বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নামঃ- নানীর বাড়ির ঘুম
লেখাঃ- রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন।
সুপ্রিয় পাঠকগণ, আসসালামু আলাইকুম । আশা করি সকলেই ভালো আছেন । আজকে আপনাদের দমকল বাহিনীর কাহিনী শোনাবো না। কারণ মশারী টাঙিয়ে রাখা আছে । আজকে শোনাবো নানীর বাড়িতে ঘুমিয়ে কি যে মজা পেয়েছিলাম। তা ভোলার নয়।
যাইহোক , দিনটা বৃহস্পতিবার। হাফ স্কুল এবং কালকে শুক্রবার বন্ধ । তাই বাসায় এসে গোসল করলাম। খেয়ে রেডি হওয়ার পর শুকুরকে ফোন দিলাম, হ্যালো শুকুর?
হ্যালো রূপচাঁন কেমন আছিস?
ভালো, তুই কেমন আছিস?
ভালো ।
শোন, আমি নানীর বাড়ি যাচ্ছি। তুই তাড়াতাড়ী আসিস। আর মীমকে ফোন দিস!
আরে নাহ। তুই ফোন দে ঐ ফইন্নিরে। আমার কথা সিরিয়াসলি নিবে না।
আচ্ছা, ঠিক আছে। তুই তাড়াতাড়ি আসোই।
ওকে।
আমি এখন মীমকে ফোন দিলাম !
ট্রুট ট্রুট ট্রুট ট্রুট ----রিং বাজছে। কিন্তু ধরছে না। মেয়ে রা খুবই অলস।
হ্যালো আসসালামু আলাইকুম মিয়া ভাই ।
ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি সি আইডি ব্যুরো থেকে বলছি। জরিমন নেছার খুনের সাথে আপনিও সম্পৃক্ত আছেন। বাচতে চাইলে এখনি থানায় চলে যান।
ঐ ফাজিল ফাইজলামি করস আমার সাথে?
আমি হাসছি হিহিহিহি । শোন মীম, আমি, শুকুর নানীর বাড়িতে তুইও তাড়াতাড়ি আয়।
না।
না কেন?
তোরা ভয় দেখাস খালি!
আরে মজা বুজস না। আচ্ছা আয় তুই আজকে ভূতের ভয় দেখাবোনা।
[শুকুর আমার খালাতো ভাই আর মীম খালাতো বোন। আমরা সময় পেলেই নানীর বাড়ি চলে যায় । একটা কথা আছে না - নানীর বাড়ি রসের হাড়ি। একদম তাই। আমরা এখানে সব্বাই অনেক মজা করি । আড্ডা দিই। আর ওখানে মামাতো ভাই শাকিল আর মামাতো বোন সাথী আছে । সাথীর হাত যে শক্ত। ওরে দুই চোখে দেখতে মন চাইনা। সুযোগ পেলেই ঠাস ঠাস। ]
আমি সাইকেলটা নিয়ে বের হলাম। গন্তব্য নানীর বাড়ি ৷ বেশি দূরে নয়। আমাদের শহর থেকে ১০কিঃমিঃ। এদিকে শুকুর আর মীম আমার আগেই হাজির । সাইকেলটা রান্নাঘরে রেখে তালা লাগিয়ে দিলাম। নয়তো বাদরগুলো সাইকেল চালাইলে ব্রেক ঢিলে করে ফেলে। তখন রাস্তায় ব্রেক কষলে ১কিঃমিঃ দূরে থামে।
মীম বলল,কি রে সিআইডি অফিস থেকে সাইকেল নিয়ে এলি নাকি?
হুমমমম। নতুন সাইকেলের দাম বেশি তাই সরকার পুরাতন টা দিছে।
থাক তুই এক নাম্বারে চাপাবাজ ।
আর তুই আলসের ডিব্বা ডিম।
মীমকে ডিম বলল,সেই রাগ করে । তবে রাগ বেশিক্ষণ থাকে না । ও জানে রাগ করলে আরও বেশি রাগাই আমরা।
শুকুর ক্ষেত থেকে বড় বড় শসা আনলো। মীম সেগুলো বেশি করে শুকনো মরিচ দিয়ে ভর্তা করল। সবাই মিলে খেলাম৷ শুসাচ্ছিল সবাই ঝালে ।
এরপর ধীরে ধীরে গল্পগোজব করতে করতে রাত হয়ে গেল। আবার সেই ভূতের গল্প শুরু করে দিলাম। মেয়েরা সব জড়োসড়ো হয়ে গেছে। এমন সময় শাকিল বাইরে গেল। আমি বুঝতে পারলাম বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্য ।
তাই গল্প থামালাম না। শাকিল টিনে এমন জোরে ঢিল দিলো মীম, সাথী, সুমনা ও রোমানা চিৎকার দিলো। তারপর মামা এসে সবাইকে ইচ্ছে মতো বকা দিল। সবাই খেতে বসলাম। খাওয়ার সময় শুকুর - মীমের পাতের মাংসের টুকরা দুইটা নিয়েই মুখে পুরে ফেলল। আমি সাবধান হয়ে খেতে শুরু করলাম । সাথী দেখি ভাত না খেয়ে আগে মাংস খাচ্ছে হিহিহি। মীমকে একটা দিলাম মাংস! ও ফিরিয়ে দিল আর বলল,থাক এতো দরদ দেখাতে হবে না। প্রায় কেঁদেই দিচ্ছিল। আমি নানীকে বললাম, নানী মীমকে মাংস দেন। নানী বলল,ওর মাংস কি হল। আমি বলল,বড় একটা বিড়াল ছোবল মেরে নিয়ে গেছে ।
সবাই হুহু করে হাসতে শুরু করলাম।
তার শুরু হল ঘুম। সবাই সেইরকম ঘুম দিলাম। যাকে বলে নাক ডাকা ঘুম।
আমি আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম ঘুমের ঘোরে।
আমি এক রাজ্যে গেলাম রাজকন্যা খুঁজতে। পেয়ে গেলাম এক রাজকন্যা। দেয়াল টপকে গিয়ে বললাম। হাই সুন্দরী কেমন আছো ?
রাজকন্যা অবাক হয়ে পেছনে, সামনে এবং ডানে-বামে তাকাল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে দৌড়ে এসে দেয়াল থেকে ধাক্কা মারল। আমি চিৎকার করলাম। আর ঘুম ভেঙে গেল । আমি চেয়ে দেখি চতুর্দিকে অন্ধকার । যেই দাড়ালাম মাথায় আঘাত পেলাম। ডানে বামে হাত দিয়ে দেখি বাঁশের খুঁটি । সারা শরীরে আমার বালিতে ভরপুর। আমি একটা মাচার নিচে। এখানে কি করে এলাম? ছিঁ ছিঁ ছিঁ কেউ দেখেনি ভাগ্যিস। আমি বালিওয়ালা শরীর নিয়ে শুকুর ও শাকিলের মাঝ খানে শুয়ে পড়লাম । সকাল হল সবাই ভাপা পিঠা খেতে চলে গেল। আমি গেলাম না। আমি ভাবছি ওগার বা মাচা ( গ্রামে যে জায়গায় ধান ও জিনিসপত্র রাখা হতো) নিচে কি করে গেলাম?
---আজও এটি মনে পড়লে নিজেরই হাসি পায়। নানীর বাড়ির ঘুম এত্ত মজা যে ঘুমের ঘোরে মাচার নিচে চলে গেছি-++-
বাস্তব ঘটণা এটা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now