বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

★সেই বাড়ি★(৩] শেষ

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ♥Samir♥ (০ পয়েন্ট)

X কিন্তু আমি এতো ভিতু না আর আমি খুব সহজেই ভয় পাই না।আমার বন্ধুগুলোর দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম, রিফাতের চোখে ভয়ের ছাপ।কিন্তু সে কিছুই বলছে না তাই আমরাও বাড়িটা দেখতে লাগলাম।আমরা প্রথম রুমে ঢুকে দেখলাম, রুমটাতে রক্ত পড়ে আছে আর একপাশে একটা বড় চেইন, চেইনটাতে মরিচা ধরে গেছে।সেই চেইনের সাথে একটা কংকাল বেধেঁ রাখা।আমরা দ্বিতীয় রুমে গেলাম, দেখলাম একটা সাদা খাট। খাটের পায়াগুলোতেও মরিচা ধরা।আমি খাটের উপরে কিছু একটা দেখতে পেলাম মনে হলো।আমি কাছে গিয়ে দেখলাম, খাটে একটা খরগোশের কংকাল পড়ে আছে।এবার আমি খাটের নিচে একবার তাকালাম।তাকিয়ে দেখলাম, কে যেনো তাকিয়ে আছে আর তার চোখগুলো জ্বল-জ্বল করছে।আমি smg22 নিয়েই একটা গুলি মেরে দিলাম।গুলি মেরে দেখি কিছুই নেই।আমরা আস্তে আস্তে সেই রুমটা ত্যাগ করলাম। আমরা তৃতীয় রুমে গিয়ে দেখলাম, দুইটা কংকাল বসা অবস্থায় আছে আর তাদের সামনে একটা মরিচা ধরা প্লেট।সম্ভবত এরা এই প্লেটে ভাত খেতো।আমরা চতুর্থ রুমে গিয়ে দেখলাম একটা লোহার দরজা লাগানো আর সেই দরজা দিয়ে ভেতরে সব দেখা যাচ্ছে, আমরা সেই রুমটার ভেতরের দিকে তাকিয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য একদম প্রস্তুত ছিলাম না।আমরা দেখলাম, কয়েকটা কালো বড় বড় কুকুর শুয়ে আছে।আর একাকটা কুকুরের উচ্চতা ১০-১৩ ফুট মতো। আমরা চুপি চুপি সেই রুমের সামনে থেকে সরে এলাম।এবার আমরা পঞ্চম রুমে গিয়ে দেখলাম একটা বড় ডাইনিং রুম।রুমটাতে আরো দেখলাম যে, একটা বড় টেবিল আছে আর কিছু একটার ছবি আঁকা।আমি রাফিকে বললাম যে, এই ছবিটার একটা ফটো নিতে, সে একটা ফটো তুললো।দেখলাম ফটোটা ঠিকভাবে তোলা হয়েছে।আমরা এবার ষষ্ঠ রুমে গেলাম।কিন্তু রুমটাতে একটা গেট লাগানো আর সেই গেটে তালা লাগানো।তালাটাও মরিচা ধরা। আমরা ভাবলাম এই রুমটা পরে দেখবো তাই আমরা সপ্তম রুমে ঢুকলাম।ঢুকেই দেখতে পেলাম, দুইটা খাট আর সেই খাটের প্রত্যেকটায় একটি কংকাল আছে।আমি আবার খাটের নিচে তাকালাম আর দেখলাম একটা হলুদ রংয়ের বাক্স।আমরা বাক্সটা খুললাম, খুলে দেখলাম অনেক সোনা-দানা আছে।আমার বন্ধুরা বললো, এগুলো নিয়ে গেলে হয়না!! আমি বললাম, এইসব যেখানে ছিলো সেখানেই থাকবে।কারণ এই সম্পদ নিলে আমাদের ক্ষতি হতে পারে। আমরা দ্বিতীয় তলায় উঠার জন্য সিড়ি খুজতে লাগলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না।তাই বাধ্য হয়ে ষষ্ঠ রুমের কাছে গিয়ে দরজাটা ভাঙার চেষ্টা করলাম।দরজাটা কাঠের হওয়ায় কয়েকবার চেষ্টা করতেই ভেঙে গেলো।আমরা তো অবাক হয়ে গেলাম, এই দরজার ভেতরেই তো দ্বিতীয় তলায় উঠার সিড়ি আছে এবং নীচে যাওয়ার সিড়ি আছে।আমি ভাবলাম নীচে আবার কি থাকতে পারে!! হঠাৎ নীচে থেকে শুনলাম কার যেনো আর্তনাদ ভেসে আসছে। আমার এবার কিছুটা ভয় করলো।আমরা প্রথমে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠার সিদ্ধান্ত নিলাম।উপরে উঠেই শুনতে পেলাম, কে যেনো মন্ত্র পাঠ করছে।আমরা আস্তে আস্তে সেই মন্ত্র পড়ার আওয়াজের দিকে যেতে লাগলাম।মন্ত্র পড়ার আওয়াজ একটা রুম থেকে আসছে, কিন্তু সেই রুমের দরজা লাগানো।আমরা ভালো-ভাবে দ্বিতীয় তলাটা দেখতে লাগলাম কিন্তু দ্বিতীয় তলাও নীচ তলার মতো বড়ো জায়গা আছে।আর মাত্র একটাই রুম আছে।যেই রুম থেকে এখনো মন্ত্র পড়ার আওয়াজ আসছে। আমি আমার বন্ধুদের বললাম, আমরা আগে উপরে দেখে আসলে ভালো হয়।আমার বন্ধুরা বললো, ঠিক আছে।আমরা তৃতীয় তলায় উঠলাম।উঠে দেখলাম আমরা ছাদে চলে এসেছি।আর তখন রাত হয়ে গেছে।তাই আমরা আজকে ছাদে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।ছাদটাতে শ্যাওলা দ্বারা ভর্তি হয়ে গেছে।তাই আগে আমরা একপাশে পরিষ্কার করে তাবু বানালাম।আমরা আগুনও ধরালাম।আমরা একটু ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম তাই কিছু খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। মাঝ রাতে শব্দ হলো, আমি শোনার চেষ্টা করলাম।আমাকে হঠাৎ অবাক করে দিয়ে কে যেনো আমার নাম ধরে ডাকতে লাগলো।আমি আমার বন্ধুদের ঘুম থেকে ডেকে তুললাম আর শব্দটা তারা শুনতে পায় কিনা বললাম।তারা বললো, আমরাও তো শুনতে পাচ্ছি।আমরা তাবু থেকে বাইরে গিয়ে দেখি একটা সাদা কাপড় পরা আর তার চোখগুলো মনে হচ্ছে আগুনের গোলা, সে আমাদের দিকে আসছে।আমি সবাইকে বললাম, সবাই আয়াতুল কুরছি পড়া শুরু করো। আমরা জোরে জোরে আয়াতুল কুরছি পড়তে লাগলাম আর সেই সাদা কাপড় পরা কে যেনো জোরে চিৎকার দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।আমরা সেই রাতে একটু ভয়ে ভয়ে কাটালাম।তারপরের দিন আমরা বাড়ি যাবো বলে স্থির করলাম।আমরা নীচে গেলাম।আজকেও শুনতে পেলাম কে যেনো মন্ত্র পড়ছে।আমরা এবার সেই রুমের কাছে গিয়ে বললাম কে ঐখানে?? ভেতর থেকে কোনো জবাব এলো না। মন্ত্র পড়ার শব্দ হচ্ছে।এবার একটু জোরে বললাম, কে ঐখানে?? এবার দেখলাম যে, দরজাটা খুলে গেলো।আমরা ভেতরে গিয়ে দেখলাম, হাজার হাজার মানুষের মতো প্রানী দাড়িয়ে আছে আর সবাই দেখলাম অন্যদিকে ফিরে আছে।আমি আরেকটু সামনে যেতেই তাদের মধ্যে একজন পেছনে ফিরে আমার দিকে তাকালো।আমি দেখলাম, তার মুখ কি বীভৎস, আর দাঁত-গুলো সব বড় বড়।সেই দাঁত থেকে রক্ত পড়ছে। সে আমাদের বললো, তোদের এতো বড় সাহস, তোরা আমাদের এলাকায় এসেছিস!! তুই কি জানিস আমি কে!! আমি এই জ্বীনেদের বাদশাহ, আমি চাইলে তোদের এক্ষুনি মেরে ফেলতে পারব।সে একজনের নাম ধরে ডাক দিলো আর তাদের মধ্য হতে একটা ছেলে আসলো।এবার জ্বীনেদের বাদশাহ তার মাথাটা ধরে মোচড় দিয়ে গলা থেকে আলাদা করে দিয়ে হাতে নিলো আর সেই ছেলেটার গলা হতে অনবরত রক্ত পড়তে লাগলো। তারপর মাথাটা এক স্থানে রেখে সেই ছেলেটার দুই হাত ধরে টান দিলো আর সাথে সাথে তার হাত ছিড়ে গেলো।তারপর দুই দাঁত দিয়ে তার হাঁড় খেতে লাগলো।আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেলো।আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার তিন বন্ধুই সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে।আমি এবার জোরে আল্লাহু বলে সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেলাম।যখন আমি উঠলাম তখন দেখি আমি সেই রুমটার বাইরে এবং সেই রুমটা লাগানো।পাশে দেখলাম আমার তিন বন্ধু পড়ে আছে। আমি তাদের মুখে পানি ছিটা দিলাম।আস্তে আস্তে সবাই উঠে পড়লো। আমি বললাম সবাই দ্রুত রেডি হও, এই জায়গায় আমি আর এক মুহূর্তও থাকতে চাই না।সবাই দ্রুত রেডি হয়ে নিচে গেলাম।নিচে গিয়ে শুনলাম সেই আর্তনাদ এখনো হচ্ছে।কিন্তু আমি সেই দিকে না গিয়ে বাড়ির দরজার কাছে গিয়ে দেখি দরজা আটকানো।আমি ভয় পেলাম।আমি দরজা খোলার চেষ্টা করলাম কিন্তু খুললো না। আমি ভাবলাম, আমরা মনে হয় আর এখান থেকে বের হতে পারবো না।শেষে আমি আল্লাহু আকবার বলে আরেকবার চেষ্টা করলাম।এবার দেখলাম দরজাটা ভেঙে পড়ে গেলো।আমরা দ্রুত বের হয়ে গাড়িতে উঠলাম আর বাড়ি চলে আসলাম।বাড়ি আসার দুই-দিন পরে আমাদের সবার প্রচন্ড জ্বর আসে।আর সেই জ্বর কমতে ২ মাস সময় লাগে।এরপর থেকে আর কোনোদিন আমরা এইসব জ্বীন দেখার ভ্রমণে যাইনি।(সমাপ্ত) (বিঃদ্রঃ গল্পটি কোনো জায়গা থেকে কপি করা না, সব নিজের কল্পনা থেকে লেখা)[ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমাপ্রার্থী]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now