বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন মা,এবং নি সোনার গল্প-০২

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (২) বিজ্ঞান কাউন্সিলের জরুরী মিটিং ডাকা হয়েছে। কাউন্সিল প্রধানের সেক্রেটারি আত্রলিতার কাছ থেকে জানলাম মাত্র। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তৈরী হয়ে নিলাম। ইদানীং রাতে ঘুম হচ্ছেনা বলে,মন মেজাজ সবই খারাপ থাকে আমার। অল্পতেই রেগে যাই। খিটখিট করি সারাদিন। আর ত্রিতি বেচারাকে বকাবকির উপরে রাখি। মনেই থাকেনা সে যে একটা যন্ত্র। যন্ত্রের উপর রাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে কী? এছাড়া আর কীইবা করার আছে? পৃথিবীতে যে গুটিকয়েক মানুষ বেঁচে আছে,তাদের সবাইকেই একা বসবাস করতে হয় এখন। সঙ্গী সাথীহীন,একা,অনেকটা মানুষ্য সমাজ বিবর্জিত। ব্যক্তিগত কাজের সাহায্যার্থে একটা করে রোবট পেয়েছে সবাই। ব্যস এটুকুই। ব্যাপারটার সূত্রপাত সেদিনের নয়,বেশ আগের। আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগের ঘটনা। স্যাস (SAS=Super Supreme And Special) কম্পিউটার একটা সমীক্ষা করে দেখিয়েছিল। যার বিষয়বস্তু হলঃ "বায়ুতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্রম নিঃসরণ এবং ব্যাপনের ফলে মানুষের শারীরের অভ্যন্তরীন অঙ্গসমূহ মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,হচ্ছে। এই ক্ষতি মৃত্যুর রূপ নিতে পারে,যদি কেউ প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করে। অতএব,মানবজাতির রক্ষার্থে আজ থেকে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্মদান নিষিদ্ধ হল। বিকল্প উপায়ের গবেষণা চলছে। যথাসময়ে,সবাই তা জানতে পারবে। ধন্যবাদ।" এরপরও হয়তবা কেউ চেষ্টা করেছিল। তারা সবাই মারা গেছে। স্যাস কম্পিউটারের ভাষ্যমতে,তেজস্ক্রিয়তাঘটিত মৃত্যু। মানবজাতির রক্ষার্থে এবার নতুন এক আইন জারী হল। কোন নারী "পুরুষ সঙ্গী",এবং কোন পুরুষ "নারী সঙ্গীনী" রাখতে পারবেনা! অদ্ভুত আইন। যা আগে কখনও ঘটেনি। অতএব,আমরা এখন একা বাস করি। সঙ্গ দেয় দ্বিতীয় প্রজন্মের অত্যন্ত নির্বোধ কিছু রোবট। আমি যখন কনফারেন্স রুমে পৌছালাম,ততক্ষণে কাউন্সিলের অন্য সদস্যরা সবাই পৌছে গেছেন। মোট আটজন সদস্য। এটাই সর্বোচ্চ কাউন্সিল। বড়বড় এবং সর্বেশষ সিদ্বান্তগুলো আমরাই নিই। আমাদের সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রের আইন। মানব সভ্যতার আইন। যা বদলানো কিংবা সংশোধন করার ক্ষমতা একমাত্র স্যাস কম্পিউটারের আছে। সবার সাথে সৌজন্য হাসি বিনিময় করে,আমি আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম। তারপর সামনে রাখা কাগজগুলো টেনে নিলাম। আজকের মীটিং এর বিষয়বস্তু জানার চেষ্টা করছি। "কী ব্যাপার,মিস রুবাইয়াৎ? তোমাকে কেমন যেন ক্লান্ত দেখাচ্ছে?" রিশানের কথায় চোখ তুলে তাকালাম।সে এই কাউন্সিলের সদস্য। একজন জীববিজ্ঞানী। হাসিখুশি,তরুণ,অসম্ভব প্রতিভাবান। এবং আমার বেঁচে থাকার একমাত্র উৎসাহ সে। "গত প্রায় একমাস ধরে ভাল ঘুম হচ্ছেনা।" আমার কন্ঠে কৈফিয়তের সুর। "কী বলছ তুমি এসব? আজ আমাদের সভা শেষ হওয়ামাত্রই তুমি আমার সাথে আমার চেম্বারে যাবে!" রুহিতা প্রায় চেঁচিয়ে বলল। মেয়েটা অসম্ভব চটপটে এবং অভিমানী। আজকাল মানুষের শরীর খারাপ করেনা। তবু প্রতি মাসে রুহিতা আমাদের সবাইকে,জোরপূর্বক মেডিক্যাল চেকআপ করাবে! আর একগাদা লিকুইড ভিটামিন শরীরের ভেতর চালান করে দেয়। "ধন্যবাদ,রুহিতা। আমি আসলে একটা দুঃস্বপ্নের..." শুশান আমাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। তারপর হাত নেড়ে বলতে লাগল, "আপনারা জানেন,আজকের এই মীটিংটা কীসের জন্য?" আমি লক্ষ্য করলাম,প্রশ্নটা শুনে রিশান কিছুটা গম্ভীর হয়ে গেছে। ভাবলাম,"ওর কি মন খারাপ?" । ত্রিনিতা কপালের উপর এসে পড়া চুলের গোছা সরাতে সরাতে বলল, "কয়েকজন নিয়ম ভঙ্গকারী ধরা পড়েছে। তারা শহরের প্রাচীন উপাসনালয়ে গিয়ে,বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছিল।" "আমরা কি ওদের বিচার করব?" আমি ফিসফিসিয়ে জানতে চাইলাম। এ ধরনের পরিস্থিতি আমার জন্য নতুন নয়। আগেও কয়েকবার এমনটা ঘটেছিল। আর প্রতিবারই বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। আমাদের সকল যুক্তি-তর্ককে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে,স্যাস কম্পিউটার তার ইচ্ছেমত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবং তা কার্যকর করেছে। আমি শ্বাস চেপে চোখ বুজলাম। হঠাৎ করেই খুব ক্লান্ত এবং অসুস্থ বোধ হচ্ছে আমার।এভাবে আর কতদিন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now