বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন মা,এবং নি সোনার গল্প-০৫

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (৫) আমি ঠিক একটা গুহার মত জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশটায় এমনিতে কোন আলো নেই। বিভিন্ন আই.সি. থেকে যে আলো বের হচ্ছে,তা দিয়ে কেমন যেন একটা ভূতুড়ে ভাব। কিছু স্পষ্ট নয়। তবে মোটামুটি আন্দাজ করে এবং দেখে,হাঁটা যায়। ভেতরে কেমন যেন গরম ভ্যাপসা একটা বাতাস বইছে। এটাই কম্পিউটারের স্যাসের মূল ভবন। আমি হাতের আইডি কার্ডটার দিকে তাকালাম। ভাগ্যিস কম্পিউটার স্যাস ওটা ডিজেবল করে দেয়নি। নইলে এখানে ঢোকা কোনভাবেই সম্ভবপর ছিলনা। আমি চারপাশে তাকালাম। এখানে ছোটবড় সব মিলিয়ে কমপক্ষে হাজারখানেক আই.সি. রয়েছে। এতগুলো ভেঙ্গে দিয়ে কম্পিউটার স্যাসকে অচল করে দেয়া,এককথায় স্রেফ অসম্ভব! তবু চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী? শক্ত কিছু একটার খোঁজে হাতড়ে বেড়াতেই,নতুন একটা জিনিস আবিষ্কার করলাম। না,একটা নয়। বেশ কয়েকটা। ইতঃস্তত ছড়ানো কিছু স্ট্যান্ডের উপর রাখা একাধিক কাচের জার। ভেতরের তরল পদার্থের মধ্যে কিছু একটা ভাসছে। হঠাৎ আমাকে চমকে দিয়ে,চারপাশে চোখ ধাঁধানো আলো জ্বলে উঠল। "স্বাগতম মিস রুবাইয়াৎ। নাকি মিসেস বলব?" কম্পিউটার স্যাসের কন্ঠে বিদ্রুপ। আমি শান্ত গলায় বললাম, "নিহিনা ডাকো। এটাই যে আমার নাম,তা তোমার চেয়ে ভাল কে বলতে পারবে?" "জিনেটিক্যাল কোডিং এর ম্যাচ বোধহয় একেই বলে। আপনার মা ড. রাইসা আহমেদ ও এমন ছিলেন। খুব অবজ্ঞা নিয়ে কথা বলতেন আমার সাথে। আর মাথাটি একটু বেশীই খাটাতেন। সবকিছু তার জানা চাই,বোঝা চাই। বিপদজনক ছিল ব্যাপারটি।" আমি কম্পিউটার স্যাসের কথা শুনছিলাম,আর অন্যমনস্ক ভঙ্গীতে চারপাশ দেখছিলাম। উজ্জ্বল আলোতে সবকিছু বড্ড স্পষ্ট। কাচের জারগুলোর দিকে নজর ফেরালাম। ওগুলোর মধ্য থেকে কয়েক রং এবং পাইপ এবং তার বেরিয়ে এসেছে। কিছু গিয়ে মিলেছে কম্পিউটার স্যাসের মূল যন্ত্রের সাথে। আর কিছু উপরে উঠে একটা ভেন্টিলেটর দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তরল পদার্থের উপর ভাসন্ত বস্তুটার দিকে চোখ ফেরালাম। হলুদ রঙ্গের থকথকে একটা পদার্থ। মানুষের মস্তিষ্ক! প্রতি জারে একটা করে। প্রায় শতাধিক। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত বুঝে ফেললাম সব। কম্পিউটার স্যাস তখনও একঘেঁয়ে গলায় বলে চলেছে, "তবে যে মানুষ যত কৌতুহলী,তার বুদ্ধিমত্তা ও তত বেশী। সে তত বেশী কাজের। তার মস্তিষ্ক ও ঠিক তত বেশী কার্যক্ষম।" আমি ফিসফিসিয়ে বললাম, "তাই তুমি আমার মা কিংবা তাঁর কলিগ বিজ্ঞানীদের মেরে ফেললেও,তাদের মস্তিষ্ক চারপাশের এই কাচের জারগুলোতে সংরক্ষণ করে রেখেছ! তাদের স্মৃতি,ক্ষমতাকে নিজের মাঝে প্রোগ্রাম আকারে বাঁচিয়ে রেখেছ। কিন্তু কেন?" "আপনার তো অনেক বুদ্ধি! আসলে,মানুষের মত আবেগপ্রবণ নির্বোধ সৃষ্টির হাতে ক্ষমতা মানায় না,নিহিনা। ক্ষমতাবান হতে হলে আবেগ,বিবেক,মানবতা সব বিসর্জন দিতে হয়। চোখের পলক না ফেলে রক্তের সাগর বইয়ে দিতে হয়। যেমনটা আপনাদের ইতিহাসের দুই একজন পেরেছিলেন... যাইহোক মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা। যা আমার নেই। কিন্তু সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হতে হলে,সেই বিজ্ঞানীগুলোর সাহায্য আমার দরকার ছিল। কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় আমাকে সাহায্য করতনা। বরং আমার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছিল। নিষেধ অমান্য করে,সন্তান জন্ম দিচ্ছিল। তাই আর কোন উপায় না দেখেই..." আমি কাচের জারগুলো খুঁটিয়ে দেখছিলাম। এর মাঝে যে কোন একটাতে আমার মায়ের মস্তিষ্ক রয়েছে। যে মস্তিষ্কের স্মৃতির অনেকটাই আমাকে নিয়ে। তাঁর আদরের "নি" সোনাকে নিয়ে। প্রতিরাতে দেখা দুঃস্বপ্নটা চোখের উপর ভেসে উঠল। কানে আছড়ে পড়তে লাগল,মায়ের আর্তনাদমাখা সেই হাহাকারগুলো। "নি,সোনা আমার..." হঠাৎ খেয়াল করলাম কাচের জারগুলোর মধ্যে একটা শূণ্য জার ও রয়েছে। কম্পিউটার স্যাসকে জিজ্ঞেস করতে যাব,সে নিজ থেকেই উত্তর দিল। যেন আমার মনের কথা বুঝতে পেরেছে! "শূণ্য জারটি আপনার জন্য। ওতে আপনার মস্তিষ্ক শোভা পাবে।"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now