা যদি যথাসময়ে ওদের সব পরিকল্পনা নস্যাত করতে সমর্থ না হই, অস্ত্র যদি তৈরি হয়ে যায় বা এর ব্যবহার হয়, তাহলে?’ ‘এ ঝুঁকি আছে, মি. প্রেসিডেন্ট। তবে আমি মনে করি অস্ত্র তারা এতো তাড়াতাড়ি ব্যবহার করবে না। তাঁদের অস্ত্র তৈরি যদি সম্পূর্ণও হয়ে যায়, তাহলেও তারা অস্ত্রের উৎপাদন, ব্যবহারের পরিকল্পনা, প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে। চিন্তা করবে তারা অস্ত্র ব্যবহারের পরবর্তী অবস্থা নিয়েও। তারা অস্ত্রাগার ধ্বংস করতে পারবে, কিন্তু দুনিয়ার সব মানুষকে তো ধ্বংস করতে পারবে না। ধ্বংস করতে পারবে না দুনিয়ার কোটি কোটি সংখ্যক প্রচলিত অস্ত্র। অতএব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তাঁদের অনেক ভাবতে হবে, অনেক প্রস্তুতিরও প্রয়োজন আছে। সুতরাং সময় আমরা পাবো’। আহমদ মুসা বলল। আবার মুখে ঔজ্জ্বল্য ফিরে এল প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর। বললেন প্রেসিডেন্ট, ‘এখন তাহলে কি করনীয়? ‘থ্রি জিরো’ কোথায় তাঁদের গবেষণা চালাচ্ছে? সেটা কি তুরস্কে? ইস্তাম্বুলে?’ ‘নিশ্চিত করে বলা যাবে না। গবেষণার বিভিন্ন পার্ট থাকতে পারে। সব এক যায়গায় থাকতে পারে, আবার অনেক যায়গায় বিভক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। তবে এটা আমি নিশ্চিত মনে করি যে, মূল গবেষক ইস্তাম্বুলে আছেন’। আহমদ মুসা বলল। ‘তিনি ইস্তাম্বুলে আছেন? তিনি তুরস্কের বাসিন্দা, নাগরিক? না তিনি আছেন, এখানে এখন?’ বলল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। তাঁর কণ্ঠে বিস্ময়-পীড়িত কম্পন। ‘আমি যতটা জেনেছি তিনি তুরস্কের বাসিন্দা।’ বলল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা কথা শেষ করলেও কেউ কথা বলল না। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, জেনারেল মোস্তফা, বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি সবার চোখে-মুখেই বিস্ময়। নিরবতা ভাঙল বিজ্ঞানী ডঃ আন্দালুসি। বলল, ‘শুধু ইস্তাম্বুল নয়, গোটা তুরস্কে অ্যাডভান্সড ফিজিক্স ও পারটিকেল বিজ্ঞান নিয়ে যারা কাজ করে, প্রত্যেককেই আমি চিনি। তাঁদের গবেষণা সম্পর্কেও মোটামুটি জানি। এদের কেউ হবেন নিশ্চয়।’ বলল বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। ‘এই অনুসন্ধানের ব্যাপারে কিছুটা এগিয়েছি, নিশ্চিত হবার জন্যে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আমি আশাবাদী খুব সত্বরই এ ব্যাপারে একটা সুখবর আমি দিতে পারব’। আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান।’ কথাটা প্রায় এক সাথেই বলে উঠলেন প্রেসিডেন্ট ও বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি। আহমদ মুসা তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে ড. আন্দালুসির দিকে চেয়ে বলল, ‘ড., একটা বিষয় আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে, ফোটন পারটিকেলস থেকে তৈরি ওদের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের সোর্ড-এর কি ভুমিকা হতে পারে?’ আহমদ মুসার প্রশ্নে খুশির প্রকাশ ঘটল প্রধানমন্ত্রীর চোখে। বললেন, ‘ধন্যবাদ খালেদ খাকান, এ প্রশ্নটা আমার মনেও জেগেছে। বিষয়টা আমাদের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ ভ্রু কুঞ্চিত হল ড. আন্দালুসির। ভাবল সে। একটু পর ধীর কণ্ঠে বলল, ‘এর সুস্পষ্ট জবাব দেয়া কঠিন। ফোটন পারটিকেলস থেকে মারনাস্ত্র কোন্‌ শ্রেণীর ফোটনের এবং কত মাত্রার তা জানলে নির্দিষ্ট জবাব দেয়া যেত। তবে একটা কথা বলতে পারি, ফোটন পারটিকেলসের মারনাস্ত্র কোন না কোন মেটালে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রবাহিত হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। আমাদের সোর্ড মেটালিক সে ক্ষেপণাস্ত্রকে বন্দী করে ধ্বংস করতে পারবে। আর ফোটন পারটিকেলস মারনাস্ত্র যদি শ্রেণী ও মাত্রার বিচারে আমাদের সোর্ড এর চেয়ে কম পাওয়ারফুল হয়, তাহলে সে ফোটন মারনাস্ত্রকেও নিউট্রাল করে ফেলতে পারবে আমাদের সোর্ড। আর ফোটন মারণাস্ত্রটি শ্রেণী ও মাত্রায় বেশি পাওয়ারফুল হলে সোর্ডের শিল্ড কেটে তা বেরিয়ে যাবে, কিন্তু লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে না। কারন গাইডেড হবার মতো মেটালিক যান বা ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর থাকবে না। তবে সমস্যা এই যে, প্রচলিত কোন রাডারে ফোটন মারনাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ধরা পড়বে না অতি ক্ষুদ্র অবয়ব হওয়ার কারণে। তবে ফোটন মারনাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে যদি সোর্ড মোতায়েন থাকে এবং সোর্ড যদি অ্যাকটিভেটেড (চালু) অবস্থায় থাকে, তাহলে ফোটন মারনাস্ত্র একটা নির্দিষ্ট দুরত্বে পৌছার পর সোর্ডের চোখে ধরা পড়ে যাবে এবং তারপর যা ঘটবে তা আগেই বলেছি।’ ‘তাঁর মানে আমাদের সোর্ড যদি অ্যাকটিভেটেড অবস্থায় মোতায়েন থাকে, তাহলে লক্ষ্যবস্তু ফোটন মারনাস্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘তাত্ত্বিকভাবে আমি তাই মনে করি। ফোটন মারনাস্ত্রের কম্পোজিশন ও শক্তির ডিটেইলটা পেলে সুনির্দিষ্ট একটা অপিনিওন দাঁড় করানো যেতে পারে’। বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি বলল। ‘তাহলে এখন ফোটন মারণাস্ত্রের কম্পোজিশন ও শক্তিকে বিস্তারিত জানা প্রথম বিষয় হিসাবে দাঁড়াচ্ছে। পরের বিষয় হলো, এই সর্বনাশা মারনাস্ত্র ও তাঁর গবেষণাকে দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত করা। আপনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন, মিঃ খালেদ খাকান?’ বললেন প্রধানমন্ত্রী। ‘মি. প্রধানমন্ত্রী, আপনি যেটা বলছেন সেটা আমারও কথা। এই দুই লক্ষ্যে আমরা কাজ করব, ফল আল্লাহ্‌র হাতে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি বুঝতে পারছি না, এই ভয়ংকর অস্ত্র তৈরি যখন সম্পূর্ণ করেছে, তখন কেন তারা আমাদের সোর্ড-এর ফর্মুলা ও গবেষণা হাত করার জন্যে পাগল হয়ে উঠেছে? ড. আন্দালুসি এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন দয়া করে?’ বললেন প্রেসিডেন্ট। ‘অবশ্যই মি. প্রেসিডেন্ট। তিনটি কারনে তারা মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। এক. ফোটন পার্টিকেলস থেকে এ্যান্টি-এটাকিং ডিফেন্সিভ শিল্ড তারা আবিষ্কার করতে পারেনি। দুই. তারা পশ্চিমের ননকনভেনশনাল অস্ত্র ভাণ্ডারকে অচল হয়ে পড়ার ভয়াবহ অবস্থা থেকে রক্ষার কোন দায়িত্ব পেয়েছে পশ্চিমের কাছ থেকে এবং তিন. আত্মরক্ষার এই সুযোগ তারা আমাদের হাত থেকে কেড়ে নিতে চায়। মিঃ খালেদ খাকান, কি ভাবছেন এ ব্যাপারে?’ বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি বলল। ‘আমার নতুন কিছু কথা নেই। ডঃ আন্দালুসি যা বলেছেন, সেটা আমারও কথা। প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে একটা কথা বলতে চাই, ওদের গবেষণার কথা আমরা জানতে পেরেছি, এটা ‘থ্রি জিরো’র কোনভাবেই জানা ঠিক হবে না। জেনে ফেললে অনেক কিছু ঘটাতে পারে। ওদের অপ্রস্তুত রেখে আমাদের ওদের ওপর গিয়ে পড়তে হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তথাস্তু, আহমদ মুসা। সরকারের কোন ব্যক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানাবো না। কিন্তু আমরা সাংঘাতিকভাবে উদ্বিগ্ন, খালেদ খাকান। আমাদের যে কোন সাহায্য আপনার জন্যে প্রস্তুত থাকবে। জেনারেল মোস্তফা সব ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ্‌ আপনাকে সাহায্য করুন! আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনি জীবন বাজি রেখে যা করছেন কোন মূল্যে তাঁকে পরিমাপ করা যাবে না। আল্লাহ্‌ আপনাকে এর জাযাহ দান করুন!’ বললেন প্রেসিডেন্ট। ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমি আল্লাহ্‌র বান্দাদের জন্যে কাজ করছি। আল্লাহ্‌ যদি সন্তুষ্ট হন, এটাই আমার পরম পাওয়া।’ বলল আহমদ মুসা নরম কণ্ঠে। ‘এটাই ঠিক, মি. খালেদ খাকান। মানুষ জাগতিক কোন লাভের জন্যে এভাবে জীবন পণ করে কাজ করতে পারেনা। একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্যে যে কাজ সে কাজেই মানুষ এতটা নিবেদিত, এতটা বেপরোয়া হতে পারে।’ বললেন প্রেসিডেন্ট। ঘরে প্রবেশ করল প্রেসিডেন্টের পি.এস.। বলল সে প্রেসিডেন্টকে, ‘স্যার, ডাক্তার ও নার্স এসেছেন।’ ‘স্যরি। আমরা অনেক সময় নিয়েছি। ওঁদের আসতে বল। আমরা উঠছি।’ বলেই উঠে দাঁড়ালেন প্রেসিডেন্ট। উঠে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী, জেনারেল মোস্তফা, আহমদ মুসা সকলেই। প্রেসিডেন্ট কয়েক ধাপ এগিয়ে আহমদ মুসার সাথে হ্যান্ডশেক করে বললেন, ‘ইয়াংম্যান, আপনি আমাদের গর্ব। আল্লাহ্‌ আপনার বুদ্ধি, শক্তি সব বাড়িয়ে দিন। আজ আসি, আবার দেখা হবে। আসসালামু আলাইকুম।’ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিল। সব শেষে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো আহমদ মুসা ও জেনারেল মোস্তফা। হাসপাতালের লাউঞ্জে বেরিয়ে জেনারেল মোস্তফা আহমদ মুসাকে ডেকে নিয়ে এক প্রান্তের নিরিবিলি সোফায় গিয়ে বসল। বলল, ‘অবস্থা সত্যিই ভয়ংকর। কোন্‌ পথে কিভাবে এগোবেন বলে ভাবছেন?’ ‘পথ এখনও বের হয়নি। পথ বের করার জন্যে কিছু কাজ করতে হবে। সেদিন আপনি যে পাম গার্ডেনের ঠিকানা দিয়েছিলেন, গোপনে সেখানে একটা হানা দেব। দেখি সেখানে কোন ক্লু মিলে কিনা?’ বলল আহমদ মুসা। ‘আমাদের কিছু করনীয় আছে?’ জিজ্ঞেস করল জেনারেল মোস্তফা। ‘আপনাকে জানাবো। আমি সেখানে যাবার আগে আপনার সাথে তো আলোচনা হবেই।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ মি. খালেদ খাকান। তাহলে আমি উঠছি। আপনি না হয় আমাদের অফিসে চলুন। এক সাথে যাওয়া হবে।’ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘গেলে বাড়তি কি লাভ হবে?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। তার মুখে হাসি। হাসল জেনারেল মোস্তফাও। বলল, ‘আপনি যে ধরনের লাভের কথা বলছেন, তেমন কিছু আমার হাতে নেই। তবে আপনাকে একটা সাইন্স ফিকশন দেখাতে পারি। সদ্য রিলিজড্‌ হয়েছে। বিজ্ঞানের যে দিকটা আলোচনা হলো, সে ধরনের বিষয়েরই একটা ছবি।’ ‘আপনি যখন দেখেছেন, তখন অবশ্যই ভালো হবে। আমারও লোভ জাগছে। চলুন।’ বলল আহমদ মুসা। দু’জন উঠে দাঁড়াল। লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে এগোলো গাড়ির দিকে। জেনারেল মোস্তফার প্রতিশ্রুত সিনেমাটি দেখল আহমদ মুসা। প্রথমে হালকা মুডে, রসিকতার মধ্যে দেখা শুরু করলেও শীঘ্রই সে সিরিয়াস হয়ে উঠল। দেখল আহমদ মুসা, দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানীর কাহিনী সিনেমাটি। দু’জন বিজ্ঞানীর একজন হলেন প্ল্যানেট আর্থ-এর বিজ্ঞানী ড. লেভী, অন্য বিজ্ঞানী পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ ‘নেবুলা’র ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট। দু’জন বিজ্ঞানী একে অপরকে টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় পাগল। একজনকে আরেকজন মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারলে খুব খুশি। একজন একটা আবিষ্কার করলে, তার বেটার ভারশন তৈরি করতে না পারলে অন্যজন স্থির থাকতে পারে না। দু’জনের প্রতিযোগিতা শেষে বিধ্বংসী প্রতিযোগিতায় রূপ নিল। ড. লেভী হয়ে দাঁড়ালেন পৃথিবীর রক্ষক, আর ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট তাঁর গ্রহ-রাজ্য নেবুলার পাহারাদার। তাঁদের এই বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দিল প্ল্যানেট আর্থ ও প্ল্যানেট নেবুলা উভয়কেই। নেবুলার বিজ্ঞানী ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট পরমাণুর নিউক্লিয়াসের কানেকটিভিটির সুত্র আবিষ্কার করে তাঁকে কাজে লাগিয়ে এ্যান্টি –রিঅ্যাকটিভ ‘ডিঅ্যাকটিভ ভিটিং এন্ড ডিফিউজিং ওয়েভগান’ নামের অস্ত্র তৈরি করছে। ভয়াবহ এই অস্ত্র প্ল্যানেট আর্থের একটি প্রাণীরও কোন ক্ষতি না করে পৃথিবীর সব অস্ত্র মুহূর্তে অচল করে দিতে পারে। অন্য দিকে এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে প্ল্যানেট আর্থের বিজ্ঞানী ড. লেভী আলোর ফোটন পারটিকেলস-এর গ্রেড এইড থেকে ‘হর্ন অব গড’ ওরফে ‘সাইলেন্ট ডেথ ওয়ারিওর’ নামের অস্ত্র আবিষ্কার করেছে। এই মারণাস্ত্র শুধু প্ল্যানেট নেবুলার সব অস্ত্র ভাণ্ডার নয়, সেখানকার সব ধরনের মেটালকে মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া করে দিবে। ফলে প্ল্যানেট নেবুলার সব কল-কারখানা বন্ধ করা সহ অফিস-আদালত ও বাড়ি-ঘরের কাজও অচল করে দেবে। এই আবিষ্কারের কথা ঘোষিত হবার পর প্ল্যানেট নেবুলার অনুরোধে প্ল্যানেট আর্থ ও প্ল্যানেট নেবুলা’র মধ্যে বৈঠক বসল। আলোচনার পর নিঃশর্তভাবে সারেন্ডার করল নেবুলার বিজ্ঞানী ড. ক্রিস্টি ক্রায়েস্ট। এই হলো সিনেমাটির কাহিনী। সিনেমাটি শেষ হবার পর ক্রেডিট লাইনের এক জায়গায় কাহিনীর আইডিয়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়েছে জনৈক বিজ্ঞানী ডঃ আরিয়েল আরিয়েহ-এর। প্রথমে দু’চারটি কথা বললেও আহমদ মুসা নির্বাকভাবে সিনেমাটি দেখা শেষ করল। সিনেমাটি তাঁকে দারুণভাবে বিস্মিত করল। তাঁর মনে হলো, তাঁদের আইআরটির প্রতিরক্ষা অস্ত্র ‘সোর্ড’ ও ‘থ্রি জিরো’র ফোটন পারটিকেলসের বিধ্বংসী অস্ত্রের কথা পরোক্ষভাবে সিনেমায় বলা হয়েছে। সিনেমাটি আমেরিকায় তৈরি। নাম দেখা গেল, নির্মাতা সংস্থাটি একটি লিমিটেড ফার্ম। তারা এ ধরনের একটা সিনেমা কিভাবে তৈরি করতে পারল? ব্যাপারটা কাকতালীয়? একটা সাইন্স ফিকশন লেখকের চিন্তা ও একটি বাস্তবতা কি কাকতলীয়ভাবেই মিলে গেছে? কাহিনীর আইডিয়া এসেছে ড. আরিয়েল আরিয়েহর কাছ থেকে। এই বিজ্ঞানী ড. আরিয়েল আরিয়েহ কে? হঠাৎ মনে পড়ল ‘থ্রি জিরো’ র বিজ্ঞানী ড. আবু আবদুর রহমানের নামের শেষেও আরিয়েহ আছে। তাহলে ড. আরিয়েল আরিয়েহও কি ইহুদি বিজ্ঞানী? তাই হবে। আরিয়েল আরিয়েহ পুরোটাই হিব্রু নাম যার অর্থ ঈশ্বরের সিংহ আরিয়েহ। আর ‘আরিয়েহ’ হলো ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত-এর একজন সেনাধ্যক্ষ। সিনেমার আরেকটি জিনিস আহমদ মুসার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো। সেটা হলো, ড. লেভী নিরব ধ্বংসের যে অস্ত্র তৈরি করেছে, সেটা ফোটন পারটিকেলস-এর এইটথ গ্রেড থেকে তৈরি। ‘থ্রি জিরো’ র বিজ্ঞানী ড. আরিয়েহ নিরব ধ্বংসের অস্ত্র তৈরি করেছে, সেটা তাহলে কত গ্রেড থেকে তৈরি? ফোটন পারটিকেলস-এর অষ্টম গ্রেড? কিন্তু আলোর পারটিকেলস-এর তো কোন অষ্টম গ্রেড নেই? নাম হর্ন অব গড, ড. লেভীর মারণাস্ত্রগুলো খুব মজার মনে হলো আহমদ মুসার কাছে। ‘হর্ন অব গড’ অর্থাৎ আল্লাহ্‌র শিং-ই শেষ পর্যন্ত জয়ী হল। আহমদ মুসা চিন্তায় একেবারে বুঁদ হয়ে গিয়েছিল। কখন কথা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু সম্বিত ফিরে আসেনি আহমদ মুসার। জেনারেল মোস্তফা হাসি মুখে তাকিয়ে আছে আহমদ মুসার দিকে। এক সময় বলে উঠল, ‘মি. খালেদ খাকান, আপনাকে নিয়ে এসে বৃথা যায় নি। সিনেমাটি আপনাকে দারুণভাবে ভাবাতে পেরেছে দেখছি।’ ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো আহমদ মুসা। তাকাল জেনারেল মোস্তফার দিকে। বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা, ফিল্মটি তো আপনি আগে অবশ্যই দেখেছেন। আমরা সামরিক হাসপাতালে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম, সেটার পর এ ফিল্মটি আবার দেখে আপনার কি মনে হচ্ছে?’ গম্ভীর হল জেনারেল মোস্তফা। ‘কিছু যে মনে হবে, এজন্যেই ফিল্মটি দেখার জন্যে আপনাকে নিয়ে এসেছি। সত্যিই আমি ভেবে অবাক হয়েছি, ফিল্মটি যেন আমাদের আইআরটির সোর্ড ও থ্রি জিরোর ফোটন মারনাস্ত্রেরই কাহিনী! পার্থক্য শুধু এটুকু যে, ফিল্মের বিজ্ঞানী ক্রিস্টি ক্রায়েস্টের ‘ডিএ্যাকটিভেটিং অ্যান্ড ডিফিউজিং’ অস্ত্র গিয়ে সব অস্ত্রাগারের সব অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আর সোর্ড মাত্র এটাকিং অস্ত্রকে আটকে ফেলে দূর আকাশে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধ্বংস করে দেয়।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘বিষয়টাকে আপনি কি কাকতালীয় বলবেন?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘বলতে কষ্ট হবে, কিন্তু আর কি ব্যাখ্যা হতে পারে বলুন তো?’ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘থ্রি জিরো ইহুদিবাদীদের সংস্থা, আর ফিল্মটিও নিশ্চয় কোন ইহুদিবাদীর পরিকল্পিত।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাদের মধ্যে কোন যোগসূত্র থাকার কথা বলছেন?’ ‘অনুমান করে বলার মধ্যে কোন লাভ নেই। এটা অনুসন্ধানের বিষয়, বিশেষ করে বিজ্ঞানী ড. আরিয়েল আরিয়েহ কে, তা জানতে পারলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। টেলিফোন বেজে উঠল জেনারেল মোস্তফার। মোবাইল তুলে নিয়ে হ্যালো বলতেই ওপার থেকে পুলিশপ্রধান নাজিম এরকেন বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা, আমি এখন রোমেলী দুর্গে। এখানে বিস্ময়কর ভূতুড়ে একটা ঘটনা ঘটেছে। রোমেলী দুর্গের উত্তর পাশে নৌবাহিনীর জরুরী অস্ত্র ডিপোর সব অস্ত্র হাওয়া হয়ে গেছে। ধাতব ডাস্টের একটি স্তর ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই, এমনকি সেই ডিপোর জানালার গরাদসহ কোন প্রকার মেটাল অবশিষ্ট নেই। আর...।’ ‘বলুন রোমেলী দুর্গের কি অবস্থা?’ পুলিশপ্রধান নাজিম এরকেনকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল জেনারেল মোস্তফা। তাঁর চোখে-মুখে উদ্বেগ ও ভীতি নেমে এসেছে। ‘রোমেলী দুর্গের সব ঠিক আছে।’ বলল পুলিশপ্রধান নাজিম এরকেন। ‘একটু ধরুন মি. নাজিম এরকেন।’ বলেই জেনারেল মোস্তফা উৎসুক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকা আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘মি. খালেদ খাকান, বোধ হয় ভয়ানক এক দুঃসংবাদ। আমাদের রোমেলী দুর্গের উত্তর পাশের নৌবাহিনীর অস্ত্র ডিপোর সব অস্ত্র ও ডিপোর সব ধরনের জিনিস ডাস্ট হয়ে গেছে, কিন্তু রোমেলী দুর্গের সব ঠিক আছে।’ বিদ্যুস্পৃষ্ট হওয়ার মতো চমকে উঠল আহমদ মুসা। নেমে এলো তাঁর চোখে- মুখে উদ্বেগ। মুহূর্ত ভাবল আহমদ মুসা। মুহূর্তের জন্যে তাঁর চোখ দু’টিও বুজে গিয়েছিল। চোখ খুলেই আহমদ মুসা বলল, ‘ওকে বলুন, বিষয়টা সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে। তথ্যটা বাইরে প্রকাশ হতে দেয়া যাবে না। আর চলুন, ওখানে যেতে হবে আমাদের।’ জেনারেল মোস্তফা বিষয়টি পুলিশপ্রধানকে জানালে পুলিশপ্রধান বলল, ‘সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর্মস ডিপোর স্টাফদের পর্যন্ত ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয় নি। সেনাবাহিনীর কয়েকজন টপ অফিসার ও পুলিশের মধ্যে আমিই শুধু বিষয়টা জেনেছি।’ ‘মিঃ নাজিম এরকেন, আমি খালেদ খাকানকে নিয়ে আসছি।’ বলে সালাম দিয়ে মোবাইল অফ করে দিল জেনারেল মোস্তফা। মোবাইলটা পকেটে রেখে জেনারেল মোস্তফা আহমদ মুসাকে বলল, ‘কিছু আন্দাজ করেছেন, মিঃ খালেদ খাকান?’ ‘চলুন, গিয়ে দেখা যাক। তবে আমি ভাবছি, ‘থ্রি জিরো’ কি রোমেলী দুর্গে আইআরটি’র ওপর আক্রমন করল, না ডিপোটির ওপর টেস্ট আক্রমন? সিদ্ধান্তের আরও কিছু বিষয় জানা দরকার।’ বলল খালেদ খাকান। ‘চলুন, তাহলে বেরুনো যাক।’ বলেই উঠে দাঁড়াল জেনারেল মোস্তফা। আহমদ মুসাও উঠে দাঁড়াল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৭ বাকি অংশ (শেষ)
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৫ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ বসফরাসে বিস্ফোরণ চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now