বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পটা বাস্তব ঘটনা থেকে সংগৃহীত।
গল্পটা সবাইকে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
-
সিমু বাবা মায়ের আদরের মেয়ে। সিমু ফকির বংশের
মেয়ে। বংশ নিম্ন হলেও অনেক খোলা মেলা ভাবে
চলাফেরা করতো মেয়েটা। পাবনা জেলার ফরিদপুর
উপজেলায় কোনো এক গ্রামে সিমুর বাসা। বাবা
বাজারে চা বিক্রি করেন। সিমু ছোট ছোট জাম পড়ে
গ্রামে চলাফেরা করতো। সময়টা ২০০৬ সালের। গ্রামে
তখনো মুখে আটা ময়দা মাখার প্রচলন পুরোপুরি চালু
হয়নি। সিমু তখন রাতে দিনে ২৪ বার মেকআপ করতো।
নানা রকম সাজ সজ্জিত থাকতো সব সময়।
-
তখনার সময়ে গ্রামের মেয়েরা অনেক সহজ সরল
ছিলো। কিন্তু সেই সময়েই সিমু অতি স্মার্টনেস প্রকাশ
করতে স্বাদ ছন্দ বোধ করতো। গ্রামের ময় মুরব্বিদের
সামনে ছোট খাটো কাপড় পড়ে হাইস্কুলে যেতো। বাবা
পেশায় চা বিক্রেতা হলেও, তার মেয়ের ভাব ছিলো
যেনো সে কোনো জমিদার পরিবারের মেয়ে।
-
আমি সানভি, সিমুদের গ্রামেরই ছেলে। তখন আমি
অনেক ছোট। ক্লাস ফাইভে পড়তাম আমার খুব ভালো
করে মনে আছে। সিমুকে গ্রামের সবাই ভালো করে
চিনতো। কেউ কেউ তো বলতো সিমু চিত্র নায়িকা
অমুক তমুক ইত্যাদি।
-
সিমুর অতি রুপের জ্বালাই নিজেকে যেনো স্বর্গের পরী
ভাবতো। সিমুর সম্পর্ক ছিলো গ্রামের মাতব্বর
রহমান চাচার ছেলে রাহাত ভাইয়ার সাথে। রাহাত
ভাইয়া সেই সময় কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলো।
সিমু তখন ক্লাস টেন এ পড়ালেখা করতো। রাহাত
ভাইয়া অনেক দুষ্ট ছিলো। রাহাত ভাইয়ার সাত আট
জন বন্ধু ছিলো। সবাই আমাদের গ্রামের।
-
২০০৭ সালের জুন মাসের মাঝামাঝির ঘটনা। সিমু
ধর্ষণ হয়েছে। ধর্ষণ আসলে কি আমি তখন বুঝতাম না।
গ্রামের সবার মুখে একই কথা সিমু ধর্ষিত হয়েছে।
-
পুরো ঘটনা ছিলো এমন, যে রাতে সিমু ধর্ষিত হয়।
সেদিন বিকালে পাশের গ্রামে ইসলামিক জালসা
ছিলো। রাহাত এর সাথে সিমু, সেই ইসলামিক
জালসাতে গিয়েছিলো। রাতে জালসা থেকে ফিরার
পথে রাহাত এর বন্ধুরা মিলে। গ্রাম থেকে একটু দূরে
লিচু বাগানে সিমুকে নিয়ে যায়। সিমু ভেবে ছিলো শুধু
রাহাত তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবে। তার বন্ধুদের
নিয়ে এসেছে শুধু তাদের দুই জনকে পাহারা দেবার
জন্য। কিন্তু রাহাত এর পরে যখন আবির যায় তখন
সিমুর ধারনা ভুল প্রমানিত হয়। এক এক করে
সবাই, সিমুকে ধর্ষণ করে। সিমুর আত্ম চিৎকার সেদিন
কেউ শুনেনি।
-
রাতের তিনটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করার পর রাহাত
সহ যে যার বাড়ি চলে যায়। সিমুর নিথর দেহ পরে থাকে
সেই লিচু বাগানে। সকাল বেলায় পুরো গ্রাম এ সিমুর
ঘটনার কথার ঢেউ পড়ে যায়। সিমুকে মেডিকেল
করার পর গ্রামে বিচার বসে। মাতব্বর সাহেব সিমুর
বাবাকে, তার মেয়ের খোলামেলা চলাফেরার দোষ
দেন। গ্রামের প্রায় সবাই সিমুর খোলা মেলা
চলাফেরাকে দোষারোপ করে। তবুও তাদের ছেলেদের
ও দোষ থাকায় মাতব্বর সাহেব বিশ হাজার টাকা
জরিমানা দিতে চায়। সিমুর বাবা গ্রামের বিচার অমান্য
করে। ফরিদপুর থানায় একটা মামলা করেন।
-
কিন্তু মামলাটি অল্প দিনেই বন্ধ হয়ে যায়। কারনটা
ছিলো এমন, গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ ছিলো
দোষি ব্যক্তিদের পক্ষে। তাই রাগের মাথায়
সিমুর বাবা গ্রামের ৭২ জন ছেলের নামে ধর্ষনের মামলা
করেন। এই মামলার কথা জানার পর গ্রামের মানুষ
সিমুর বাবার প্রতি আরো রেগে যান। সবাই বিচার
বিভাগে মামলাটি মিথ্যা প্রমানের মাধ্যমে। মামলাটি
অল্প দিনেই বন্ধ হয়ে যায়। ৭২ জন ছেলে কোনো
মেয়েকে ধর্ষণ করলে, কোনো মেয়ে বেচেঁ থাকার কথা
নয়। এই কারনটাই মামলা বন্ধের জন্য উপযুক্ত কারন
ছিলো।
-
মামলা মিটমাট হবার পরে। সিমুর পরিবার নিজ ইচ্ছায়
গ্রাম ছেরে ঢাকা চলে যায়। এখন পর্যন্ত সিমুর
পরিবারের কেউ গ্রামে আসেনি। শেষ খবর পাওয়া
গেছে সিমুর নাকি ঢাকাতে তিন চারটা বিবাহ হয়েছিলো।
-
বন্ধুরা আমার বর্ণিত এই গল্পটি পুরোপুরি সত্য। কেউ
বিশ্বাস করুন বা না করুন। তাতে আমার কি বলার নাই।
বোনদের উদ্দেসে একটা কথাই বলবো, সম্মান বা
ইজ্জত একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যায় না।
সবাই সচেতন হবেন নিজের প্রতি। এ টাই লেখক এর
প্রত্যাশা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now