বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--চলুননা জোছনা ধরি।
-- জোছনা! জোছনা ধরা যায় বুঝি?
-- জোছনা গায়ে মাখতে পারলে ধরা যাবেনা কেন শুনি!
তরুর কথাটা শুনে বেশ অবাকই হয়েছি। একদৃষ্টিতে তরুর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি থৈথৈ জোছনায় ডুবে আছে পুরো বারান্দা। সে যেন এক অদ্ভুত সৌন্দর্য।
মুহূর্তে বাইরে চলে গেল তরু।জোছনা মাখতে। না না জোছনা ধরতে।
বাইরে এসেই হতবম্ভ হয়ে তাকিয়ে রই তরুর দিকে।নারকেল পাতার ফাঁক দিয়ে জোছনা এসে পড়েছে তার মুখে। কি অপরূপই না লাগছে তাকে! অন্যদিনের থেকে আলাদা।যেন জোছনাকুমারী। ক'ফালি মায়াও জুটেছে তার চোখে।তা থেকে চোখ ফেরানো দায়।
মুগ্ধতায় বুদ হয়ে
বললাম, জোছনা ধরবে বললেনা! ধর দেখি কেমন করে ধর।
সে আমার দিকে না তাকিয়েই মুচকি হাসি দিয়ে হাতটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,দেখুন কত জোছনা হাতের উপর এসে বসেছে। মুঠো করলেই তো তারা বন্দি। ধরা হয়ে গেল।তাইনা! আচ্ছা! ধরা মানেই কি ছুতে হবে? ধরা মানেই কি আটকে রাখা? বিশ্বাস,স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া?
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা?
তার কথা শুনে মুহূর্তে ভাষা হারালাম।উত্তর পেলাম না খুঁজে। তাই প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বললাম,
--জানো! তোমাকে আজ কত অপরূপ লাগছে! মুগ্ধতা মিশ্রিত পূর্ণিমার চাদের মতন?
তরু মাথা নেড়ে বললো, জানি।
বললাম, সত্যি জানো?
তরু একটু গম্ভীর হয়ে বললো, হুম,আমার আর চাঁদের মধ্যে কোনোই তফাৎ নেই।দুজনই অবিকল এক।
তার প্রচ্ছায়া কথন বুঝতে না পেরে আবারো প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে তার হাতটা ধরলাম
বললাম, আজ সত্যিই তীব্র নীরব কলরবে জোছনা ভাসছে তাইনা! কি অসাধারণ! কি অপূর্বই না লাগছে বল!!
এর চেয়ে সুন্দর এ ভুবনে আর কি হতে পারে!
তরু আমার দিকে তাকিয়ে রাজ্যের সকল মুগ্ধতা নিয়ে মায়াবী হাসি হেসে উঠল।তারপর চাঁদের দিকে তাকিয়ে
বললো, আমরা শুধু জোছনাটাই দেখি,দেখি অপরূপ সৌন্দর্যটা।কিন্তু চাঁদের দহনটা কেউ দেখিনা। দেখি?
এই যে আমার হাসি দেখে সকলে মুগ্ধ হয়ে তাকাই।কিন্তু হাসির আড়ালে কান্নাগুলো কেউ দেখেনা।দেখে কি? ভিন্নতা নেই চাঁদের সাথেও।
চাদের অদ্ভুত জোছনাটাই দেখি,জোছনা নিয়েই মাতামাতি,মাখামাখি,কবিতা,ছন্দ,আবেগপ্রবণতা আরো কত কি।কিন্তু নির্মম সূর্যতাপে তার দহন কি কেউ দেখে?
তরুর এমন কথন শুনে বাকরূদ্ধ পাথর প্রায় স্তম্ভের মতো দাড়িয়ে তাকাই তার দিকে।দেখি তরুর চোখের কোণে জমে থাকা কিছু একটা গড়িয়ে পড়ছে তার গাল বেয়ে।
তরু আমার দিকে তাকিয়ে আবারো হাসতে শুরু করলো।এবার সে শরীর কাপিয়ে হাসছে।সেই মায়াবী হাসি,মুগ্ধতায় মিশ্রিত।
এদিকে জোছনা আরো তীব্র অদ্ভুত সুন্দর হতে লাগলো।যেন তরুর হাসি ও জোছনা একই সুত্রে গাথা।
এবার বুঝতে বাকি রইলনা,কোথাও দহন তীব্রগম্ভীর হচ্ছে।
❐ সাজীব বাবু
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now