বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব_৩
--উড়নাটা টিনের চালের বাশের সাথে ভালো করে বাধলাম।কাল কিভাবে সবাইকে মুখ দেখাবো।তার থেকে মরে যাওয়া ভালো। উড়নায় ফাস দিয়ে গলার ভিতর দিলাম।
...........গলায় উড়না বেধে দাড়িয়ে আছি।আর কাদছি।যদি চিৎকার করে কাদতে পারতাম তাহলে কষ্ট কমে যেতো।আমার তো মা নেই।নাহলে মা কে জড়িয়েই কাদতাম। আল্লাহ আমি আর পারছিনা সহ্য করতে আমার বুকে খুব কষ্ট হচ্ছে।
--গলা থেকে ফাস খুলে বসে পড়লাম। আল্লাহ তুমি না বলো তুমি যা করো বান্দার মঙ্গলের জন্য করো।
কিন্তু আমার কি এমন মঙ্গল হলো বলে ডুকরে কেদে ওঠলাম।
ছয় বার চেষ্টা করলাম।কিন্তু পারলাম না সুইসাইড করতে।
তাছাড়া আমিতো কোনো ভুল করিনি।আমি কেনো সুইসাইড করে জাহান্নামে যাবো।
নিজেকে শক্ত করে চোখমুখ মুছে নিজের রোমে গেলাম।।
-- তারপর দুইটা চিঠি লিখলাম।চাচা চাচী আর আপুর উদ্দেশ্যে।
--নিজের সাটিফিকেট প্রয়োজনীয় কাগজ মায়ের হাতের দুইটা চুড়ি আর প্রয়োজনীয় পোশাক একটা ব্যাগে ভরে বাসা থেকে বের হলাম।গন্তব্য অদূরে রেল স্টেশন।
--বাইরে নেমে বুঝতে পারলাম আকাশের অবস্থা খুব ভালো নয়।তাই তাড়াতাড়ি পা চালালাম।বিশ মিনিটের মধ্যে স্টেশনে পৌছে গেলাম।
-- একটা বেঞ্চিতে বসলাম।এমন সময় দেখি কয়েক জন লোক আমার দিকে লোভার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।বুঝতে পারলাম মতলব ভালো না।তাই এখান থেকে দ্রুত পা চালালাম।পিছে দেখি লোক গুলুও আসছে। এমন সময় আজানের ধ্বনি কানে আসলো তাকিয়ে দেখি সামনে একটা মসজিদ।আর কিছু না ভেবে এক দৌড়ে মসজিদে চলে এলাম।মসজিদে মানুষ থাকায় ওরা আর কিছু করতে পারিনি।মসজিদের লোক গুলুও বুঝতে পেরেছে যে আমি কোনো বিপদে পড়েছি।তাই আর কিছু বলেনি।
-- সকাল হতেই আমি স্টেশনে চলে গেলাম।কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন চলে আসলো।আমি গিয়ে ট্রেনে বসলাম।ট্রেন ছেড়ে দিলো।
--আমার জন্মস্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছি।খুব কষ্ট হচ্ছে।ট্রেনের জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ঝরঝর করে কেদেই যাচ্ছি।
--এদিকে চাচা ফজরের নামাজ পড়ে এসে দেখে মেইন গেট খোলা।তিনি দৌড়ে আমার রোমে যান।কিন্তু ওখানে পাননি।শুধু দুইটা চিঠি পান।চিঠি গুলো পড়ে চাচা ডুকরে কেদে ওঠে।
-- কিছুক্ষণ পর টিটি আসলো।আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। আমার কাছে তো কোনো টাকা বা টিকেট কোনো কিছুই নেই।ওরা কি আমাকে পুলিশে দিবে।এই ভয়েই কুকড়ে যাচ্ছিলাম।
-- এই মেয়ে তুমার টিকেট দেখি বলে টিটি আমার দিকে তাকালো।
--আমি ওদের দেখে চুপ করে তাকিয়ে আছি।
--এবার টিটি ধমক দিয়ে জিঙ্গেস করলো
--আমি কিছু বলতে যাবো এমন সময় পেছন থেকে একজন লোক বলে উঠলো মেয়েটি আমার সাথে আসছে।
--পেছনে তাকিয়ে দেখি ৭০/৭৫ বয়সের একজন লোক কোট টাই পড়া বসা।বেশ ভদ্র মনে হচ্ছে।
_উনি আমার ভাড়াটি দিয়ে দিলেন।
--স্যার উনি আপনার সাথে এসেছেন বললেই হতো।আমরা এরকম ব্যবহার করতাম না।
--ওকে
--দুপুরের নাগাত ট্রেন কমলাপুর এসে থামলো।আমি অসহায় ভাবে লোকটির দিকে তাকালাম।
--উনি তখন আমার মাথায় হাত দিয়ে বললো চল আমার ভয় নেই। তকে ট্রেনে ওভাবে দেখে বূঝতেই পেরেছি যে তুই বিপদে পড়েছিস।মা তর যদি কোনো আপত্তি না থাকে তাহলে তুই আমার সাথে যেতে পারিস।
--আমি কিছু না বলে ডুকরে কেদে ওঠলাম।
--আর কিছু না বলে আমি ওনার সাথে একটা রিকসায় উঠলাম।
--আমি ওনাকে সব বললাম আর ফুফিয়ে কেদে চললাম।
একবার মনে হলো উনি আমাকে বিক্রী করে দিবেন নাতো।
--আমার ধারণা ভুল করে অনেক বিশাল একটা বাড়ির সামনে রিকসা থামলো।আমি ওনার পেছন পেছন গেলাম।
--দাড়োয়ান গেট খুলে দিলো আমরা বাসায় ঢুকলাম।
--কলিং বেল দিতেই এক মহিলা এসে দরজা খুলে দিলো।উনি আমাদের দেখেই চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিলো।
--উনি বললো গিন্নি মা জলদি আসুন দেখুন কি ঘটনা ঘটছে।
--লোকটি ধমক দিয়ে বললো কি হয়েছে চিল্লাছিস কেনো?
--একটি মহিলা যার সিথিভরতি সীদুর হাতে শাখা ফলা তিনি আমাকে দেখেই চিৎকার করে বলে ওঠলেন.......
next coming....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now