বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিং! রিং! একটানা বেজেই চলেছে ফোন। এমনি বৃষ্টি হচ্ছে যে ফোনটা বের করে রিসিভও করা যাচ্ছেনা। একপ্রকার বিরক্ত মনেই রাস্তায় হাঁটতে থাকে আকাশ। হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় একটা গান এর শব্দে...
"ভালোবাসে সখি নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো তোমার
মনেরো মন্দিরে"
একতলা বাড়ির ছাদে উঠে অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ে তার কিন্নর কণ্ঠে যেন আকাশ বাতাস আন্দোলিত করে তুলছে। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, সাথে গানের সুর--কোথায় যেন হারিয়ে যায় আকাশ। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একসময় মনে হলো, বাসায় ফিরতে হবে। বাসায় ফিরেও কেমন যেন আনমনা হয়ে থাকে। ছোটবোন রিশা অনেক জিজ্ঞাসা করেও কোনো কথা বের করতে পারলনা...
" কি হয়েছেটা কি বল না ভাইয়া!"
" আরে ধুর, কিছুই হয়নি।"
প্রতিদিন রাস্তায় যাওয়ার সময় সে তাকিয়ে থাকে ঐ বাসার দিকে। মেয়েটির চোখেও পড়ে যায় একদিন,
"এই যে, কে আপনি? প্রতিদিন আমাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন?"
"ইয়ে...না মানে...আমি একজন হোম টিউটর" মিথ্যে বলে সে মেয়েটিকে, "আমি পড়ানোর জন্য একজন ছাত্র খুঁজছি।"
"ও আচ্ছা! আপনিই কি সে? যাকে বাবা আসতে বলেছিলেন?"
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমিই সে!" মেয়েটির সাথে কথা বাড়ানোর চেষ্টা করে সে। মেয়েটা মিষ্টি হেসে বলল, " ওহহো! বাইরে কেন কথা বলছি, আসুন, বাবার সাথে কথা বলুন।"
মেয়েটির বাবাও আকাশকে চিনতে পারেননা। কারণ তিনিও সেই টিউটরকে আগে থেকে চিনতেন না। ফলে আকাশের আর কোনো সমস্যাই হলো না। সে মেয়েটির ছোটবোনকে পড়ানোর দায়িত্ব নেয়।
মেয়েটির নাম লীলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। আকাশ প্রতিদিনই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে কখন লীলার দেখা পাবে। ক্ষণে ক্ষণে হয়তো দেখাও হয়ে যায় কিন্তু কথা তেমন হয়না। একদিন আকাশ লীলার ছোটবোনকে পড়ানোর পর চলে যাবার সময় দেখতে পায়, লীলা কি যেন একটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে আর কি যেন ভাবছে।
আকাশ তাকে জিজ্ঞেস করে,
"কিছু ভাবছেন?"
"হম্ম..না...একটা ম্যাথ নিয়ে ভাবছিলাম।"
"আমি কি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?"
"না থাক। ধন্যবাদ। আমি নিজেই পারবো।"
"বলেই দেখুন না। দেখি পারি কিনা..."
"না না। ঠিকাছে।"
"শুনুন লীলা, আমাকে এতো ছোট করে দেখার কিছু নেই। আমি IUT এর ছাত্র। তাই আমাকেও অতি ছোট ভাববেননা।"
" আরে না না! কি বলছেন এসব! আচ্ছা দেখুন তবে...."
আকাশ তাকে অংকটা করতে সাহায্য করে। এভাবে অল্প অল্প করে তাদের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু আকাশ লীলার মাঝে যেন তার জন্য কোনো অনুভূতি খুঁজে পায়না। সে যেন আকাশকে ঠিক বুঝতে চায়না। লীলা সবসময়ই একটা মনমরা ভাব করে থাকে--এটাও লক্ষ্য করে সে। একদিন লীলা তাকে বলে,
"আকাশ, তোমাকে একটা কথা জানাতে হবে। তুমি কি আজ বিকেলে পার্কে আসতে পারবে?"
"কিন্তু কি কথা?"
"বলবো। বিকালে।"
সারাদিন খুব অস্থিরতায় কাটালো আকাশ। কি এমন বলবে লীলা? ও কি তবে আকাশের মনের কথা বুঝতে পেরেছে?......
বিকেল হয়। আকাশ ও লীলা সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে,
"শোনো আকাশ, আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।"
"বলো প্লিজ, আমি তো শুনতেই চাচ্ছি।"
"না....কিভাবে যে বলব...."
"বলো প্লিজ, এতো দেরি করছো কেন?"
"ওকে। আকাশ, তোমার আর আমার মধ্যে
একটা ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। কিন্তু আকাশ, আমি তোমাকে শুধু আমার একজন ভালো বন্ধু হিসেবেই দেখি। এর বেশি নয়। আমি জানি তুমি আমাকে পছন্দ কর। আমিও করি। কিন্তু তুমি যেই হিসেবে কর ঠিক সেভাবে নয়। কথাগুলো শুনে হয়তো তুমি কষ্ট পাচ্ছ। কিন্তু দেখো আকাশ, বন্ধুর বাইরে তোমাকে আমি আর কিছু হিসেবেই দেখতে পারবোনা। আশা করি তুমি আমাকে বুঝতে পেরেছো। সবসময় আমার একজন ভালো বন্ধু হিসেবে থেকো। আসি....ভালো থেকো।"
চলে যাচ্ছে লীলা। তার যাওয়ার পথের দিকে স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আকাশ......তার মাথার উপরের আকাশটা যেন ভেঙে খানখান হয়ে যাচ্ছে....
এতক্ষণ আমরা যারা গল্পটা পড়েছি, তারা হয়তো লীলাকেই দোষারোপ করবো। কিন্তু কি করবে সে? তার তো আর কোনো উপায় নেই!....লীলা মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তারের হিসেবে তার মৃত্যু অতি নিকটে। কিন্তু সে তো ভালোবাসে আকাশকে! ভালোবাসার মানুষকে সে কিভাবে জড়াবে তার অভিশপ্ত জীবনের সাথে!
বৃষ্টি পড়ছে....বৃষ্টির পানি আর লীলার চোখের পানি একাকার হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now