বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো আমরাও প্রতি কোরবানির ঈদে কয়েকটি ভাগে গরু কোরবানি দিয়ে আসছি। কিন্তু গতবার ঈদে বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন যে এবার আর ভাগে কোরবানি দিবেন না। এবার ছাগল কোরবানি দিবেন। প্রস্তাবটা আমার পছন্দ হলো। এবার তাহলে কষ্ট কম হবে। কিন্তু সেটা যে এভাবে পোসায় যাবে তা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। সে যাই হোক ঈদের কিছু দিন আগে বাবা হাট থেকে একটা ছাগল কিনে আমার হাতে দিয়ে সেটাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বললেন। এ আর এমন কি কাজ। তবে রাস্তায় যেতে যেতে যার সাথে দেখা হয় সে ই জিজ্ঞেস করে-এই ছোকরা কতো নিল রে?
আমি জীবনে এক প্রশ্নের এত বার উত্তর দিয়েছি কিনা ঠিক ঠাওর করতে পারছি না। তবে সেটা কোনো ব্যাপার না। আসল কাহিনি তো ঘটলো তখন যখন নিলুর সাথে দেখা হয়ে গেলো। সেই মেয়ে যার পেছনে আমি গত তিন মাস ধরে ঘুরছি কিন্তু সে আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। তাকে দেখেই আতেন মার্কা একখানা হাসি দিলাম। তারপর তার মুখ ভেংচির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এর মধ্যেই কখন যে ছাগল টা হাত থেকে ফুসে গেছে তা টেরই পাইনি।টের পাবই বা কিভাবে আমি তো নিলুর রূপে বেহুশ ছিলাম। নিলু তখন আমার হুশ ফিরিয়ে বলল-আপনার ছাগল তো ছুটে গেছে।
-ও ছুটে গেছে। যাক গে.....অ্যা.... বলে কি? দৌড় দিলাম ছাগলের পিছনে। এই দাড়া কই যাস দাড়া বল্লাম। ইত্যাদি ইত্যাদি যা হাবিজাবি মুখে আসে বলতে লাগলাম। তবে যা ই হোক আজকে নিলুর মুখ ভেংচির বদলে তার মিষ্টি মুখের হাসি টা দেখতে পারলাম। কিন্তু সেটা বড় কথা নয় বড় কথা হলো ছাগল টা ধরতে হবে।কিন্তু আমার তো ছাগলে বিষয়ে কনো অভিজ্ঞতা নাই। ছাগলটা দৌড়াতে দৌড়াতে এক বাগানে পদার্পন করলো। যেখানে কিছু বড় ভাই আরাম করে সিগারেট পান করছিলেন। তাদের খুব ভালো হলো তারা এখন মনের খোরাক মেটানোর বস্তু পেয়ে গেছেন। আমার আর ছাগল টার দৌড় প্রতিযোগিতা তাদের বেশ মজা দিয়েছিল বোঝা যায়। অথচ কেউ একবারও সাহায্য করতে আগালো না।কিছু সময় পর তাদের মনের খোরাক সম্পূর্ণ হয়েছে জানতে পেরে ছাগলটা এক ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় হানা দিতে গেল। প্রথমেই কিছু মহিলার গোল মিটিংএ ঝাপিয়ে পড়লো। আর মহিলারা মুখ থেকে ফুলঝুরি গুলা আমার উপর ঝাড়তে লাগলেন। কোনো মতে সয়ে নিলাম ব্যাপারটা।কিন্তু পরেরটা আর সইতে পারলাম না।এক লোক আমার উপর সহানুভূতি দেখানর খাতিরে আমাকে কিভাবে ছাগল ধরতে হয় তা শেখাতে লাগলেন। প্রথমেই বললেন -পেছন দিক থেকে গিয়ে ব্যাটা কে ঝাপটে ধরো। তার কথা অনুযায়ী কর্মে যখনই লাফ মারলাম ছাগলটা দৌড় মারলো আর আমিও সোজা কাদার উপর। আমার মুখে কাদার তৈরি কিছু দাঁড়ি শোভা পাচ্ছিল। লোকটা বুদ্ধি দিয়েই খালাস। অথচ নিজে একবারও সাহায্য করতে আসলো না। এই ব্যাপাটা হজম করতে কষ্ট হলো। এবার ছাগলটা আমার অসহায়ত্বের সুযোগটা কজে লাগালো। সে এবার এক কচু বাগানে ধুকে পড়লো। আমিও কিছু না ভেবেই ধুকে পড়লাম। কিছু কচু ডাল ভাঙার পর ঠেলাটা টের পেলাম। তখন কোন হাতে চুলকাবো আর কোন হাতে ছাগল ধরবো তার জন্য নির্বাচন এর ব্যাবস্থা করতে অসুবিধা হচ্ছিল। তখনই এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল। তিনি আমাকে ছাগলটা ধরতে সাহায্য করেছিলেন। যেটা নিয়ে পরে বিজয়ীর বেশে বাড়ি ফিরেছিলাম। বাড়ির সবাই তো তখন আমাকে নিয়ে হাসি তামাশায় মেতে উঠল। মা তখন আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। এটা নিয়ে মন খারাপ করিস না। এই কথাটার প্রমাণ পেলাম ঈদের দিন। ঈদের কাজকর্ম সেরে বিকালে ঘুরতে বের হলাম আর দেখা হয়ে গেলো নিলুর সাথে যার সাথে পুরা বিকালটা ঘুরেফিরে বেড়িয়ে ছিলাম। আর আগামীতেও এভাবে ঘোরার সপ্ন দেখেছিলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now