বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন মা,এবং নি সোনার গল্প-০৪

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (৪) গভীর রাতে আমার আবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্রতিদিনের মত। তবে একই দুঃস্বপ্ন দেখে নয়। আজকের দুঃস্বপ্ন আমার নিজেকে নিয়ে। দেখলাম,কম্পিউটার স্যাস আমাকে শাস্তি দিচ্ছে। অপারেশন বেডে শুইয়ে,ইয়া বড় একটা সার্জিক্যাল নাইফ দিয়ে... ভাবতেই গা শিউরে উঠল আমার। বিছানা ছাড়লাম। এইচসিএস ডিভাইসটা (HCS device= Holographic Calling System device) নিয়ে রিশান কে ফোন করলাম। ঘরের ঠিক মাঝখানে তার হলোগ্রাফিক ইমেজ ফুটে উঠল। উদ্ধিগ্ন মুখভঙ্গী। "রুবাই,তুমি ঠিক আছ তো?" আমি হাসার চেষ্টা করলাম। তা কতটুকু ফুটল,কে জানে! "রিশান.. আমি না আজ বিভিন্ন ডিজিটাল নিউজপেপার,পোর্টাল,এমনকি মূল তথ্যকেন্দ্রের নেটওয়ার্ক ও ঘেঁটেছি অনেকক্ষণ... অবৈধভাবে।" রিশানের চেহারায় অবাক হওয়ার চিহ্ন ফুটে ওঠে। ধীরে ধীরে তা আতংকে রূপ নেয়। "কী বলছ এসব তুমি,রুবাই? তার মানে তুমি... তুমি...." সে হতাশায় কথা শেষ করতে পারেনা। তাকে কেমন যেন বিধ্বস্তের মত দেখাতে থাকে। "হ্যাঁ,আমি আমার আইডেন্টিফিকেশান নাম্বার ব্যবহারের লিমিট পেরিয়ে গিয়েছিলাম। তারপর সিস্টেম হ্যাক করে বাকী তথ্যগুলো উদ্ধার করেছি।" রিশানের চেহারায় অবিশ্বাস। "কিন্তু... কেন রুবাই,কেন?" "রিশ,আজ কী ঘটেছে ভুলে গেছ এত তাড়াতাড়ি? তোমার কী মনে হয়,কম্পিউটার স্যাস এত সহজে ছেড়ে দেবে আমাকে? আমি আজ তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি তার ভ্রান্ত ফালতু সমীক্ষার। যেটার অজুহাত দেখিয়ে,সে আজ পর্যন্ত লাখো মা-শিশুর জীবন নিয়েছে। জানো,নেটওয়ার্ক ঘেঁটে আমি কী পেয়েছি? নিখোঁজ বিজ্ঞানী তালিকার সব ক'জনের সাথেই কম্পিউটার স্যাসের বিরোধ ছিল। নেটওয়ার্কে ওদের ছবি দেখেছি আমি। আর চমকে উঠেছি। কেন,জানো? কারণ,সেই হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানীদের একজনকে আমি রোজ রাতে স্বপ্নে দেখি। সেই সন্তানহারা ভদ্রমহিলা! ভাবতে পারো? আমি আরও দেখেছি...." বাইরে খুট করে একটা শব্দ হল। অবাক হলাম। এই ফ্ল্যাটে আমি আর ত্রিতি ছাড়া কেউ থাকেনা। আর ত্রিতিকে আমি অচল করে রেখেছি। তাহলে? রিশানের দিকে তাকিয়ে দেখি,সে আতঙ্কিত চোখে দাঁড়িয়ে আছে। আতঙ্কিত এবং হতাশাগ্রস্ত। আমি ওকে অভয় দেয়ার ভঙ্গীতে হাসলাম। "ত্রিণার রিসার্চের তথ্যগুলো সব কালেক্ট করেছি। ও সত্য বলছিল। তেজস্ক্রিয়তার গুজব পুরোপুরি ভুয়া। ডকুমেন্টগুলো আমি তোমাকে স্কিফে (SCIF=Secret chat info folder) কনভার্ট করে পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকী সব ফাইলের সাথে। কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের,বিশেষ করে রুহিতার সাহায্য নিও..." "কীসব বলছ,কিছুই বুঝতে পারছিনা! রুহিতাকে নিয়ে করতে হবে কেন? তোমার করতে অসুবিধা কোথায়? আর ত্রিতি এসব শুনছেনা? তুমিতো জানোই,ও কম্পিউটার স্যাসের এজেন্ট।" "আমি অন্য কাজে যাচ্ছি। ত্রিতির মেইন সার্কিটের লজিক গেইট বদলেই নেটওয়ার্ক সিস্টেম হ্যাক করেছি। সো ওকে নিয়ে... এসব তোমার ডিপার্টমেন্টের নয়। তুমি বুঝবেনা!" বলেই আমি উঠে দাঁড়ালাম। রিশান তখনও করুণ চোখে তাকিয়ে। মায়া হল ভীষণ। নিজের তলপেটের উপর হাত রেখে,ওকে বললাম, "ত্রিণার জায়গায় কাল আমাদের ও দাঁড়াতে হতে পারে। তাই না রিশ? ততক্ষণ তুমি কিংবা তোমার একটা অংশ আমার সাথে আছে,আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবেনা। কেউ না!" স্বান্তনাটা রিশানের জন্য ছিল নাকি নিজের জন্য,বুঝলাম না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now