বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
করোনার অস্ত্র যখন মুসলিমদের আবিষ্কার!
"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান (০ পয়েন্ট)
X
যে তিনটি মুসলিম আবিষ্কার করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে-
১. সাবান: সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সবাই জানেন। বাথরুমে সাবান ব্যবহার প্রথম চালু হয় সেই মধ্যযুগে যাকে আমরা ইসলামিক গোল্ডেন এজ বলে জানি। ইরানী মুসলিম বিজ্ঞানী আল-রাজী (৮৫৪-৯২৫ খৃ) সর্বপ্রথম বিভিন্ন রকম এরোমেটিক বা সুগন্ধি সাবান তৈরীর ফর্মুলা দেন। যায়তুনের তেল, আলি-ক্বালি(alkali) এবং লাইম ব্যবহার করে সোপ তৈরী করা শুরু হয়। এরপর সিরিয়ায় বিভিন্ন কারখানায় বানিজ্যিকভাবে সুগন্ধি সাবান উতপাদন শুরু হয় এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা এক্সপোর্ট করা হতো। ইউরোপে এর আগেও সাবান ছিল কিন্তু সেগুলো তৈরী হতো প্রাণীজ চর্বি থেকে যা খুবি দুর্গন্ধযুক্ত। আরবদের বিভিন্ন রং এর সুগন্ধিযুক্ত শক্ত এবং তরল সাবান তৈরীর কথা তারা জানতে পারে। মুসলিম মিডল ইস্ট থেকে তারা সুগন্ধি সাবান প্রথমে কেনা শুরু করে এবং পরবর্তীতে আল-আন্দালুস/
স্পেন এই সাবান ব্যবসার নেতৃত্ব দেয় ইউরোপে দীর্ঘদিন। পরে আস্তে আস্তে স্পেন থেকে তা ইতালী এবং পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
২. এলকোহল: মডার্ন মেডিসিনে ডিসইনফেকটেন্ট হিসেবে এলকোহলের ব্যবহারও শুরু করে মুসলিমরা মধ্যযুগে। ইথানলের আবিষ্কারক আল-রাজী। আল-রাজী তাঁর কিতাব আল-হাওয়ি ফিত তিব যার ইংলিশ অনুবাদ The Comprehensive Book on Medicine এ প্রথম সার্জারিতে এলকোহলের ব্যবহার নিয়ে কথা বলেন। বাগদাদে ৮৫০ খৃ. এ খলিফা হারুন অর রশিদের সময় প্রথম হাসপাতালে এলকোহলের মেডিক্যালিয় ব্যবহার শুরু হয়। সার্জারির আগে, সার্জারির সময় এবং সার্জারির পর এলকোহল ব্যবহার করা হয়। এরপর সার্জারির পেশেন্টের আউটকামে আশ্চর্জনক পরিবর্তন দেখতে পান তারা। পোস্ট সার্জিক্যাল ইনফেকশন অনেকখানি কমে আসে। এই মেথড এরাবিক টেক্সট বুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। ইউরোপিয়ান সার্জনরা এর এরাবিক নামটা এডপ্ট করে নেন, আল-কুহুল/ ﺍﻟﻜﺤﻞ। যার মানে নির্যাস বা এবসট্রাক্ট। এলকোহল প্রস্তুতির ডিসটিলেশন মেথডের কথা চিন্তা করে এই নাম দেয়া হয়। অবশ্য কুহুল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত মেয়েদের আইলাইনার বা মাসকারার নাম। উপমহাদেশে যাকে সুরমা বা কাজল বলে মানুষ চিনে। অবশ্য কাজল বা সুরমায় চারকোল/কয়লা বা সলিড কার্বন ব্যবহার হয়। সুরমা ফার্সি শব্দ। যাহোক এই কুহুল পাউডার তৈরী হতো এন্টিমনির সাবলিমেশন (তাপ দেবার মাধ্যমে সলিড থেকে লিকুয়িড না হয়ে সরাসরি গ্যাস স্টেটে রূপান্তর) এর সময় এন্টিমনি ট্রাইসালফাইড তৈরীর মাধ্যমে। এই পাউডার মেয়েরা আইলাইনার, কসমেটিক হিসেবে ব্যবহার করতো এবং এন্টিসেপ্টিক হিসেবেও এর ব্যবহার ছিল। সেখান থেকে সবধরনের ডিসটিলড সাবস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে আল-কুহুল শব্দ ব্যবহার শুরু হয় যাকে ইংরেজিতে বলে স্পিরিট। পরে আস্তে আস্তে এটা শুধু ইথানলের ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে থাকে।
৩. কোয়ারান্টাইন: ইরানী মুসলিম চিকিতসা বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ইবনে সিনা প্রথম তাঁর আল কানুন ফিত তিব বা The Canon of Medicine এ আইসোলেশন এবং কোয়ারান্টাইনের কথা বলেন। যে কোনো ইনফেকশাস ডিজিজের মহামারি রোধ করতে তিনি ৪০ দিনের স্যানিটারি আইসোলেশনের কথা বলেন যা আরবীতে আল আরবাইনিয়্যা/al-Arba’iniya বা the fortieth। এই শব্দ ইতালির ভেনিসের বনিকদের মাধ্যমে চলে যায় ইউরোপে। তারা আল আরবাইনিয়্যা’র ভেনিশিয়ান প্রতিশব্দ দেন quarantena। যার মানে চল্লিশ দিন। এখান থেকেই আসে quarantine. মুসলিম বিশ্বের ডক্টররা ইনফেকশাচ ডিজিজ, স্পেশালি লেপরোসি বা কুষ্ঠ রোগের ক্ষেত্রে এই চল্লিশ দিনের আইসোলেশন ব্যবহার করত। ভেনিসসহ ইউরোপেও এর চর্চা শুরু হয় ১৪ শতাব্দীর দিকে। বিশেষ করে ১৪-১৫ শতাব্দীর ভয়াবহ ব্লাক ডেথ প্লেগের মহামারীর পর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে বিদেশ থেকে ভেড়া জাহাজের নাবিকদের ৪০ দিন কোয়ারান্টাইনে রাখা হতো।
[উপরের তথ্যগুলো সাধারণ সোর্স থেকে মানে উইকি ও গুগল করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে নেয়া। এক্ষেত্রে কোনো সায়েন্টিফিক রিসার্চ সোর্স আমি ব্যবহার করিনি। তবে প্রথম দুটো পয়েন্ট আগেও কিছু অথেনটিক আর্টিকেল এবং ডকুমেন্টারি সোর্স থেকে জেনেছিলাম এবং আমার মতে সঠিক। তৃতীয়টা আমার কাছে নতুন এবং এ বিষয়ে শক্ত কোনো এভিডেন্স বা রিলায়েবল সোর্স দেখিনি এখনো। মরক্কো ওয়ার্ল্ড
নিউজ নামে একটা সাইট এ নিয়ে একটা লেখা প্রকাশ করে। https://bit.ly/2JDRXpY পরে বিষয়টা ভাইরাল হয়।
শায়খ ইয়াসির ক্বাদী শেষের পয়েন্টটা মানে ইবনে সিনার আল আরবাইনিয়্যা বা কোয়ারান্টাইন ব্যবহার নিয়ে সুন্দর একটা লেখা দিয়েছেন। তার কথা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ইতালী প্রথম কোয়ারান্টাইন প্রথা চালু করে সেইলরদের জন্য কিন্তু ইবনে সিনার থিওরি থেকেই যে এটার ব্যবহার শুরু হয় এমন কোনো এভিডেন্স পাওয়া যায়নি। গতে পারে এটা তাদের কয়েকটা মহামারী থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ফল। তাছাড়া ইবনে সিনা তাঁর বই এ হিউম্যান টু হিউম্যান ট্রান্সমিশান ঠেকাতে আইসোলেশনের কথা বললেও দিনের সংখ্যা বলেনি। বললেও আমরা এখনো এ বিষয়ে রেফারেন্স লিংক পাইনি। এ বিষয়ে তার স্ট্যাটাস-
https://www.facebook.com/yasir.qadhi/posts/10157721150683300 ]
#সংগৃহীত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now