বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিটিং সার্ভিসের গেটলক বাসটিতে হঠাত্ই একটা শোরগোল পড়ে গেল। কী হলো? কানের হেডফোনটা খুলে মাথা তুলে তাকালাম। আমার মতো গাড়ির প্রায় সবারই উত্সুক দৃষ্টি কেড়ে নিল একজন বয়স্ক লোক। গায়ে বেশ কেতাদুরস্ত পোশাক। গলায় একটা ক্যাটক্যাটে লাল কালারের ভাঁজ পড়া টাই। দেখে বেশ ভদ্রলোক বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কী এমন হলো যে হেল্পারের সঙ্গে রীতিমতো মারামারি বাঁধিয়ে বসেছে?
আমার ভাবতে থাকা প্রশ্নের জবাব দিল সামনের সিটে বসে থাকা এক আধবুড়ো মহিলা। মুখে কুটিল হাসি হাসি ভাব নিয়ে নিজে নিজে বকে চলল। তার কথার সারমর্ম করে যা বুঝলাম, তা হলো, হেল্পার ঐ বৃদ্ধ ভদ্রলোককে পিছনে সিটে বসতে বলেছিল, আর বলার সময় নাকি সে ঐ ভদ্রলোকের পিঠে হাত রেখেছিল। এতেই সে একেবারে রেগেমেগে আগুন।
একপ্রস্থ ঝগড়া শেষে বৃদ্ধ ভদ্রলোকটি ধপ করে আমার পাশের ফাঁকা সিটে বসে পড়ল। আমি আমার পাটকাঠির মতো পা দু’খানাকে আরো কাছে টেনে জানালার দিকে ঘেঁষে গেলাম।
ভদ্রলোক সিটে বসার পর থেকে গাড়ির সমালোচনা শুরু করে দিল—গাড়ির সিট কভার থেকে শুরু করে ফ্যান, গাড়ির রং পর্যন্ত। তার মতে, সিটিং সার্ভিসের বাসের থেকেও বেশি লোকাল তার স্টাফরা।
আমি কিছুই না বলে শুধু ফোকলা হেসে তাকে সায় দিলাম।
কিন্তু তার কথার অত্যাচার থামছেই না। ফ্যান কেন ঘুরছে না, গাড়ির কাচ কেন ক্যাচক্যাচ আওয়াজ তুলছে... আরো কত কী! কথার অত্যাচার যখন চরমে পৌঁছাল, তখন আমি তার গন্তব্য জানতে চাইলাম। ব্যস, নিজ হাতে আগুনে ঘি ঢাললাম!
‘শাহবাগ থেকে ফার্মগেট ১০ টাকা ভাড়া, গাড়িতে উঠলেন আর নামলেন ১০ টাকা দিতে হবে—একেবারে মগের মুল্লুক পেয়ে গেছে! এটা কোন নিয়মে লেখা আছে, হুম?’
আমি তখনো শুনে চলছি। শুধু আমি না, গাড়ির প্রায় সবার দৃষ্টি তার দিকে। এর মাঝে হেল্পার ভাড়া চাইতে এলে বৃদ্ধ তাকে ফের কথা শুনিয়ে দিল। এবার সমস্যা ভাড়া নিয়ে। ফার্মগেট যাওয়ার জন্য কন্ডাক্টর ১০ টাকা ভাড়া দাবি করছে। কিন্তু সে দাবি মানতে মোটেও রাজি নন বৃদ্ধ। আর এ নিয়েই তাদের মাঝে ফের বাকবিতণ্ডা।
গাড়ি ততক্ষণে ফার্মগেট এসে দাঁড়িয়েছে। কন্ডাক্টর যাত্রী নিতে গেটে দাঁড়িয়ে হাঁক ছাড়ছে, এই খিলক্ষেত-এয়ারপোর্ট-উত্তরা...!
আমি ভাবলাম বৃদ্ধ মনে হয় এটাই যে ফার্মগেট, সেটা জানে না। তাই বৃদ্ধ ভদ্রলোককে বললাম, ‘আপনি না ফার্মগেট নামবেন? এটাই সেই স্টপেজ।’
বৃদ্ধ এবার আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। হঠাত্ দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে উঠল, ‘কী রে ব্যাটা, গাড়ি থামালি ক্যান! জ্যামট্যাম কিচ্ছু নাই, হুদাই গাড়ি দাঁড় করায় রাখছস! ১০ টাকা ভাড়া নিয়া ঠেলাগাড়ির মতো চললে হবে? আমাদের টাইমের কি মূল্য নাই?’
আমি তার বিরক্ত ভাব আনা মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। বৃদ্ধ আবার চেঁচিয়ে উঠল, ‘গাড়ি রাখ ব্যাটা! এই গাড়িতে আর উঠব না। যত্তসব লোকাল কোথাকার! নাম দিছে আবার চিটিং সার্ভিস!’
বলতে বলতে ধুপধাপ করে গাড়ি থেকে নেমে গেল বৃদ্ধ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মানুষের ভিড়ে হারিয়ে গেল। আমি পুরো এক মিনিট পরে বিষয়টা বুঝলাম। ফিক করে হাসিটা অট্টহাসিতে রূপ নিতে যাবে, এমন সময় সামনের সিটের কুটিল মহিলার কণ্ঠ কানে এলো, ‘একেই বলে সিটিং সার্ভিসে চিটিং!’
(গল্পটি ‘সিটিং সার্ভিসে চিটিং’- নামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now