বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গোয়েন্দা নাবিন ববি (৫)

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হেলাল নিরব (০ পয়েন্ট)

X বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পুরনো একটা ফাইল নিয়ে টেবিলে বসল ইন্সপেক্টর রফিক আহমেদ। টেবিলে তাস পেটার মতো ফাইল ছোড়ার শব্দে মুখের ওপর থেকে পত্রিকাটা নামিয়ে রাখল গোয়েন্দা নাবিন ববি। বলল, ‘এই তাহলে তোমার কেসের রসদ!’ ফাইলটা খুলতেই দেখা গেল, ধুলা জমে বারোটা বেজে গেছে। টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে মুছতে মুছতে চোখ তুলল নাবিন ববি। ‘কত দিন আগের কেস, বন্ধু! খুব টেনশনে আছ মনে হচ্ছে।’ ‘উদ্বিগ্ন বলেই তোমাকে ডাকা। শোনো তাহলে। ঘটনা এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারির। চিত্রনায়িকা আইরিন এসে জানাল, তার বাড়িতে কেউ গুলি ছুড়েছে। তবে টার্গেট সে নয়, তার স্বামী মিফতাহুল। তদন্তে গেলাম আমি। সবই ঠিক ছিল, কিন্তু জানালার একটা কাচ ভাঙা। বুঝলাম, ওখান দিয়েই গুলিটা লেগেছে। আশ্চর্য হলাম, জানালার বাইরে নিচের দিকে অল্প কিছু কাচের টুকরা। বেশির ভাগ টুকরা উধাও! তার মানে কী দাঁড়ায়?’ গম্ভীর হয়ে শুনছিল গোয়েন্দা ববি। বলল, ‘গুলিটা ভেতর থেকে হয়েছে!’ ‘হ্যাঁ, ঠিক তাই। কিন্তু পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও পিস্তল বা বন্দুক পাইনি। আর মজার ব্যাপার হলো, গেটে মেটাল ডিটেক্টর ও সিসিটিভি ফুটেজ ছিল। ওই সময় কেউ এলোও না গেলও না। তাহলে গুলিটা কি ভূতে করেছিল? নিজের স্বার্থে হাজারো নাটক বানাতে পারে ওই দুজন!’ ‘নাটক মানে?’ ‘বুঝলে না? এমন একটা ঘটনার পর মিডিয়াও তাদের নিয়ে মেতে উঠবে। নতুন ছবির প্রচারণাও বেশ হবে। ফাঁকতালে ব্যবসায়ী স্বামী নিরাপত্তা ইস্যুতে একটা পিস্তলের লাইসেন্সও পেয়ে যাবে। সেটা পেয়েও গেছে। ফাইলে সেটার কপিও রাখা আছে।’ ‘ও আচ্ছা, এক ঢিলে দুই পাখি। তবে এতে তুমি ফাঁসলে কোথায়? আর লাইসেন্সটা ২৯ তারিখে করা দেখছি। এত তাড়াতাড়ি আইনি প্রসেস কিভাবে সম্পন্ন করল?’ ‘টাকা থাকলে সবই সম্ভব। দেখছ না, তিন মাসের পুরনো কেস খুলতে হচ্ছে এখন! তাদের ধারণা, কেউ তাদের ফলো করছে। নায়িকার বিশ্বাস, সেদিনের বন্দুকবাজই হবে ফলো করার লোকটা। তাই আবার আদাজল খেয়ে নামো! তবে আমি শিওর যে ওটাও বানানো ছিল।’ ‘হুম্, ধোঁকা ছিল বটে। আর সেটা তোমাকেও দেওয়া হয়েছে।’ ফাইলটার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগল ববি। বিস্ময়ে পুলিশ ইন্সপেক্টরের চোখ আবার ছোট হয়ে এলো। গোয়েন্দা ববি বলল, ‘দেখো, বাড়িতে গুলি ছুড়ল ২৭ তারিখে আর আত্মরক্ষার দোহাইতে করা লাইসেন্স ২৯ তারিখের। এত কম সময়ে? সেটা নিয়ে এমনিতেই সন্দেহ ছিল। তবে বন্দুকটা যে আগেই কেনা হয়েছিল তাতে এখন সন্দেহ নেই। আর সেদিনের গুলিটা যে ওই বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল, সেটাও নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।’ মুখ বাঁকাল ইন্সপেক্টর, ‘তাহলে তুমি যে বললে, ওরা আমাকেও ধোঁকা দিয়েছে?’ এবার বলো ইন্সপেক্টর রফিককে কিভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে? (গল্পটি ‘বন্দুকে গণ্ডগোল’ শিরোনামে কালের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now