বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম – ০৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Riyad (০ পয়েন্ট)

X কি সর্বনাশের কথা- আমার ব্ৰহ্মতালু শুকিয়ে ওঠার উপক্রম হলো! এ কী সমস্যায় পড়া গেল! ওসি সাহেব সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, নিজ থেকে কথা বলতে চাইলে ভালো কথা, নয়তো রোলারের গুতা দিয়ে সব বের করব। নাভির এক ইঞ্চি উপরে একটা গুতা দিলে আর কিছু দেখতে হবে না। গত জন্মের কথাও বের হয়ে আসবে। আমি শুকনো গলায় বললাম, সার, একটা টেলিফোন করতে পারি? ওসি সাহেব আমার দিকে ঝুঁকে এসে কাকে টেলিফোন করবি? কোনো মন্ত্রীকে? পুলিশের আইজিকে? আর্মির কোনো জেনারেলকে? টেলিফোন এবং সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশান— তোকে অ্যারেক্ট করার জন্য ধমক খেতে খেতে আমার অবস্থা কাহিল হবে–বদলি করে দেবে চিটাগাং হিলট্র্যাক্টে? শান্তিবাহিনীর বোমা খেয়ে চিত হয়ে পড়ে থাকব? ‘স্যার, আমি খুবই লোয়ার লেভেলের প্রাণী। প্রায় শিম্পাঞ্জিদের কাছাকাছি। হাইয়ার লেভেলের কাউকে চিনি না ।’ ‘তা হলে কাকে টেলিফোন করতে চাচ্ছিস?’ ‘এমন কাউকে টেলিফোন করব যে আমার চরিত্র সম্পর্কে আপনাকে একটা সাটিফিকেট দেবে!’ ‘ক্যারেকটার সার্টিফিকেট?’ ‘জি ।’ ‘তোর টেলিফোনের পর হোম মিনিস্টার আমাকে ধমকাধমকি করবে না?’ ‘জি না স্যার । সম্ভাবনা হচ্ছে, একটা মেয়ে খুব মিষ্টি গলায় আপনাকে আমার সম্পর্কে দুএকটা ভালো কথা কলবে।’ ‘মেয়েটি কে? প্রেমিকা?’ ‘জি না। আমি লোয়ার লেভেলের প্রাণী, প্রেম করার যোগ্যতা আমার নেই। প্রেম অতি উচ্চস্তরের ব্যাপার ।’ ‘তোর যোগ্যতা কী?’ ‘আমার একমাত্র যোগ্যতা আমি হাঁটতে পারি। কেউ চাইলে ছায়ার মতো পাশে থাকি । আমি হচ্ছি স্যার ছায়াসঙ্গী।’ ওসি সাহেব গম্ভীর মুখে টেলিফোন সেট আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। থানার ঘড়িতে রাত একটা বাজে। কাকে টেলিফোন করব বুঝতে পারছি না। রূপাকে করা যায়। এত রাতে টেলিফোন করলে রূপা ধরবে না। রূপার বাবা ধরবেন এবং আমার নাম শুনেই খট করে রিসিভার নামিয়ে রাখবেন । ফুপুর বাসায় করা যায়। ফুপু টেলিফোন ধরবেন। ঘুম-ঘুম স্বরে বলবেন, কে, হিমু? কী ব্যাপার? আমি ব্যাপার ব্যাখ্যা করার পর তিনি হাই তুলতে তুলতে বলবেন, তোকে থানায় ধরে নিয়ে গেছে এটা তো নতুন কিছু না। প্রায়ই ধরে। রাতদুপুরে টেলিফোন করে বিরক্ত করছিস কেন? এই দুইজন ছাড়া আর কাউকে টেলিফোন করা সম্ভব না, কারণ আর কারও টেলিফোন নাম্বার আমি জানি না। মারিয়াকে করব? এমিতেও ওর খোজ নেয়া দরকার। দুশো কিলোমিটার স্পিডে চলার পর কী হলো? পৌছতে পেরেছে তো ঢাকায়? পথে কোনো বোমা-টোমা খায়নি? মারিয়ার টেলিফোন নাম্বারটা মনে করতে হবে। পাচ বছর আগে একটা পদ্ধতি শিখিয়েছিল । অ্যাসোসিয়েশন অব আইডিয়া পদ্ধতি। নাম্বারটা হচ্ছে প্রথমে আট- তারপর আমি, তুমি, আমি, তুমি আমরা। আমি হচ্ছে, ১, তুমি হচ্ছে ২, আমরা হচ্ছে ৩; তা হলে নাম্বারটা হল ৮১২ ১২৩ ৷ ভয়াল করতেই পাশ থেকে মারিয়া ধরল। আমি খুশিখুশি গলায় বললাম, কেমন আছিস? মারিয়া বিস্মিত হয়ে বলল, কেমন আল্লাল আপনি কে? হু আর ইউ? ‘আমি হিমু।’ ‘রাত একটার সময় কেন?’ ‘খোঁজ নেবার জন্যে— তোর দুশো কিলোমিটার ম্পিডে ভ্রমণ কেমন হলো?’ ‘রাত একটার সময় সেটা টেলিফোন করে জানতে হবে?’ ‘তোর টেলিফোন নাম্বার মনে আছে কি না সেটাও ট্রাই করলাম। এক কাজে দু কাজ |’ ‘এখনও তুই-তুই করছেন?’ ‘আচ্ছা, আর করব না।’ ‘কোথেকে টেলিফোন করছেন?” ‘রমনা থানা থেকে । পুলিশের ধারণা আমি বোমা-টোমা বানাই। ধরে নিয়ে এসেছে। এখন জেরা করছে।’ ‘ধোলাই দিয়েছে?’ ‘এখন ও দেয়নি। মনে হয় দেবে। তুই কি একটা কাজ করতে পারবি? ওসি সাহেবকে মিষ্টি গলায় বলবি যে বোমা-টোমার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি অতি সাধারণ, অতি নিরীহ হিমু। একটুর জন্যে মহাপুরুষ হতে গিয়ে হতে পারিনি।’ ‘আপনি তো সারাজীবন নানান ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চেয়েছেন–পুলিশের হাতে ধরা খাওয়া তো ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা। বের হবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেন?’ ‘এক জায়গায় একটা দাওয়াত ছিল । বলেছিলাম রাত করে যাব। ভদ্রলোক নাখেয়ে আমার জন্যে অপেক্ষা করবেন।’ ‘ভদ্রলোকের টেলিফোন নাম্বারটা দিন। টেলিফোন করে বলে দিচ্ছি আপনি পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছেন। আসতে পারবেন না।’ ‘তোর কি ধারণা বাংলাদেশের সবার ঘরেই টেলিফোন আছে?’ ‘হিমু ভাই, আপনি এখনও কিন্তু তুই-তুই করছেন। কেন করছেন তাও আমি জানি। মানুষকে বিভ্রান্ত করে আপনি আনন্দ পান। কখনো তুমি, কখনো তুই বলে আপনি আমাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। একসময় আমি নিতান্তই একটা কিশোরী ছিলাম । বিভ্রান্ত হয়েছি। বিভ্রান্ত হবার স্টেজ আমি পার হয়ে এসেছি। অনেক কথা বলে ফেললাম। আমি আপনার সঙ্গে আর কথা বলব না। রাখি?’ ‘আচ্ছা- তুই এত রাত পর্যন্ত জেগে কী করছিলি?’ ‘গান শুনছিলাম।’ ‘কার গান?’ ‘নীল ডায়মন্ড । গানের কথা শুনতে চান?’ ‘বল।’ ‘What a beautiful noise coming out from the street got a beautiful sound its got a beautiful beat its a beautiful noise.’ কথা তো শুনলেন। এখন তা হলে রাখি?’ ‘আচ্ছা।’ ‘খট শব্দ করে মারিয়া টেলিফোন রেখে দিল ।’ ওসি সাহেব বললেন, টেলিফোনে কোনো মন্ত্রী-মিনিস্টার পাওয়া গেল? ‘জি না ।’ ‘আপনার ক্যারেক্টার সাটিফিকেট দেবে এমন কাউকেও পাওয়া গেল না?’ ওসি সাহেব আবার তুই থেকে আপনি-তে চলে এসেছেন। জোয়ারভাটার খেলা চলছে। খেলার শেষ কী কে জানে। ওসি সাহেব বললেন, কী, কথা বলুন, সুপারিশের লোক পাওয়া গেল না? ‘একজনকে পেয়েছিলাম, সে সুপারিশ করতে রাজি হলো না।’ ‘খুবই দুঃসংবাদ ।’ ‘জি, দুঃসংবাদ ।’ ‘আমাদের থানার রেকর্ড অফিসার বলল, আপনাকে এর আগেও কয়েকবার ধরা হয়েছে।’ ‘উনি ঠিকই বলেছেন। আমি নিশাচর প্রকৃতির মানুষ তো- রাতে হাঁটি । রাতে যারা হাটে পুলিশ তাদের পছন্দ করে না । পুলিশের ধারণা রাতে হাটার অধিকার শুধু তাদেরই আছে।’ ‘বিটের কনস্টেবলরা বলছিল আপনার নাকি আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। সত্যি আছে নাকি?’ ‘নেই স্যার। হাঁটার ক্ষমতা ছাড়া আমার অন্য কোনো ক্ষমতা নেই।’ ‘রোলারের দুই গুতা জায়গামতো পড়লে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা বের হয়ে যায়।’ ‘যথার্থ বলেছেন স্যার ।’ ‘আপনার প্রতি আমি সামান্য মমতা অনুভব করছি। কেন বলুন তো?’ ‘আমার কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নেই– থাকলে সেই ক্ষমতা অ্যপ্রাই করে আমার মতো অভাজনের প্রতি আপনার মমতার কারণ বলে দিতে পারতাম ।’ ‘আপনার প্রতি মমতা বোধ করছি, কারণ আমার জানামতে আপনি হচ্ছেন থানায় ধরে-আনা প্রথম ব্যক্তি, যার পক্ষে কথা বলার জন্যে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যে-দেশে পুলিশের হাতে কেউ ধরা পড়লেই মন্ত্রী-মিনিস্টার, সেক্রেটারি, মিলিটারি জেনারেলের একটা সাড়া পড়ে যায়। টেলিফোনের পর টেলিফোন আসতে থাকে। শুনুন হিমু সাহেব, চলে যান। আপনাকে ছেড়ে দিচ্ছি।’ ‘থ্যাংক য়্যু স্যার।’ ‘যাবেন কিভাবে?’ গাড়ি-রিকশা সবই তো বন্ধ!’ ‘হেঁটে হেঁটে চলে যাব। কোনো সমস্যা নেই।’ ‘আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। পুলিশের জীব দিচ্ছি, আপনি যেখানে যেতে চান নামিয়ে দেবে । যাবেন কোথায়?’ ‘কাওরান বাজার। আসগর নামের এক ভদ্রলোকের বাসায় আমার দাওয়াত।’ ‘যান, দাওয়াত খেয়ে আসুন।’ আমি পুলিশের জিপে উঠে বসলাম। সেন্ট্রি-পুলিশ আমাকে তালেবর সাইজের কেউ ভেবে স্যালুট দিয়ে বসল। রোলারের গুতার বদলে স্যালুট। বড়ই রহস্যময় দুনিয়া ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম – ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now