বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখাঃরনি
সময়টা গ্রিম্মকাল! দুপুরের কড়া রোদের মধ্যে
পাশের গলি দিয়ে হেটে চলেছে হৃদয়... সকাল
থেকে কিছু না খাওয়াই পা যেন আর উঠছেনা
ছেলেটির... বুঝতে পারছি কেন জানি আজ আমাকে
বেকার জীবন কুড়েকুড়ে খাচ্ছে,! অনেক
শুনেছি বিপদের সময় কেউ পাশে থাকেনা কিন্ত
এই প্রথম বাস্তবে তাই বুঝতে পারছি। আজ কেউ
নেই হৃদয়ের জন্য একরাস আশ্বাস দেখিয়ে কথা
বলার মত.. অনেক কষ্ট হচ্ছে সময়টাকে বিশ্বাস
করতে..!(এগুলোই পথ চলতে চলতে ভাবছে
হৃদয়) ইতিমধ্যে গা ঘেমে শার্টটা ভিজদে শুরু
করেছে..!
...
বিকেলে একটা বেঞ্চে বসে আছে হৃদয়.. কিছু
একটা ভাবতে ভাবতে চোখ থেকে অঝরে পানি
পড়ছে ছেলেটির.!কান্নার কোন শব্দ নেই তবুও
যেন চোখের পানি বাধ মানছে না) কি অদ্ভুত
পরিস্থিতির সম্মুখিন আজ। কৈ কেউ নেইতো আমার
পাশে। এমনকি পরিবারও পাশে নেই আজ..! শুরু হতে
লাগলো মনের রক্তক্ষরন। ভালো সময়ে
অনেকেই বন্ধু হয়.কিন্ত বেকারের বন্ধুও কেউ
হয়না,, ফোনটা হাতে নিয়ে প্রায় ৫থেকে
৬জনকে ফোন দিলাম। কেউ কেউ রিসিভ
করলোনা আবার কেউ কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে
ফোনটা রেখেদিলো. কষ্টের মাত্রাধীক
বেড়ে গেলো.. এটাই বুঝি বন্ধুত্ব ।
..
সময়টা বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যায় অতিক্রম করার মত...
বেঞ্চ থেকে উঠে বিকাশ থেকে তিনহাজার টাকা
তুললো হৃদয়., পাশেই একটা রেস্টুরেন্ট।
সেখানে গিয়ে একটু খাবার খেয়ে নিলো... শারা
দিন কিছু না খাওয়াই তেমন কিছুই খেতে পারলোনা
সে।
...
সেখান থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলো
অর্থিক্লাবে,, অনেক শুনেছি রঙ্গম্ঞ্চে মন
ভালোকরার ওষুধ পাওয়া যায়.., একবার দেখিই না গিয়ে.
কেমন লাগে.,! হৃদয় যে এখানে প্রথম ঠিক তানা
এখানে আরো একবার এসেছে তার বন্ধুর
সাথে..! ভেতরে আশার কিছুক্ষনপর আলো নিভে
অন্ধকার হয়ে গেল., বিভিন্ন প্রকার লাইটিংএর সাথে
রিমিক্স গানে বুকটা কাপতে লাগলো হৃদয়ের...
...
ভেতর থেকে একটা সিগারেট নিলো হৃদয়..
ঠোটে লাগিয়ে আগুন দিয়ে টান দিতেই একগাদা
ধোয়া গিয়ে বুকটা আটকে গেল.. খকখক করে
কয়েকবার কাঁসতে লাগলো হৃদয়. তবুও
দুআঙ্গুলের মাঝে সিগারেটটি ধরা আছে... অনেক
শুনেছি সিগারেটের আগুন মানুষের কষ্টগুলোকে
পুড়িয়ে ছায় করে দেয়.., আজ দেখিই না কেমন..?
...
সামনেই নাইটক্লাবের মেয়েরা হেলেদুলে
নাচতে শুরু করেছে... পরিবেশটা মৃদু ঝকমকে
আলোই দেখতে বেশ ভালোই লাগছে...
অপজিট পাশের টেবিলে একটি লোক বসা সামনের
বতল থেকে কি যেন গ্লাসে ঢেলে ডকাডক
খাচ্ছে... লোকটি হাতের ইশারাই আমায় ডাকদিলো...
তার টেবিলে তারই পাশে গিয়ে বসলাম.,, লোকটি
বলল...
-- কি.কষ্ট,কষ্ট.?
তখন চুপচাপ লোকটির কাথা শুনে তার চোখের
দিকে তাকিয়ে আছি... তার ওই দুটি চোখই
বলেদিতে পারে তার মধ্যে কতটুকু কষ্ট লুকিয়ে
রাখা... কতটা স্বপ্ন ভাঙ্গার বেদনা..!
-- শোনো জীবনটা এত সহজ না । সময়ের সাথে
নিজেকে পরিবর্তন করাই জীবনের আসল পরিচয়
।
...
লোকটির কথা শুনে যতটানা হতাশ হয়েছি তার
থেকে বেশি চমকে গিয়েছি... সামনের বতলটা নিচ
করে গ্লাসে ঢেলে দুচোখ বন্ধ করে ঢকঢক
করে একগ্লাস খেয়ে নিলাম..!
...
বিকট গন্ধ গলটা জ্বলে যাচ্ছে.! একটু পর বুঝতে
পারলাম চারদিকটা এলোমেলো মাথাটা ঝিনঝিন
করছে... শারা শরিল যেন হালকা হতে
লাগলো..কিন্ত মাথাটা ভারি অনুভব করলাম। বতল নিচ
করে আরো এক গ্লাস ঢালতে গিয়ে লোকটি
বাধাদিলো... রাত ঠিক কতটুকু জানা নেই... চোখে
যেন সবকিছু ঝাঁপসা দেখছি।
...
লোকটি বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে
পড়লো.,, বুক কাপানো গানের তালে নিজেকে
হারিয়ে ফেললাম.,, ঠিক কি হতে লাগলো কিছুই মাথায়
ঢুকলোনা। একটু পর বাইরে চলে আসলাম... মাথাটা
টলটল করছে. ঠিক দিক নির্দেষন করতে পারছিনা...
হঠাত দ্রুত গতির একটা মাইক্রোগাড়ি সামনে এসে
ব্রেক করলো..,(বুকটা কেপে উঠলো)
লোকটি বলল এই যে ভাই রাস্তার সাইডে জায়গা
আছেতো.,! আমি যেন নিজেকে হারিয়ে
ফেলেছি এক অজানা নিরুদ্বেশে...!
...
রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের নিচে হঠাত বসলো হৃদয়.,
একটু চিন্তার জগতে চলে গেলো ছেলেটি
আসলেই কি আমি এমন ছিলাম.? কেন আমি আজ নষ্ঠ
ছেলেদের মত রাস্তায় মাতালের মত বেড়াচ্ছি.?
তাহলে কি আমি আজ নষ্ঠ ছেলে.?
..
রাস্তার মাঝে চিতকার করে বলতে লাগলো হৃদয়,,,
আমি নষ্ঠ ছেলে না., আমিও বাচতে চাই অন্য সবার
মত.., আজ বেকার বলে এভাবে সবাই ধিক্কার জানায়
কেন? বলতে বলতে বাসার দিকে রাওনা দিলো
হৃদয় । হয়তো তার এই চিতকার কেউ শুনছেনা.,
কেউ বুঝতেও পারছেনা তার এখনকার মনের
অনুভুতি., কিন্ত সাবাই তার বাইরের অনুভিতি ঠিকই বুঝতে
পারবে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now