বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকের সকালের মনোরম দৃশ্য দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।পূর্ব দিক থেকে সূর্যের লাল আভা বের হচ্ছে।বিভিন্ন রকমের পাখি নিজস্ব মধুর কন্ঠে কিচির-মিচির করছে।চারদিকে স্তব্ধতা বিরাজ করছে।কোনো শব্দ দূষণ নেই।প্রকৃতির ঠান্ডা হাওয়া ও মনোরম পরিবেশ সকলের মনকে সতেজ করে তোলে।এমন সময় হিমু খালি পায়ে রাস্তায় হাটাহাটি করতে বের হয়েছে।সে প্রকৃতিকে উপভোগ করছে।
তার নেই কোনো দুশ্চিন্তা, নেই কোনো সমস্যা।সে আপন মনে প্রকৃতির ঠান্ডা বাতাস ও মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে করতে চলেছে অজানা পথে।এমন নিস্তব্ধ পরিবেশে হঠাৎ করে একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।হিমু চারপাশে তাকিয়ে দেখে কোনো কুকুরের চিহ্ন নেই।তাই সে আবার হাটতে লাগলো।যেই একটু এগিয়ে গেলো সেই কিছু একটার সাথে ধাক্কা লাগলো।
হিমু যদিও একটু অন্যরকম।তার নেই কোনো সমস্যা, নেই কোনো জ্বালা।সে তো বেকার, চাকরী করার কোনো ইচ্ছা নেই।সারাদিন ঘুরে বেড়ানো তার কাজ।আর সে মেসে থাকে।লোকজন যদিও তার সাথে তেমন একটা মিশতে চায় না।আবার কেউ কেউ অজান্তেই মিশে যায়।যাইহোক হিমু সামনে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই।কিন্তু সে তো একটু আগেই কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেলো।
সে কিছুটা চিন্তা করে চারপাশে তাকিয়ে দেখলো কিন্তু তার চোখে কিছুই আটকালো না।এবার সে নিচে তাকিয়ে দেখে একটা কুকুর তার দুই পায়ের মাঝখানে।হিমু সরে আসলো।কুকুরটাও তার পিছনে আসতে লাগলো।হিমু আস্তে আস্তে হাটতে লাগলো।কুকুরটাও তার সাথে হাটছে।কিন্তু হিমুর নেই কোনো ভয়, নেই কোনো ডর।তাই হিমু তার আপন গতিতে হাটতে লাগলো আর পরিবেশ উপভোগ করতে লাগলো।
শেষে কুকুরটা কিছু না করে হিমুর দিকে দাঁত কেলিয়ে চলে গেলো।হিমু এতে কিছুই মনে করলো না।সে চলতে লাগলো।চলতে চলতে দেখলো কয়েকটি ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে খেলা-ধুলা করছে।হিমু কিছুক্ষন তাদের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।সেই ছেলে-মেয়েরা হিমুর অস্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে থাকা দেখতে পেয়ে তার কাছে গেলো।তারা বললো, এইযে ভাই আপনি আমাদের দিকে এইভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেনো!!
হিমু বললো, আমি যেইভাবেই তাকায় না কেনো, তোমাদের কোনো সমস্যা আছে?? তারা বললো, আছে, আমাদের খেলা-ধুলায় ব্যাঘাত ঘটছে।হিমু বললো, আমি তো তোমাদের খেলা-ধুলায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছি না, আমিতো শুধু তাকিয়ে ছিলাম।তাদের মধ্যে একজন বললো, ভাই আপনার দাড়ি আর চুল এমন উসকো-খুসকো কেনো?? কোনোদিন চুল-দাড়ি ছাটান নি?? বলেই তারা সবাই হাসতে লাগলো।হিমু বললো, তোমরা বড়দের সাথে ভালো-ভাবে কথা বলা শেখো।বলেই আবার হাটতে লাগলো।
একটা ছেলে তার সামনে দাড়িয়ে পথ আটকালো।হিমু প্রকৃতি উপভোগ করছিলো।তাই সামনে কি আছে তার দিকে খেয়াল রইলো না।হিমু হাটতে হাটতে সেই ছেলেটাকে ধাক্কা দিলো।সাথে সাথে ছেলেটা পড়ে গেলো আর কান্না করতে শুরু করলো।ছেলেটার কান্নার আওয়াজ শুনে তার মা দৌড়ে আসলো।এসেই হিমুকে বললো, আপনি আমার ছেলেকে ধাক্কা দিলেন কেনো?? হিমু বললো, আপনার ছেলে আমার সামনে এসে দাড়িয়েছে, আমার সামনে সে এভাবে দাড়ালো কেনো??
ছেলেটার মা আর কিছু বললো না, মনে মনে ভাবলো এই লোকটা আসলেই একটা পাগল। সামনে কি আছে সেটাই যদি না দেখে চলে।একটা ছেলে তার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো, আপনার নাম কি??
সে বললো,
--আমার নাম হিমু--
--করিনা আমি কিছু--
--অনেকেই বলে আমার কথা কটু--
--শুধু আমি হাটি--
--পায়ের নিচে থাকে মাটি--
--সব কিছুর জবাব দিতে পারি--
--তাই কেউ করতে চাই না কথা কাটা-কাটি--
--কামাই না আমার দাড়ি--
--তোমার কি সমস্যা জানি--
সবাই তো অবাক হয়ে হিমুর দিকে তাকিয়ে থাকলো আর বললো, হিমু ভাইয়ের আগমন, তালি দিয়ে স্বাগতম।সবাই একটা বড়ো-সড়ো তালি দিলো।আর বললো, আপনিই তাহলে সেই হিমু, যার অনেক নাম-ডাক শুনেছি।হিমু কিছু মনে না করে চলতে লাগলো।(সমাপ্ত)
[এটা শুধু মজা করার জন্য, কেউ সিরিয়াসভাবে নিবেন না(বিশেষ করে সাইম ভাই)]{হিমু চরিত্রের মতো না হলে আমার কোনো আপত্তি নেই কারন এটা শুধু মজার জন্য}
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now