বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটা জাতি কতটা বন্ধুর ও পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করে টিকে থাকতে পারে?
#রাষ্ট্র হিসেবে তুরষ্ক আগে থেকেই ছিল মার্কিন ব্লকে।
রাশিয়ার বিমান আকাশ সীমা লঙ্ঘন করায় বিনা তোয়াক্কায় সেটি ভূপাতিত করলো।
রাশিয়া-তুরষ্ক টানটান উত্তেজনা তৈরী হলো।
# মার্কিন প্ররোচনায় ক্যু সংঘটিত হলো তুরষ্কের গণতন্ত্রকে শেষ করে দিতে।
জনগণের প্রেসিডেন্ট গল্পের হিরোর ন্যায় দৃশ্যপটে হাজির হলেন। আহবান রাখলেন জনতার কাছে। সাথে সাথেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকলো, অভূতপূর্ব দৃশ্য সমূহের জন্ম দিয়ে ক্যু প্রতিহত করলো জনগন।
এরপর মার্কিনীদের সাথে নূন্যতম সম্পর্ক রেখে ভারসাম্য তৈরি করতে রাশিয়ার সাথে রাজনৈতিক বন্ধুত্ব তৈরি করা হলো।
রাশিয়াকে তুরষ্কের ভেতর দিয়ে ইওরোপে গ্যাস সাপ্লাইয়ের সুযোগ দিয়ে শত্রুতা ভুলিয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হাতিয়ে নেওয়া হলো।
মার্কিনিরা উত্তেজিত/উদ্বিগ্ন হলো। চুক্তি অনুযায়ী এফ-৩৫ ফাইটার জেট দেবেনা বলে হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা।
পাল্টা জবাব হিসেবে, মার্কিনীদেরকে তুরষ্কের মাটিতে তাদের এয়ার বেইজে রাখা পারমাণবিক বোমার স্টোরে এক্সেস দেবেনা মর্মে "ভ্রু কুঁচকে যাওয়ার মত" একটি থ্রেট দিলো তুরষ্ক।
উত্তেজনা তৈরী হলো ন্যাটো শিবিরে।
# কাতারকে রক্ষা করতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সবগুলো দেশের সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়ে তাকে প্রটেকশন দিল। কাতারকে শেষ করে দেওয়ার সেই রাজনৈতিক গেইমে পর্দার অন্তরালের প্রধান কুশীলব আমেরিকা।
# একদিকে চলছে সিরিয়ায় যুদ্ধ। ভৌগলিক ও আদর্শিক কারণে না জড়িয়ে কোনো উপায় নাই। প্রতিপক্ষ সেখানে একভাবে রাশিয়া, ইরান, আসাদ, চীন। অন্যভাবে আরেক প্রতিপক্ষ মার্কিন ব্লক।
অন্যদিকে চলছে লিবিয়ায় দ্বিতীয় সিভিল ওয়ার। সেখানেও ভূরাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে না জড়িয়ে কোনো উপায় নাই। বাহিরের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিপক্ষ সেখানে অফিসিয়ালি কেউ নাই, কিন্তু আনঅফিসিয়ালি খোদ আমেরিকা থেকে শুরু করে রাশিয়া পর্যন্ত! শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে ফ্রান্স, আমিরাত, মিশর, জর্ডানের সম্মিলিত উপস্থিতির কথা আর নাইবা উল্লেখ করলাম। এককথায় রেস্ট অব দ্যা ওয়ার্ল্ড!
# সম্প্রতি লিবিয়া ইস্যুতে তুর্কী-রাশিয়া সমঝোতা আলোচনায় অফার আসলো "আমরা লিবিয়া ছেড়ে দেবো, যদি তুমি সিরিয়া আমাদের জন্যে ছেড়ে দাও!
এখন ঠিক কর কোনটা ছাড়বা।"
টানটান উত্তেজনা! কারে থুয়ে কারে নিবে? দুটোই যে নিজেরই চোখ!
একদিকে চলছে কূটনৈতিক অভিনয়, অন্যদিকে চলছে উভয় দেশেই সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা। কারণ প্রতিপক্ষ ঠিক সেটিই করে যাচ্ছে।
# প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ না থাকলেও, পরোক্ষভাবে মুলত লিবিয়ায় তুর্কী ঠেকাতে হয়ে গেল বার্লিন কনফারেন্স।
সেই কনফারেন্সের সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলো, রাশিয়াও অমত করলো না। যুদ্ধবিরতি ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত রেজ্যুলেশন পাশ হয়ে গেল। কিন্তু দেখা গেলো ওই রেজ্যুলেশনের পরে তুর্কী বিরোধী লিবিয়ার হাফতার শিবিরে আমিরাতের পক্ষ থেকে আরো অধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র, রাশিয়ান আনঅফিসিয়াল আর্মী, অন্যান্য দেশ থেকে ভাড়াটে সৈন্য আরো বৃদ্ধি পেল!
# পুনরায় মার্কিনীদেরকে কাছে ভিড়িয়ে আনতে উপস্থাপন করা হলো লিবিয়ায় ও সিরিয়ায় "রাশিয়ান শক্তি" বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি।
পুতিনের সাথে আলোচনার সময় যেভাবে তাকে ভাব দেওয়া হয় যে আমি তোমার সাথেই আছি, মার্কিনীদের বর্তমান লিডার ট্রাম্পের সাথে ব্যক্তিগত আলোচনার সময় তাকেও আশ্বস্ত করা হয় "আমি আসলে তোমার সাথেই আছি"!
যুদ্ধের মাঠ, তাই অফিসিয়াল/আনঅফিসিয়াল সব শত্রুর বিরুদ্ধে কৌশলী (খোলাখুলি ভাবে বললে মুনাফিকী) খেলা ছাড়া কোনো উপায় নাই, কারণ এরা উভয়েই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সুযোগ বুঝে ছুরি বসিয়েছে!
তুরষ্ক রাশিয়ার দেওয়া "হয় সিরিয়া, নাহয় লিবিয়া" অফার গ্রহণ না করে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের দিকে (সরাসরি ভাবে বললে রাশিয়াকে মোকাবেলা করার দিকে) এগিয়ে গেলো!
অন্যদিকে, তুরস্কের সাথে আলোচনার পর নিজেদের পুরানা শত্রু রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন অফিসিয়ালি উদ্বেগ প্রকাশ করলো।
বিনা পুঁজিতে চতুর আমেরিকাও রাশিয়ার মোকাবেলায় তুরস্ককে সমর্থন করলো (কিন্তু অন্তরে কোন কূটনীতি আছে সেটি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা)!
# লিবিয়াতেও তুরষ্ক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকলো ইউএন রেজুলেশন অন্যান্যদের মতোই পাশ কাটিয়ে।
কোনো উপায় নেই।
থামলেই গভীর খাদে পড়ে যেতে হবে, পরাজিত হলেও গভীর খাদে পড়ে যেতে হবে!
একদিকে চলছে রাশিয়ার সাথে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বানিজ্য, অন্যদিকে চলছে দুটি ফ্রন্টলাইনে ওই রাশিয়ার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ!
একই হাত দিয়ে হ্যান্ড শেইক,
আরেক হাত দিয়ে গুলি বিনিময়!
এ এক অকল্পনীয় দৃশ্যপট!
এক অবিশ্বাস্য জটিল ফিল্ডে খেলতে গিয়ে কাউকে ডান দিক দিয়ে, কারো বাম দিক দিয়ে, কারো দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বলকে কাটিয়ে নিয়ে ম্যারাডোনা, পেলে, মেসি কিংবা রোনালদিনহোর মত বিপক্ষের গোলপোস্টের দিকে কিংবা নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে ছুটে চলা ফুটবল মাঠে সহজ হলেও রাজনীতির মাঠে এটি অত্যন্ত শক্ত নার্ভ ও "Steady intelligence" সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া সম্ভব নয়।
অনেকের অবিশ্বাসের ও অনেকের সমালোচনার ব্যক্তি, আবার অনেকেরই আস্থাভাজন নেতা রজব তাইয়েব এরদোগান সেই কঠিন ও দুরুহ মিশন নিয়ে এগোচ্ছেন।
সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে তার,
কিন্তু অন্তরে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, সেটি অন্তত তার কোনো কর্মেই খুঁজে পাওয়া যায় না।
এরদোগানের মত লোক যেখানটায় উপনীত হয়ে দুনিয়ার জীবন থেকে বিদায় নিবেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন মাহদী এসে সেখান থেকেই শুরু করলে মোটেও অবাক হবোনা।
আল্লাহ এরদোগানের সম্মান, যোগ্যতা ও আয়ু বৃদ্ধি করে দিন! মুসলমানদের প্রতিটি দেশে এমন রাষ্ট্রনায়ক দান করুন!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now