বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পে গল্পে ইসলামকে প্রোমোট করব ইনশাআল্লাহ।
ইসলামাবাদ গ্রামে বেড়া উঠা প্রানচঞ্চল ছেলে সাইমুন। সাইমুন খুব ভালো ছেলে বলব না তবে কিন্তু খারাপ ও না।উড়ন্ত বয়সে পা বাড়াতেই সেই পেয়ে গেলো কিছু বন্ধু যারা ছিলো ঠিক তারই মতো।সবাই একসাথে বসত,খেতো,ঘুরাঘুরি আরো কত কি!সবাই ছিলো উজ্জীবিত। একজনের কথার মারপ্যাঁচে আরেকজনকে হারাতে না পারলেই যেন তাদের ভাত হজম হয় না।সাইমুন ও খুব অদ্ভুত।কথার চলে হাদিস, মাসআলা বলা নিয়ে যে কত বার বন্ধুদের হাসির খোরাক হইছে তা সে নিজেও হিসেব করতে পারবে না।কিন্তু তাতে কি সেই এইগুলাতে কর্ণপাত ও করতো না। তাতেই তাদের বন্ধুত্ব যেন আরও অমরত্ব লাভ করে।এইভাবেই চলতে থাকে তাদের(সাইমুন,জাহেদ,হারুন)বন্ধুত্ব। এই হাসি-খুসি ছেলে গুলোর মাঝে একদিন আধার হয়ে নেমে এলো অশ্রু।অশ্রুর কথা বলা যাক,অশ্রু ক্লাস ৯ এ পড়ে তখন তারা পড়ত ১০ মানে এস এস সি পরিক্ষার্থী। মেয়েটি ছিলো অজয়পাড়া গ্রামের,সদ্য জে এস সি পাশ করে এইস্কুলে ভর্তি হয়েছে।মেয়েটি একদিন রাস্তায় দিয়ে হেটে যাচ্ছে আর বন্ধুগুলো গল্প করতেছে।হঠাৎ চোখ পড়তেই দেখে মেয়েটি তাদের স্কুলের ড্রেস পড়ে যাচ্ছে।হারুন বলল মানে কি এই মেয়েটিকে তো কোনো দিন এই স্কুলে দেখি নি,আমাদের স্কুলে এই মেয়েটাকে কে!কে এইমেয়েটা?এমনভাব নিয়ে সেই কথা গুলো বলছে যেন স্কুলের সব মেয়েগুলা তার চিনা লাগবে।সাইমুন যেন দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে আর এমন অদ্ভুত ভাবে বলতেছে যেন মেয়েরা তার কাছে কিছুই না।অবশ্যই ওর কথা আলাদা ও মনে করে মেয়ে /প্রেম আসলে সব বিয়ের পরেই আসবে এর আগে এইগুলা হলো যাস্ট অন্যায়।মাঝে মাঝে এমন সুশীল ধরনের এই আচার ব্যবহার বন্ধুদের যেন বড্ড বিরক্তিই লাগে জাহেদ,হারুনের।আচ্ছা যা হোক, জাহেদ কিন্তু মেয়েটিকে যেন ভুলতেই পারছেনা, বার বার এনিয়ে বেনিয়ে মেয়েটির কথাই আজকে তার আলোচনার বিষয়।কত সুন্দর মেয়েটি,মানুষ এত সুন্দর হয়!সেই যেন কল্পনার সাগরেই পড়ে আছে আর এইসব দেখে সাইমুন বিরক্তির সুরে বলতেছে এমন আজব ভাবে কথা বলতেছস তুই যেন জান্নাতের হুরের কথা শুনিস নাই।আরে বেটা জান্নাতের মেয়েরা একটু থুথু যদি পৃথিবীতে নিক্ষেপ করত তাহলে পুরো পৃথিবী গ্রানে ভরে যেত,মেয়েটি সুন্দর না অসুন্দর তোর দরকার কিরে?তোর এইসব বিশেষণ আমার ভালো লাগছেনা না থামবি এবার! বিরক্তিকর সুরে বলল সাইমুন।
কয়েকদিন পর.....
জাহেদ ইতিমধ্যে মেয়েটির সব খোঁজ -খবর নিয়ে যেন সুখের স্বর্গে বাস করতেছে।মেয়েটি কোন গ্রুপে পড়ে, রোল কত,বাড়ি সব যেন এখন তার কাছে আয়নার মতো হয়ে গেছে।জাহেদ শুধু সুযোগ খুজে আর বাহানা দিয়ে মেয়েটিকে দেখতেই থাকে। কখন যে মেয়েটি গ্রুপ ঘন্টা করার জন্য সামনে দিয়ে যাব,কখন রাস্তা দিয়ে যাবে ঐ রাস্তায় ও পথ চেয়ে থাকে আবার টিপিন দিলে মেয়েটি যেই দোকানে যেত সেই অকারণেই ঐখানে ভিড় জমাতো।এইভাবে কয়েকদিন পার হতেই না হতে জাহেদ যে কিভাবে মেয়েটির সাথে রিলেশন এ জড়িয়ে গেছে তা তার বন্ধুরাও জানে না,এমন কি স্বয়ং সাইমুন ও। মেয়েটির সাথে যখন জাহেদের রিলেশন এর কথা সাইমুন শুনতে পায় সেই কোনো ভাবেই মেনে নিতো পারলো না যে জাহেদ প্রেম করুক।বলে রাখা ভালো যে সাইমুনের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো জাহেদ তারা দুইজনে যেন একজন আরেক জনকে ছাড়া একটি চকলেট ও খেতো না।সাইমুন যখন অন্যান্যর কাছে থেকে শুনছে যে জাহেদ নাকি কিসব করে সেই নিজেকে আর থামিয়ে রাখতে পারতেছে না।সেই এইবার সরাসরি জাহেদ কে জিজ্ঞাস করল কিরে শুনলাম যে অশ্রুর সাথে নাকি তোর কি সব চলছে,সত্যি নাকি?জাহেদ প্রত্যেকদিনের মতো স্বভাবসুলভ উত্তর দিলো হুম যা শুনছত ঠিক-ই।আর হ্যাঁ তুই এমনভাবে বলতেছস যেন এইটা কোনো বড় কোনো দোষ করে ফেলছি? তুই কি দেখস না এই যুগেতো এখন এইগুলা সিম্পল ব্যপার হয়ে গেছে।আর তুই না মেয়েদের দিকেই তাকাইতে না করছত?আজ তুই ওর কথা আমাকে বলতেছস?আমি পছন্দ করি বলে তোর আর সইছে না বুঝছি।এইটাই আমাদের বন্ধুত্ব!ছি সাইমুন তোকে দেখে আমি অবাক হচ্ছি এতো অল্পেতেই তুই লোভ সামলাতে পারলি না!এতেই যেন আগুনে তেল দিলো জাহেদ। সাইমুনকে ঠান্ডা মাথার খুনি বলা হয়ে থাকে কিন্তু আজ আর এই বিশেষণ যেন তার কাছে কিছুই না।তার যেন ধৈর্য্য আর সইছে না,সেই রাগ্বানিত ভাব নিয়ে বলে ফেলল তোর মুখ থেকেই কি এই কথা বের হইছে?তুই এইভাবে বলতে পারলি!আমি আমার জন্য তোকে না করতেছি?এত দিনে তুই আমাকে এই চিনলি?আমিতো ভাবতেই পারছি না তুই এ বা আমাকে এইভাবে বলবি!রাগে ফেটে সাইমুন সাথে সাথে চলে গেছে।জাহেদ ঐ দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করেনি।কয়েকদিন আর সাইমুন আসলো না,জাহেদ ও আসলো না।আগের মতো আর আড্ডাও দিলো না।যাদের একদিন একজনকে ছাড়া অন্যজনের কাটেনা আজ তারা এত দূরে!এইগুলা বসে বসে ভাবছে হারুন।ইতিমধ্যে হারুন ঘটনাটি জানতে পারলো আর সাইমুনের সাথে কথা বলার জন্য আজকে তার বাড়ি যাবে ভাবছে।সৌভাগ্যক্রমে হারুন সাইমুন কে পেয়ে গেলো ওদেরগ্রামের একটি লাইব্রেরি দোকানে। ঐখানে সাইমুন বসে বসে যেন কি যেন পড়তেছে আর দূর থেকে হারুন দেখে তার কাছে গেলো। গিয়ে দুই বন্ধু মুসাফা বিনিময় করল আর চায়ের অর্ডার দিলো।উড়তে থাকা বাষ্পীভূত চায়ে চুমু দিতে দিতে হারুন সাইমুন কে জিজ্ঞাস করে কিরে তোর আর জাহেদের মধ্যে কি হয়েছে!তোরা দেখি আগের মতো বের হস না এখন!
চায়ের কাপ থেকে এখনো মুখ সরায়নি সাইমুন,হারুনের কথা শুনা মাত্রই সেই তাড়াহুড়া করে চায়ের কাপ নিচে রেখে বলতে লাগলো।
দেখ তুই জানিস আমি কখনো রিলেশনশিপ এর উপর কোনো ভরসা রাখি না।কারণ রিলেশনশিপ এর কারণেই বর্তমান যুবকরা ধ্বংসের মুখে।হারাম রিলেশনশিপ যুবকদের উন্নতির অন্তরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।তুই হয়তো ভাবছিস ওর রিলেশন তো আর হারাম না আমি কেন ঐটাকে হারাম রিলেশনশিপ বলছি!তুই ব্যাপারটা যদি সিম্পলভাবে ভাবস এর উত্তর আমি দিতে হবে না আশা করি।কারণ প্রত্যেকের একটা লিমিট থাকে যখন তারা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হয়ে যাবে তারা খারাপ কিছু করতেও দ্বিধা করবে না আর এই থেকেই আমি এই কথাটি বলছি।কারণ আল্লাহ তালা কুরআন এ সুরা মুমিনূন এ ঘোষণা করে দিয়ছে যে নিশ্চয় তারা সীমালঙ্গন কারী যার নিজের অধিভুক্ত দাস/দাসী কিংবা নিজের স্ত্রী ছাড়া কাউকে কামনা করে আর তার সফলকাম হবে না।রিলেশনশিপ এর ভয়াবহতার কথা তো কুরআন এ আরো আছে নিশ্চয় তুই সেইটা শুনেছিস ইউসুফ (আঃ)এর ঘটনাটি।হারুন সম্মতিসূচক মাথা নাড়াল।
আল্লাহ তালার পক্ষ থেকেই যখন এত ঘোষণা তখন আমি শুধু তাকে এইটাই জানান দিতে চেয়েছিলাম এর বেশি কিছুই আমার মনে ছিলো না।যা আমার বন্ধু হিসেবে একটা নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে তার থেকেই বলেছি মাত্র।
হারুন এতক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে সাইমুনের মুখ থেকে এর আগে এইভাবে কোনো কথাই সেই শুনে নাই আর মনে মনে ভাবতে লাগলো সত্যিই তো।কথা গুলো যে বাস্তব ছিলো।জাহেদ-ই বা এইভাবে করতে গেলো কেন!ও তো জানতো-ই সাইমুন কি রকম ছেলে।জাহেদের-ই তো বোধের অভাব ছিলো।জাহেদের বোধ যে কবে এইভাবে লোপ ফেলো যাতে সেই সাইমুনকেও অবিশ্বাস করল।
ভাবতে ভাবতে চায়ের কাপে হাত দিতেই দেখে চা ঠান্ডা হয়ে এতক্ষনে বরফ হয়ে গেছে। আবার চা অর্ডার করবে এমন সময় মসজিদ থেকে মাগরিবের আযান ভেসে আসতেই দুজন মসজিদের দিকে ছুটল আর আজকের মতো আড্ডা এইখানেই শেষ হলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now