বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলে মারামারি

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বকুল রায় (০ পয়েন্ট)

X স্কুলে মারামারি করাটা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছিলো। আগে এর কারণ নিজেকে রক্ষা করা ছিল। কিন্তু পরে যেন অভ্যাস হয়ে গেলো। প্রথম যখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হলাম, তখন অনেকের সাথে বন্ধুত্ব হয়। বিষ্ণু, গোপাল, কাশেম, সিরাজুল, আইয়ুব, মধু সহ আরো অনেকে। তো একদিন দেখি একটা কুচকুচে কালো মেয়ের নাম সখিনা। তো তার নামটা শুনে আমার একটা গান মনে পরলো। 'অল্পনা বয়সের সখিনা ছেড়ি, আমার মনটা কেন করলি চুরি, সত্যি কইরা বলনা ছেড়ি গো, কোন জেলায় বাড়ি!!' একি কান্ড! গানটা দেখি আমার মুখ দিয়ে বেড়িয়ে গেছে! এখন কি হবে? কি আর হবে, মেয়েটা তার গাধামার্কা ভাইয়াকে ডেকে আনলো। গাধাটা এতো বড় হয়ে গেছে, তাও ক্লাস ওয়ানে পড়ে! ' ভাইয়া, দেখ এই ছ্যাড়াটা কি গান কয়?' -- সখিনা বলল। ' কি গান কয়?' ' কয় যে অল্পনা বয়সের সখিনা ছেড়ি! কথাটা শুনে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকলো গন্ডারটা। ভাবলাম আমাকে এসে মারবে। কিন্তু না। এসে চোখ রাঙিয়ে বললো, আজ স্কুল ছুটির পর তোর কি অবস্থা করি দেখিস! একথা বলে চলে গেল। পরে যথানিয়মে স্কুল ছুটি হলো। বাইরে এলাম। কিন্তু ও কিছু করলো না। কিছু দূর আসার পর ও আমাকে কয়েকটি এলোপাথাড়ি ঘুসি মেরে ভো দৌড়! আমি তো কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে এলাম। তখন মা আমাকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে হেডস্যারের কাছে নালিশ জানিয়ে এলো। পরদিন ওর কোনো বিচার করা হলো না। আর স্কুল ছুটির পর ওইদিনও ও আমাকে ঘুসি মেরে চলে গেল। মা ওইদিনও হেডস্যারকে গিয়ে বললো। পরদিন ওকে কান ধরে নিলডাউন করে রাখা হলো। আর ক্লাশের শেষে ও আমাকে বললো যে ও আজও আমাকে মারবে। তখন আমি আমার অন্য বন্ধুদের বললাম। ওরা বললো দেখা যাবে। আগে স্কুল ছুটি হোক। স্কুল ছুটি হলে কাশেম, বিষ্ণু, আইয়ুব, মধু সহ কয়েকজন বন্ধু নিজের বাড়ি না গিয়ে আমার চারিদিকে গোল হয়ে ঘিরে আমাকে বাড়ি পৌছে দিতে থাকে। কাশেম বলে, কিরে মারামারি করবি? সে চুপ থাকে। যখন গন্ডারটার আর আমার বাড়ি আলাদা রাস্তায় পরলো তখন বন্ধুরা চলে যেতে থাকে। তা দেখে গন্ডারটা আমার দিকে আসতে থাকে। বিষ্ণু পেছন ফিরে দেখে চিৎকার দিয়ে বলে, ওই দেখ! সবাই দেখে দৌড় লাগালো। রমজান গন্ডারটা তাদের দৌড়ে আসা দেখে লাগালো এক ভোঁ দৌড়! সেই দৌড়ের পর তাকে আর স্কুলের সীমানায় দেখি নি। সেদিন থেকে ওর লেখাপড়ায় পূর্ণভাবে ট্রাফিক জাম লেগে যায়। এরপর থেকে আর অন্য কারো হাতে মার খেতে চাইলাম না। নিজে সাহসী হলাম। নিজেকে শক্ত করলাম। যখন ফুটবল খেলতাম, তখন কারো হ্যান্ডবল হলে আমি বলের সামনে দাড়িয়ে থাকতাম। এরপল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরার সময় একজনের মাথা ফাটিয়ে দেই। আসলে আমি ইচ্ছাকরে ফাটাই নি। তখন স্কুল নতুন আরেকটা বিল্ডিং তৈরির জন্য ইট টুকরা করে রাখা হয়েছিলো। আমি ইটের টুকরা দূরে ছুড়তে ছিলাম। কিন্তু ভূলে একটা টুকরা অন্যদিকে চলে যায়। সেখানে তৃতীয় শ্রেণির একটা মেয়ে দাড়িয়ে ছিলো। তার মাথায় লাগে। মাথা ফেটে টোপ টোপ করে রক্ত পরতে থাকে। আমি দৌড়ে গেলাম। দেখি মেয়েটার চোখের মণি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে! আমি ভয় পাই। তখন অনেকেই চলে আসে। রেখা ম্যাডাম এসে মেয়টাকে ধরে। আইয়ুর স্যার ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসে। মাথায় একটা ব্যান্ডেজ করে দেয়। কিন্তু আমার চিন্তা মেয়েটার চোখ ফ্যাকাশে হলো কেন? পরে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। রেখা ম্যডাম ও আইয়ুব স্যারের প্রিয় ছাত্র ছিলাম তো! পরে কিছুদিন পর মেয়েটাকে দেখি যে বাস্তবেই ওর চোখের মণি ফ্যাকাশে। এরপর তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলাম। এবার আঘাত করলাম আমার বন্ধু সবুজকে।টিফিন চলছে। সবাই মাঠে। আমি সহ কয়েকজন রুমে। আমি রুমের এককোণ থেকে অন্য কোণে দৌড়াচ্ছি। মুখে ভূউউউউ শব্দ করছি। মানে আমি গাড়ি চালাচ্ছিলাম। গাড়ি তো ভালোই চলছিলো। কিন্তু বাধা হলো সবুজ। সে দুটো বেঞ্চের দুমাথায় পা রেখে বললো যে, তোর গাড়ি আমার পায়ের নিচে দিয়ে নিয়ে যা। -- না, তুই সর। কিন্তু সে সরলো না। ওকে ধাক্কা দিয়ে নামালাম। তাই সে ক্ষেপে গেছে। সে আমাকে ধরতে এলো। আমিও ধরলাম। অন্য বন্ধুরা হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিতে থাকলো। গোপাল বললো, দেখি কর শক্তি বেশি। দুজনে মারামারি করতে করতে হঠাৎ সবুজ নিচে পরে গেলো। আর সে কাঁদতে লাগলো! এরপর চতুর্থ শ্রেণির কথা মনে নেই। পঞ্চম শ্রেণিতে রাকিব আর আমি নিয়মিত মারামারি করতাম। গোপাল কি সব ডব্লিউ ডব্লিউ দেখে, আর স্কুলে এসে বলে লাগ দেখি। তুই রোমান তুই জনসিনা !! রাকিব আর আমি দুজনে সমান ছিলাম। অনেক চেষ্টার পরও কেউ কাউকে হারাতে পারতাম না। মারামারি করতে করতে দুজনে ধপাস্ ধপাস্ করে পাকার উপর পরে যেতাম। সবাই হাসতো আর হাততালি দিতো। আর আমরা তো ঘেমে একাকার হয়ে যেতাম। স্যার এলে আমরা দৌড় টিউবওয়েলে গিয়ে পরিষ্কার হয়ে আসতাম। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণিতে অন্য স্কুলে গেলাম।গোপাল আবার আমার আর রাকিবের মধ্যে মারামারি বাধানোর চেষ্টা করতো। একদিন আমার মন ভালো ছিল না। গোপাল এসে মারামারি শুরু করতে বলে। মেজাজটা গেলো বিগড়ে। কিছু না বলে ওর কোমর ধরে ঘাড়ের উপর তুললাম। আর নিচে পাকার উপর ওকে আছাড় মারলাম। এতে অন্য সবাই হকচকিয়ে যায়। গোপাল নিচেই পরে থাকে। আমি ওকে তোলারও চেষ্টা করলাম না। এরপর সপ্তম শ্রেণিতে। আমি বসে আছি। অষ্টম শ্রেণির একটা ছেলে এসে কি একটা বাজে বিষয় নিয়ে আলাপ শুরু করেছে। আমি রেগে কী একটা বলে ফেলি। সে তা শুনে আমার মাথায় একটা চাটি মারলো। আমার তো মেজাজ বিগড়ে গেলো। কয়েকটা ঘুসি চালালাম। এরপর সে গিয়ে তার আরো বন্ধুদের নিয়ে আসে। আমার বন্ধুরাও তৈরি। দুদলই ভীষন গরম! কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত স্যার এসে পরায় মারামারি বন্ধ হলো। স্যার সব শুনে সেই ছেলেটাকে বাজে আলাপ শুরু করার জন্য একশবার কানধরে উঠবসের শাস্তি দেয়। অষ্টম শ্রেণিতে বিধান নিজেকে শক্তিশালী মনে করতো। যাকে তাকে বলতো যুদ্ধ করবি? আমার কাছেও আসতো। ওকে মেরে অনেক মজা পেতাম। নবম শ্রেণিতে একদিন আমাদের ফার্স্ট বয়কে মারি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওকে ফার্স্ট বয় দেখে আসছি। নাম মমিনুর। একদিন অ্যাসেম্বলি শেষে রুমে না গিয়ে বাইরে দাড়ালাম। ওও দাড়ালো। আমি একটু ওর পিছনে গিয়ে হাত দিয়ে স্পর্শ করে সরে গেলাম। সে বললো, তোর মারামারি করার খুব শখ! -- তুই তাহলে দেখেছিস? -- দেখবো না মানে। চল ওই রুমে। এখন ওখানে ক্লাস নাই। -- আরে দরকার নাই। -- তার মানে তোর শক্তি নাই! অগত্যা গেলাম মারামারি করতে। কিন্তু কে যেন আমাদের পিছনে এসে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি কিছুক্ষণ হাতের আরাম করলাম। পরে সে ছেড়ে দিতে বলে। দিলাম। কিন্তু বাইরে যাওয়ার উপায়? দরজায় লাথি দিলাম। কাজ হলো না। দরজার বাইরে কেউ নেই। সে উপায় বের করলো। এরুমের দেয়াল পেরিয়ে অন্য রুমে গিয়ে বের হলে হবে। --কিন্তু কাজটা করবে কে? -- আমি উপায় বের করেছি। সুতরাং কাজটা তুই করবি। এতোক্ষনে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। তাই একটা বেঞ্চের উপর দাড়িয়ে লাফিয়ে দেয়াল ধরে টপকে অপর রুম দিয়ে বের হলাম।। আর দরজাটা খুলে দিতেই সে আরামে বের হলো। আর ফ্রেস হয়ে ক্লাসে গিয়ে অবস্য স্যারের একটু পালিশ খেয়েছি!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now