বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১ম পর্বঃ- নীল পরীর স্বপ্ন
রাত প্রায় ৩টা। কানে ইয়ারফোন দিয়ে বেলকনিতে বসে গান শুনছি। হটাৎ নটিফিকেশন আসলো। " Nill Pori wants to be your friend"। প্রোফাইলে ঢুকে দেখি এক ঘন্টা আগে প্রথম প্রো পিক আপলোড দিছে, সেইটাতে কোনো লাইকও নাই। বুঝতে বাকি রইলো না যে এইটা নতুন কারো আইডি। পুরনো অভ্যাসবশত মেসেজ দিলাম।
আমিঃ Do you known me?
সেঃ না।
আমিঃ তাহলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিলেন কেন?
(মেসেজ সিন করছে, বাট কোনো রিপ্লে নাই)
আমিঃ ধুর বাল
সেঃ ধুর বাল টু
এইবার শিউর হইলাম, নিশ্চয় এইটা কারো ফেইক আইডি। আমার সাথে হয়তো মজা করছে।
আমিঃ কে তুই ভাই? সত্যি কইরা বল।
সে একটা ছবি পাঠাইলো, শুধু হাতের ছবি। হাতে সিগারেট ধরা। যেইমাত্র ধরে নিব যে এইটা ফেইক আইডি, হঠাৎ করে হোচট খাইলাম। একি, এটা তো মেয়ে মানুষের হাত। মেসেজ দিলাম,
আমিঃ এটা ডাউনলোড করা পিক, তাই না?
রিপ্লেতে আরেকটা ছবি পাঠাইলো। আগের ছবির মতোই, পার্থক্য শুধু এইটুকু যে হাতের উপড় কলম দিয়ে লেখা, "এইটা ডাউনলোড করা পিক না।" এরপর আর সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই যে এইটা সত্যিই মেয়ে।
আমিঃ আপনি স্মোক করেন?
সেঃ হু।
আমিঃ তাই তো বলি, সিগারেটের দাম হঠাৎ বাড়লো কেন!
আপনারা মেয়েরা তো জিন্স, শার্ট, টি-শার্ট কাইরা নিছেন। দয়া করে সিগাটের কে মুক্তি দেন।
সেঃ আপনি কই থাকেন?
আমিঃ ৩০৭ এ । আপনি?
সেঃ ৩০৭ এ মানে?
আমিঃ STA-307
সেঃ বুঝিয়ে বলেন।
আমিঃ শহীদ তাজউদ্দীন আহম্মেদ হল, রুম নং ৩০৭ (ডুয়েট)
সেঃ আপনি ডুয়েটে পড়েন?
আমিঃ হুম, একটা কথা বলেন। আপনি স্মোক করেন কেন?
সেঃ অনেক বড় ইতিহাস। শুনবেন?
আমিঃ হুম।
সেঃ কল দেই?
আমিঃ দেন।
মেসেঞ্জারে কল আসলো। রিসিভ করলাম। সুন্দর করে সালাম দিল। জবাব দিলাম। সে বলতে শুরু করলো।
সেঃ আমার নাম জাকিয়া। বাসা বি.বাড়িয়া। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে, পড়াশুনা করছি এসিয়ান স্পেসিফিক এ। এই আইডিটা একটু আগেই খুলেছি। সত্যি কথা বলতে "চলো বদলে যাই" গ্রুপে আপনার একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে আপনি খুব সুন্দর করে একটা মেয়ের সবকিছু হারানোর পরও কিভাবে বেচে থাকতে হয় সে বিষয়ে লিখেছিলেন। আপনি কি ঘুমাই গেলেন?
আমিঃ না, ঘুমাইনি। শুনছি, বলেন।
সেঃ আপনার সেই লেখার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলতেই আমি আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েছি।
আমিঃ বিরুদ্ধে বলবেন? আচ্ছা বলেন।
সেঃ আমি যখন প্রথম ভার্সিটিতে ভর্তি হই তখন একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। সে জাবি তে পড়তো। আমার বাবা কুয়েত থাকে। টাকা পয়সা যখন যা চাই তাই পাই। ওর বাবা কৃষক ছিলেন। ঠিকমত ওর বাসা থেকে টাকা আসতো না। আমি টানা দুই বছর ওরে প্রত্যেক মাসে আমার হাত খরচ থেকে টাকা বাচিয়ে ৫০০০/- করে দিয়েছি। তার খুব ইচ্ছে সে বিসিএস ক্যাডার হবে। কত স্বপ্নই না দেখাতো সে আমাকে। আপনার কি ঘুম পাচ্ছে?
আমিঃ আরে না। বলেন।
সেঃ এর মধ্যে সে একদিন খুব ফোর্স করতে থাকে শারিরীক সম্পর্ক করার জন্য। আমি রাজি না হওয়াতে সে আমার সাথে এক সপ্তাহ কথা বলেনি। সেই এক সপ্তাহ যে আমার কিভাবে কেটেছে তা বলে বুঝাতে পারবো না। রিলেশন টিকিয়ে রাখার জন্য আমি রাজি হয়ে যাই। আমরা তো কিছুদিন পর বিয়ে করবই। তারপর সে কি করেছে জানেন?
আমিঃ কি?
সেঃ ৩৭ বিসিএস এ ক্যাডার পাওয়ার পর সে আর আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করে না। শুনলাম সে নাকি অন্য কাউকে বিয়েও করেছে। এখন বলেন, কিভাবে আমি স্বাভাবিক থাকবো? যার জন্য সব উজার করে দিয়েছি, সে তো ছেড়ে চলে গেছে।
আমিঃ এখন আবার সবকিছু নতুনভাবে শুরু করেন।
সেঃ নতুনভাবে শুরু করতে চাইলেই কি হয় বলেন! এখন কি কেউ আমাকে গ্রহণ করবে?
আমিঃ কেন করবে না? কারো প্রথম প্রেম হওয়ার চাইতে শেষ প্রেম হওয়া কোটি গুণ ভালো।
সেঃ আপনি তো অনেক বড় বড় কথা বলেন, পোস্ট দেন। আপনার পোস্ট পড়ে যতদুর জেনেছি আপনি এখনও সিঙ্গেল। আগে রিলেশন দুইটা করে ছ্যাঁকা খেয়েছেন। আপনি আমাকে গ্রহণ করবেন?
আমিঃ আপনাকে চিনি না, জানি না। হুট করে কি কিছু বলা যায়?
সেঃ আসল কথা বলেন। এইটাই বাস্তব। বিয়ে করার জন্য সবাই ভার্জিন মেয়েই খোঁজে।
আমিঃ আপনি এখন কোথায় থাকেন?
সেঃ মিরপুর, কেন?
আমিঃ ২৩ তারিখে আমার পরীক্ষা শেষ। ২৪ তারিখে কোচিং এ পরীক্ষা নিয়ে ২৫ তারিখ আপনার সাথে দেখা করবো। ঠিক আছে?
সেঃ সিরিয়াসলি বলছেন? নাকি মজা করছেন?
আমিঃ ২৫ তারিখ সকাল দশটায় দিয়া বাড়ীতে আপনাকে যেন পাই। এখন আপনার ফোন নাম্বারটা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর হয়ে গেছে। গুড নাইট। বাই।
বিছানাতে গিয়ে ঘুম আসছে না। সামনের হিট ট্রান্সফার পরীক্ষার সাথে যুক্ত হয়েছে আজাইরা এক টেনশন।
২৫ তারিখ সকালে ডুয়েট গেট থেকে উঠলাম গাজীপুর পরিবহনে। সকাল ১০ টার আগেই দিয়া বাড়ী পৌছে কল দিলাম জাকিয়ার নাম্বারে। একি, নাম্বার তো বন্ধ। এই নাম্বারেই অবশ্য দুই দিন কথা বলেছিলাম। তাহলে কি মেয়েটার সব অভিনয় ছিল! মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কোচিং এ ক্লাস না নিয়ে দেখা করতে আসলাম, অথচ তার নাম্বারই বন্ধ। ফিরে আসবো এই সময় তার কল।
সেঃ কই আপনি?
আমিঃ বট গাছের নিচে।
ঐতিহাসিক বটতলায় আমাদের দেখা হলো। সে জিন্স আর টপস পড়ে এসেছে। কুশল বিনিময়ের পর সে আমাকে বলছে,
সেঃ আপনি কি সত্যিই আমাকে গ্রহণ করবেন?
আমিঃ আচ্ছা, সেটা পরে দেখা যাবে। এখন চলেন ফুসকা খাই।
সেঃ ফুসকা না, অন্য কিছু খাবো। সাথে আসেন।
তার সাথে গেলাম, একটা চায়ের দোকানে নিয়ে গেল। "এই মামা, দুইটা বেনসন দেন আর দুইটা রং চা করেন।"...........
2nd Part Coming..............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now