বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জীবনের শেষ মূহুর্তে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)...

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান SHAHI (০ পয়েন্ট)

X মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। 'হঠাৎ সেখানে একজন লোক এসে বললেন'আসসালামু আলাইকুম 'আমি কি ভিতরে আসতে পারি। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, ওয়ালাইকুম আসসালাম। দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্হ। ফাতিমা (রাঃ) দরজা বন্ধ করে রাসূলের কাছে গেলেন। মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, কে সেই লোক? ফাতিমা (রাঃ)বললেন, এই প্রথম আমি তাকে দেখেছি। আমি তাকে চিনি না। শুনো ফাতিমা, সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবনের অবসানকারী ফেরেশতা আজরাইল। এটা শুনে ফাতিমার অবস্হা তখন ক্রন্দনরত বোমার মতো হয়ে গিয়েছে। - রাসূল (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে? আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে? জিবরাঈল (আঃ) বললেন, হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে। - মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে মালাইকাত মউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রিলকে রাসূল বললেন ঘোঙানির সাথে, ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনা দায়ক জান কবজ করা। - ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ) তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন, জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন। - রাসুল (সঃ) বললেন, হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন, আমার প্রতি তুমি বিরক্ত ? জিবরাঈল বললেন, হে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাকারাতুল মউতের অবস্হায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি। - ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহ সাকারাতুল মউতটা (জান কবজের সময়) যতই ভয়াবহ হোক, সমস্যা নেই, আমাকে সকল ব্যথা দাও। আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা। রাসূলের শরিরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো, তিনি কিছু বলবেন মনে হয়। - আলি (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলেন । রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নাও। - রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ, সাহাবীরা একজন আরেকজন কে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত। আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের (সাঃ) মুখের কাছে ধরলেন, রাসূল (সাঃ) চোখ ভেজা অবস্হায় বলতে থাকলেন, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি রাসূল (সাঃ) উম্মাতি। আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল (সাঃ) জীবনের শেষ মূহুর্তে ও আমাদের নাজাতের কথা বলেছেন, আর এই আমরা কী করছি?? প্রতি মূহুর্ত খারাপ, অশ্লীল কাজ করে যাচ্ছি। সালাত আদায় করছি না, এখন রাস্তা -ঘাটে দেখা যায় একদিকে আযান হচ্ছে অন্যদিকে ছেলেরা হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনছে,কেউ বা উচ্চসুরে বাজিয়ে যাচ্ছে । নামাজের জন্য আমাদের আহবান করা হচ্ছে আর আমরা তা উপেক্ষা করে দুনিয়ার কাজে মগ্ন হচ্ছি। মেয়েরাইবা কম কিসে সব পারে তারা কিন্তু যখন নামাজের কথা আসে,পর্দার কথা আসে, তখন শেষ একদম চুপ করে তাকে। আমরা কয়জন রাসূলের কথা মেনে চলছি, কয়জন আছে যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরে। আর আমাদের রাসূল সব সময় উম্মতের কথা চিন্তা করতেন, কী হবে রাসূলের উম্মতের? আমাদের রাসূল (সাঃ) কখনো চান নি তাঁর উম্মত জাহান্নামে যাক, কষ্ট পাক। কিন্তু খারাপ কাজ করলে তো সাজা পেতেই হবে আর তা জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন। আসুন আজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, ইসলামের নিয়ম মেনে আদর্শ জীবন গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ তায়লা সবাইকে সাহায্য করবে সঠিক ও সৎ পথে চলতে। আমিন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now