বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই দুনিয়ায় তিন ধরনের জাতি। এক যারা ঈশ্বরে বিশ্বাসী। দুই যারা শয়তানের মন্ত্র পাঠ করে। তিন যারা নাস্তিক।
গত তিরিশ শতক ধরে এদের মধ্যে বিবাদ লেগেই আছে। কেউ কারো দিকে শান্তির চোখে তাকাতে পারে না। একজন আরেকজনকে দেখলে জেনেটিক্যালি রেগে ওঠে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ঝগড়া-বিবাদ এবং যুদ্ধ।
আমার নাম ছিল শফিক চৌধুরী। মেজর শফিক চৌধুরী। কিন্তু আমার বর্তমান নাম টমাস ওরিয়ন।
আমি আগেই বলে দেই, শফিক চৌধুরী এবং টমাস ওরিয়ন দুজনেই মৃত ব্যক্তি। হ্যাঁ ভুল শুনেন নি, দুজনেই মৃত ব্যক্তি।
তাহলে আমি এই রক্ত-মাংস গড়া মানুষটি কে? আমি দুজনি। আমিই টমাস, আমিই শফিক।
আপনার কি মনে হচ্ছে আমি আপনাদের সাথে রহস্য করছি? হ্যাঁ সেটা হতে পারে। কিন্তু আসলে ঘটনাটি সত্যি।
যখন আমি শফিক চৌধুরী হিসাবে পৃথিবী নামক একটি গ্রহে ছিলাম, তখন আমি একটি মিশনে নিজের ডান হাত, একচোখ হারাই। এবং তার কিছুদিন পর আমার প্রাণটাও হারাই।
যখন আমি টমাস ওরিয়ন নামে ব্লুস্টার নামক গ্রহে ছিলাম, তখন একটি অ্যাডভেঞ্চার মিশনে নিজের ডান হাত এবং ডান চোখ হারাই। এবং তার কিছুদিন পর আমার প্রাণটাও হারাই।
আমি এখন ব্লুস্টার'-এ। আমার এই এক শরীরে দুটো মানুষের স্মৃতি রয়েছে। একটি শফিক চৌধুরী, অন্যটি টমাস ওরিয়ন।
আর এই শরীরটি হলো টমাস ওরিয়ন এর। বরাবরের মতো একটি নির্ঘুম রাত কাটালাম। আমার হাত এবং চোখ হারানোর আর্তনাদে ঘুম আর আসে না।
আমি এই ঘরে গত ১০ দিন ধরে পড়ে রয়েছি। টমাস ওরিয়ন যে এডভেঞ্চার মিশনের গ্রুপে ছিল, সে গ্রুপের পুরো সদস্য মারা গিয়েছে।
টমাস ওরিয়ন, অন্য কথায় আমাকে, একজন পথচারী মৃত্যুর সাথে লড়াই করা শরীর খুঁজে পেয়েছে।
সে পরে আমাকে পার্শ্ববর্তী চার্চে নিয়ে যায়। ব্লুস্টার'-এ কোন হাসপাতাল নেই। যখন কেউ গুরুতর অসুস্থ থাকে তাকে চার্চে নিয়ে আসা হয়। কারণ চার্চে হিলার নামক ক্লাসের মানুষ থাকে যারা অসুস্থ রোগীদের সেবা দান করে।
আসলে আমাকে যখন চার্চে নিয়ে আসা হয় তার আগেই মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। এই মৃত শরীরে ভর করেছে টমাস ওরিয়নের স্মৃতি নিয়ে শফিক চৌধুরীর আত্মা।
আমার ডান চোখ ব্যান্ডেজ দিয়ে বাঁধা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যকর ভাবে, আমি সেখানে কিছু অনুভব করতে পারছি।
গবিলিন নামক প্রাণীগুলো আমার চোখ উপড়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমি আমার অক্ষিকোটরে কিছু আছে বলে মনে করছি।
কিন্তু নড়বার শক্তি এতদিন না পাওয়ায়, এটা আসলে কি তা যাচাই করতে পারিনি। তবে আজ আমার যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
আমি আমার বাম হাত দিয়ে ব্যান্ডেজ টা সরালাম।
"আহ!!!"
খুব আস্তে একটি গর্জন দিয়ে উঠলাম। কারণ খোলার সাথে সাথে চোখ অনেক ব্যথা করতে শুরু করলো।
আসলে আমি ডান চোখ দিয়ে কিছু দেখতে পারছি না। না সেটা বললে ভুল হবে। দেখতে পারছি ঠিক ই। কিন্তু বাম চোখ দিয়ে যে দুনিয়া দেখছি ডান চোখ দিয়ে তা দেখছি না।
আমি বাম চোখ বন্ধ করলাম।
ডান চোখ দিয়ে সবুজ একটি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে পেলাম। সেখানে লিখা,
ডু ইউ ওয়ান্ট টু এক্সেস?
ইয়েস অর নো
"....."
আমি অনুভব করলাম যে এই দুনিয়াটা আমি আমার হাত দিয়ে মেনুপুলেট করতে পারব। তাই বাম হাত দিয়ে ইয়েস এর উপর চাপলাম।
কংগ্রাচুলেশন। আপনি মেশিন আই একটিভ করেছেন। আপনার প্রোফাইলে ঢুকুন।
সবুজ স্ক্রিনে এটা লেখা উঠলো।
আমি আমার হাত দিয়ে "আপনার প্রোফাইলে ঢুকুন" অংশে চাপলাম।
সেখানে হাতকাটা এক মানুষের অবয়ব দেখা গেল। লোকটির বয়স ২০ ছুঁইছুঁই। চুলের রঙ রক্তিম লাল। বাম চোখের রং লাল, ডান চোখের রং নীল। নাক তীরের মত খাড়া, ঠোঁটের কোণে অহংকারের ছাপ। কিন্তু সেখানে চেনা এক মৃদু হাসি রয়েছে। সব মিলিয়ে সুদর্শন একটি চেহারা।
এই লোকটিকে আমি ভালভাবে চিনি। এ আর কেউই না, টমাস ওরিয়ন। অন্য কথায় আমি নিজে।
এই অবয়বটির নিচে লিখা।
লেভেল: ৯
স্কিল:
-মেটাল ম্যানুপুলেটর
-শার্প শুটার
অস্ত্র:
-লেভেল-৫ পিস্তল
আইটেম বক্স:
-লেভেল-৯ অমৃত - ১০টি
সপ (লেভেল ১০ এ খুলবে)
আমি জানি না এগুলা কি। আবার আমি জানি এগুলো কি। এটা যেন আমি ফার্স্ট পারসন শুটার গেম খেলছি।
আমি অমৃতের উপর চাপলাম। সেখানে দশটির জায়গায় ৯ টি হয়ে গেল। কিন্তু তার বদলে আমি নিজের শরীরের পুরো শক্তি ফিরে পেলাম।
আমি যেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছি। এমনকি আমি যে কিছুক্ষণ আগে ব্যথায় আর্তনাদ করেছিলাম, তার কোনো ছিটেফোঁটা পর্যন্ত নেই।
মনে হচ্ছে আমি কখনো অসুস্থ ছিলামই না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমার ডান হাত যেখানে থাকার কথা সেখানে নেই।
হঠাৎ করে, ডান চোখে একটি স্ক্রীন ভেসে উঠলো।
মিশন: বাড়ি ফিরে যাও। পুরস্কার: ১০০০ হীরা।
আমি জানিনা পুরুস্কারের হীরা আসলে কি, তার পরেও আমার মন বলছে এখানে যা বলা হয়েছে আমার তা করা উচিত। সেক্ষেত্রে আমি ভালো কোন ফল আশা করতে পারি। আমার নাম টমাস ওরিয়ন। বর্তমানে আমি ব্লুস্টার গ্রহে রয়েছি। আমি যে দেশে রয়েছে তার নাম ফিনেক্স।
বর্তমানে আমি একটি সরু পথে হাটছি। চার্চে ভোরে সবার চোখ ফাকি দিয়ে আমি বের হয়েছি। একজন প্রাক্তন মেজর হওয়ার কারনে আমি ভালোমতোই জানি মানুষের চোখ আড়াল দিয়ে কিভাবে বের হওয়া যায়। কিন্তু আরেকটা জিনিস আমাকে খুব সহায়তা করেছে। সেটা হল ডান চোখের উপর যেই ম্যাপটা ভেসে উঠেছে। এটা অনেকটা গুগোল ম্যাপের মত।
এটা আমাকে চার্চের লেআউট বলে দিয়েছে। এবং যদি কোন মানুষ আশেপাশে এসেছে নীল রঙের একটি ডট ম্যাপের উপর ভেসেছে। আর সেই কারণেই হয়তো আমার এই সহজে পালিয়ে বের হওয়া।
যদি আপনাকে বলি আমি কেন পালিয়ে বেরিয়েছি, উত্তরটা হলো আমি একদিন আগেও খুব গুরুতর অসুস্থ ছিলাম, আমি হঠাৎ করে কেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম এ নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠবে। আর এ কারণে আমাকে ছাড়লেও অনেক দেরি করে ছাড়বে।
এত ভেজাল না করে চুপচাপ চলে আসাই ভালো।
যখন এ কথা ভাবছিলাম, তখন আমার ম্যাপে একটা লাল ডট দেখা গেল।
সবুজ ডট মানে বন্ধু, নীল ডট মানে বন্ধুও না শত্রুও না, আর লাল ডট মানে শত্রু।
আমি দৌড়ে গিয়ে দূরে একগাছের পেছনে পালালাম।
যখন লাল ডট আমার দৃষ্টিতে এল তখন দেখলাম এটা শিয়াল জাতীয় একটি পশু। আমার ডান চোখে আরেকটি মেসেজ ভেসে উঠলো।
সাইড মিশন: জানোয়ার কুকুর লেভেল ৭, খুন করতে পারলে ১০টি হীরা এবং এক কেজি আয়রন।
আমি আমার আইটেম বক্স থেকে লেভেল ফাইভ পিস্তলটি বের করলাম। বর্তমানে আমার যা ম্যাজিক পাওয়ার আছে, তাতে আমি আমার ম্যাজিক দিয়ে ৪০ কি ৫০ টা বুলেট তৈরি করতে পারব।
তাই আমার বুলেট কিভাবে খরচ করতে হয় তা হিসেব করে নিতে হবে।
আমার স্কিল ট্যাবে শার্প শুটার এর উপর চাপলাম। আমার ডান চোখ স্নাইপারের স্কোপ এর মত হয়ে গিয়েছে।
সেখানে আমি ক্লিয়ারলি জানোয়ার কুকুরটিকে দেখতে পারছি। শার্প শুটার ৯, ৪৫ মিটার এর মধ্যে নড়াচড়া হীন টার্গেটে ১০০ পার্সেন্ট হিট করবে।
কুকুরটি আমার থেকে প্রায় 25 মিটার দূরে যদিও কুকুরটি হাটছিল অন্যকথায় নড়াচড়া করছিল আমার শার্প শুটার অ্যাকুরেসি 100 ভাগ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ব্যাপার না, শার্প শুটার টেলিস্কোপ এর কারণে আমি এই টার্গেটটা কোনমতেই মিস করতে পারিনা।
ঠাস!!!!
বুলেটটি কুকুরটির দুচোখের মধ্য দিয়ে ভেদ করে চলে গেল।
কনগ্রাচুলেশন আপনি দশটি হীরা পেয়েছেন এবং এক কেজি আয়রন পেয়েছেন।
এগুলা আমার আইটেম বক্সে এড হয়েছে।
আয়রনের কথায় পড়ে আসা যাক। হীরা দিয়ে কি করা যায় তা জানার জন্য হীরার উপরে চাপলাম।
হীরা:
- হীরা দিয়ে সপ থেকে আইটেম কেনা যায়।
-হীরা পিসি এ কনভার্ট করা যায়। (১ হীরা=১০,০০০ পিসি)
অন্য কথায় হিরা হল আমার এই সিস্টেমের কারেন্সি। এটা দিয়ে আমি সপ থেকে আইটেম কিনতে পারব। আবার এটাকে পিসি এ কনভার্ট করতে পারব।
পিসি হলো ফিনেক্স কারেন্সি (Phoenix Currency)। ফিনেক্স দেশটির লেনদেনের মাধ্যম হল পিসি।
বলে রাখা ভালো একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয় ৩০,০০০ পিসি। আর যেখানে আমি একটি কুকুরকে এক শুটে মেরে ১ লাখ পিসি কামাই করে নিয়েছে।
আমি আয়রন বের করে দেখলাম। আমার স্টিল মেটাল ম্যানিপুলেটর, এটার কারণে আমি এই আয়রনটির আকার-আকৃতির যেমন ইচ্ছে তেমন করতে পারি। অনেকটা যেমন আমার নিজের অঙ্গের মতো।
অঙ্গ? একটা জিনিস আমার মাথায় খেলে গেল। আমার এরকম আরো কয়েকটি জানোয়ার কুকুর শিকার করতে হবে।
আর হয়তো ঈশ্বর আমার কথাই ভেবে এক ঘণ্টার মধ্যে আরো ৬ টি জানোয়ার কুকুর আমার সামনে পাঠিয়েছে।
আমার আইটেম বক্সে মোট সাত কেজি আয়রন জমা হয়েছে।
আমি তা বের করলাম। আকৃতি চেঞ্জ করে হাতের মত বানালাম। ততটুকুই বানালাম যতটুকু আমার ডান হাত থেকে খসে পরেছে। এবং সেখানে এই লৌহ হাতটি বসালাম।
আমি হয়তো কোন কিছু অনুভব করছি না এই হাত দিয়ে। কিন্তু আমি এই লৌহ হাত যেমন খুশি তেমন নাড়াতে পারছি।
আমি লৌহ হাত দিয়ে পিস্তল ধরলাম। কয়েক রাউন্ড 100% অ্যাকুরেসি নিয়ে শুট করলাম।
আমার এখন মনে হচ্ছে আমি হাতটি আমার সত্যিকার হাত থেকে ভালো ব্যবহার করতে পারব।
যদিও এই সাত কেজি হাতের ভেতর ফাঁকা জায়গা আছে। সামনে আরো জানোয়ার কুকুর মেরে আরো লোহা সংগ্রহ করবো।
তবে, পরেরবার যখন আরেকটি জানোয়ার কুকুর মারলাম, কাঠ সংগ্রহ করলাম, কাঠ এবং লোহা দিয়ে একটি স্কেটিং সু বানিয়ে ফেললাম। বাড়িতে যখন আমি অ্যাডভেঞ্চারদের সাথে হেঁটে এসেছিলাম তখন পাঁচ দিন লেগেছিল। আমি এই নির্জন সৈকতে পাঁচদিন হাঁটতে নারাজ।
তাই এই স্কেটিং সু বানালাম যাতে আমার বাড়ি ফেরার গতি বাড়ে।
আমি মাঝে মাঝে সোজা এবং মাঝে মাঝে উঁচু নিচু রাস্তায় স্কেটিং সু দিয়ে চলতে শুরু করলাম। ও হ্যাঁ মাঝে মাঝে আবার জানোয়ার কুকুর সহ আরো অন্যান্য জানোয়ার মারলাম। (চলবে) ২য় পর্ব শীগ্রই দিবো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now